মো. আতিয়ার রহমান
বি-বাড়িয়া
আমার বয়স ২১ বছর। আমি কোনো জনবহুল স্থানে স্বাভাবিক থাকতে পারি না। অস্বস্তিবোধ হয়, লজ্জা বোধ করি, অস্থিরতা হয়। কারো দিকে তাকিয়ে থাকতে দ্বিধা লাগে, হতবুদ্ধি, বোকাভাব লাগে। এ জন্য সবাই হাসাহাসি করে। লোকের সম্মুখে প্রস্রাব করতে পারি না, নার্ভাস ফিল করি, কারো সাথে মিশতে পারি না, ঠিকভাবে কথা বলতে পারি না, বিপদ মোকাবেলা করতে পারি না, উচ্চস্বরে কথা বলতে পারি না, লোকপূর্ণ স্থান পরিত্যাগ করি ও এড়িয়ে চলি। অন্য কেউ আমার সামনে থাকলে উদ্বেগ ও অস্বস্তিবোধ করি অথচ একা থাকলে ভালো ও স্বাভাবিক থাকি। মানুষের সামনে খেতে অসুবিধা হয়,বাড়ি বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করতে গেলে ঠিক একই রকম সমস্যা হয়। মন সর্বদা পরিবর্তনশীল। এখন ভালো, আবার হঠাৎ উপরোক্ত সমস্যা দেখা দেয়। আত্মবিশ্বাস কম, বিষণ্ন, উৎসাহহীন, সিদ্ধান্তহীনতা, লজ্জাশীলতা, একগুঁয়ে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা সোস্যাল ফোবিয়া। এতে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি দরকার। আপনি ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ১ মাস পর অবস্থা জানাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।
আব্দুল খালেক
নাটোর, রাজশাহী
আমার ছেলের বয়স বর্তমানে ২৮ বছর। যখন ওর বয়স ১১ বছর তখন মানসিক রোগ দেখা যায়। বিড়বিড় করে কী যেন বলে, কিছু বোঝা যায় না। কোনো সময় মুচকি হাসে আবার রাগ করে। পাবনা মেন্টাল হাসপাতাল থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয়-টাইড্রিল, পারকিনিল, অপসোনিল। এতে কিছুটা ভালো বোঝা যায়। ট্রাইডিল না পাওয়াতে এখন টেলাজিন খাওয়ানো হচ্ছে, তা ঠিকমতো খায় না। ছেলের মানসিক রোগ ভালো হয়নি। খাওয়া-দাওয়া করে আর ঘুরে বেড়ায়। ছেলে ইন্টার পাস করে বসে আছে। আমার ছেলেকে ভালো চিকিৎসার পরামর্শ অবশ্যই দেবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার ছেলের রোগ ক্রনিক সিজোফ্রেনিয়া। এটি একটা বড় মাপের মানসিক রোগ, যাতে দীর্ঘদিন ওষুধ খাওয়াতে হয়। আর এ ধরনের বেশির ভাগ রোগী ঠিকমতো ওষুধ খেতে চায় না। আপনি ট্যাবলেট টেলাজিন ৫ মিলিগ্রাম সকালে ও রাতে দুই বেলা দুইটা, ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম সকাল ও রাতে দুই বেলা দুইটা, ট্যাবলেট অপসোনিল ১০০ মিলিগ্রাম আর ক্লোবাম ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে খাওয়াবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন, ধীরে ধীরে উন্নতি হবে। ২ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
নয়ন
উত্তরা, ঢাকা
আমার বয়স ২২ বছর। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। আমার সমস্যা হলো- আমি যখন কথা বলি তখন গুছিয়ে বলতে পারি না। এই তো কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সবার সামনে আমাকে অপমান করেছে। তখন আমার আরেক বন্ধু ইমন বলল সমস্যাটা খুলে বলতে। কিন্তু কথার ভেতর আমি জটলা পাকার কারণে ইমন আমাকে বলল, তুমি কেমন ছেলে যে, ঠিকমতো কথা বলতে পার না। আমি তখন ক্যাম্পাসের নির্জন একটা জায়গায় গিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম, এমনকি সিদ্ধান্ত নিলাম, যে জীবন এত বঞ্চনার সে জীবন রেখে আর লাভ কী? তাছাড়া আমি যখন কারো সাথে উঁচু গলায় কথা বলি তখন পাসহ সমস্ত শরীর কাঁপে, তবে পা একটু বেশি কাঁপে। একবার চট্টগ্রামের পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে ভাবলাম, আমার এই অপদার্থ জীবনের যেহেতু মূল্য নেই সেহেতু এই জীবন রেখে আর লাভ কী? তাই আত্মহত্যা করার মতো পথ বেছে নিলাম কিন্তু মীর হোসাইনের জন্য পারিনি। তাছাড়া কেউ যদি আমাকে কোনো কথা বলে আমি তা মনে রাখতে পারি না বেশি সময়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা সোস্যাল ফোবিয়া। পাশাপাশি পার্সোনালিটির সমস্যা রয়েছে। ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি দরকার। আপনি ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম সকালে খাবেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম রাতে খাবেন। ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। সাইকোথেরাপির কোনো বিকল্প নেই, ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।
আলাউদ্দীন রতন
চরমোনাই, বরিশাল
আমার বয়স ২৮ বছর। একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার বড় আপার বয়স ৩০ বছর। সরকারি কলেজে তিনি অধ্যাপনা করেন। যখন আমার বয়স ১৫ বছর তখন আমার বড় আপার সাথে যৌন সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কটা শারীরিক ও মানসিকভাবে এতটাই গাঢ় হয় যে, আজকে এত বছর পার হয়ে গেলেও দুজন দুজনকে কিছুতেই ভুলতে পারছি না। ভাই-বোন যৌন সম্পর্ক ইসলাম সমর্থন করে না, তাই আমি যৌনসম্পর্কের ব্যাপারে অনিচ্ছুক ছিলাম। কিন্তু আমার আপার প্রলোভনে পড়ে সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য হই। আমি উচ্চ পর্যায়ে চাকরি পাওয়ার পর আপা বলছেন, তিনি আমাকে বিয়ে করবেন এবং আমাকে ছাড়া বাঁচবেন না। এটা অসম্ভব ব্যাপার হলেও আপা এটাকে সম্ভব করতে চাইছেন। আমার প্রশ্নটা হচ্ছে ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে হলে এবং তাদের সন্তান হলে সেই সন্তান কী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হবে?
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি যেটা জানতে চেয়েছেন তা বাস্তবতার নিরিখে অসম্ভব। ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে হলে সন্তানের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ কারণে এমন বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আপনারা কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে সাইকোথেরাপি করাতে পারেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলবেন, কারণ আপনাদের সম্পর্কটা ধর্মীয়, সামাজিক উভয় দিক থেকেই নিষিদ্ধ। একমাত্র ধর্র্মীয় অনুশাসনই পারে আপনাদের এই নিষিদ্ধ জগৎ থেকে বের করে আনতে। চিকিৎসার ব্যাপারে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যত তাড়াতাড়ি পারেন সরাসরি যোগাযোগ করুন। এই চিকিৎসারও কোনো বিকল্প নেই।
মো. সামা মাস্টার
লালদীঘি, চট্টগ্রাম
আমার বর্তমান বয়স ২২ বছর, আমার সমস্যা হচ্ছে কোনো কাজে বা কারো কথায় দৃঢ়তার পরিচয় দিতে পারি না, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, কোনো কথা মনে রাখতে পারি না, বাবা-মাকে অত্যধিক ভালোবাসা সত্ত্বেও খারাপ ব্যবহার করি, একবার মন খারাপ হলে সহজে ভালো হয় না, হতাশাবোধ করি। চিন্তা করলে মাথাব্যথা হয়। মানুষের সামনে কোনো কথা বলতে পারি না, কারো সামনে দিয়ে হাঁটতে গেলে নিজের নেতিবাচক দিকগুলো মনে পড়ে, নতুন কারো সাথে কথা বলতে নার্ভাস লাগে (বিশেষ করে মেয়েদের সাথে)। এছাড়া আমার আরো একটি সমস্যা হচ্ছে অত্যন্ত আবেগপ্রবণতা, সহজে মন খারাপ হওয়া। কোনো কিছু সুন্দর করে সাজিয়ে বলতে পারি না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা লো সেলফ এস্টেম। আপনার সমস্যার বেলাতে সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং দরকার। ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট নেক্সসিটাল ৫ মিলিগ্রাম আর অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। তবে সাইকোথেরাপির কোনো বিকল্প নেই। ধৈর্য হারাবেন না, কারণ মানসিক রোগের ওষুধ শরীরে কাজ করতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় নেয়। সাথে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে যেমন-ঘুম ঘুম ভাব, মুখ শুকনা লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য, কাছের জিনিস ঝাপসা দেখা ইত্যাদি। এগুলো সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে, এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। মনে রাখবেন এই ধরনের চিকিৎসায় যেটা বেশি দরকার তা হলো বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিৎসকের কথামতো ওষুধ খাওয়া শুরু করা এবং তার কথামতোই ওষুধ বন্ধ করা- এর কোনো বিকল্প নেই।
নীরব চৌধুরী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বয়স ২১-২২ বছর। আমি বয়ঃসন্ধিক্ষণের পর যখন বুঝতে শিখি তখন আমি গম্ভীর হয়ে পড়ি। কারো সাথে কথা বলতাম না। এমনকি মা-বাবা, বড় ভাই-বোনদের সাথে প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া আর কোনো কথা বলতাম না। বাইরের লোকজনের সাথে সহজে মিশতে পারতাম না এবং মিশতে চাইতামও না। সব সময় একা একা এক জায়গায় চুপ করে বসে থাকতাম। আমি যখন নবম-দশম শ্রেণীতে পড়ি তখন আমাদের পারিবারিক অশান্তি এবং আর্থিক দুরবস্থা দেখে আরো বেশি গম্ভীর ও বিষণ্ন হয়ে পড়ি। সব সময় পরিবারের কথা চিন্তা করতাম। ফলে লেখাপড়ার অবনতি হয় এবং বিষণ্নতা আরো বেড়ে যায়। আমার এই বিষণ্নতা এবং অন্তর্মুখী স্বভাব সেই সময় কোনো সমস্যার সৃষ্টি না করলেও এখন আমাকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমি অপরিচিত এবং আমার চেয়ে বেশি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোকদের সাথে চোখাচোখি হয়ে সহজে কথা বলতে পারি না। কেউ নালিশ করলে কিংবা কোনো ব্যাপারে কৈফিয়ত চাইলে আমি আমার বক্তব্য সুন্দর করে গুছিয়ে সহজে বলতে পারি না। কাঁপা কাঁপা গলায় কথা বেরিয়ে আসে, বুকের ভেতর ধুঁকধুঁকানি শুরু হয়, হার্টবিট বেড়ে যায়, আবার কোনো কারণে কেউ তিরস্কার করলে কিংবা অপমান করলে আমি যখন প্রতিবাদ করতে যাই তখন আমার গলা ধরে আসে। কিছুই বলতে পারি না। মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। কোনো কারণে রেগে গেলেও একই অবস্থা হয়, তখন আমার মনে হয় আমি হার্টঅ্যাটাক করব।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমার দিনগুলো মোটামুটি ভালোই কাটছিল। কিন্তু সমপ্রতি এক মাস ধরে আমি প্রচণ্ড টেনশনে দিন কাটাচ্ছি। যখন টেনশনে থাকি তখন আমার পাকস্থলীতে এক ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ঠিকমতো ভাত খেতে পারি না, মাথার পেছনের অংশেও এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। মাথার মাঝখানে উষ্ণতা বেশি থাকে, চুল পড়ে যাচ্ছে। সামনে আমার পরীক্ষা কিন্তু টেনশনের কারণে পড়ালেখায় মন বসাতে পারছি না।
আমার প্রচণ্ড সোস্যাল ফোবিয়ার সমস্যাও রয়েছে। আমি কোনো অনুষ্ঠানে কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের আড্ডায় নিজেকে মেলে ধরতে পারি না। কেউ পরামর্শ চাইলে হঠাৎ তাকে উপযুক্ত পরামর্শ দিতে পারি না। আমার মনে হয় আমি কথাবার্তায় এবং পরামর্শে কাউকে প্রভাবিত করতে পারি না। দিনের বেলায় বের হওয়ার চেয়ে রাতের বেলায় বের হলে নিজেকে মুক্ত মনে করি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সোস্যাল ফোবিয়ার সমস্যাই মূল সমস্যা। এতে করে বয়ঃসন্ধিকালের পরবর্তীতে ঠিক সেভাবে বিকাশপ্রাপ্ত হয়নি। আপনি সিটাপ্রাম ১০ মিলিগ্রাম রাতে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ও রাতে ১টা করে খাবেন। ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি করতে হবে। মানসিক রোগ চিকিৎসায় ওষুধ যেমন প্রয়োজনীয়,তেমনি সাইকোথেরাপির ভূমিকাও অনস্বীকার্য। ওষুধ চালিয়ে যান। পরবর্তীতে আপনার অবস্থা জানিয়ে ১ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
শিবলী
আমার বয়স ২১ বছর। আমার সমস্যা মূলত তোতলামি। তোতলামিকে কেন্দ্র করে বিশেষ কারো সাথে কথা বলার সময় বুক ধড়ফড় করে এবং কথা বাজে। আমার তোতলামিটা আমার কাছে অসহ্য মনে হয়। আমি আমার মনের ভাব সবার সামনে ফ্রিভাবে বলতে পারি না। আপনারা এটাকে সম্ভবত সোস্যাল ফোবিয়া বলেছেন। আমার মতো একজনকে পত্রিকায় জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম খেতে বলেছেন। আমি প্রায় ২০ দিন খেয়েছিলাম। আজ প্রায় ১ মাস জ্বরের কারণে বন্ধ করেছি। আমি স্পিচ থেরাপি করতে চাই। কিন্তু কীভাবে, কত টাকা প্রয়োজন বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব। আগের ওষুধগুলো কি চালিয়ে যাব?
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। স্পিচ থেরাপির জন্য পিজি হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগে যোগাযোগ করবেন।
লিয়াকত হোসেন
পবা, বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বিষণ্নতা সমস্যার জন্য আপনার পরামর্শক্রমে সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকাল বেলা ১টা,অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক এবং অ্যানাফ্রেনিল প্রতিদিন বিকেল বেলা সেবন করে আসছি। আপনি বলেছিলেন ওষুধ অনেক দিন খেতে হবে এবং এক মাস পর যোগাযোগ করতে। আমার মানসিক অবস্থা এখন খুব ভালো। ওষুধ এখন কীভাবে খাব?
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম চালিয়ে যান। এখন ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.২৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক খেয়ে ২০ দিন পর শুধু সকালে খাবেন। ওষুধ চালিয়ে যান,৩ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। মনে রাখবেন মানসিক রোগের ওষুধ দীর্ঘদিন যাবৎ সেবন করতে হয়, এমনও হতে পারে সারাজীবন স্বল্পমাত্রায় হয়তো ওষুধ চালিয়ে যেতে হতে পারে। এতে দুশ্চিন্তা বা ধৈর্যহারা হওয়ার কোনো কারণ নেই।
আনোয়ার হোসেন
মতিঝিল, ঢাকা
আমার বয়স ২৩ বছর। অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। আমার সমস্যা হলো আমি সব সময় বিষণ্নতায় ভুগি। প্রচুর অর্থকষ্টের মধ্যে লেখাপড়া করি। যখন বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা বা খেলাধুলা করি তখন মাথায় কোনো চিন্তা থাকে না। কিন্তু যখনই একা হই তখনই মাথায় অহেতুক চিন্তা বিরাজ করে। রাতে ঘুম হয় না, রাতে ঘুমালে মাথায় চিন্তা থাকে। সব সময় টেনশন ও উত্তেজনা,কখন কী অবস্থায় থাকি জানি না। সব সময় মাথা বনবন করে। পড়াশোনা করতে পারি না। এই রোগটা আমার অনেক দিনের, প্রায় দেড় থেকে দুই বছর। মানুষের সাথে ঠিকমতো মিশতে পারি না, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারি না। রাতে ঘুম না এলে যৌন আকাঙক্ষা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আমি বিয়েবহির্ভূত যৌনাচার আগে থেকে ঘৃণা করি। মাঝে মাঝে আত্মহত্যার ইচ্ছা হয়। তাড়াতাড়ি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। আমি এসব থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে চাই।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা মূলত অবসেশন। অবসেশনের কারণে আপনার মাঝে বিষণ্নতা আর সোশ্যাল ফোবিয়ার সমস্যাও দেখা দিয়েছে। আপনি ট্যাবলেট অ্যানদীপ ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে আর ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে খাবেন। ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ওষুধ অনেক দিন খেতে হবে। ৩৫ দিন যাওয়ার পর কিছুটা উপকার পাবেন। ২ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।
মো. সাইফুর রহমান
গেন্ডারিয়া ঢাকা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা সব সময় আজেবাজে চিন্তা হয়। চিন্তা করতে না চাইলেও চিন্তা। আর যখন চিন্তাটা বেশি হয় তখন মাথাব্যথা করে এবং পড়তে বসলে পড়ায় মনোযোগ থাকে না। আবার পড়া মুখস্থ হতে চায় না, অনেক কষ্টে মুখস্থ করলে একটু পরে আবার তা ভুলে যাই। পড়তে বসতে ইচ্ছা করে না, মনে হয় এত পড়া পড়ব কীভাবে। আবার বেশি সময় পড়লে মাথাব্যথা করে। এ অবস্থায় আমি এমবিবিএস ডাক্তার দেখালে তিনি চোখের ডাক্তার দেখাতে বলেন এবং চোখের ডাক্তার আমাকে রিসেট প্লাস এবং ভারগন ২০টা করে খেতে বলেন এবং ০.২৫ পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করতে বলেন। কিন্তু এখন মাঝে মাঝে মাথাব্যথা করে এবং দুশ্চিন্তাটা আছে। আর একটি সমস্যা- আমি মানুষের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। একজন অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলতে গেলে খুব নার্ভাস হয়ে পড়ি। কী বলতে কী বলে ফেলি আমি নিজেই বুঝি না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। এটি একটি মানসিক রোগ। আপনি ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম ও ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে নাশতার পর খাবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন, ১ মাস পর আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।
মো. শফিউল ইসলাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
সব সময় যেন চিন্তার মধ্যে পড়ে থাকি,সামান্য ব্যাপার নিয়ে টেনশন ফিল করি,নিজের ওপর কোনো বিশ্বাস নেই। সব সময় নিজেকে অসহায় ও ছোট ভাবি, মৃত্যুভীতি, অশান্তি, একই কাজ ও চিন্তা শুধু বারবার করি। সামান্য ব্যাপারেই রেগে যাই। মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আর ঘুম হয় না। ক্লান্তিবোধ, যৌনতার সমস্যা আর এসব কারণে পড়াশোনা জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। পড়তে বসলে বই বাদ দিয়ে আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসে। শত চেষ্টা করেও পড়াশোনায় মনোযোগ আনতে পারি না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অ্যাংজাইটি নিউরোসিস। পাশাপাশি অবসেশনের সমস্যা রয়েছে। আপনি ট্যাবলেট অক্সাট ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা এবং বিকেলে ১টা করে সেবন করবেন। ২ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মো. সুজন চৌধুরী
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২১ বছর। আমি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। আমি প্রায় সময় অস্থিরতায় ভুগি। মনে হয় যেন ওই জায়গায় গেলে আমার ভালো লাগবে। কিন্তু ওই জায়গায় গেলেও আমার ভালো লাগে না। ঘুমানোর সময় ও পড়ালেখার সময় যৌনচিন্তা আসে। পড়ালেখায় একদম মন বসে না। ক্লাসরুমে শিক্ষক লেকচার দেয়ার সময় হঠাৎ মনের মাঝে আজেবাজে চিন্তা আসে। ফলে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি। অনেকগুলো লোকের সামনে দিয়ে হাঁটার সময় বিশেষ করে মেয়েদের সামনে দিয়ে হাঁটার সময় আমি খুব নার্ভাস ফিল করি। একপর্যায়ে আমার হাঁটার সময় পা দুটির গতি এলোমেলো হয়ে যায়। মনে হয় যেন কেউ আমাকে নিয়ে অথবা আমার হাঁটার স্টাইল নিয়ে হাসাহাসি করছে। আবার কারো সাথে একটু ঝগড়া হলে সামান্যতেই আমি খুব উত্তেজিত হয়ে যাই এবং সে সময় আমার ঠোঁট দুটো খুব কাঁপতে থাকে। মনে হচ্ছে যেন আমার আত্মবিশ্বাস ও স্মরণশক্তি কমে গেছে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। পাশাপাশি হা্ল্কামাত্রার ডিলিউশনের সমস্যা রয়েছে। আপনি ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে, দুপুরে ও রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট লোপেজ ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করবেন। দেড় মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। মনে রাখবেন মানসিক রোগের ওষুধ শরীরে কাজ শুরু করতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এতে ধৈর্য্য হারা হবেন না, নিয়মিত ওষুধ সেবন করবেন।
বিজয়
ভাঙ্গুরা, পাবনা
আমার বয়স ১৮ বছর। আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। আমার সমস্যা হলো-স্মৃতিশক্তি কমে গেছে, মনের ভেতর একটা কিছু মনে হলে বের হতে চায় না। আজেবাজে চিন্তা মনের মধ্যে ঘুরপাক খায়, পড়াশোনা একটুও করতে পারি না, মাথা গরম হয়ে যায়, মাস্টারবেশনের অভ্যাস আছে, দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছি। আমি আপনার পত্রিকার এক রোগীর সমস্যার সাথে আমার সমস্যা মিলে যাওয়ায় ওষুধ সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম ও অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম এক মাস যাবৎ গ্রহণ করছি। কিছু সমস্যা দূরীভূত হয়েছে। কিন্তু প্রধান সমস্যা পড়ালেখা ঠিকমতো করতে না পারা এটা কিছুতেই ভালোভাবে করতে পারছি না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার লেখাপড়ার সমস্যাটিও এর সাথে সংশ্লিষ্ট। আপনি ওষুধ চালিয়ে যান। পরবর্তীতে আপনার এ সমস্যাটিও অনেক মাত্রায় কেটে যাবে।
হামিদুর রহমান
সিলেট
আমার বয়স ১৮ বছর। মনোজগতের একটি পুরনো সংখ্যায় একটি প্রশ্নের সাথে আমার সমস্যা মিলে যাওয়ায় আমি ওষুধ খেতে শুরু করি। সেখানে আপনি রোগের নাম বলেছিলেন অবসেশন। ওষুধ দিয়েছিলেন সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম সকালে ১টি, টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম রাতে ১টি, অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম ২০ দিন সকালে ও রাতে অর্ধেক এবং ২০ দিন পর ০.২৫ অর্ধেক করে একই নিয়মে খাওয়ার জন্য। ওষুধ খাওয়ার দেড় মাস পর যোগাযোগ করছি। ওষুধ খাওয়ার পর কিছু ভালো অনুভব করছি, তবে তা বেশি নয়। বর্তমানে আমার যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা হলো- পড়ার টেবিলে বসলে নানা চিন্তা এসে মাথায় ভিড় করে। রাগে বা উত্তেজনায় পা অস্বাভাবিকভাবে কাঁপে, বুক ধড়ফড় করে, মুখে বা শরীরের কোথাও একবার হাত দিলে সেখানে বারবার হাত দিই। ইচ্ছা করলেও না দিয়ে পারি না। কোনো খেলার অংশ বা কারো কোনো কথা মনে মনে বারবার পুনরাবৃত্তি করি,ইচ্ছা করলেও এগুলো মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারি না। ঘুম গাঢ় হয় না এবং ঘুমে তৃপ্তি পাই না। মেয়েদের সাথে কথা বলতে অস্বস্তিবোধ করি এবং কারো সাথেই গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। অল্পতেই কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি এবং সামান্য কারণে মানুষকে অবিশ্বাস করি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি এক্ষেত্রে ওষুধ আগের নিয়মে চালিয়ে যাবেন। ট্যাবলেট সেরোলাক্সের মাত্রা বাড়াতে হবে। সকালে ১টার জায়গায় দেড়টা খাবেন। সাথে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। দেড় মাস পর অবস্থা জানাবেন।
মো. মুহিতুল ইসলাম
নওগাঁ, রাজশাহী
রোগী আমার ভাতিজা। বয়স ১২ বছর। ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি সে সব সময়ই স্বাভাবিক আচরণ করে, শরীর স্বাস্থ্য সবই ভালো। কিন্তু জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দিন সে একটি টাকাও হাতে নেয়নি। এমনকি স্কুলের বেতন, খাবার জিনিসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কোনো কিছু কিনতে হলে সে কিনতে চায় না। অন্য কোনো বন্ধু,আত্মীয়-স্বজনের হাতে কিনে নেয়। এখন যেহেতু সে বড় হচ্ছে এবং লেখাপড়া করছে তাই তার দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার জন্য টাকার প্রয়োজন আছে এবং তা তাকে নিজে খরচ করতে হবে। এসব কথা আমরা তাকে বললে সে শুধু হাসে। টাকা নিতে রাজি হয় না। সমস্যাটির সমাধান বিষয়ে পরামর্শ পেলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। চিঠি থেকে আপনার ভাতিজার সমস্যা সম্পর্কে মন্তব্য করাটা কঠিন। এ ক্ষেত্রে বিস্তারিত লিখেও লাভ হবে না। কারণ রোগীর সাথে কথা না বলে কোনো মন্তব্য করার অবকাশ নেই। আপনার জন্য উত্তম পরামর্শ হলো আপনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক রোগ বিভাগে আপনার ভাতিজাকে নিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। অথবা ঢাকায় আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
মো. খাইরুল বাশার
মোহাম্মদপুর, ঢাকা
আমার বয়স ১৮-১৯ বছর। আমি প্রায় ১০ বছর যাবৎ একটি কঠিন সমস্যায় ভুগছি। আমি যখন প্রাইমারিতে পড়াশোনা করি তখন থেকেই বছরে প্রায় ৩-৪ বার ১৫-১৬ দিন মেয়াদি মাথাব্যথা হতো। তারপর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে অনেক ওষুধ সেবন করেছি। তারা এটাকে সাইনোসাইটিস বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু এসব চিকিৎসার ফলে তাৎক্ষণিক কিছু আরাম পেয়েছি বটে, তবে আমার সমস্যা ক্রমে বেড়েই চলেছে। দুই বছর ধরে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, নাক ও কানের মাঝে ঢোঁক গেলার সময়, পানাহারের সময়, শ্বাস ছাড়ার সময় কঠিন আওয়াজ হয়। মনে হয় নাক, কানের পর্দা ফেটে শ্বাস বের হয়। মাথা সব সময় ভার থাকে, একাকী থাকলে নানা চিন্তা আসে। কখনো আমি বক্তা, কখনো শিক্ষক, কখনো খতিব হয়ে কথা বলতে থাকি। ঘুমের খুবই ব্যাঘাত ঘটে। এ জন্য ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম খাচ্ছি। এতে তেমন কোনো সুফল পাচ্ছি না। মাথার বাম দিকটা সর্বদা ভার হয়ে থাকে। ঘুম হলে এই ভাবটা সামান্য কমলেও সকাল ৯টায় আবার মাথা ধরে যায়। মাথার অর্ধেক শুধু গরম থাকে। এমতাবস্থায় বসে বসে ঘুমের ভাব হলেও শুলে ঘুম চলে যায়। খাওয়ার রুচি নেই, তৈলাক্ত কোনো কিছু খেলে পাতলা পায়খানা হয়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। সাইনোসাইটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এর চিকিৎসায় ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইনাস ওয়াশ করা ছাড়াও অপারেশন পর্যন্ত করা হয়। এক্ষেত্রে একজন নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ভালো পরামর্শ দিতে পারেন। আপনার সমস্যার বেলাতে বিলম্ব করা উচিত নয়। কারণ চিকিৎসা করানো না হলে তা থেকে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। মনে রাখবেন রোগ যত ছোটই হোক না কেন তাকে অবহেলা করতে নেই। এই ছোট রোগটিই হয়তো একসময় বিশাল আকার ধারণ করতে পারে।
শেখ বুরহানউদ্দীন মন্ডল
বনানী, ঢাকা
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার সমস্যা হলো কারো সামনে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। এমনকি আমার ক্লাসে দাঁড়িয়ে পড়া বলতে গেলে মাথা কাজ করে না। সবকিছু ভুলে যাই। অপরিচিত মানুষের সাথে ঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারি না। কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিলে এক অজানা ভয় আমাকে আঁকড়ে ধরে। এ জন্য মানুষের সামনে আমার গান গাওয়ার প্রতিভা, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি প্রকাশ করতে পারি না। নিজেকে খুবই ছোট মনে করি। ক্লাসে যখন শিক্ষক পড়া ধরে তখন আমার বুক ধড়ফড় করতে থাকে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার মাঝে সোস্যাল ফোবিয়ার সমস্যা রয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা ব্যক্তিত্বের মাঝে। আপনার দরকার সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে ও রাতে ১টা করে ট্যাবলেট নেক্সসিটাল ৫ মিলিগ্রাম আর ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ খেয়ে দেখতে পারেন। ওষুধ সেবন করলেও সাইকোথেরাপির কোনো বিকল্প নেই। সাইকোথেরাপি মানসিক রোগ চিকিৎসায় একটি অত্যাধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক নন মেডিসিন চিকিৎসা।
স্বপন কুমার পাল
জয়পুরহাট
আমার বয়স ২৮ বছর। আমার সমস্যা হলো আমাকে ট্যাবলেট ইপাম ৫ মিলিগ্রাম ২টি এবং ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম ১টি মোট ৩টি ট্যাবলেট খেতে হয় প্রতিদিন রাতে। যদি না খাই আর কোনো কাজকর্ম করতে পারি না। শরীরে অশান্তি ভাব চলে আসে। এখন আমি কী করব। আমাকে কি কোনো সুন্দর পরামর্শ দেবেন?
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি ট্যাবলেট ইপাম ৫ মিলিগ্রামের ওপর ডিপেন্ডেট হয়ে পড়েছেন। এটি ছাড়াতে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে পারেন।
নাঈম
সখিপুর, টাঙ্গাইল
আমার বয়স ২৭ বছর। আমার সমস্যা হলো ৫ বছর বয়সে আমি মাথায় আঘাত পাই। তার ফলে মাথা প্রথম প্রথম ঝিমঝিম করত। তার কিছুদিন পরে এক বিশিষ্ট সাহাবির নাম সব সময় মনে পড়ত যেমন- খাওয়া-দাওয়ার সময়, পায়খানা-প্রস্রাবের সময় এবং টিভি দেখার সময়ও। তারপর একসময় ঠিক হয়ে যায়। এরপর ১৯৯৯ সাল থেকে তীব্রমাত্রায় যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি তা হলো- মনে হয় আমার যৌনশক্তি থাকবে না, সর্বদা মনে হয় আমার পায়ের নিচে কোরআন শরিফ বা কোনো সাহাবির কবর। সবচেয়ে মারাত্মক কষ্টের বিষয় হলো যা কিছু করি না কেন বা একটু নড়াচড়া করলেই মনে হয় আমি কোনো মুসলিম মনীষী নারীর সাথে ব্যভিচার করতে যাচ্ছি বা আল্লাহকে ভীষণভাবে নারাজ করতে যাচ্ছি। এছাড়া মনে হয় এ কাজ করলে আমার যৌনশক্তি থাকবে না বা এ কাজ করলে কোনো মুসলিম ধার্মিক নারীর সাথে জিনা করা হবে। সব সময় খুব অস্থির লাগে, মন খারাপ থাকে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। তবে এটি আপনার বেলাতে বেশ প্রকট। আপনি ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা করে আর ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম সন্ধ্যায় ১টা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট ফ্লুয়াঞ্জল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ও রাতে ১টা করে সেবন করুন।
শহীদ
সদরঘাট, ঢাকা
আমার বয়স ২৮ বছর। আমার ছোটবেলা থেকে যে সমস্যা তা হলো আমি মানুষের সাথে হঠাৎ মিশতে পারি না এবং গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। আমার নিজের কাছে মনে হয় আমার বয়স ১৪-১৫ বছর। আমি একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে চাকরি করি সুপারভাইজার পদে আর হিসাব-নিকাশ করি। কিন্তু আমি কাজ সম্পর্কে শ্রমিকদের বোঝাতে পারি না। কেমন জানি এলোমেলো লাগে। ঝটপট কোনো হিসাব করতে পারি না, ভুল হয়ে যায়। আর প্রথম সমস্যা হলো আমার কিছু মনে থাকে না। বারবার ক্যালকুলেটর টিপে পিএম এবং জিএমকে হিসাব দিতে হয়। তাই তারা বিরক্তবোধ করে এবং মাঝেমধ্যে বকা দেয় এবং নিজের কাছে খুব খারাপ লাগে। মাথার এক সাইড ব্যথা করে এবং চোখে জল এসে যায়। কারো সাথে ঝগড়া করলে আমার পুরো শরীরে কাঁপন সৃষ্টি হয়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অ্যাংজাইটি নিউরোসিস। আপনি ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ১ মাস পর অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
কবির হোসেন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার সমস্যা হলো ঘনঘন প্রস্রাব হয় (২০-২৫ বার)প্রতিদিন। প্রতিদিন ৩-৪ বার পায়খানা ও পেটের সমস্যা। তাছাড়া জ্বর, সর্দি, স্বপ্নদোষ, চুলপড়া, চুলকানি মাঝে মাঝে হয়। প্রস্রাব ও পায়খানার সমস্যা আজ ৩-৪ বছর ধরে। প্রস্রাব ক্লিয়ার হয় না। বৃষ্টির দিনে বা গোসল করার সময় প্রস্রাবের বেগ আরো বেশি ও ঘন হয়। ডাক্তারের পরামর্শমতো প্রস্রাব পরীক্ষা করেছি। একবার ধূসর আবার হলুদ রঙ ধরা পড়েছে। পানি খেলে সাথে সাথে প্রস্রাব হয়।
সাদা আমাশয় আছে কি না জানি না। তবে পুরাতন আমাশয়ের মতো কোঁত দিলে সাদা ধাতুর মতো বের হয়। পায়খানার সাথে আম, অম্ল বের হয়। পায়খানা প্রায় ২০ মিনিট লাগে শেষ হতে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা মূলত অ্যাংজাইটি। সেক্স আর শরীর নিয়ে নানা অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন। মূল চিকিৎসার আগে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে আপনার মেডিকেল চেকআপ করে নিন।
সাকুর
সাহেববাজার, রাজশাহী
আমার বয়স ২২ বছর। আমার সমস্যাগুলো হচ্ছে আমি সবার সাথে চলতে পারি না। মন খুলে স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারি না। আমি যাদের সমীহ করি বা অপরিচিত কারো সাথে কথা বলি তখন কথা জড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে দেখা যায় জড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে তাদের সাথে কথা বলতে ভয় হয়। বর্তমানে এ সমস্যাটি আমার প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমি কোনো চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পাই এবং সব কাজে নিজেকে অযোগ্য মনে করি। শরীর সব সময় দুর্বল দুর্বল লাগে, বুক ধড়ফড় করে। কোনো একটি কাজ করতে যাওয়ার আগে বিশেষত কোনো স্যার বা ভদ্রলোকের সাথে কথা বলতে যাওয়ার আগে বুক ধড়ফড় করে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অ্যাংজাইটি নিউরোসিস। পাশাপাশি আপনার মাঝে হাল্কা মাত্রার তোতলামির সমস্যা রয়েছে। আপনার দরকার সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ১ মাস পর অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
ঢাকা
আমার বয়স ২২ বছর। আমি একটি অবিবাহিতা মেয়ে। আমি ৬ বছর ধরে প্রচণ্ড কষ্টের মাঝে ডুবে আছি। আমার সমস্যা হলো- মৃত্যুকে প্রচুর আকারে ভয় পাই, সর্বদা মনে হয় এই বুঝি আমি মারা যাব। নিঃশ্বাস বের হয়ে যাচ্ছে, তখন প্রচণ্ড গতিতে বুক ধড়ফড় করে। হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়, মাথা খুবই গরম হয়ে যায়। চিৎকার করে উঠি। সবকিছু মনে হয় আশাহীন, মনে হয় বাঁচার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কারো সাথে মিশতে পারি না, অচেনা কারো সাথে কথা বলা কিংবা তাদের সাথে থাকা, জনবহুল এলাকা, একাকী পথ, একা থাকা বহু দূরের পথ আর এই সময়গুলোতে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কষ্ট আমাকে জড়িয়ে ধরে। গ্যাস্ট্রিকের প্রবণতা খুবই বেশি, ক্ষুধামান্দ্য ও বমি ভাব, শোয়া থেকে উঠলে মাথা ঝিমঝিম করে। ঘুম ও খাওয়া-দাওয়া মোটামুটি। আমার জানা মতে আমার পরিবারে এই সমস্যাটা আরো ২ জনের আছে কিন্তু সবাই কাটিয়ে উঠতে পারলেও আমি পারছি না। তাই এ সমস্যার কারণে সর্বদা আমি অস্থির হয়ে থাকি এবং আমার পরিবারকে আমি অস্থির বানিয়ে রাখি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। আপনার সমস্যার বেলাতে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং দরকার। আপনি ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম দিনে ৩ বেলা সেবন করবেন। ট্যাবলেট নেক্সসিটাল ৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ওষুধ চালিয়ে যান,আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর আপনার অবস্থা বিস্তারিত জানিয়ে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।
মঞ্জুরুল ইসলাম
কাঁটাবন, ঢাকা
আমার বয়স ৩৫ বছর। আমার সমস্যা হলো মানুষের সাথে সহজে মিশতে পারি না। গল্প-গুজব আড্ডায় অংশগ্রহণ করতে পারি না। কেমন যেন মনের মাঝে একটা বাধা লজ্জা সংকোচ মনে হয়। কোনো কাজের প্রতিবাদ করতে পারি না,চুপচাপ নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করি। কারো সাথে ঝগড়া হলে ঝগড়া করতে পারি না, অস্থিরতা বেড়ে যায়। নিজে দোষ না করলেও দোষ শিকার করে চলে আসি।
বস বা কোনো বড় অফিসার বা ডাক্তারের নিকট মন খুলে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যাই। মনের ভেতর ভয় আর আতঙ্ক কাজ করে। সাহস পাই না,বই-পত্রিকা পড়ে এবং অনেক সাধারণ কথাও মনে রাখতে পারি না। বিশেষ করে মানুষের নাম খুব সহজেই ভুলে যাই। নতুন কোনো লোক ২-১ দেখার বা আলাপ করার পরও কিছুদিন পরই ভুলে যাই। ৩-৪ বছর হলো বিয়ে করেছি,স্ত্রী আমাকে নিয়ে খুশি নয়। আমি স্ত্রীর মনের মতো না। স্ত্রী বলে আমি আন মর্ডান, রুচিবোধ নেই, ওল্ড মডেলের মতো। আমি বড় বিপদের মধ্যে আছি, প্লিজ স্যার আমাকে সাহায্য করুন।
ওষুধ হিসেবে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে সেবন করুন। কাউন্সিলিং এবং সাইকোথেরাপি ব্যতীত আপনার চিকিৎসা অসমাপ্ত থেকে যাবে। মানসিক রোগ চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাইকোথেরাপি নন-মেডিসিন চিকিৎসা হিসেবে বেশ ফলপ্রসূ। তাই সাইকোথেরাপির জন্য আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।
শাকিল আহমেদ খান
চৌরাস্তা, গাজীপুর
আমার বয়স ২৯ বছর। আমার সমস্যা হলো নতুন কোনো লোকের সাথে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করি, যেমন কোনো নতুন এলাকায় গেলাম বাসার নম্বর খুঁজে পাচ্ছি না। কাউকে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন, কিন্তু জিজ্ঞাসা করি না, আর করলেও একটু বিড়ম্বনার পর।
ক্লাসে স্যার বললেন এই পাতাটি কেউ একজন রিডিং পড়, কিন্তু উঠে দাঁড়াই না। ভাবি যদি ভালো করে পড়তে না পারি। অন্যরা যখন পড়ে তখন খারাপ লাগে, তখন ভাবি তার চেয়ে ভালো করে পড়তে পারতাম, পড়লাম না কেন?
প্রিন্সিপ্যাল স্যারের সাথে কথা বলব রুমে প্রবেশ করতে ভয় হচ্ছে, হৃৎপিণ্ড বেশি চলছে। স্যারের সাথে কথা বলি, কিন্তু বিড়ম্বনার পর। মাইকে কথা বলার পর দেখা গেল ঘেমে গেছি। কোনো পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় দু হাত অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ঠাণ্ডা লাগে,নতুন মানুষের সাথে কথা বলি কিন্তু দেরি হয়। একটু বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়, তাদের সাথে ফ্রিভাবে কথা বলতে পারি না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা সোস্যাল ফোবিয়া। আপনার মাঝে অ্যাংজাইটির মাত্রা বেশি। আপনার জন্যও আমাদের পরামর্শ থাকবে ঠিক আগের চিঠির মতো যেমন- এক্ষেত্রে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি কাউন্সিলিং আর সাইকোথেরাপি করানো খুবই জরুরি। ওষুধ হিসেবে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে সেবন করুন। কাউন্সিলিং এবং সাইকোথেরাপি ব্যতীত আপনার চিকিৎসা অসমাপ্ত থেকে যাবে। মানসিক রোগ চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাইকোথেরাপি নন-মেডিসিন চিকিৎসা হিসেবে বেশ ফলপ্রসূ। তাই সাইকোথেরাপির জন্য আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।
মিজান
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ৩০ বছর। বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। একটি মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রামে চাকরি করি। এই চাকরিটাই আমার ৫ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের একমাত্র ভরসা। কিন্তু চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিৎ, যেকোনো মুহূর্তে চলে যেতে পারে। তাই সর্বদা গভীর উৎকণ্ঠা, হতাশার মধ্যে থাকি। চাকরি চলে গেলে কী করব, পরিবার নিয়ে কীভাবে ভবিষ্যৎ কাটাব- এ নিয়ে যখন চিন্তা করি তখন চোখ-মুখে অন্ধকার দেখি। বুকে তখন প্রচণ্ড চাপ অনুভব করি, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায় এবং হাত-পা ঝিমঝিম করে। পারিবারিক কলহে, স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য এবং হঠাৎ কোনো দুঃসংবাদ শুনলেও এ রকম হয়। আমার দীর্ঘদিন যাবৎ আরো কয়েকটি সমস্যা আছে। মাথার মধ্যে মাঝেমাঝে অস্থির লাগে, মনে হয় ঘুম আটকে আছে। কখনো কখনো বুকচাপা স্বপ্ন দেখি। তখন ঘোঁ ঘোঁ শব্দ করি ও ভীষণ ভয় পাই। কারণে-অকারণে প্রায়ই মন খারাপ থাকে। সামান্য ব্যর্থতায় নিরাশ ও বিচলিত হয়ে পড়ি। বেশির ভাগ চিন্তাভাবনাই নেতিবাচক। কখনো অতিনিদ্রা, কখনো অনিদ্রায় ভুগি। মনোযোগসহ কোনো কাজ করতে পারি না, যার কারণে প্রত্যেকটা কাজেই ভুল হয়। আত্মবিশ্বাসের যথেষ্ট অভাব, কারো সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না, আমি গান-বাজনার সাথে জড়িত কিন্তু মঞ্চে গান গাইতে পারি না, বুক ধড়ফড় করে। প্রবল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি সেকেন্ডারি ডিপ্রেশনে ভুগছেন। আপনার সমস্যার বেলাতে প্রধানত দরকার সাইকোথেরাপি। তবে আপনি ভ্যানলাক্স ৩৭.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করতে পারেন। ২ মাস পর অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
আবরার হোসেন
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৪ বছর। রসায়নে অনার্স পড়ছি। আমার কয়েকটি সমস্যা আছে যেমন ভীরুতা ও লজ্জাবোধ। রোমান্টিকতা নেই। অনেক সময় গাড়িতে চড়তে ভয় লাগে, চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে আসে। মেয়েদের সামনে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারি না, নার্ভাস ও লজ্জা লাগে। বক্তব্য দেয়া বা কারোর সামনে কাজ করতে গেলে হাত-পা কাঁপে, বুক ধড়ফড় করে, এমনকি চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে মাথা ঘোরায়। মানুষের সাথে ভালোভাবে মেলামেশা করতে পারি না। স্মার্ট ছেলেদের সামনে নিজেকে ছোট মনে হয়, তাদের সামনে চলাফেরা করতে আনইজি ফিল করি। আমার দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে ৫ মিনিটও মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারি না। নানা রকম টেনশন হয়, যেমন শুধু শুধু এত পড়া দিয়ে কী হবে রেজাল্ট তেমন ভালো হবে না। মন দিয়ে ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র পড়তে পারি না। পড়াশোনার সময় নানারকম নেগেটিভ চিন্তা আসে। সব সময় কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকি। যেমন মেয়েদের প্রতি আমি দুর্বল। তাদের সামনে হাঁটতে পারি না, হাত-পা কাঁপে, বুক ধড়ফড় করে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি লোসেলফ এস্টেম সমস্যাতে ভুগছেন। এক্ষেত্রে একটা নেক্সসিটাল ৫ মিলিগ্রাম ও ১টা ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে খেয়ে দেখতে পারেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।
ফয়সাল ইকবাল
গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ
আমার বয়স ১৯ বছর। আমি মামার মুদি দোকানে থাকি। বর্তমানে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি তা হলো- আমি দোকানের অনেক পণ্যের দাম মনে রাখতে পারি না। মনে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করি কিন্তু পারি না। তাছাড়া ভুলে কাস্টমারকে টাকা বেশি দিয়ে ফেলি। নিজের প্রতি অনেক রাগ ওঠে, কেউ কিছু বললে সহ্য করতে পারি না। চোখ দিয়ে পানি বের হয়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার বেলাতে কিছুটা কাউন্সিলিং দরকার। তবে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করতে পারেন। ২ মাস পর অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
রায়না
ঢাকা
আমার বয়স ২০ বছর। ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছি বিজ্ঞান শাখা থেকে। আমি প্রথমে এক কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হই। ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় কৌতূহলবশত এক মেয়েকে ভালোবাসার কথা জানাই। যদিও ভালোবাসার মানে কী তা উপলব্ধি করতে পারিনি তখনো। কেন জানি না মেয়েটি ক্লাস টিচারকে বলে দেয় এবং ব্যাপারটা আমার অভিভাবক পর্যন্ত গড়ায়। প্রথমে আমি অস্বীকার করি, আমার বন্ধুরা খোঁজ-খবর করে আমার কিছু ক্লাসমেটের বাড়ি যায় আর সেই মেয়েটার বাসায়ও যায়। এ নিয়ে আমাকেও বেশ হেস্তনেস্ত করে।
এরপর থেকে বাইরে বের হলেই লজ্জাবোধ হতো। স্কুল ছাড়া আর বাড়ির বাইরে যেতাম না। সারাদিন কাটত বাসায়। মনে হতো সবাই আমাকে দেখছে, সবাই মনে মনে বাজে মন্তব্য করছে, বাজে ভাবছে। ঘর থেকে বের হলেই শরীর রি রি করত। ষষ্ঠ শ্রেণীতে বয়েজ স্কুলে ভর্তি হই। বাড়ির আর স্কুল এ পর্যন্তই ছিল আমার চলাফেরা। ভালো লাগত না বলে বাইরে খেলতে যেতাম না। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি যেতাম না। বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে ইচ্ছা করে না।
এখনো বাড়ির বাইরে যেতে ইচ্ছা করে না। নিজের এলাকায় বেরোলেই অস্বস্তি লাগে। সব সময় মনে হয় আমার ড্রেসআপ ঠিকমতো হয়নি। এলাকার মানুষের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারি না, কারো চেহারার দিকে তাকাতে পারি না। কোনো মেয়ের সাথে কথা বলা দূরে থাক কোনো বড় আপুর সাথেও ঠিকমতো কথা বলতে পারি না। পারিবারিক প্রয়োজনীয় কাজ যেমন বাজার করা প্রভৃতিও কখনো করতে পারি না। আর অলসতা একটা বড় সমস্যা। চেষ্টা করেও সময়ের কাজ সময়ে করতে পারি না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা স্ট্রেচ রিয়েকশন। কোনো মানসিক চাপপ্রদ ঘটনার পর এটি ঘটে থাকে। আপনি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে খাবেন। ট্যাবলেট লোপেজ ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে খাবেন। ৪০ দিন পর আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং আমাদের পরামর্শ ছাড়া কখনো ওষুধ সেবন বন্ধ করবেন না। মনে রাখবেন বিশেষ করে মানসিক রোগ চিকিৎসায় অনিয়মিত ওষুধ খাওয়ার চেয়ে না খাওয়া অনেক উত্তম। কারণ অনিয়মিত ওষুধ খেলে রোগ তো সারবে না বরং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং রোগের জটিলতায় রোগী আরো বেশি কষ্টভোগ করবে। ৩ মাস পর আবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মো. সোহেল আরমান
কুড়িগ্রাম
আমার বয়স ২৪ বছর। আমি একজন অবিবাহিত যুবক। আমার সমস্যা হলো দীর্ঘ ১০-১১ মাস প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খুব খারাপ লাগে। কেমন যেন বিষণ্নতা লাগে, রাতে ঘুম ভালো হয়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা সেকেন্ডারি ডিপ্রেশন বা রিয়েকটিভ ডিপ্রেশন। আপনি প্রতিদিন দুপুরে খাওয়ার পর ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম ১টা ও ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম অর্ধেক করে সেবন করবেন। ১ মাস পর অবস্থা জানিয়ে যোগাযোগ করবেন।
জাহিদুল ইসলাম
গুলশান, ঢাকা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যাগুলো হচ্ছে- আমার চিন্তা-ভাবনা সব সময় বিপরীতমুখী। যেমন আমি গাড়িতে যাচ্ছি এমন সময় মনে হচ্ছে গাড়িটা উল্টে গেলে কেমন হবে। কেউ যদি আমার হাতে কোনো জিনিস দেয় তখন মনে হয় এটা যদি হাত থেকে পড়ে যায় তবে কেমন হবে। হোটেলে খেতে বসেছি বিল দেয়ার সময় মনে হচ্ছে যদি পকেটে টাকা না থাকে তবে কেমন হবে ইত্যাদি। একা একা নিজের মনের সঙ্গে কথা বলি একেবারে পাগলের মতো। নিজের মনকে স্থির করতে পারি না, সামান্যতেই কল্পনা জগতে চলে যাই। পড়তে পড়তে হঠাৎ করে আনমনা হয়ে ভাবতে শুরু করি। কারো সামনে কোনো কিছু ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারি না। মনে হয় তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারলে বাঁচি। কারো সামনে কিছু লিখতে গেলে হাত কাঁপে। মুখে বলছি একটা আর লিখছি অন্যটা। স্মরণশক্তি একেবারে নেই, ক্লাসে কিছু পড়লে তা কিছুক্ষণ পরে ভুলে যাই।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। দীর্ঘদিন অবসেশন সমস্যার কারণে আপনার মাঝে কিছুটা সোস্যাল ফোবিয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। আপনি ট্যাবলেট রেসপোলাক্স ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে এবং ট্যাবলেট নেক্সসিটাল ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করবেন। দেড় মাস পর অবস্থা জানিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। মনে রাখবেন মানসিক রোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা খুবই জরুরি। কারণ আপনার শরীরে ওষুধের কার্যক্রম শুরু হতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগবে। অতএব ওষুধ সেবন শুরু করার ১ মাসের মাথায় আপনি উপকার পেতে শুরু করবেন। বুঝতেই পারছেন ১ সপ্তাহ বা ১০ দিন ওষুধ খেয়ে অধৈর্য হয়ে ওষুধ সেবন বন্ধ করে দিলে কোনো উপকারই পাবেন না। বরং আপনার চিকিৎসা আরো বিলম্বিত হবে এবং আপনি আরো বেশি কষ্ট ভোগ করবেন।
বেলায়েত হোসেন
পটুয়াখালী
আমার বয়স ২৪-২৫ বছর। আমি একজন সামান্য বেতনের চাকরিজীবী। আমার সমস্যা হচ্ছে মাথা সব সময় গরম থাকে। ৩-৪ বছর পর্যন্ত আমি এ সমস্যায় ভুগছি। মানুষের সঙ্গে বলতে গেলে আমার অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমার স্মরণশক্তি খুব কম। এই সমস্যা দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম কমে যায়। ঘুম একেবারে হয় না বললেই চলে। লেখাপড়ার প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার চিঠি থেকে সমস্যা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সমাধান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও আপনি ট্যাবলেট ট্রিপটিন ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে সেবন করুন। সঙ্গে ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম ১টি করে চালিয়ে যান।
মারুফ
গুলিস্তান, ঢাকা
আমার বয়স ২০ বছর। আমি আগে আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আপনারা আমার সমস্যাকে সোস্যাল ফোবিয়া বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং সে মতে ট্যাবলেট প্রদীপ প্রতিদিন সকালে, রিভোট্রিল সকালে ও রাতে এবং রেসপোলাক্স অর্ধেক করে রাতে খাওয়ার উপদেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে আমার অবস্থা হলো লজ্জাবোধ ও ভীরুতা কিছুটা কমেছে। তবে এখনো মেয়েদের বা শিক্ষকদের সামনে দিয়ে হাঁটতে বুক ধড়ফড় করে, বন্ধুদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে পারি না। কথা মুখে জড়িয়ে যায়। এলোমেলো কথা মুখ দিয়ে বের হয়। সবার সঙ্গে মাথা তুলে কথা বলতে পারি না। যে কোনো কাজের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে, পড়ালেখায় মন বসে না। আগে আমার অশ্লীলতার প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল, বর্তমানে নেই বললেই চলে। তবে বর্তমানে আমি চলাফেরা, কথাবার্তা ও কাজকর্মে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, যা আগে আমার মধ্যে ছিল না। তাই আমার পরিবারের ও আমার পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। এই ওষুধগুলো কি চালিয়ে যাব? এবং তা কত দিন, দিকনির্দেশনা দিলে আরো কৃতার্থ হব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। ওষুধ চালিয়ে যান। এখন আপনার দরকার সাইকোথেরাপি। আপনি সাইকোথেরাপির জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
মো. আওলাদ হোসেন
বরিশাল
আমার মায়ের বয়স ৪৫ বছর। দীর্ঘ ৬ বছর আগে জ্বর ও কাশির জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়ে সুস্থ না হয়ে আমার মা দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং অস্বাভাবিক ও এলোমেলো আচরণ শুরু করেন। পরে একজন অভিজ্ঞ বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখালে তিনি টিবি রোগ ও শারীরিক সমস্যার ওষুধসহ ঘুম ও মাথার সমস্যার জন্য নরজিন, সেডিল, ডেনজিট, টেবিল ইত্যাদি ওষুধ দেন। এসব ওষুধ ৩ বছর পর্যায়ক্রমে সেবন করতে থাকেন এবং সুস্থবোধ করেন। এর কয়েক মাস পর সম্ভবত পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যাজনিত কারণে মা মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন। পরে এক রাতে আমাদের ভাইবোনদের অনুপস্থিতিতে এ সমস্যাজনিত এক ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেন। স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় আবোল-তাবোল আচরণ। অলীক কথাবার্তা, লোক চিনতে না পারা, আহার-নিদ্রা না কারা, ভাঙচুর করা, সন্দেহ করা, অযথা হাসি-কান্না ইত্যাদি। পরে ইনজেকশন পুশ করে মোটামুটি সুস্থ করার পর মাথা ঘোরা, মাথার তালু গরম হওয়া, দুশ্চিন্তা, ঘুমের সমস্যা, ভালো না লাগা, গ্যাস্ট্রিক, বুকে ঠাণ্ডা লাগা, বুক ধড়ফড় করা, ভয়, শরীর দুর্বল, খাবার-দাবারে গোলযোগ, কাজে মন না বসা ইত্যাদি সমস্যা বোধ করার জন্য আগের সেই ডাক্তার এক এক করে অন্য ওষুধসহ টেনাক্সিট, ইনডেভার, জোলিয়াম, লুডিওমিল, নরজিন, টেনিল, এমিট্রিপটাইলিন, ডিসোপ্যান, ক্লোব ইত্যাদি ওষুধ মাসের পর মাস দিয়ে আসছেন। এসব ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে অসুস্থতা বেড়ে যায়, আবার খেলে মোটামুটি ভালো লাগে। এভাবে আমার মা ৩ বছর যাবৎ এ ওষুধ একটার পর একটা খেয়ে আসছেন। এভাবে আর কত দিন মাকে ওষুধ খেতে হবে আর সম্পূর্ণ সুস্থইবা হচ্ছে না কেন? বর্তমানে ওষুধ চলার সময়েও মাথা ধরা, জ্বালা-যন্ত্রণা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, অশান্তি, সর্দি, গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি হয়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার চিঠি থেকে আপনার মায়ের সমস্যা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আপনি সব প্রেসক্রিপশনসহ কোনো রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, অবশ্যই আপনার মাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন।
মো, ইকরামুল হক
শ্যামলী, ঢাকা
আমার বয়স ২৪ বচর। প্রায় ২ বছর যাবৎ আমি মানসিক রোগে ভুগছি। আমার সমস্যাগুলো হলো- সারাক্ষণ অস্থির লাগে, ধৈর্য একেবারে নেই, একা থাকতে ভালো লাগে, বাসা থেকে বের হতে ভালো লাগে না। পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গেছে, স্মৃতিশক্তি কমে গেছে। নিজেকে খুব ছোট মনে হয়, আত্মবিশ্বাস একেবারেই নেই। কোনো কাজ করার আগেই ভয় হয় এবং মনে হয় কাজটি আমি পারব না, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়। নিজেকে যোগ্যভাবে গড়ে তুলতে পারব না- এই ভেবে সারাক্ষণ ভয় হয়। অল্পতেই কোনো বিষয় নিয়ে টেনশন করি, দিন দিন অলস হয়ে পড়ছি, কোনো কিছু করতে উৎসাহ পাই না। সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকি, অপরিচিত কোনো মানুষ দেখলেই তাকে নিয়ে ভাবতে থাকি। কথা খুব কম বলি এবং কথা গুছিয়ে বলতে পারি না, কারো সঙ্গে সহজে মিশতে পারি না। বন্ধুদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে সেবন করুন। ১ মাস পর আমাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।



