Skip to main content

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ
মোজাহেদুল ইসলাম

আইটি ইন্ডাস্ট্রির কমপিটেটিভনেস ইনডেক্স ২০১১ জরিপে গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে এর মাঝেও সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। যার ফলে সমপ্রতি বিএসএ এবং ইআইইউ-এর এক র‌্যাংকিং-এ আগেরবারের তুলনায় এক ধাপ পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।

তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। বিজনেস সফটওয়্যার অ্যালায়েন্স (বিএসএ) সমপ্রতি ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)-এর আইটি ইন্ডাস্ট্রি কমপিটেটিভনেস ইনডেক্স-২০১১ সংকলনে এই তথ্য প্রকাশ করতে যাচ্ছে।

এবারসহ ২০০৭-এর পর চতুর্থবারের মতো ইনডেক্সটি হালনাগাদ করা হলো। এই ইনডেক্সটি ৬৬টি দেশকে তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নের বিভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করে যেমন: সর্বোপরি ব্যবসার পরিবেশ, তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো, মানবসম্পদ, গবেষণা ও উন্নয়ন, আইনসংক্রান্ত পরিবেশ এবং জনসমর্থন।

আইটি ইন্ডাস্ট্রি কমপিটেটিভনেস ইনডেক্স-এর ২০১১ সালের সংকলনটি বিএসএর ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এছাড়া ওয়েবসাইটটিতে র‌্যাংকিং টেবিল, সদস্যদেশগুলোর ওপর বিস্তারিত তথ্য, ইন্ডাস্ট্রি কেস স্টাডি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ভিডিও ইন্টারভিউ পাওয়া যাবে।

২০১১-এর র‌্যাংকিং-এ সবচেয়ে ওপরে আছে যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য।

বাংলাদেশ র‌্যাংকিং-এ এক ধাপ নেমে এখন বিশ্বে ৬৩তম। বিএসএর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র পলিসি ডিরেক্টর রজার সমারভিলের মতে, সর্বোপরি ব্যবসার পরিবেশ খারাপ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এই অবনমনের মূল কারণ। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সঠিক পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
এ বছরের ইনডেক্স র‌্যাংকিং থেকে বোঝা যায়, যেসব দেশ বছরের পর বছর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করেছে মূলত তারাই এখন বিনিয়োগের সুফল পাচ্ছে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলো এগিয়ে আসার ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে আর উন্নত দেশগুলোকে তাদের স্থান ধরে রাখার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।

বিএসএ প্রেসিডেন্ট ও সিইও রবার্ট হলিম্যানের ভাষ্যমতে, এ বছরের আইটি ইন্ডাস্ট্রি কমপিটেটিভনেস ইনডেক্স থেকে বোঝা যায় যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য আনে। সামনের বছরগুলোতে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সামনে সুযোগ আছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করার। এ বিনিয়োগ যে বৃথা হবে না তা বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়।

ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে মালয়েশিয়া। গবেষণা ও উন্নয়নে বিশাল বিনিয়োগের সুবাদে ২০০৯-এর র‌্যাংকিং থেকে ১১ ধাপ এগিয়েছে দেশটি। ১০ ধাপ এগিয়ে ভারতও খুব পিছিয়ে নেই। এছাড়া শক্ত অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর, মেক্সিকো, অস্ট্রিয়া, জার্মানি এবং পোল্যান্ড।

রবার্ট হলিম্যানের মতে, যেহেতু বিশ্ব অর্থনীতি মন্দাভাব কাটিয়ে উঠেছে, তাই সরকারগুলোর বোঝা উচিত যে তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার এটাই সবচেয়ে মোক্ষম সময়। তিনি আরও বলেন, নীতিনির্ধারকেরা যদি এক বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোন তাহলে পিছিয়ে পড়বেন। পরিকল্পনা হতে হবে ৭ থেকে ৯ বছরের এবং বিনিয়োগ হতে হবে পর্যাপ্ত।

র‌্যাংকিংয়ের নিয়ামকসমূহ
বিএসএর এই বেঞ্চ মার্ক তৈরিতে যে সূচকগুলো ব্যবহার করা হয়েছে,  সেগুলোকে ছয়টি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। এই ছয়টি শ্রেণী হচ্ছে-
১.    সার্বিক ব্যবসার পরিবেশ
২.    আইটি অবকাঠামো
৩.    মানব সম্পদ
৪.    গবেষণা ও উন্নয়ন
৫.    আইনি পরিবেশ
৬.    আইটি শিল্প উন্নয়নে সমর্থন
সার্বিকভাবে র‌্যাংকিং করার জন্য সঠিক ব্যবসা পরিবেশের ১০%, আইটি অবকাঠামোর ২০%, মানব সম্পদের ২০%, গবেষণা ও উন্নয়নে ২৫%, আইনি পরিবেশে ১০% এবং আইটি শিল্প উন্নয়ন সমর্থনে ১৫% মান ধরা হয়েছে।

এই শ্রেণীগুলোর মধ্যে যেসব বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে, সেগুলো হলো-বিদেশি বিনিয়োগের সরকারি নীতিমালা, প্রাইভেট সেক্টরে সম্পত্তি সংরক্ষণ, নতুন ব্যবসার শুরুতে সরকারি নীতিমালা, আইটি খাতে বিনিয়োগ, কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা, ইন্টারনেট সুরক্ষা, মোবাইল ব্যবহারের প্রসার, উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের হার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার, প্রযুক্তি দক্ষতা, সরকারি গবেষণা, রয়্যালটি, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ আইন, মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ, ইলেকট্রিক স্বাক্ষর, ই-গভর্নমেন্ট কৌশল, সরকারি কাজকর্মে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার প্রভৃতি। এসব বিষয়ের ওপর তথ্য সংগ্রহ করে মোট পয়েন্টের ভিত্তিতে এই র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে।
র‌্যাংকিংয়ের উল্লেখযোগ্য দিক

এবারের র‌্যাংকিংয়ে গতবারের মতোই শীর্ষস্থানে রয়েছে যুুক্তরাষ্ট্র এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। তবে ৬ ধাপ এগিয়ে সিঙ্গাপুরের অবস্থান এখন তৃতীয়। সার্বিক ব্যবসার পরিবেশ, আইন পরিবেশ এবং আইটি শিল্প উন্নয়নে সমর্থনের জায়গাগুলোতে অনেকখানি এগিয়েছে এই দেশটি। এই তালিকায় আরো একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় মালয়েশিয়া এবং ভারতের উত্তরণ। তালিকায় ১১ ধাপ এগিয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান এখন ৩১-এ। আর ১০ ধাপ এগিয়ে ভারতের অবস্থান ৩৪-এ। সবচেয়ে বড় অবনমনটি লিথুনিয়ার। ১০ ধাপ পিছিয়ে তারা এখন ৪১তম স্থানে যৌথভাবে অবস্থান করছে তুরস্কের সাথে, যারা ৫ ধাপ এগিয়েছে। অন্যদিকে ৮ ধাপ পিছিয়ে রাশিয়া ৪৬তম স্থানে অবস্থান করছে।

র‌্যাংকিংয়ে অবনমন বাংলাদেশের
গত বছরের র‌্যাংকিংয়ে ৬২তম স্থানে থাকলেও এবার এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে ৬৩তে। সার্বিক র‌্যাংকিং পয়েন্টে বাংলাদেশের আজ সর্বমোট ২০.৬ পয়েন্ট। গতবারের র‌্যাংকিংয়ে বংলাদেশের অর্জিত পয়েন্ট ছিল ২১.১। এবারে ব্যবসায় পরিবেশে বাংলাদেশের অর্জন ৪৭.১ পয়েন্ট, আইটি শিল্প বিকাশ সমর্থনে ৫১ পয়েন্ট, আইনি পরিবেশে ৪০ পয়েন্ট এবং মানব সম্পদে ২০.১ পয়েন্ট। সার্বিক ব্যবসার পরিবেশে, আইটি শিল্প বিকাশ সমর্থন এবং আইনি পরিবেশে বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মোটামুটি সন্তোষজনক পয়েন্ট লাভ করলেও আইটি অবকাঠামোতে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ০.৯ পয়েন্ট। আর গবেষণা ও উন্নয়নে কোনো পয়েন্ট পেতে ব্যর্থ হয় এই দেশ। মূলত এই দুটি খাতেই বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন না ঘটাতে পারলে বাংলাদেশের পক্ষে তথ্যপ্রযুক্তি এগিয়ে নেয়া সম্ভব না।

প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে এখন তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে আসার জন্য আসলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের বিকল্প নেই। আর তার জন্য প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ এবং বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। তা না হলে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে আসা যাবে না।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন. www.bsa.org/globalindex.

গুগল প্লাসের জন্য
ক্রোম এক্সটেনশন
সানজিদা সুলতানা
কয়েক মাস হলো গুগল প্লাস চালু হলেও সমপ্রতি একে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে সকলের জন্য। আর এতে সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে খুব ভালো। গুগল আশা করছে চলতি মাসের মধ্যেই এর ব্যবহারকারী পেরিয়ে যাবে ৫০ মিলিয়ন।

সামাজিক যোগাযোগের এই প্লাটফর্মে ব্যবহারকারীরা যাতে আর সহজে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন সে লক্ষ্যে গুগল ক্রোমের জন্য তৈরি হয়েছে বেশ কিছু এক্সটেনশন।

জি প্লাস কাউন্ট ইন টাইটেল
আপনার গুগল প্লাস অ্যাকাউন্টে কোন সময়ে কতগুলো নোটিফিকেশন এসেছে সেটি দেখা যাবে এই এক্সটেনশনের মাধ্যমে। আপনার ক্রোম ব্রাউজার থেকে স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন সাইটে ব্যবহার করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই এক্সটেনশনটি আপনার নতুন নতুন নোটিফিকেশনের সংখ্যা প্রদর্শন করবে। আর টাইটেল অনেক বড় হলেও নোটিফিকেশনগুলো দেখতে পাবেন। ক্রোমওয়েব স্টোরের এক্সটেনশনের সোস্যাল অ্যান্ড কমিউনিকেশনে পাওয়া যাবে এটি। সংক্ষিপ্ত ইউআরএল http://google/Gvpnz

জি প্লাস এক্সটেন্ডেড
গুগল প্লাসের বিভিন্ন কাজ করার জন্য বিভিন্ন শর্টকাট কি চালু করতে কাজ করবে অনন্য এই এক্সটেনশনটি। এর মাধ্যমে খুব সহজেই কোনো  পোস্টে ‘+১’ দেয়ার জন্য বা কোনো পোস্ট শেয়ার করার জন্য একটি মাত্র ‘কি’ ব্যবহার করেই করা যায়। এর শর্টকাটগুলো হচ্ছে-

  • ‘+১’ দেবার জন্য শর্টকাট ‘+’
  • কোনো পোস্ট থেকে ‘+১’ মুছে দিতে শর্টকার্ট ‘-’
  • কোনো পোস্টের ‘+১’ স্ট্যাটাস বদলে দিতে ‘p’
  • কোনো পোস্ট শেয়ার করতে ‘s’
  • পুরোনো পোস্ট বা মন্তব্য বিস্তারিতভাবে দেখতে ‘e’

ক্রোমওয়েব স্টোরের এক্সটেনশনের সোস্যাল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্যাটাগরিতে রয়েছে এক্সটেনশনটি। সংক্ষিপ্ত ইউআরএল :
হেলপার ফর গুগল প্লাস

গুগল প্লাস থেকে টুইটারে পোস্ট শেয়ার করা বা গুগল প্লাসের কোনো পোস্ট বা লিংক অনুবাদের জন্য সাহায্য করবে এটি। এর সাথে টুইটারের কোনো অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করে দিলে এর মাধ্যমে সহজেই টুইটারে যেকোনো পোস্ট শেয়ার করা যায়। টুইটারের মতো ফেসবুকেরও পোস্ট শেয়ার করতে পারে এই এক্সটেনশন। এছাড়া এর মাধ্যমে গুগল প্লাস থেকে ডেস্কটপেও নোটিফিকেশন পাওয়া যায়। আবার অ্যাড্রেস বার থেকে কেবল গুগল প্লাসের নানা পোস্ট বা প্রোফাইল সরাসরি সার্চ করা যায় এর মাধ্যমে। ক্রোমওয়েব স্টোরেই পাওয়া যাবে এটি। এর জন্য সংক্ষিপ্ত ইউআরএল :http://goo.gl/AW0Dd

এক্সটেনডেড শেয়ার ফর গুগল প্লাস
গুগল প্লাসে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের সাইটে শেয়ার করার কোনো সহজ উপায় নেই। এই এক্সটেনশনের মাধ্যমে সেই কাজটিই করা যায় সহজে। এর মাধ্যমে যে কোনো পোস্টে share on নামে একটি লিংক আসে। সেই লিংকে ক্লিক করলেই ফেসবুক, টুইটার, লিংক অ্যাড ইনসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের সাইটের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। এরপর পছন্দমতো যেকোনোটিতেই ক্লিক করলেই তাতে পোস্টটি শেয়ার হয়ে যায়। এখানে কেউ চাইলে পছন্দমতো একটি নেটওয়ার্কও নির্বাচিত করে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতিবার সেই নেটওয়ার্কেই সরাসরি শেয়ার করা যাবে। আবার একাধিক নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে দিলেও সে ক্ষেত্রে প্রতিবার পছন্দমতো নেটওয়ার্কে ক্লিক করলেই হবে। ক্রোমওয়েব স্টোরের এই এক্সটেনশনটি পাওয়া যাবে http://goo.sl/pYcgY সংক্ষিপ্ত ইউআরএল-এ।

জি প্লাস মি ফর গুগল প্লাস
গুগল প্লাসের জন্য এটি একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন যার মাধ্যমে যে কোনো পোস্ট, মন্তব্য বা যে কোনো রিয়েল-টাইম আপডেটকে সহজে স্ট্রিম করে দেখাতে সক্ষম। এর মাধ্যমে সব সময় নোটিফিকেশন দেখা যাবে, একই সময়ে যে কোনো পোস্টে মন্তব্য করা যাবে। এর সাহায্যে কি বোর্ড শর্টকাটও ব্যবহার করা যায়। এক্সপান্ডেড এবং কম্পালস-এই দুই মুডে এটি ব্যবহার করা যায়। ক্রোমওয়েব স্টোরে থাকা এই অ্যাপ্লিকেশনটির জন্য সংক্ষিপ্ত ইউআরএল http://goo.gl/aWXTX

প্লাস ফটো জুম
গুগল প্লাস নেটওয়ার্কের যে কোনো ছবি জুম করার জন্য তৈরি করা হয়েছে এই কার্যকরী এক্সটেনশনটি। গুগল প্লাস স্ট্রিম থেকে এর মাধ্যমে কোনো ছবিকে সহজে দ্রুত জুম করে বড় করে দেখা যায়। এমনিতে যে কোনো ছবি বড় করে দেখতে ছবিটি খুলতে হয়। এটি ব্যবহার করলে স্ট্রিম থেকেই সরাসরি ছবি বড় করে দেখা যাবে। ক্রোমওয়েব স্টোরের এক্সটেনশনের ফটো ক্যাটাগরিতে পাওয়া যাবে এই এক্সটেনশন। এর জন্য সংক্ষিপ্ত ইউআরএল http://goo.gl/lcYFA

ব্যাটলফিল্ড-৩
ফার্স্ট পারসন শ্যুটার গেম হিসেবে রয়েছে বেশ কিছু জনপ্রিয় গেম। এসব জনপ্রিয় গেমের মধ্যে ব্যাটলফিল্ডের নাম উল্লেখ করতে হয় বিশেষভাবেই। ১৯৯৯ সালে কোড নেম ঈগল নামে বের হয় একটি শুটিংনির্ভর ভিডিও গেম। এর ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে বের হয় ব্যাটলফিল্ড ১৯৪২ নামের একটি ভিডিও গেম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত নানা ধরনের যুদ্ধ উপাদান ব্যবহার করে খেলার সুযোগ ছিল এই গেমে। এটি বের হওয়ার পরেই ব্যাপক সাফল্য লাভ করে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে বের হয় এর নানা সংস্করণ এবং আপডেট। তবে ২০০৫ সালে বের হয় এর নতুন পর্ব ব্যাটলফিল্ড-২। এটিও প্রথম গেমের মতোই সাফল্য লাভ করে। পরবর্তীতে এরও বেশ কিছু আপডেট বের হয়। যারা এই গেমের ভক্ত ছিলেন বা এখনো রয়েছেন তাদের জন্য সুখবর হলো চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বের হতে যাচ্ছে এই সিরিজের তৃতীয় পর্ব ব্যাটলফিল্ড-৩। পর্ব হিসেবে এটি তৃতীয় হলেও পুরো সিরিজের এটি ১১তম আপডেট।

এই পর্বে রয়েছে কম্বাইন্ড আর্ম ব্যাটলের সর্বোচ্চ ব্যবহার যা একে সিঙ্গেল প্লেয়ার, কো-অপারেটিভ এবং মাল্টিপ্লেয়ার-সবগুলো মুডে খেলার জন্যই অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গেমে পরিণত করেছে। ফাইটার জেট, প্রোন পজিশন, ৬৪-প্লেয়ার ব্যাটলের মতো বেশ কিছু ফিচারকে এই পর্বে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এই পর্বে খেলার জন্য প্লাটফর্ম হিসেবে রয়েছে প্যারিস, তেহরান, সার্জেভো, সুলাইমানিয়া, নিউইয়র্ক, ওয়েক আইল্যান্ড এবং ওমান। আর এসব শহরের রাস্তা, ডাউনটাউন এবং খোলা জায়গাগুলোতে যুদ্ধযান ব্যবহারের উপযোগী স্থানে খেলা যাবে এই গেম।

বর্তমানে সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের জনপ্রিয়তার প্রশ্ন আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। তাই বিভিন্ন গেমেও সোস্যাল ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে। ব্যাটলফিল্ড-৩ তেও যুক্ত করা হয়েছে ব্যাটললগ নামের বিশেষ ফিচার, যা গেমের বিভিন্ন পরিসংখ্যান শেয়ার করা যাবে বন্ধুদের সাথে আর বন্ধুদের খেলা গেমেও অংশগ্রহণ করা যাবে।

২০১৪ সালের পটভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই গেমের কাহিনী। ইরাক-ইরান সীমান্তের সংঘাত থেকে শুরু হয়েছে এই কাহিনীর। গেমটিতে চরিত্র হিসেবে রয়েছে স্টাফ সার্জেন্ট হেনরি ব্ল্যাকবার্ন এবং কর্পোরাল জোনাথন মিলার। আগের পর্বগুলোর মতোই তাদের নিয়েই এগিয়ে যাবে গেমের বিভিন্ন অংশের কাহিনী।

এবারের গেমটি মাইক্রোসফটের উইন্ডোজের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে জনপ্রিয় গেম কনসোল সনির প্লে-স্টেশন আর মাইক্রোসফটের এক্সবক্সের জন্যও। একই সাথে অ্যাপলের জনপ্রিয় আইফোন ও আইপ্যাডের জন্য আইওএস সংস্করণও থাকছে সকলের জন্য।

রেসিংগেম ফর্মুলা ওয়ান-২০১১
রেসিং গেমারদের জন্য এটা অত্যন্ত সুখবর যে তাদের জন্য উন্মোচিত হলো আরেকটি হাই এন্ড রেসিং গেম। বাস্তব ফর্মুলা ওয়ান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তৈরি করা হয়েছে এই গেমটি এবং এর খেলার ধরন পুরোটাই ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ের মতোই। এর আগে অবশ্য গত সিজনের ফর্মুলা ওয়ান-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল ফর্মুলা ওয়ান-২০১০। সেটিও বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে গেমারদের মাঝে। তার সিক্যুয়েল হিসেবেই তৈরি হয়েছে এবারের পর্বটি।

এই পর্বে রয়েছে ১২টি দল আর তাদের জন্য রয়েছে ২৪ জন ড্রাইভার। এবারের বাস্তবের ফর্মুলা ওয়ান প্রতিযোগিতার সবগুলো সার্কিট থাকবে এতে। এমনকি সবচেয়ে নতুন বুদ্ধ আন্তর্জাতিক সার্কিট, ইন্ডিয়াও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আবার বেশ কিছু সার্কিটে দিন-রাতের পরিবর্তনও থাকবে। এবারের পর্বের মূলমন্ত্র হচ্ছে বি দ্য ড্রাইভার, লিভ দ্য লাইফ অ্যান্ড গো কমপ্লিট। একা একা যেমন খেলা যাবে গেমটি, তেমনি খেলা যাবে একাধিক প্লেয়ার নিয়ে মাল্টিপ্লেয়ার মুডে। আর অনলাইনেও খেলা যাবে গেমটি মাল্টিপ্লেয়ার মুডে।

গত সপ্তাহেই উন্মোচিত হয়েছে এই গেমটি। আর এটি একযোগে উইন্ডোজ, প্লে-স্টেশন থ্রি এবং এক্সবক্স ৩৬০-এর জন্য মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এর নিনটেনডো সংস্করণ এবং প্লে স্টেশন ভিটার জন্য আলাদা কোনো সংস্করণ মুক্তি দেয়া হয়নি। এ সংস্করণগুলোও অবশ্য শিগগিরই চলে আসবে বলে জানিয়েছে নির্মাতা কোডমাস্টার।

গেমটি খেলতে যা প্রয়োজন
প্রসেসর : ন্যূনতম ইন্টেল কোর টু ডুয়ো ২.৬৬ গিগাহার্জ বা এএমডি ফেনম টু এক্সটু ৫৫৫ ব্যাক
গ্রাফিক্স কার্ড : ন্যূনতম এনভিডিয়া জিফোর্স জিটি এস ২৪০ বা এটিআই রেডঅন এইচডি ৬৫৭০
র‌্যাম : ন্যূনতম ৪ জিবি। হার্ডডিস্ক স্পেস : ১২.৫ জিবি, ডিরেক্ট এক্স : ৯ সমর্থিত।