মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ
পূর্ব প্রকাশের পর
মনোরোগ চিকিৎসায় উদ্ভাবিত সমস্যার ক্ষেত্রে নসোলজির প্রভাব
১৯৮০ সালে DSM III প্রকাশিত হলে এটা ব্যাপকভাবে পুনঃ ব্যাখ্যা করা হয়ে যায় যে, ব্যক্তিত্বের অবক্ষয় বা নৈতিক অধঃপতনের রাজ্যে কী কী আছে আর কী কী নেই। পূর্বের দিনে মনোসমীক্ষণের চারিত্র-বিজ্ঞান কমপক্ষে হলেও পাশ্চাত্য দেশে, মনোচিকিৎসকদের দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রভাবের পরিবর্তনের কারণে চিকিৎসার ধারণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে।
হিস্টিরিয়া, বদ্ধসংস্কারী মাতাল, যৌনবিকৃতি এবং মানসিকভীতি যেসব রোগীর সাথে সাধারণত মনোসমীক্ষণগণ কাজ করেছেন তারা যুক্তিসঙ্গতভাবে ভালোই করেছেন, শুধু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে। যদিও এই রোগীদের সাহায্য করার জন্য একমাত্র মনোসমীক্ষকগণই উপস্থিত ছিলেন না যে তারা তাদের আন্তর্ব্যক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতেন। এই পদ্ধতিটা প্রায়ই উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল দিত।
DSM-এর দ্বারা ব্যাখ্যাকৃত ব্যক্তিত্বের গোলযোগ অনেক বেশি মানসিক রোগগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঘিরে আছে। যেসব রোগী Axis II disorder-এর সমস্ত গুণাগুণ বহন করে তা মেডিকেল ব্যাখ্যা থেকে কম উপকার করে। যেসব রোগী ক্লাস্টার সি ডিসঅর্ডারভুক্ত নয় যেমন নির্ভরশীল ব্যক্তিত্ব। যতটুকু ক্লাস্টার এ-এর মধ্যেও রোগীদের ধরা যায় সেখানে সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা কম তালাশ করে অথবা বেশিদিন চিকিৎসাধীন থাকে না। প্যারানয়েড ও সিজোটাইপাল রোগীদের মনোসমীক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা করা খুব কঠিন এবং সাধারণত তাদের চিকিৎসার জন্য একটা মিথস্ক্রিয়াজনিত পদ্ধতির প্রয়োজন যাতে মিলিত থাকে সাপোর্টিভ, কগনিটিভ এবং এডুকেশনাল ইন্টারভেনশন। ওষুধপত্রেরও একটা ভূমিকা থাকতে পারে বিশেষ করে সিজোটাইপাল রোগীদের জন্য। ক্লাস্টার বি রোগীদের মধ্যে অবস্থা অন্য রকম হয়ে থাকে। মধ্য শতাব্দীতে মনোসমীক্ষকগণ যেসব রোগীর চিকিৎসা করতেন তাদের মধ্যে হিস্টেরিক রোগীদের চেয়ে হিস্টোরিওনিক রোগীরা প্রায়ই অনেক বেশি কর্মক্ষমতাহীন ছিলেন।
আমরা এরই মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছি যে কী কী অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় অসামাজিক ব্যক্তিত্বের চিকিৎসার ক্ষেত্রে। DSM-এর মধ্যে অবস্থিত বর্ডার লাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে বেশি কঠিন আলামতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং Kernberg-এর সাইকোঅ্যানালাইটিক অবজেক্ট রিলেশনের ব্যাখ্যা অথবা বর্ডার লাইন পার্সোনালিটি অর্গানাইজেশনের ব্যাখ্যার চেয়ে অনেক সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যায়িত। অনেক বর্ডার লাইন পার্সোনালিটি রোগী মনোসমীক্ষণের দ্বারা সৃষ্ট থেরাপিতে সহজে শাসনযোগ্য। যার মধ্যে লিমিট সেটিংয়ের সমন্বয় আছে এবং মুখোমুখি হতে হয় নেতিবাচক হস্তান্তর প্রক্রিয়ার। অ্যানালাইটিক ব্যাখ্যা এবং অনুবাদ ছাড়াও এটা এখন আধুনিক প্রকারতার জন্য অনেক বেশি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এরূপ সহজলভ্যতা সব সময় তাদের জন্য প্রাপ্য হয় না যারা প্রায়ই হয়ে থাকে অসুস্থ, বেশি আবেগপ্রবণ, আত্মধ্বংসাত্মক এবং শত্রুভাবাপন্ন রোগী এবং যারা বর্ডার লাইন পার্সোনালিটির DSM বিচার নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যতটুকু যন্ত্রণার সাথে পরিশ্রম করা মনোসমীক্ষকদের বেষ্টন করে, যারা অ্যানালাইটিক্যালি উদ্ভূত প্রথার মধ্যে থেকে বর্ডার লাইন রোগীদের নিয়ে কাজ করেন এগুলোকে তীব্রতার সাথে ব্যাখা করেছেন। বিখ্যাত লন্ডনবাসী সমীক্ষকদের স্বামী-স্ত্রীর একটি টিম তাদের নাম হচ্ছে Anna Higgitt Ges Peter Fonagy তারা বর্ডার লাইন রোগীদের দ্বারা প্রায়ই ঘনঘন নিজেদের কাজে খাটানোর জন্য প্রক্ষিপ্ত শনাক্তকরণ প্রতিরক্ষাকে বোঝার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তারা আরো বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বাগাড়ম্বরপূর্ণ ঘৃণার বা অপমানের যন্ত্রণাসমূহকে এবং সুগভীর নির্ভরশীলতাকে। থেরাপি বা মনোসমীক্ষণের প্রয়োজন পড়তে পারে ২ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত-সম্ভবত উদার প্রকৃতিতে কম হিসেবে। কেননা অন্যরা উল্লেখ করে থাকেন ১০ বছরে অথবা তার চেয়েও বেশি বছরের জন্য মনোসমীক্ষকদের সাহচর্যে থাকার কথা যেভাবে প্রয়োজন হয় প্রকৃত মনোসমীক্ষণের উন্নতি সাধিত হওয়া পর্যন্ত।
Higgitt এবং Fonagy আরো জোর দিয়েছেন যে থেরাপিস্টদের প্রয়োজন রয়েছে রোগীদের গোস্বাকে সংবরণ করার এবং শত্রুতাভাবাপন্ন মনোভাবকে ধারণ করার ক্ষমতা অর্জনের, তাছাড়া তাদের রাগান্বিত ও সাধারণ অবস্থার ব্যবহারের ছাঁচের সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। রোগীদের অযৌক্তিক সমালোচনা এবং রাগে ফেটে পড়ার প্রতিক্রিয়ায় যদি মনোসমীক্ষক রাগান্বিত হন এবং শত্রুভাবাপন্ন অনুভব করেন এবং রোগীদের সাথে না জেনেই দুর্ব্যবহার শুরু করেন তবে তাতে রোগীর বাল্যকালের সেই গৃহের পরিস্থিতি ও পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বর্ডার লাইন রোগীদের সাথে কাজ করার জন্য তারা কতগুলো পরামর্শ দিয়েছেন-যাদের তাৎপর্যপূর্ণ পরামর্শ দ্বারা চিকিৎসা করা সম্ভব তারা খুব কম অসুস্থ গ্রুপের মধ্যে পড়ে, তাদের আবেগপ্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য লিমিট সেটিং করার বিশেষ প্রয়োজন আছে। কথার দ্বারা সমীক্ষণের ক্ষেত্রে বর্তমান সম্পর্কের প্রতি লক্ষ রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্কের প্রতি লক্ষ রাখা প্রয়োজন। তারা লক্ষ করেছেন যে বিষণ্নতাগ্রস্ত রোগীদের এই উচ্চতর স্তরের মনস্তাত্ত্বিক সতর্কতা, উচ্চতর অভিপ্রায় এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে তাৎপর্যপূর্ণভাবে কাজ শুরু করার সর্বোৎকৃষ্ট রীতি। এটা বলার পর লেখক হুঁশিয়ার করে দেন যে, চিকিৎসার জন্য যথোপযুক্ততা অতি সাধারণভাবে হয়ে ওঠে নিজস্ব প্রামাণিক একমাত্র অনেক মাস পর্যন্ত। নেতিবাচক চিকিৎসার প্রতিক্রিয়ার সাথে যুদ্ধ করে হৃদযন্ত্রণা বাড়ানোর পরেই। ছুটির সময়ে বৃহদাকারের দুঃখ-দুর্দশার জন্য বিশেষ ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে...। আত্মহত্যার প্রবণতা এবং অনেক সময় শারীরিক আক্রমণপ্রবণতার কারণে।
অতিরিক্ত চিকিৎসা শুরু করার রীতি
অনেক কঠিন ব্যক্তিত্বের গোলযোগ বা পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনোসমীক্ষণের ও সহযোগী থেরাপিতে যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল তার ক্ষতিপূরণের জন্য বা তাকে কাটিয়ে ওঠার জন্য অধুনাকালে অনেক আধুনিক চিকিৎসার উদ্ভব হয়েছে। আর ১৯৮০-র দশকের পূর্বে যেগুলোর উপস্থিতি ছিল সেসব চিকিৎসা পদ্ধতিকে উন্নত ও জনপ্রিয় করা হয়েছে। এই চিকিৎসার পরিচালন দক্ষতার উন্নতির আংশিক কারণ হচ্ছে বর্ধিত আকারের সংলাপ, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মনোসমীক্ষকদের মধ্যে। মনোসমীক্ষকগণ সব সময়েই ব্যস্ত রয়েছে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল চাতুর্যগুলোর পরিকল্পনা ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কাজে। এই কলাকৌশলগুলোকে এখণ মনে হয় ওইসব রোগীর প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রযোজ্য। যারা আক্রান্ত আছেন অজাচার, স্টোরিওনিক, বর্ডার লাইন এবং হাল্কা ধরনের অসামাজিকতাজনিত গোলযোগের দ্বারা। এদের জন্য সীমানা নির্ধারণ এবং অন্যান্য বিহেভিয়ারাল মেথড হচ্ছে অত্যন্ত জরুরি। তথাপি এর জন্য কোনো সরাসরি বন্দোবস্ত নেই। যদিও ভিন্ন প্রকৃতির ‘তৎজলদি আরোগ্য প্রদান’ অনেক সময় দালালি করা হয় তা ব্যক্তিত্বের বৈকল্যের রাজ্যে খুব কমই কার্যকর হয়ে থাকে। যেভাবে এক শতাব্দী পূর্বে William James মন্তব্য করেছেন এবং Costa এবং Mc Crac ইদানীং পুনঃ অনুমোদন করেছেন যে, ব্যক্তিত্ব দানা বাঁধতে শুরু করে ৩০ বছরের কাছাকাছি বয়সে। একমাত্র যারা শিষ্টাচারবর্জিত তারাই দাবি করে সুসম্পূর্ণতা, একাকিত্বের গতিবেগ প্রদান, পরিবর্তন, তাতে পদ্ধতিটা যা-ই হোক না কেন। সর্বোৎকৃষ্ট যে ফলাফল স্বল্পদৈর্ঘ্য সমীক্ষণের মাধ্যমে লাভ করা যায় তা সম্ভবত ওইসব রোগীর সহাবস্থানকে লাঘব করা, যাদের বিষণ্নতার উপসর্গের সাথে রয়েছে ডিপ্রেসিভ পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার। অথবা যাদের সাথে আছে অনেক খ্যাতনামা লোকের সমাবেশ।
এই ধরনের স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজের উদাহরণ দিয়েছেন Chrispadesky। তার পদ্ধতি হচ্ছে বিশদ ব্যাখ্যা করা, তারপর আস্তে আস্তে পরিবর্তন করা। এভাবে তার নিজস্ব তরিকায় বিষণ্নতাগ্রস্ত রোগীর চরিত্রের পরিবর্তন আনেন তার অন্তরে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে। এই ধরনের একজন রোগীর একটা লম্পট চক্র বা ভিসিয়াস সার্কেল থাকতে পারে। যাতে এরূপ কিছু বলা হয়-আমি ভালো নেই, অন্যরা আমার চেয়ে ভালো, অতএব আমি অবশ্যই তাদের প্রয়োজনে সাহায্য করব, তার ফলে আমি সব সময়েই ক্লান্ত আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই, এটা আমাকে রাগান্বিত এবং ক্রুদ্ধ করে।
দেখুন আমি ভালো না! কগনিটিভ থেরাপিস্টগণ এই ধরনের রোগীদের জিজ্ঞেস করেন বশ মানেনি এমন লোকদের জন্য তোমরা আলাদাভাবে কী ব্যবহার করতে? এবং রোগীদের সাহায্য করেন এটা দেখার জন্য যে, সে যখন ক্লান্তবোধ করে তখন সে বিশ্রামের জন্য জেদ ধরতে পারে। কূটকৌশলীভাবে কিছু অনুগ্রহ দেখাতে অস্বীকার করতে পারে, যা তার ক্ষমতার অথবা সময়ের সামর্থ্যবহির্ভূত এবং তদ্রূপ আরো কিছু। এসব পদক্ষেপ দ্বারা তাদের আন্তর্ব্যক্তিক ভুবনকে আবিষ্কার করতে সাহায্য হয় যে ভুবনটা অনেক কম বৈরীভাবাপন্ন অথবা রোগীর ধারণার চেয়েও বেশি অগ্নিপ্রোজ্জ্বল। যার কারণে অন্যের সাথে অনেক বেশি সম্মত মিথস্ক্রিয়ায় বসবাস করা যায়। তারপরেই অন্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার দ্বারা তার নিজস্ব তিরস্কৃত বিশ্বাস আমি ভালো নেই, বা I am no good-কে বাতিল করে দেয়। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির বিষয়টি ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল Ann Hackmann কর্তৃক ১৯৯৩ সালে। তিনি উল্লেখ করেছেন ব্রিটিশ বিহেভিয়ারাল সাইকোথেরাপিক সমিতির ২০ বছর ধরে সদস্যপদের কথা, ১৯৭২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। ২০০ থেকে ১৭০০ সদস্যেরও বেশি। এখন হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর সীমানার আবেদন ব্যাপক, তাতে শুধু পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারকেই কভার করে না, বরং আরো কভার করে ফোবিয়া, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, অ্যাংজাইটি স্টেটস, ডিপ্রেশন, সেক্সুয়াল প্রবলেম, সাবস্ট্যান্স অ্যাবিউজ, ইটিং ডিসঅর্ডারস এবং কন্ডাক্টটিভ ডিসঅর্ডারকেও যাদের বেশির ভাগের অবস্থা মস্তিষ্ক বিকারজনিত কারণে খুব জটিল আকার ধারণ করেনি।
সারা পৃথিবীর সেরা
যেমনি ১৯৯০-এর দশক শেষ হয়ে এসেছে তার সাথে সাথে মৌখিক মনোরোগ চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর মধ্যে একটা বৃহদাকারের ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মনোরোগ চিকিৎসার একটা সার্বিক ভূমিকা রয়েছে সব ধরনের কার্যকর মানসিক বৈকল্যের ওপর। কারণ প্রায় ক্ষেত্রে ‘কথা বলার দ্বারা আরোগ্য’ শুধু হাল্কা ধরনের আক্রান্ত রোগীদের জন্যই প্রযোজ্য। মনোরোগের চিকিৎসা ওইসব লোকের জন্য প্রযোজ্য যারা আত্মীয়তার সম্পর্কের কষ্টে বা সমস্যায় ভোগেন এবং চাপের মুখে যাদের জীবন সমস্যাসংকুল হয়ে পড়ে। এই ধরনের প্রায় সব রোগীই ব্যক্তিত্বের গোলযোগে ভোগে, যা সব সময় এতটা প্রকট আকার ধারণ করে না যাকে ব্যক্তিত্বের বৈকল্য বা পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার বলা যায়। DSM-এর সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী একে সেই পর্যায়ে ফেলা যায় না।
-চলবে



