প্রকাশিত সংবাদের প্রতি প্রতিক্রিয়া ![]()
গত আগস্ট ২০১১, সংখ্যা-১০, মনোজগতের মনের জানালা বিভাগে জনাব মো. হুমায়ুন কবিরের লেখা ‘কেন ইভ টিজিং?’ পড়ে বড় অবাক হয়েছি এবং এমন পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমি লেখক হুমায়ুন কবিরের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই আপনি লিখেছেন-দোকান খোলা রাখলেই ক্রেতা আসবে, মিষ্টি দেখলে পিঁপড়া যাবে, টক দেখলে প্রতিটা মানুষের খেতে ইচ্ছা করবে। তাহলে আপনি ক্রেতা হয়েছেন, পিঁপড়া হয়েছেন এবং টক খেতে গেছেন বা চেয়েছেন। তার মানে আপনি নিজেও ইভ টিজার? কারণ ইভ টিজিংয়ের কারণগুলো আপনি দেখেছেন।
আরও লিখেছেন নর-নারীর শরীর দুইটা চুম্বকের মেরুর মতো পরস্পরকে আকর্ষণ করে। মেয়েদের পুরো শরীর চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে ছেলেদের কাছে। কিন্তু এটা লেখেননি যে ছেলেদের শরীরটাও মেয়েদের কাছে আকর্ষণীয়। কারণ তিনি দেখেননি মেয়েরা ছেলেদের ডিস্টার্ব করে না; যৌন নির্যাতন করে না; মেয়েরা ধর্ষণ করে না, যদিও পুরুষরা কিন্তু শরীর ঢেকে পোশাক পরে না। নির্যাতিত হয় নারীরা, পুরুষ করে নির্যাতন। নারী নির্যাতিত হওয়ার অন্যতম কারণ নারীর আর্থিক দুর্বলতা; যা পুরুষ নিজের স্বার্থে করে রেখেছে। পুরুষ আয় করে, নারী ঘরে কাজ করে। নারী অধীনস্থ হয় পুরুষের। পুরুষ নারীকে খাওয়ায়-পরায় তাই পুরুষ আধিপত্য করে হয় কর্তা। স্বামীর অনুমতি ছাড়া নারী এক পাও এগোতে পারে না। কিন্তু স্বামী বাড়ির বাইরে যেতে পারে স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে। যেতে পারে পতিতালয়ে, অন্য নারীর কাছে। বাড়ি ফিরতে পারে অনেক রাত করে। সে অধিকার নারী পায় না। নারীকে দাসী বানিয়ে রাখতে চায় পুরুষতন্ত্র। আর তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রজন্ম টিকিয়ে রাখার জন্য সন্তান লালন-পালন করা। পুরুষ তার স্বার্থে নারীকে পতিতা বানায়, আবার সমাজে তাকে প্রবল ঘৃণা করা হয়। পতিতাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেয় না পুরুষ; আবার পুরুষই তার কাস্টমার। পুরুষ চায় সতী নারী; তার সতীত্ব পুরুষের কাছে মহামূল্যবান। তাই যুগে যুগে খোঁজা হয়েছে বাসর রাতের নারীর যোনির রক্ত। সমাজে নারী ভালো না হলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে; তার পেটে ভালো সন্তান জন্মাবে না; যুবকদের চরিত্র রসাতলে যাবে, এমন ধারণা মানুষ পোষণ করে এবং নারীকে সমাজে কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টা করে, যা কুসংস্কার। এখনো আফ্রিকার অনেক দেশে ‘নারী খৎনা’ প্রচলিত, যেখানে হত্যা করা হয় নারীর একটি জীবন্ত ও বাস্তব অধিকার। নারী মেনেও নিয়েছে এগুলো তার নিয়তি মনে করে এবং ধর্মীয় বিধান মেনে চলার জন্য।
কিন্তু মেয়েরা যদি প্রতিবাদী হয় কমে আসবে ইভ টিজিং। বখাটেরা যখন জোরপূর্বক কোনো মেয়েকে রাস্তায় প্রেমের বা বিয়ের প্রস্তাব দেয় মেয়েটি যদি হাতে জুতা তুলে নেয় বা লাঠি নিয়ে তাকে পেটাতে পারে তবে ওই বখাটে আর কোনো দিন কোনো মেয়েকে ডিস্টার্ব করবে না। কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ির মালিকের মেয়ে কোটি টাকার গাড়ি থেকে নেমে যতই খোলামেলা পোশাক পরে বখাটের সামনে দিয়ে যায় ওই বখাটে কিন্তু সাহস করে না তাকে কটু কথা বলতে বা টিজ করতে। বখাটে ক্ষমতার ভয় পায়।তাই নারীর আর্থিক-সামাজিক ও শারীরিক ক্ষমতায়ন জরুরি। যা হতে পারে পুরুষতন্ত্রের বিরোধিতার ফলে।
লেখক হুমায়ুন কবির নারীকে তুলনা করেছেন মিষ্টি, দোকান ও টকের সাথে যেগুলো ভোগের জন্য দরকার। উনি বোঝাতে চেয়েছেন ইভ টিজিং নারীর প্রাপ্য। বাজারে বড় মাছ উঠলে মানুষ দেখবে-কিনবে তাই বলে জোর করে বিক্রেতার কাছ থেকে বিনা পরিশোধে মাছ নিলে তা হবে ছিনতাই, জুলুম ও অন্যায়। তাই ছিনতাইকারীর শাস্তি পাওয়া উচিত। তেমনি নারীর অনুমতি ছাড়া তাকে স্পর্শ করা, ভোগ করতে যাওয়া অন্যায়। কিন্তু লেখক ইভ টিজিংয়ের জন্য দায়ী করেছেন নারীকে। যেন অপরাধ করেছে নারী। যেমন নারী ধর্ষিত হলেও দোষী হয় নারী। গ্রাম্য সালিসে দেখা যায় ধর্ষিতা নারী বেশি শাস্তি পায় ধর্ষকের চেয়ে। এর জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করা ভুল। পশ্চিমা দেশগুলোতে এত খোলামেলা পোশাক সত্ত্বেও বাংলাদেশ কেন ধর্ষণপ্রবণ দেশ। এদেশে শিশুরা ধর্ষিত হয়। পিতা ধর্ষণ করে কন্যাকে, চাচা ভাতিজাকে, মামা ভাগনিকে, শিক্ষক ছাত্রীকে। সমাজে ভয়, লজ্জার কারণে অনেক ঘটনা চাপা পড়ে থাকে।
আল-মাসউদ
উত্তরা, ঢাকা
ভালোবাসা ও ঘৃণা ![]()
‘প্রহর শেষে আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ’।
সত্যিই আমার সর্বনাশ হয়েছিল যা আমি বুঝতেও পারিনি। যেদিন আমি Spoken ক্লাসে গিয়ে প্রথম আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো লাগা পুরুষ শীতলকে দেখলাম। তার আচরণ ও ব্যক্তিত্ব আমাকে এতই বিমুগ্ধ করল যে আমি বুঝতেই পারিনি আমার তার প্রতি যে অপরিমেয় ভালো লাগা তা ভালোবাসায় পরিণত হয়ে গেছে। হ্যাঁ, আমি ক্ষণে ক্ষণে অনুভব করলাম I am in love ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে আমি। যে মেয়েটি আমি কখনোই কাউকে ভালোবাসিনি সেই আমিই ভালোবাসতে শুরু করেছি। প্রথম দিকে তুমি আমাকে দেখেও দেখতে না, তাতে যে আমার সীমাহীন কষ্ট হতো তা কেমন করে বুঝবে তুমি। তোমার মধ্যে তো সে রকম Fellings আমি কখনোই দেখিনি। তোমাকে আমার বারবারই মনে হয়েছে তুমি আমার প্রেমের দেবতা, যাকে পূজা দেয়ার জন্য আমি সর্বদা প্রস্তুত। জান তুমি না আমার কাছে দেবতা, যাকে শুধু ভালোবাসাই যায় না, পূজা করা যায়। সেই সাথে যোগ করা যায় শ্রদ্ধা। তুমি আমাকে না বুঝলেও আমি কিন্তু তোমাকে এক সময় ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছিলাম আমি তোমাকে কতটা অনুভব করি। তুমিও যে আমার প্রতি দুর্বল ছিলে না তা নয়।
তুমি আমাকে বলেছিলে যদি আমি সন্ন্যাসী হই তাহলে কি তুমি আমার সন্ন্যাসিনী হবে? তুমি আরও বলেছিলে সারাটা জীবন তুমি যদি আমার ওপর এভাবে রাগ কর তাহলে কি তোমার রাগ ভাঙানোর জন্য আমাকে চেষ্টা করতে হবে। আচ্ছা তোমার কথা আমি কি আমার মাকে বলব? একথা শুনে আমি যে কত বেশি পুলকিত হয়েছিলাম তা তোমাকে বোঝাব কী করে? কিন্তু সেই তুমিই যখন আমাকে বললে তুমি আমাকে ভালোবাসতে পারবে না। তখন কিন্তু আমি সত্যিই এত বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম যা আমি আজও মনে করলে ব্যথায় বুকটা টনটন করে ওঠে। যদি ভালো নাই বাসবে তাহলে কেন স্বপ্ন দেখিয়েছিলে? এই প্রশ্ন যখন আমি তোমাকে বারবার করতে লাগলাম তখন তুমি তেমন কিছুই বলতে পারলে না। যখন আমি পড়ালেখা ছেড়ে বাড়িতে যেতে চাইলাম তোমার কাছে জানতে চাইলাম কেন এত বড় অভিনয় করলে আমার সাথে তখন তুমি আমাকে বলেছিলে, এই মেয়ে আমি তোমাকে এমন কী বলেছি যে, তুমি ভাবলে আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, তুমি কী করে ভাবলে যে তোমার মতো মেয়েকে আমি ভালোবাসি। আমি সেদিন বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার প্রতি তোমার সেদিন যে হিংস্র হাসি ছিল তা দেখে মনে হয়েছিল তুমি হায়েনা! হ্যাঁ, সত্যিই তুমি সেদিন মানুষের মতো নয়, পশুর মতো করে কথাগুলো আমাকে বলেছিলে। তাই তো আমি তোমাকে অসম্ভব রকম ঘৃণা করতে শুরু করেছি। মিথ্যা বলব না, আজ একদিকে তুমি যেমন আমার ঘৃণার পাত্র একটা হায়েনা, অন্যদিকে তুমি আমার পূজার দেবতা, আমার প্রথম ভালোবাসা। তোমাকে ঠিক যতটা ঘৃণা করি ঠিক ততটাই ভালোবাসি শীতল।
নাজমুন নাহার সেতারা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ফোনঃ ০১৭৪৫-৮৫৪২৬৬
এখন তুমি শুধু অম্লান স্মৃতি ![]()
তোমার মাঝে বিরাজমান অদ্ভুত এক শুভ সময়ে হৃদয় দুয়ারে হানা দিয়ে নতুন বার্তা নিয়ে এসেছিলে এই হৃদয় দুয়ারে, আজ আমি বসবাস করি তোমার মাঝে কারণ তোমাকে আমি ফিরিয়ে দিইনি, নববর্ষের মতো বরণ করে নিয়েছিলাম। তুমি এসেছিলে ফাগুন হাওয়া বয়ে যাওয়ার সময়, ছিল অলিদের মাতাল গুঞ্জন বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে। পদ্ম কোমল পায়ের নূপুরে মুক্তঝরা হাসি দিয়ে নীলাম্বরী আঁচল তুলে বকুল ফুলের মালা পরে এসেছিলে আমার হৃদয় দুয়ারে। তখন আমিও নব নৈসর্গিক সাজে সাজিয়েছি প্রকৃতি, আমিও সেজেছি তিলোত্তমা সাজে। অপূর্ণ হৃদয়ে পেয়েছিল পূর্ণ সতেজ সজীবতা। তোমার রাঙা পদচিহ্ন পড়েছিল আমার মরুদ্যানে, তাই প্লাবিত হয়েছিল আমার শুকনো আঙিনা। তাই আমিও খুঁজে পেয়েছিলাম অসীম সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া সূর্যদ্বীপ। অনুষ্ঠিত হয়েছিল অজস্র মৌন মিছিল। আবিষকৃত হলো আমার আরেকটি নতুন পৃথিবী। আমার জীবনের এক কঠিন সময় পার করেছিলাম বড় বিরহ কষ্ট দুঃখ শূন্যতা নিয়ে। ঠিক বিধাতা ওই সময়ে পাঠিয়েছে আমার কাছে ভালোবাসার উত্তাল জোয়ার নিয়ে। আমার জীবনের সবকিছু যখন বিলুপ্তির পথযাত্রী, ঠিক তখনই তুমি এলে পুষ্পপুঞ্জরূপে।
তোমার ভালোবাসার বিশ্বাসের ছোঁয়ায় আমি পেয়েছিলাম জীবনবৃক্ষের সঞ্জীবনী সুধা। তোমার সেই অকৃত্রিম ভালোবাসায় আমি হয়েছিলাম দুর্দম, দুর্বার অপ্রতিরোধ্য মহাবীর। পেয়েছিলাম ধৈর্যের দিশারি সঠিক পথের সুবর্ণরেখা। তবে আজ কেন সবকিছু কেড়ে নিয়ে হঠাৎ করে আমার জীবনের চারপাশ ভালোবাসাহীন নিঝুম কালো রাত্রির প্রবাহ করে দিলে? অন্ধের মতো ভালোবেসেছিলাম তোমায়, শুনেছি ভালোবাসা নাকি অন্ধ, তাই তার প্রতিদান এভাবে দিলে? আজ আমি শূন্যতা নিয়ে হেমন্তের ঝরা পাতার ন্যায় বিবর্ণ ধূসর, ভোরের শিশিরসিক্ত প্রভাকরের কিরণ কানন ভরা ফুলের সৌরভ, পাখির কলকাকলী, রংধনুর সাত রং আমাকে এখন মুখরিত করে না শুধু তোমার কারণে। আমিও তাই আমার সবকিছু হারিয়ে অম্লান স্মৃতি ও স্মৃতির পাপিয়া নিয়ে পড়ে আছি নির্বাসিত প্রবাস জীবনে তন্দ্রা হারা ব্যথা নিয়ে। একটাই আজ মন প্রশ্ন করে, কেন চলে গেলে? কী অপরাধ নিয়ে তুমি আমার জীবন জুড়ে রয়েছ, জানি না কতটুকু আপন তোমার হয়েছিলাম। কিন্তু মন আজ অন্ধক্ষণে কাঁদে না তোমায় ফিরে পেতে, শুধু শেষ বেলায় এটুকু বলব যে, আদালতে যখন আসামির সাজা নির্ধারণ হয় তখন জজ সাহেব তার অপরাধ বিবরণ জেনে সাজা দেয়। তখন অপরাধী জানতে পারে অপরাধ কী? তবে তুমিও বলে দাও আমার অপরাধ কী? হয়তো হৃদয় একটুকু শান্তি পাবে, আমার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবকিছু তোমার অজানা নয়। আমি তিলে তিলে মরতে চাই না শুধু তোমার জবাব চাই। যদি তা না পাব তাহলে আমাকে ফাঁসি অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাও নিজ হাতে। সবাই জানুক যে আমি জয়ী হয়েও হেরে গেলাম তোমাকে বিজয়ী করতে।
মো. সেলিম উদ্দীন (হৃদয়)
দোহা, কাতার
ফোনঃ ০০৯৭৪-৬৬৪৮৭৩৯৯
বেঁচে থাকার কষ্ট ![]()
ঈদ মানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মজা করা, আনন্দ করা, পৃথিবীর সর্বত্র এই আনন্দ প্রকাশের কোনো ব্যতিক্রম হয় না। দিন, মাস, বছর ঘুরে আবার আসছে ঈদ। আর এই ঈদে যথারীতি আনন্দ করবে সবাই। সবাই মিলে গান গাইবে, নাচবে, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেবে আরও কত কী করবে? ক্ষুদ্র মনে প্রশ্ন জাগে ঈদের আনন্দ কি সার্বজনীন? না, ঈদের এই আনন্দ সার্বজনীন নয়। কারণ ঈদের আনন্দ যদি সার্বজনীন হবে তাহলে ঈদের দিন লোক মারা যায় কেন? আনন্দের দিন যদি কাঁদতে হয় তাহলে সেটা কিসের আনন্দ।
এই অসার্বজনীন। আনন্দের বাইরে কিছু মানুষ থাকে যাদের অন্তর ঘিরে আছে বিষাদের করুণ মায়াজাল। এদের অন্তরে আছে সব হারানোর পাহারসম কষ্ট। এদের কাছে সুখ বা আনন্দের কোনো অর্থ হয় না। তাদের ব্যক্তিগত অভিধানে সুখ বা আনন্দ নামের কোনো শব্দ নেই। কীভাবে হাসতে হয় তারা তা জানে না। হাসার জন্য তারা চেষ্টাও করে না। তাদের জীবনের হাসি আনন্দের প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয় না। কারণ তারা দুঃখ-কষ্ট আর হতাশা নিয়ে বেশ ভালোই আছে। এই মানুষগুলো পৃথিবীতে আসে শুধু দুঃখ কষ্ট বয়ে বেড়ানোর জন্য। পৃথিবীর আনন্দ সুখ তাদের জন্য হারাম। তারা দুঃখ কষ্ট ছাড়া আর কিছু পাবার যোগ্য নয়। পৃথিবী এই মানুষগুলোর সাথে বড়ই নিষ্ঠুর ব্যবহার করে। পৃথিবী এদের জন্য বন্ধুর, কণ্টকাকীর্ণ, বালুকাময় বিশাল মরুভূমি। অথচ প্রেমিক হৃদয়ে ভালোবাসা সম্পর্কে, পৃথিবী সম্পর্কে কত সুন্দর সুন্দর উপমা বের হয়। তাদের চোখে পৃথিবী সুন্দর সবুজে ঘেরা। পাহাড়, সাগর, ঝর্ণার সৌন্দর্যে তারা ব্যাকুল হয়ে পড়ে। তাদের প্রেমিক হৃদয় থেকে কবিতার চরণ বেরিয়ে আসে।
প্রেমিকার হাত ধরে হাঁটলে তারা স্বর্গের সুখ পায়। প্রেমিকার মুখপানে তাকালে তারা সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে যায়। কিন্তু হতভাগ্যের এই পৃথিবীর এক ফোঁটা সৌন্দর্য উপভোগ করার অধিকার নেই। প্রেমিকার হাত ধরে হাঁটা তো দূরের কথা তাদের কপালে প্রেমিকাও জুটবে না। নিজেকে এই হতভাগ্যের দলে আবিষ্কার করে নীলের অবর্ণনীয় খারাপ লাগে। বেদনার রং নীল হয় বলে জানতাম আর বর্তমানে জানছি নীলের আরেক নাম হচ্ছে-দুঃখ-কষ্ট, হতাশা, ব্যর্থতা আর না পাওয়ার মাঝে বেঁচে থাকা। লোকে যাই বলুক আমি কিন্তু আমার নাম নিয়ে বুক ফুলিয়ে গর্ব করতে পারি। কারণ আমার নাম আঞ্চলিক, শাব্দিক, বাস্তবিক সব দিক দিয়ে সফল। এই সফলতা আমাকে কাঁদায়, বুকের মধ্যে রাজ্যের শূন্যতা জড়ো করে। রাতগুলো নির্ঘুম বিষণ্নতায় ভরিয়ে তোলে।
নীল
আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ
ফোন : ০১৭২৩-৩৫৭৩৯০
স্রোত সবার বন্ধু... ![]()
লুসাই পাহাড় বেয়ে নেমে গেছে কর্ণফুলী। কর্ণফুলী থেকেই যাদের শুরু উদার, নম্র, দয়ার্দ্র, নিখুঁত, নিখাদ ভালোবাসা তাদের স্বভাবে। দেখতে লাগে হিংস্র আসলে মোটেও হিংস্র নয় তারা। তারা মিশতে চায় সকলের সাথে নির্দ্বিধায়। কিন্তু কেউ তাদের বোঝে না, ঘৃণা করে। সবাই তাদের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। আতঙ্কিত হয়ে আড়ালে হারায়। তাদের একটি প্রচলিত নামও আছে। মাঝে মাঝে মনে পড়ে, আবারও ভুলে যাই। ভুলে যাওয়ার কারণে তাদের আমি মিশুক নামে ডাকি। কেননা তাদের সকলের সাথে মিশে, তাই মিশুক বলে ডাকি।
মিশুকেরা একা থাকতে পারে না, আর তাই যখনই তারা নিঃসঙ্গতা উপলব্ধি করে, তখনই তারা অস্থির হয়ে যায়, সবার সাথে মিশতে চায় এবং কাদা, মাটি, নোংরা আবর্জনা ও কেপিএম মিলের প্লাস্টিকের সঙ্গে মিশে যায়।
মিশতে মিশতে মিশুকেরা ভেসে যায়, বঙ্গোপসাগরের দেশে যায়। ওখানে গিয়ে তারা অনেক বড় হয়ে যায়। তাদের আরও হিংস্র দেখায়...। বড় মিশুকদের আমিও ভয় পাই। ভয় পেলেও তাদের আমি বোঝার চেষ্টা করি। বুঝতে চাই...। আমাদের সমাজে মিশুকদের মতো অনেকেই বাস করেন। যাদের আমরা বোঝতে পারি না। কুৎসিতরূপী সুন্দর সাদা মাটা মানুষ তারা। তাদের দেখতে উগ্র মনে হলেও তারা মোটেও উগ্র না। তাদের ভেতরটা নারকেলের মতো। তারা সহজ-সরল অতি, পানির চেয়েও তরল। মিশতে চায় সবার সাথে এবং মিশে যায়। মিশে যায় কয়েকজনের সাথে। যারা তাদের খোঁজে, যারা ওদের বোঝে, যারা ভালোবাসে, তারা চিনতে পারে ওদের। ওদের আঙ্গিক গঠন থেকে নয়, ওদের মানসিক গঠন দেখে বিবেচনা করে।
আমি সকল ভালো মানুষ এবং যারা মন্দ ছিলেন, অনুতপ্ত হয়েছেন, তাদের বলব আপনারা ভালোমন্দের বিবেচনা করবেন, করুন। বিবেচনা করুন ব্যক্তি, ব্যক্তিনীর মানসিক গঠন থেকে, আঙ্গিক গঠন থেকে নয়।
আর যারা আছেন মিশুকদের মতো তাদের বলব মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৈরি করেছেন পরিপূর্ণভাবে সুন্দর করে। তাই আমরা বলতে পারি আমরা প্রত্যেকেই সুন্দর। তবে আমরা কেউ কেউ নিজেদের প্রকাশ করি অপূর্ণ করে, কুৎসিত করে। এমন যারা আছেন আপনারা একটু বদলান, বদলে যান, বদলে দিন। অপূর্ণতাকে পূর্ণ করে, কুৎসিত থেকে সুন্দর হয়ে...।
পরিশেষে সকল পাঠক-পাঠিকাকে আমি বলব, মিশুকদের একটু ভালোবাসা দিন, স্নেহ দিন, বোঝার চেষ্টা করুন তাদের। কেননা তারা যদি আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যায় তখন কেউ আর ভালোদের জন্য ভাববে না। উদার মনে কেউ কাউকে ডাকবে না। মিশুকেরা অন্যদের ক্ষতি করে নিজের অজান্তে। তৃতীয় চোখ মেলে দেখুন, উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন, দেখতে পাবেন, বুঝতে পারবেন তখন মিশুকেরা বন্ধু সবার...।
রিক্ত
রাঙ্গামাটি
ফোনঃ ০১৮১৩-৩২১০১০
মূল্যহীন ভালোবাসা ![]()
নিঃসঙ্গ আমি, বন্ধু আছে হাজারও কিন্তু ভালোবাসার মতো নির্দিষ্ট কেউ নেই। সব যন্ত্রণারই একটা ফলাফল বিদ্যমান। ভালোবাসা আর সংসারবাঁধা দুটো যেন এই মেরুতে। যাদের আমি ভালোবাসলাম তারা দূরে চলে গেল, যারা আমাকে ভালোবাসল তাদের কাছে টেনে নিতে পারলাম না। তাই তো মূল্যহীন হয়ে রইল আমার অফুরন্ত ভালোবাসার ভান্ডার আর আমি হলাম নিঃসঙ্গ।
প্রতিটা দিন শুরু হয় একেকটা নতুন যন্ত্রণা নিয়ে। মাঝে মাঝে স্বাভাবিক সব চিন্তা লোপ পায়। বেঁচে থাকার কোনো মানে খুঁজে পাই না। সব মায়াজাল ছিন্ন করে আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে। পক্ষান্তরে ভাবনা কাজ করে ‘এ তো মহাপাপ’। দুঃখকে জয় করা কঠিন হলেও দুঃখের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায় অনাবিল আনন্দের ছোঁয়া।
বাড়িতে যখন সবাই একত্র হই সকালটা হয় সবার আগে, রাতটা হয় সবার পরে। নিজের জন্য একটু সময় থাকে না আমার। কেউ সেটা বোঝেই না। দিনের পর দিন এভাবেই চলছে। আমাকে নিয়ে কারও কোনো চিন্তা নেই, ভাব দেখে মনে হয় সেই ছোট মেয়েটাই যেন রয়ে গেছি। আমার সুখ-দুঃখ কারও সাথে ভাগাভাগি করতে পারি না। নানাবিধ প্রশ্ন যখন আমাকে ছুড়ে দেয়া হয় বড় অসহায় লাগে নিজেকে। আত্মত্যাগের বিনিময়টা যখন অবহেলায় হয় দুই চোখের লোনাজলে তখন তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলি। কাউকে অবহেলা করতে নেই, কারণ যে অবহেলা করে সে বোঝে না অবহেলিত মানুষটার কষ্ট।
নিয়তির নির্মম কশাঘাতে মানসিকভাবে নির্যাতিত এই মানুষটারও রয়েছে সুন্দর একটা ভালোবাসাপূর্ণ মন, রয়েছে সুন্দর একটা সুখের স্বর্গ রচনার স্বপ্ন। অবশ্য হাজারও হতাশায় আমার জীবনে সবই আজ মূল্যহীন। সংসারে আগাছার মতো স্যাঁতসেঁতে শ্যাওলায় ভাসমান এক অপদার্থ জীব। কখনো ভাবিনি এমন নিষ্ঠুর খেলায় একাকী খেলতে হবে আমাকে। আঘাতে আঘাতে স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছি। চুন খেয়ে মুখ পুড়লে দই দেখলে ভয় পায়, ঠিক যেন তাই। একটা ভুলের খেসারত দিয়ে যেতে হয় আজীবন। মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই যেন আজন্ম পাপ। ভালোবাসার খেলায় এক পরাজিত সৈনিক, সিদ্ধান্তহীনতায় পেরিয়ে যাচ্ছে সুন্দর সময়।
কষ্টরা দানা বেঁধে জল হয়ে ঝরে
স্মৃতিগুলো কেবলই মনে মোর পড়ে।
চোখ দুটো জেগে থাকে সারারাত ভর
পাঁজরের হাড়গুলো ভাঙে মড় মড়।
সাদিয়া খানম (দীপ্তি)
বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১০
সেক্টর-৪, উত্তরা, ঢাকা
কেন যুবসমাজের অবক্ষয়? ![]()
যুগে যুগে যৌবন দূত তরুণের দলই জরাগ্রস্ত পৃথিবীর বুকে এনেছে নব জীবনের ঢল। তরুণদের কণ্ঠেই গীত হয় নতুন গান। তাদের চোখেই থাকে নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম। আজ জাতির সামনে বিরাট প্রশ্ন যুবসমাজের অবক্ষয়ের কারণ কী? দু-এক কথার মধ্য দিয়ে এর উত্তর দেয়া আদৌ সম্ভব নয়, কেননা এই যুবসমাজের অবক্ষয় একদিনে সৃষ্টি হয়নি যা কিনা ক্ষত সৃষ্টি করতে করতে মারাত্মক ব্যাধি ক্যান্সারে শামিল হতে যাচ্ছে। যার প্রতিকার না হলে গোটা জাতি ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হবে। জীবনকে ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য মানব জীবনে যে সমস্ত গুণ থাকা প্রয়োজন তা যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন জীবনে অবক্ষয় আসে। একজন আদর্শ মানুষ তাকে বলা হয় যখন তার মধ্যে সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, শ্রম, উত্তম চরিত্র, সৌজন্যবোধ, অধ্যবসায়, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম সর্বোপরি সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত হওয়া ইত্যাদি বিশেষ গুণ থাকে। এক সময় শিক্ষাঙ্গন ছিল সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। কিন্তু এখন বাস্তবতা বলছে তা মোটেই পুরো সত্য নয়। প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষাঙ্গনে মারামারি, খুনাখুনি ও বোমাবাজি হয়। এর প্রধান কারণ রাজনীতি। ভর্তিসংকট, পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া, ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব ইত্যাদি কারণেও ছাত্রদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। লেখাপড়া শেষে যারা চাকরি পায় না তারা সবাই হতাশা ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়। ফলে তাদের মনের ভেতরে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ ক্ষোভ থেকেই তারা ডাকাতি, মাদকাসক্ত, ইভ টিজিং, ছিনতাই, খুন প্রভৃতি মারাত্মক অপরাধে লিপ্ত হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে এমন কিছু পত্র-পত্রিকা আছে যা আমাদের সুস্থ জ্ঞানকে অসুস্থ করে তোলে। আজকাল অধিকাংশ ছায়াছবিতে দেখা যায় খুন-জখম, রাহাজানি-ডাকাতি, শালীনতাবর্জিত নাচ-গান, নায়ক-নায়িকার উদ্যম প্রণয়চিত্র দেখানো হয় যা তরুণ মনে দীর্ঘ রেখাপাত করে। সমাজে যত দিন অন্যায়-অবিচার মাথা উঁচু করে থাকবে তত দিন যুবসমাজকে সুপথে আনা কষ্টকর। তরুণ সমাজ অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করে সমাজে সমাজবিরোধীর যে সম্মান, যে প্রতিপত্তি, সেখানে একজন জ্ঞানী সৎ মানুষের মূল্য তুচ্ছ। প্রতিকার, ধর্ম ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে তাদের মনে। বেকার সমস্যা দূর করতে হবে, আইনের যথার্থ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন থাকতে হবে। মুছে যাক অবক্ষয়ের চিত্র, তারুণ্য শক্তির জয় হোক এটাই আমার প্রত্যাশা।
মো. সাফায়েত উল্লাহ
গফরগাঁও, সরকারি কলেজ
ফোনঃ ০১৯০২৫৫৬০৫২



