Skip to main content

পরামর্শ পাতা

মানসিক, স্নায়বিক, মাথাব্যথা, মৃগীরোগ,

মাদকাসক্তি ঘুমের সমস্যা ও সাধারণ সেক্স সমস্যার

মঈন উদ্দীন
ভাটিয়ারি, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৫ বছর। মনোজগতের নিয়মিত পাঠক হওয়ায় জানতে পেরেছি আমি সোস্যাল ফোবিয়ায় ভুগছি। দেড় মাস ধরে প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম, রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম খেয়েছি। কোনো কাজ হচ্ছে না। সামাজিক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারি না। সাজিয়ে-গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। কেউ প্রশ্ন করলে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয়। ফলে গুছিয়ে উত্তর দিতে পারি না। বন্ধুদের আড্ডা জমাতে পারি না, কোনো জনসম্মুখে ২ মিনিটও কথা বলতে পারি না। জানা সহজ কথাও ভুলে যাই, শরীর ভীষণ ঘামে, নার্ভাস হয়ে পড়ি। ঘুম ঠিক আছে। আমি এখন কী ওষুধ খাব? সাইকোথেরাপি সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। ওষুধ চালিয়ে যান। ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি আপনার দরকার সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং। আপনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোরোগবিদ্যা বিভাগে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

আতিকুর রহমান
নান্দাইল, ময়মনসিংহ
আমার বাবার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। দুই বছর যাবৎ তিনি বাড়ির বাইরে যান না। অথচ তিনি বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেন এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম করেন। দুই বছর আগে বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ব্যাংকে গিয়ে তিনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, তার লো ব্লাড প্রেসারজনিত সমস্যা রয়েছে এবং তার ভাষায় সেদিন প্রেসারে চাপ দিয়েছিল। এ ঘটনার পর থেকে তিনি আর বাড়ির বাইরে যান না। ১৫-২০ বছর যাবৎ তিনি বাস বা ট্রেনে চড়েন না। জোর করে গাড়িতে উঠালে ভয়ে তার গলা শুকিয়ে যায়, চোখ-মুখ লাল হয়ে যায়, ঝিমঝিম করে মাথায় কী যেন উঠতে থাকে- এমনকি অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম হয়। উল্লেখ্য, একদিন এক বাস দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তারপর থেকেই তিনি গাড়িতে উঠতে ভয় পান। এছাড়া তিনি মৃতদেহ, রক্তপাত, মানুষের কান্না ইত্যাদি সহ্য করতে পারেন না। এক্ষেত্রেও তার মধ্যে অনুরূপ আচরণ লক্ষ করা যায়। সব বিষয়ে তিনি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেন যেমন- রাতে শোবার আগে চারপাশে সাপের উপস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। কোনো ট্যাবলেট সম্পূর্ণ খাওয়ার প্রয়োজন হলেও তিনি তা ভেঙে অর্ধেক বা এক-চতুর্থাংশ খান, যেন বিপরীত প্রতিক্রিয়া না হয়। সব সময় যেন তার কান খাড়া থাকে বা সতর্কাবস্থায় থাকে। কোনো শব্দ শুনলেই সেখানে কী ঘটেছে জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে যান। অ্যালার্জির ভয়ে অনেক খাদ্য তিনি খান না ও অন্যকেও খেতে দেন না। তিনি সর্বদা টেনশনে ভোগেন এবং ভবিষ্যৎ চিন্তায় মগ্ন থাকেন। মাঝেমধ্যে একা একা কী যেন ভাবেন, তিনি অতি মাত্রায় বাস্তববাদী ও    চিন্তাশীল। ইদানীং নাকি কোনো বিষয়ে বেশি ভাবতে গেলে মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করে না এবং হাল্কা মাথাব্যথা শুরু হয়। মেজাজ কিছুটা খিটখিটে হয়ে গেছে। এছাড়া তার খাদ্যে অরুচি, শারীরিক দুর্বলতা, গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে। কোনো ডাক্তারের শরণাপন্ন হননি। গ্রাম্য ডাক্তারের প্রতি তার আস্থা নেই। আবার কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছেও যেতে নারাজ। শত চেষ্টা করেও তাকে চিকিৎসার জন্য কোথাও নিতে পারিনি।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার বাবার সমস্যা প্যানিক ডিসঅর্ডার। এ সমস্যাটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। রোগী বাসা থেকে ঘরের বাইরে যেতে ভয় পায়। দীর্ঘদিন এতে ভুগলে আপনার রোগীর মাঝে বিষণ্নতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার বাবাকে ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও বিকেলে ১টা সেবন করতে দেবেন। ট্যাবলেট নেক্সসিটাল ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে দেবেন। আশা করি, ওষুধ সেবনে আপনার বাবার অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।

ওবায়দুর রহমান
সিলেট
আমি সিলেট মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আমার বয়স এখন ২৫ বছর। আমার এ রোগটি প্রায় ১৫ বছর ধরে এবং এখনো আছে। আমার রোগটি বর্ণনা করা খুব কঠিন। আমার যেকোনো পরিস্থিতিতে বমি হয়ে যায়। যেমন ধরুন এই বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছি হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়া শরীরের স্পাইনাল কর্ড থেকে জ্বালাময় ভাব, পিঠের চামড়ার চারদিকে নিচে আসে। তারপর প্রচণ্ড উটকি হয়, এরপর বমি হয়ে যায়। কোন পরিস্থিতি হবে তা আমি নিজেও জানি না। আপনি হয়তো বলবেন সোশ্যাল ফোবিয়া, আমি কিন্তু বলব না। কারণ আমার মানুষের বাসায় দাওয়াত বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেতে খুবই ইচ্ছা করে। কিন্তু যাওয়ার আগে বমি শুরু হয়ে যায়, আর সেখানে গিয়ে আমাকে মাস্ট বমি করতে হয়। এ কারণে আত্মীয়ের বাসায় ইচ্ছা থাকলেও যেতে পারি না।

অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি কোনো কাজ হয়নি। একজন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখিয়েছিলাম, তার চিকিৎসায় ৬০% ভালো হয়ে যায়। তিনি আমাকে যেসব ওষুধ দিয়েছিলেন সেগুলো হলো-অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম, রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম, লুডিওমিল, কোফ্রানিল, কিয়োলাক্স, এন্ডেভারসহ আরো অনেক ওষুধ। এগুলো তিন মাস পরে বদলিয়ে দিতেন। তাই যতক্ষণ ওষুধ খেতাম ততক্ষণ ওই বমিটা বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন ওই ওষুধগুলো আর কাজ করছে না। কী করব বলুন স্যার? আমারও সাধারণ মানুষের মতো বাঁচতে ইচ্ছা হয়, কিন্তু ওই অসুখটার জন্য পারছি না। আশা করি আমার রোগ সম্পর্কে সামান্য কিছু বোঝাতে পেরেছি। আমাকে এ রোগটির ভালো চিকিৎসা দিন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার রোগটি অভিনব হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে অজানা রোগ নয়। মনোরোগের ভাষায় আপনার রোগের নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এক্ষেত্রে প্রথমে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়। আপনি এক্ষেত্রে লুডিওমিল, অ্যানাফ্রেনিল সেবন করেছেন। যেহেতু এসব ওষুধে আর কাজ হচ্ছে না আপনাকে সেকেন্ড লাইন অব ট্রিটমেন্টে যেতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট পেরিডল ৫ মিলিগ্রাম সকালে একটি ও রাতে একটি সেবন করুন। ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম সকাল, দুপুর, রাত তিন বেলা সেবন করুন। যদি ঘুমের সমস্যা হয় তাহলে ট্যাবলেট কিউলেক্স প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করবেন। পরবর্তী সময়ে অন্তত ৪ সপ্তাহ পরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আশা করি, আপনার অবস্থার উন্নতি হবে।

ছালেহ আকরাম
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা
আমি বর্তমানে একটা স্টোরে সার্ভিস করি। কিন্তু সার্ভিসটা আমার ভালো লাগে না। আমার মন চায় আমি যেন আবারও লেখাপড়া করি কিন্তু আর্থিক অসুবিধায় তা হচ্ছে না। আর আমার সার্ভিসটা ভালো না লাগাতে সেখানে কাজে মন বসাতে পারি না। পড়ালেখা আমাকে সব সময় ভাবিয়ে তোলে। মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করায় আমি কি কোনো মানসিক রোগে ভুগছি। আমার খুব লজ্জা, মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে সমস্যা হয়, বড় কোনো অনুষ্ঠানে গেলে নিজেকে সামলাতে পারি না, অতিথিদের মেহমানদারি করতে পারি না, মনে হয় যেন আমাকে নিয়ে সবাই হাসছে। একা থাকতে ভালো লাগে, বই পড়তে ভালো লাগে, একা একা কথা বলি, সব সময় বিভিন্ন ব্যাপারে নিজের সঙ্গে কথা বলি, যেন বড় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে গল্প করছি। এটা কি আমার মানসিক রোগ? আপন কোনো ব্যক্তি আমার সমালোচনা করলে তার দিকে আর তাকাতেও ইচ্ছা করে না, মনে খুব আঘাত পাই। বিভিন্ন যৌনতা নিয়ে চিন্তা হয়, কিন্তু আমি চাই না এমন চিন্তা আমার হোক। স্মরণশক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে, স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হচ্ছে, এমনকি বিভিন্ন নিয়ম পালন করেও স্বাস্থ্য ধরে রাখতে পারছি না। রাগ উঠলে কথা গুছিয়ে বলতে পারি না, এমনকি চেষ্টা করেও। আমার রোগটা কী জানাবেন এবং সমাধানের পরামর্শ দিলে খুশি হব। আমার বিশ্বাস পরামর্শ পাবই।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার রোগের নাম সোশ্যাল ফোবিয়া। পাশাপাশি কিছু বিষণ্নতার উপসর্গ আপনার ওপর চেপে বসেছে। এক্ষেত্রে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপির দরকার। আপনি ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে ও রাতে অর্ধেক করে সেবন করুন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ৪ সপ্তাহের মধ্যে আপনার মনের অবস্থা পরিবর্তন হবে। ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপি এবং কাউন্সিলিংয়ের জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।

খোকন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বয়স ২৫ বছর। অনেক বছর থেকেই আমার কিছু সমস্যার জন্য ভীষণ টেনশন ও উদ্বেগ ফিল করছি। আমি সব সময় মনে মনে কথা বলি। নিজে নিজেই প্রশ্ন করি আবার নিজে নিজেই এর উত্তর দিই। যেমন-কারো সঙ্গে কীভাবে কথা বলব, কীভাবে উত্তর দেব ইত্যাদি। মনে হয় নিজের মধ্যে আর কেউ বাস করে। কিন্তু অনেক লোকের সামনে গেলে কেমন করে কথা বলব তা ভেবে উঠতে পারি না। সব সময় একটা ভয় ভয় ভাব থাকে। সৎ সাহস দেখাতে চাইলেও সামনাসামনি গেলে দারুণ ভয় জাগে। আত্মবিশ্বাস নেই মোটেও। সব সময় মনে হয় আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। বন্ধু মহলে থাকলে তাদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারি না। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মনে হয় কেউ আমাকে নিয়ে সমালোচনা করছে। স্মরণশক্তি কমে যাচ্ছে, বেশিক্ষণ একটানা পড়তে পারি না। পড়তে বসলে মাথা গরম হয়ে যায় এবং তা হাত দিয়ে অনুভব করা যায়। মনে হয় যেন মাথা দিয়ে গরম ভাপ বের হচ্ছে। সব সময় অস্থিরতা বিরাজমান, মনোযোগ আনতে পারি না। আমি এসব ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ডাক্তার বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হইনি। অনুগ্রহ করে এসব সমস্যা থেকে কীভাবে মুক্তি পেতে পারি তার একটা পরামর্শ দেবেন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার চিঠি পড়ে আপনার মনের সমস্যা সম্পর্কে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। আপনি এক্ষেত্রে ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ও রাতে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ৩ সপ্তাহের মধ্যে আপনার অবস্থার উন্নতি হয় কি না দেখুন। পরবর্তী সময়ে সরাসরি আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। এর জন্য ইতিপূর্বে কোনো ওষুধ খেয়ে থাকলে তার প্রেসক্রিপশন এবং কোনো পরীক্ষা করিয়ে থাকলে তার রিপোর্ট সঙ্গে নিয়ে আসবেন।

ধীমান চক্রবর্তী
সিলেট সদর
আমার সমস্যা হলো-লেখাপড়ায় আমার একেবারে মন বসে না। পড়তে বসলেই মনে বিভিন্ন রকম চিন্তা চলে আসে। আমি সব সময় হাসিখুশি থাকতে চাই কিন্তু পারি না। আমি প্রায় সব সময়ই কোনো না কোনো কিছু নিয়ে ভাবি। এটা করতে আমার ভালোই লাগে। কোনো বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি, আমি যখন কথা না বলি তখন হয়তো আমি কিছু নিয়ে ভাবা শুরু করি। আমি বই নিয়ে বসলে সর্বোচ্চ ৫-১০ মিনিট মনোযোগ রাখতে পারি। তারপর কখন অন্যদিকে মন চলে যায় তা আমি নিজেও জানি না এবং পড়াশোনা একদম মনে রাখতে পারি না। সাহস একদম নেই। কোনো কিছুতে ঝুঁকি নিতে রাজি নই। আমি সব সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। অত্যন্ত সাধারণ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। পড়ার বই ছাড়া অন্য যেকোনো বই আমি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারি। নিজের আত্মবিশ্বাস অধিকাংশ সময় থাকে না। কোনো সময় আত্মবিশ্বাস খুব বেশি থাকে, কোনো কোনো সময় একেবারে থাকে না। আমার আশপাশে যারা বাস করে বা আমার বন্ধুবান্ধব সবাই সচ্ছলভাবে লেখাপড়া বা কোনো কাজ শিখতে পারে। কিন্তু আমি পারি না টাকার অভাবে। অনেক সময় নিজের স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করি। আমার মধ্যে প্রচণ্ড রকমের খামখেয়ালি স্বভাব বিদ্যমান। নিজের ভেতর হতাশার সৃষ্টি হলে নিজের ওপর নিজেই অত্যাচার শুরু করি। হস্তমৈথুন শুরু করলে ১ দিনে ৫-৬ বার করি। এ সময় আমার মনেই থাকে না যে অতিরিক্ত হস্তমৈথুন ক্ষতিকর। কোনো কোনো দিন যৌনবিকৃতিমূলক আচরণ করে বসি। ছোট ছেলেমেয়ের প্রতি আমি খুব দুর্বল হয়ে পড়ি। পরে আবার চিন্তা করি এসব করা আমার ঠিক নয়। তারপরও সোশ্যাল ফোবিয়ার ভাব আছে যেমন-আমার চেয়ে যারা ধনী তাদের সঙ্গে কথা বলতে বা খাপ খাওয়াতে পারি না। কথা বলতে গেলে জড়তা চলে আসে। মেয়েদের সঙ্গে ঠিকমতো গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। পাছে লোকে কিছু বলে-এই রকম চিন্তা থাকে। নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। বুক ধড়ফড় করে, নতুন কোনো জায়গায় যেতে বা কাজ করতে বললে আমার চিন্তার শেষ নেই। কেউ আমাকে তার সঙ্গে দেখা করতে বললে চিন্তা করি কী জন্য ডাকল। মনের মধ্যে ভয় চলে আসে। ডাক্তার সাহেব আমার এখন কী চিকিৎসা দরকার, আমার কি সাইকোথেরাপি এবং বিহেভিয়ার থেরাপির দরকার আছে। জানালে খুব উপকৃত হব।

া আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার রোগের নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এ রোগটি আপনার মধ্যে মোটামুটি মাঝারি মাত্রার উপসর্গ প্রকাশ করছে। চিকিৎসা না করালে সমস্যা আরো প্রকট হয়ে দাঁড়াতে পারে। এক্ষেত্রে ওষুধ সেবন করানো হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনে সাইকোথেরাপি এবং বিহেভিয়ার মোডিফিকেশন থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। আপনি এক্ষেত্রে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করুন। ৩ দিন পর থেকে ২টা করে সেবন করতে থাকুন। পাশাপাশি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। কিছুদিনের মধ্যেই মনের উদ্ভট নানা চিন্তা ধীরে ধীরে কমে আসবে। ৪ সপ্তাহ পরে আমাদের অবস্থা জানাবেন।

মাইমুনা বিনতে মাহমুদ
আখাউড়া
আমার বয়স ১৭ বছর। ছোটবেলা থেকেই আমার ঠান্ডার সমস্যা। ওষুধ খেলে দুদিন ভালো তারপরই আবার সর্দি লেগে যায়। এই সমস্যা আগে থেকেই। তাই সর্দির কোনো চিকিৎসা করিনি। বর্তমানে বছরখানেক হলো জ্বর হয়েছে। সারাদিন অল্প অল্প জ্বর আর রাত হলেই কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। আমি জ্বরের সাধারণ ওষুধ সেবন করেছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। সন্ধ্যা হলেই মাথার ডানপাশ্বে ব্যথা শুরু হয়, তারপর সারা রাত ব্যথা করে। চোখ দিয়ে পানি পড়ে। জ্বর হওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। মাথাব্যথার জন্য চুল পড়ে যাচ্ছে, আবার চুল পেকেও যাচ্ছে। এখন দয়া করে আমার সমস্যাগুলোর সমাধান দেবেন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি সম্ভবত সাইনোসাইটিসে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে আপনি একজন নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞকে দেখাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট এলাট্রল ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। এ ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।

আজাদ
পঞ্চবটি, নারায়ণগঞ্জ
আমার বয়স ১৯ বছর। আমি একজন ছাত্র। আমার অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হয় যার কারণে কাজকর্মে খুব ব্যাঘাত ঘটছে। কোনো কিছু ভালো লাগে না, মনে আনন্দ নেই, পড়ালেখায় ঠিকমতো মন বসে না, সারাক্ষণ এই নিয়ে দুশ্চিন্তা আসে। আমি এখন কী করব দয়া করে বলুন। আমার শরীর খুব পাতলা এবং চিকন। হাত-পায়ের হাড় এবং কোমর খুব চিকন। হাতের রগগুলো সব দেখা যায়, খুব খারাপ লাগে। অস্বস্তিবোধ করি, খুবই দুর্বল লাগে। বেশিক্ষণ বসে ও দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, কোমর ব্যথা করে। গায়ে সব সময় জ্বর অনুভব করি কিন্তু থার্মোমিটারে কোনো জ্বর ধরা পড়ে না। বেশিক্ষণ হাঁটলে পা খুব ব্যথা করে, খুবই দুর্বল লাগে। হাঁটার সময় মনে হয় পাগুলো এদিক-সেদিক পড়ে যায়। এ জন্য খুবই আনইজি লাগে। স্মার্টভাবে চলতে পারি না। স্বাস্থ্যের জন্য খুব লজ্জা পাই, কোথাও নিজেকে ফ্রি মনে হয় না। খুব ছোট মনে হয়।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। পাশাপাশি আপনার মাঝে প্রচুর সেক্সুয়াল অ্যাংজাইটি রয়েছে। এ কারণে আপনি মনোজগত প্রকাশনীর সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখতে পারেন। বিষণ্নতা সমস্যার জন্য ট্যাবলেট লুডিওমিল প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খাবেন। ওষুধ আমাদের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

ভৌমিক মল্লিক
খুলনা
আমার বয়স ২৩ বছর। আমি অনেক দিন যাবৎ বিভিন্ন মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছি। যেমন সামনে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা। এই নিয়ে সব সময় একটা ভীতি বিরাজ করে মনের মধ্যে। পড়তে বসলে নানা রকম চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়, কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। মনে হয় যেন সবাই আমাকে ঠকাচ্ছে। ধৈর্য নেই বললেই চলে। খুবই আবেগপ্রবণ এবং সন্দেহপ্রবণ। কোনো একটা খারাপ কাজ করলে খুবই অনুতপ্ত হয়ে পড়ি এবং সারাক্ষণ চিন্তা করি। সারাক্ষণ মনে হয় আমাকে দিয়ে কিছু হবে না।

ডাক্তার সাহেব আমি এর আগে চিঠি লিখেছিলাম। আপনি আমাকে রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম সকালে একটা খেতে বলেছিলেন। আমি ৩ মাস খেয়েছিলাম। পরে ভালো লাগলে তা ছেড়ে দিই। এখন আবার সেই রোগগুলো দেখা দেয়াতে আমি আবার আগের নিয়মে ওষুধ খাচ্ছি। ডাক্তার সাহেব আমাকে কত দিন ওষুধ খেতে হবে বা আর কোনো ওষুধ খেতে হবে কিনা তা জানালে খুবই উপকৃত হব।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেশন আর বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে ওষুধ আপনাকে অনেক দিন খেতে হবে। তবে সময়ের সাথে সাথে ওষুধের মাত্রা কমে আসবে। ৩ মাস পূর্ণ মাত্রায় খেতে হবে, ৩ মাস পর ওষুধ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। রিভোট্রিল ধীরে ধীরে কমিয়ে এনে এক সময় বন্ধ করে দিন। ক্যাপসুল প্রদীপ ৩ দিন পর পর খেতে পারেন।

মো. শাহিনুর রহমান
বেড়া, পাবনা
আমার বয়স ১৮ বছর। আমি অনেক দিন ধরে একজন মানসিক রোগী। প্রথমবার যখন আক্রান্ত হই তখন আমি ডাক্তারের পরামর্শে বিষণ্নতার জন্য ট্রিপটিন ৩-৪ মাস খাওয়ার পর সম্পূর্ণ সুস্থ হই। কিন্তু ওষুধ সেবন বাদ দেয়ার পর আবার আক্রান্ত হই। এভাবে আমি ৩-৪ বার আক্রান্ত হয়েছি। তাই আমি অনিয়মিতভাবে মাঝে মাঝে ট্রিপটিন-খাই এতে কোনো অসুবিধা আছে কি না। বর্তমানে আমি নিম্নলিখিত সমস্যায় ভুগছি; বন্ধুদের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না। কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হতে পারি না এবং কথা বলে কারো সাথে আসর জমাতে পারি না। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি এবং মাঝে মাঝে মত পরিবর্তন করি। ভবিষ্যৎ কর্মজীবন সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন আছি। রাত জেগে পড়াশোনা করলে ঘুমের সমস্যা হয়। পরীক্ষাভীতি এবং জীবনবোধ সম্বন্ধে হতাশ হওয়া। আমার অভাব অভিযোগ অভিভাবককের কাছে খুলে বলতে পারি না। এমনকি মুরব্বি বা অভিভাবক গোছের কাউকে দেখলেই গলা শুকিয়ে যায়। ছোটবেলা হতেই আমি একা একা থাকতে ভালোবাসতাম এবং মাঝে মাঝেই মনে মনে হাসতাম এবং কখনো কখনো মন খারাপ হয়ে যেত। যে কোনো কাজ প্রথমে খুব উৎসাহের সাথে করি কিন্তু আস্তে আস্তে উৎসাহ এতটাই কমতে থাকে যে সেটা আর শেষ করতে পারি না। আগে প্রচুর পড়াশোনা করতাম এবং এসএসসি পরীক্ষায় দারুণ রেজাল্টও করেছিলাম। কিন্তু এখন পড়াশোনা বেশি করতে পারি না। আমার নিজেকে বোকা মনে হয় এবং মনের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। অনেক সময় সহজ কথা বুঝি না, পরীক্ষার কথা শুনলেই মন দুর্বল হয়ে যায়।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। ওষুধ খেলে রোগ সেরে যায় কিন্তু যেহেতু ৩-৪ মাস দেরি হয়েছে এক্ষেত্রে আপনাকে ট্রিপটিন খেয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি অনিয়মিতভাবে খেতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ওষুধ কত দিন খেতে হবে তা হিসেব করে বলা মুশকিল।

আরিফ মাহমুদ
বি-বাড়ীয়া
আমার বয়স ২২ বছর। সমস্যা ৮ বছর যাবৎ। ইসলামভিত্তিক চিন্তা অবসেশন। আমার রোগটি ধরা পড়ে ২০০২ সালে আপনার মনোজগত পত্রিকার মাধ্যমে। আমি তখন থেকে ওষুধ খাওয়া শুরু করি। আপনি প্রথমে আমাকে ওষুধ দিয়েছিলেন অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম, রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম, টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম, দ্বিতীয়বার দিয়েছিলেন অ্যানাফ্রেনিল-এর পরিবর্তে প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম সকালে ১টি করে ও রাতে রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম খাওয়ার জন্য এবং টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম বন্ধ করে দেয়ার জন্য। তৃতীয়বার দিয়েছিলেন এগুলোই কিন্তু প্রদীপ না পাওয়াতে বাংলাদেশী তৈরি প্রোলার্ট ২০ মিলিগ্রাম সেবন শুরু করি। এভাবে একটানা ৭-৮ মাস খাই। এরপর ওষুধ কমিয়ে একদম বন্ধ করে দেই। ৩-৪ মাস সুস্থ থাকি। তারপর আবার রোগটি প্রকাশ পাওয়া মাত্র আগের ওষুধগুলো শুরু করে দেই। ২ মাস খাওয়ার পর বর্তমানে সুস্থ অনুভব করছি। এ ওষুধগুলো আর কত দিন সেবন করব।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন-এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ওষুধ খেতে হয়। আপনি ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে চালিয়ে যাবেন। ২ মাস পর ১ দিন পর পর খেতে পারবেন। এতেও আপনি ভালো থাকবেন। কিন্তু ওষুধ একদম বন্ধ করা যাবে না।

আমিনুর রহমান
সাভার, ঢাকা
আমি প্রায় এক বছর যাবৎ অবসেশন সমস্যায় ভুগছিলাম। যেমন আমার মনে সারাক্ষণ আজগুবি চিন্তা ভাবনা ঘুরপাক খেত। তারপর সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকতাম আর মাথার ভেতরে কী যেন ঘুরছে এ রকম লাগত। আমি আমার সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়ে আপনাকে জানাই। আপনি আমাকে প্রতিদিন সেরোলাক্স সকালে ১টি, ট্যাবলেট রিভোট্রিল প্রথম ২০ দিন অর্ধেক তারপর এক-চতুর্থাংশ সকালে ও রাতে এবং ট্যাবলেট টেলাজিন ২০ দিন খেতে বলেছিলেন। আমি আপনার পরামর্শমতো দুমাস ওষুধ খেয়ে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কত দিন পর্যন্ত ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে এবং ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে কিনা কিছুই জানতে পারছি না।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা/অবসেশন সমস্যায় ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে অনেক দিন ওষুধ খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ৩ মাস পর ১ দিন পরপর ওষুধ সেবন করলেও চলবে। অনিয়মিত ওষুধ সেবন করলেও ভালো থাকবেন।

লিটন
হাজারী, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২২ বছর। মাসখানেক আগে আমি এক মহিলার সাথে মিলিত হই। পরে জানলাম ওই মহিলা পতিতা। উল্লেখ্য যে এ মহিলাই আমার প্রথম সঙ্গী। এখন আমি ভীষণভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। ওই মহিলা যদি এইচআইভি বহন করে তাহলে আমিও রক্ষা পাব না-এ ভাবনা আমাকে প্রতিনিয়ত দুর্বল আর যন্ত্রণা দিচ্ছে। এমন অবস্থায় জীবনের সব আশা ভুলে যেতে বসেছি। সর্বদাই সেই ঘাতক রোগের কথাই ভাবি। আর ভাবি আমার বাঁচার কোনো অধিকার নেই, আমি বাঁচব না। তাই মনোজগতের কাছে আমার দুর্দশার কথা ব্যক্ত করলাম। আমি জানতে চাই রক্ত পরীক্ষা ছাড়াও এইচআইভির উপস্থিতি প্রমাণ করা যায় কিনা এবং দেহে অনুপ্রবেশের কত দিন পর তার প্রতিক্রিয়া শুরু হয় বা লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। একজন এইচআইভি আক্রান্ত পুরুষ বা মহিলা কত দিন পর্যন্ত সুস্থ জীবন-যাপন করতে পারে। এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি কি অবশ্যই এইডস রোগী। যদি এইডস রোগী না হয় তাহলে তার পূর্বে তার প্রতিরোধব্যবস্থা কী আছে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সবচেয়ে ভালো হয় এইচআইভি সিরাম পরীক্ষা করে নেয়া। এতে করে আপনার মনের সমস্ত সন্দেহের অবসান হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

মো. মুস্তাক আহমদ
মাজাররোড, সিলেট
আমার বয়স ২২ বছর। আমি একজন ছাত্র। আমি বেশ কিছুদিন থেকে রোগে ভুগছি। আমার সমস্যা হলো একা একা কথা বলা, হাসা, অনেক সময় কেঁদে থাকি। ঘুমের মধ্যেও কথা বলে থাকি। পড়ালেখা বা কোনো কাজের মধ্যে মনোযোগ দিতে পারি না। আমার ঘুমের সমস্যা আছে, গভীরভাবে ঘুমাতে পারি না। পড়ালেখা বা কোনো কাজ করতে গেলে অনেক সময় ভুলে যাই এবং বেশ কিছু সময় পর মনে পড়ে। স্মরণশক্তি কিছুটা কম। কোনো চিন্তা একবার মাথায় ঢুকলে বের হতে অনেক সময় লাগে। সেটা নিয়ে একা একা কথা বলে থাকি। কোনো কাজ করতে গেলে অনেক সময় লাগে। কারো সামনে কোনো কথা বলতে পারি না ভয় এবং লজ্জা লাগে। মাথা সব সময় গরম থাকে। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়া রাগ হয় এবং অনেকের সাথে ঝগড়া করে থাকি।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। এ ক্ষেত্রে সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা খাওয়ার পর ভরাপেটে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

মামুন
সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা
আমার বয়স ২২ বছর। আমি একজন অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমি প্রায় ৫-৬ বছর যাবৎ নিম্নোক্ত সমস্যায় ভুগছি। নিচে আমার সমস্যাগুলো তুলে ধরলাম। সারাক্ষণ শুধু ভয়ে ভয়ে থাকি, কোনো কাজে মন বসে না, ক্লাসের বন্ধুদের সাথে ভালোভাবে মিশতে পারি না। তাদের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস একদম কমে গেছে। বুক সারা দিন ধড়ফড় করে, মনের মধ্যে আনন্দ নেই, স্মরণশক্তি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। শরীর প্রায় সময় দুর্বল থাকে, মুখ থেকে যেন হাসি চিরদিনের জন্য চলে গেছে। আর একটি আমার প্রধান কারণ হলো আমি ছোটবেলা থেকে আমার বাবাকে খুব ভয় করতাম, ছোটবেলায় পড়ালেখাতে দুর্বল হওয়ায় তিনি আমাকে খুব মারধর করতেন। তার সাথে কোনো বিষয়ে আলাপ করলে ভয়ে গলায় ঢোঁক গেলা শুরু করি। তার সামনে গেলে নিজেকে ফ্রি মনে করতে পারি না। বাবাকে ভয় পাবার কারণে কোনো বন্ধুর সাথে মিশতে পারি না। তাদের সঙ্গে মিশলে সব সময় আমার মনে হয় কখন যে আমার বন্ধু আমার বাড়িতে যেতে চায়। তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে আমার বাবা যদি কিছু বলে এবং তাকে কীভাবে আপ্যায়ন করব। এসব আজেবাজে চিন্তা আমার মাথায় সব সময় ঘুরপাক খায়।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি সোশ্যাল ফোবিয়া সমস্যাতে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম সকালে ১টা করে  খাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

সুব্রত মন্ডল
মানিকগঞ্জ
আমার সমস্যাগুলো হলো-আমি প্রায়ই ভয়ে ভয়ে থাকি, অপরিচিত, আধা পরিচিত কারও সাথে কথা বলতে গেলে ইতস্ততবোধ করি। তখন মুখ দিয়ে যেন কোনো কথা বের হয় না। আর বের হলেও কথা মুখে আটকে যায়। তোতলামি বেড়ে যায়। লোকে আমার অবস্থা দেখে হাসে, উপহাস করে, তখন একা একা থাকতে ইচ্ছা করে, কান্না পায় এবং আত্মহত্যা করতে মন চায়। তখন মনে হয় বেঁচে থেকে কী হবে। আত্মবিশ্বাস নেই, বিভিন্ন ধরনের কুৎসিত ভাবনা মাথায় বিরাজ করে এবং তা বের হতে চায় না। মাঝে মাঝে বিষণ্নতায় ভুগি। স্মৃতিশক্তি একদম কম, পড়তে মন চায় না। আর পড়তে গেলে মন অন্যদিকে চলে যায়। ফলে পড়া মনে থাকে না। বিকেলের দিকে মাথাব্যথা বেড়ে যায়। উপরোক্ত সমস্যার জন্য আমাকে কষ্ট পেতে হচ্ছে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অ্যাংজাইটি নিউরোসিস জাতীয় সমস্যাতে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি নানা ধরনের সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং দরকার। আপনি ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম ১টা করে সকাল দুপুর ও রাত ৩ বেলা সেবন করুন। ২০ দিন পর অর্ধেক করে সেবন করবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

মেহেদী
চাঁদপুর
আমার বয়স ২৪-২৫ বছর। আমি ছোটবেলা থেকেই অত্যধিক ভীতু প্রকৃতির। বুক ধড়ফড়, লোকালয়ে কিছু বলতে গেলে শরীর কাঁপা, আজেবাজে কল্পনা করা ইত্যাদি রোগের জন্য ১৯৯৮ সালে এক মনোরোগ ডাক্তারের নিকট গেলে তিনি আমাকে সোশ্যাল ফোবিয়া, প্যানিক ডিসঅর্ডার-এর চিকিৎসা করান। উনার ওষুধ খাওয়াকালীন সময়ে উপকারও পেয়েছি। কিন্তু ওই ডাক্তারের নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ ছেড়ে দেয়ার কয়েক মাস পর আবার উক্ত সমস্যাগুলো পূর্বের মতো হয়ে যায়। ওষুধ খেয়েছি প্রায় ২ বছর। মনোজগত পত্রিকা পড়ে আবার আপনার শরণাপন্ন হই। ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আপনার প্রেসক্রাইব অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেয়ে আসছি। উপকারও পেয়েছি। বর্তমানে আপনার দেয়া ওষুধগুলো হলো সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ২টা, লোনাজেপ ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে ১টা, এলিভেন ২ মিলিগ্রাম সকালে ও রাতে ১টা খেয়ে যাচ্ছি। ওষুধ ছেড়ে দিলে কিংবা কমিয়ে দিলে মাথাসহ শরীর অত্যধিক খারাপ লাগে, ঘুম একেবারে হয় না। বেশ কয়েক মাস আগে আব্বা মারা যাওয়ার পর আর্থিক সংকটে পড়ার পর বর্তমানে টেক্সটাইল মিলে সামান্য বেতনে চাকরি নিয়েছি। এখন আমার ওষুধ চালিয়ে নেয়া খুবই কষ্টকর। আবার আমি সম্পূর্ণ সুস্থও থাকতে চাই। এখন আমার প্রশ্ন হলো-ওষুধ কি বন্ধ করা যাবে না? এই ওষুধ যত দিন খাওয়া যায় তত দিনই কি কাজ করে? স্থায়ী সমাধান আছে কি?

বর্তমান সমস্যা হলো-বুক ধড়ফড় করা, মাথাসহ সারা শরীর কাঁপা, হঠাৎ শব্দ হলে কেঁপে ওঠা, বসদের সামনে যেতে উদ্বিগ্ন হওয়া, একটু পরিশ্রমে খুব বেশি হাঁপিয়ে যাই।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যাটি দীর্ঘমেয়াদি। এক্ষেত্রে আপনাকে ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। আপনার সমস্যার বেলাতে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। তবে ধীরে ধীরে ওষুধের মাত্রা কমানো যায়।

রতন
কক্সবাজার
আমার বয়স ২২ বছর। সমস্যা হলো-মেজাজ খিটখিটে থাকে প্রায় সময়, আমার সমস্যার কথা কাউকে বোঝাতে গেলে ঘাবড়ে যাই, আসল কথা বলা হয় না। সব সময় নার্ভাসনেস ও বেশি ভয় হয়, কিছু কিছু লক্ষণ দেখে ও কিছু কথাবার্তায় সঙ্গীরা পাগল বলে। গুছিয়ে কথা বলতে পারি না, সব সময় নিজেকে ছোট মনে হয়। প্রায় একা একা লাগে, সব কাজে ব্যর্থ মনে হয়। মাঝে মাঝে ঠিকানাবিহীন ঘুরে বেড়াই, অনেক সময় বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম। পরিচিত, অপরিচিত বিশেষ করে মেয়েদের সাথে কথা বলতে তোতলামি চলে আসে, বুক ধড়ফড় করে। অনেক সময়  দুশ্চিন্তা, এলোমেলো কল্পনা, টেনশন হয়। ঘুম প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা হয়। বর্তমানে স্মরণশক্তি কমে গেছে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অ্যাংজাইটি নিউরোসিস রোগে ভুগছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন করতে হয়। আপনি ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকাল/দুপুর/রাত ৩ বেলা খাবেন। ১ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

মনির হোসেন
ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট
আমার বয়স ২৮ বছর। আমার সমস্যা হলো বহুবিধ। ১৯৯৯ সালে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ছিলাম। তখন হঠাৎ করে কপালের দুই পাশে এবং মাথার পেছনে ও তালুতে ব্যথা ও মাথা গরম হয়ে যাওয়া দেখা দিল এবং মাথা সব সময় গরম থাকত। বেশি শব্দ বা হৈ হুল্লোড় ভালো লাগত না। তখন একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে গেলাম। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সাইনোসাইটিস ধরা পড়ল। তিনি ওষুধ দিলেন কিন্তু কোনো উপকার হলো না। যেহেতু চোখসহ ব্যথা করত তাই চক্ষু হাসপাতালে গেলাম। সেখানেও এক্সরে করার কথা বলল। এক্স-রে করলাম। এক্সরের রিপোর্টে সাইনোসাইটিস ধরা পড়ল। ডাক্তার সাহেব ওষুধ দিলেন। এক সপ্তাহ ওষুধ খাওয়ার পর অর্ধেক উপকার পেলাম। পরে দেখা গেল এলাট্রল ট্যাবলেট খেলে মাথাব্যথা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত মাথাব্যথা করলেই এলাট্রল ট্যাবলেট খাই। ধুলাবালি বা গাড়ি ঘোড়ার ধোঁয়া নাকে ঢুকলেই মাথাব্যথা করে। এছাড়া নাক, কান ও গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়েছি। তারা ওষুধ দেয়ার পর সাময়িক উপকার পেলেও সম্পূর্ণ নিরাময় হয়নি রোগটির। এখন এই সাইনোসাইটিস থেকে কীভাবে সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ করতে পারি পরামর্শ দিলে কৃতার্থ হব।

  আপনার মাঝে অ্যালার্জিক সাইনোসাইটিসের সমস্যা রয়েছে। এ রোগের পূর্ণাঙ্গ নিরাময় নেই। এ ক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট এলাট্রল চালিয়ে যাবেন। এ ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি খেতে পারেন। দীর্ঘদিন এ ওষুধ সেবন করলেও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.২৫ মিলিগ্রাম ১টা করে খাবেন।

মিল্টন খন্দকার
আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম
আমি একজন ছাত্র। আমি ছোটবেলা থেকে মানসিক চাপের মধ্যে থেকে বড় হই। আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তোতলামি। কথা বলার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত বেড়ে যায়। লোকের সাথে কথা বলার সময় খেই হারিয়ে তোতলাতে থাকি। কথা জড়িয়ে যায়। মঞ্চে, ক্লাসরুমে স্যারের সাথে কথা বলতে গেলে বুক ধড়ফড় করে। পা দুটি থরথর করে কাঁপে। কথা উল্টাপাল্টা করে ফেলি। মাইকের সামনে গেলে বা ভাইভা দিতে গেলে আর কোনো কথাই বের হয় না। সাহস, আত্মবিশ্বাসের অভাব, আমি শুধু ভয় পাই। সবকিছুতেই ভয় পাই, গাড়িতে চড়তে ভয়, কাপড় কিনতে ভয়, দর কষাকষি করতে ভয়, সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে ভয়, কথা বলতে ভয়, বাজার করতে ভয়। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ফ্রি হতে পারি না। মিশতে পারি না, আনন্দ করতে পারি না, পরিবেশন করতে পারি না। একা একা এক জায়গায় বসে থাকি চুপচাপ অথচ আমি আনন্দ ফুর্তি করতে পারি না। কেউ আমার অক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সেটি বারবার আমার মনে পড়ে এবং তা ভাবতে ভাবতে নিজেকে ঘৃণা করতে শুরু করি বা হতাশ হয়ে পড়ি। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি, আমি যখন কথা না বলি তখন হয়তো আমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবা শুরু করি। আমার হার্টবিট খুব দুর্বল, পরিশ্রম করতে পারি না, খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যাই, সাহস নেই। পরিচিত মানুষের নাম শিগগিরই ভুলে যাই। কোনো কিছু তাড়াতাড়ি করতে পারি না। খেতে গেলে, পড়তে গেলে, কাজ করতে গেলে প্রচুর সময় লাগে, সহজে কিছু আয়ত্তে আসে না। ঘাড়ের বাম পাশের অংশ, দুই পায়ের মধ্যে মাঝে মাঝে টেনে ধরে। শরীর খুব দুর্বল থাকে, হাঁটলে খুব কষ্ট হয়।

া আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি যে তোতলামির সমস্যার কথা বলছেন তা একটা সাইকিয়াট্রিক সমস্যা। এতে ওষুধ, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং-এর পাশাপাশি স্পিচ থেরাপি দরকার। স্পিচ থেরাপির কোনো বিকল্প নেই। আপনি ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম আর ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.২৫ মিলিগ্রাম সকাল/দুপুর/ রাতে ১টা করে ৩ বেলা সেবন করবেন। সাইকোথেরাপি আর স্পিচ থেরাপির জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

মো. নুরুল হক
পবা, রাজশাহী
আমার বয়স ১৮ বছর। ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা, আনন্দ করতে পারতাম তবে খুবই সোজাভাবে। ছোট হতেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হতাম কিন্তু কাউকে প্রভাবিত করতে পারতাম না। বর্তমানে সব সময় ভয় এবং লজ্জা কাজ করে। মনে হয় এ কথা বলব সে কী ভাববে। কেউ কোনো কাজের কথা বললে বা কিছু চাইলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও না বলতে পারি না, ভয় হয় যদি তার সাথে সম্পর্ক ছুটে যায় বা কোনো কাজে তার নিকট যেতে হয়। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, সিদ্ধান্ত যেটাই নেই তার ৯০% ভুল।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি সোশ্যাল ফোবিয়াতে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন। ওষুধ শুরু করলেও আপনার অবস্থার উন্নতি হওয়াটা কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। ওষুধ আপনাকে অনেক দিন খেতে হবে। ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপির দরকার। আপনি সাইকোথেরাপির জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।

আসাদুল হক
গাজীপুর
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার প্রথম সমস্যাটি হলো সবকিছুর ব্যাপারে আগ্রহ কম। আমি কোনো বন্ধুর সাথে মন খুলে কথা বলতে পারি না অর্থাৎ কথা বলতে আগ্রহ কম। আমার সব সময় মনে হয় আমাদের এই জীবনের উদ্দেশ্য কী এবং এর শেষ পরিণতি কী। সব সময় মৃত্যুচিন্তা করি অর্থাৎ আমার বেঁচে থাকার প্রতি আগ্রহ কম। এমনকি কথা বলা, খেলাধুলা, মেয়েঘটিত কোনো ব্যাপারে আমার মন সব সময় বিষণ্ন থাকে। আমার দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো আমি খুব মোটা। আমি দীর্ঘ ২-৩ মাস ধরে ডায়েটিং করছি কিন্তু আমি চিকন হচ্ছি না।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ভরাপেটে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খাবেন। আপনি মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।

মতিউর রহমান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার জ্ঞান বুদ্ধি একেবারেই কম, যার কারণে সব সময় মানুষের কাছে অপমানিত হচ্ছি। সব সময় দুঃখে কান্না আসে, মনে হয় আত্মহত্যা করে মরে যাই। মনে শুধু সংশয়, লজ্জা, ভীরুতা, এলোমেলো চিন্তা ঘুরপাক খায়। শত চেষ্টা করেও অনর্থক চিন্তা দূর করতে পারি না। পড়া ও নামাজের সময় মনোযোগী হতে পারি না। মাঝে মাঝে শরীর দুর্বল থাকে এবং কোনো সিদ্ধান্তই স্থায়ী হয় না। কোনো কাজ করার পর মনে হয় এটা ভুল করেছি এবং এই নিয়ে টেনশন ফিল করি। দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম হয় এবং ঘুমের মধ্যে আজেবাজে স্বপ্ন দেখি। ঘুম থেকে ওঠার সময় শরীর অত্যন্ত দুর্বল লাগে। অপরের কথায় সহজে প্রভাবিত হয়ে যাই কিন্তু নিজে কাউকে প্রভাবিত করতে পারি না। অধিকাংশ সময় দুশ্চিন্তায় মগ্ন থাকি। আমার মাথা খুব গরম থাকে, মাথার চুল উঠে যাচ্ছে, আমার শরীর মোটা কিন্তু সত্যিকার অর্থে সেই পরিমাণ শক্তি পাই না।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। পাশাপাশি আপনার মাঝে সোশ্যাল ফোবিয়ার সমস্যা রয়েছে। আপনি ট্যাবলেট অক্সাট ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

তাপস
নীলফামারী
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা হলো-কথা বলার সমস্যা যেটি অনেকটা তোতলামির মতো। কথা বলতে গিয়ে ভয়ে বা টেনশনে কথা বলতে পারি না। তখন তোতলামি আরও বেড়ে যায়। কথা আটকে যায়। সে জন্য শিক্ষকের সামনে রেসপন্স করতে পারি না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অপরিচিত কারও সাথে কথা বলার আগেই ভয় পাই, বুক ধড়ফড় করে, মনে হয় কথা বলতে পারব না। এ জন্য সব সময় মানসিক টেনশন হয়। কথা বলতে না পারলে জীবনে কিছু করতে পারব না ইত্যাদি। এ সমস্যাটি আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই আমার মাঝে লজ্জা ও সংকোচ বিদ্যমান। আরেকটি সমস্যা হলো যে কোনো কাজে নার্ভাস ফিল করা যেমন পরীক্ষা, খেলাধুলা।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি তোতলামি সমস্যার জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার সমস্যার জন্য ওষুধের পাশাপাশি স্পিচ থেরাপি আর সাইকোথেরাপি দরকার। ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম আর ট্যাবলেট ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, রাত ১টা করে খাবেন। সাইকোথেরাপি আর স্পিচ থেরাপির জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।

জসিম উদ্দীন
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
আমার বয়স ১৯ বছর। আমার সমস্যা হলো যে কোনো কাজে নার্ভাস ফিল করা। যেমন পরীক্ষা, খেলাধুলা, ভাইভা পরীক্ষা, অপরিচিত কোনো লোকের সাথে কথা বলা ইত্যাদি। এ সকল কাজে আমি সীমার বাইরে নার্ভাস ফিল করি। কোনো মেয়ের সাথে সহজভাবে কথা বলতে পারি না, ভয় লাগে, প্রচুর নার্ভাস ফিল করি। মাঝেমধ্যে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে আসে। কলেজে থাকতে স্যারেরা আমাকে যখন পড়া ধরতেন ভয়ের কারণে পড়া পারলেও আমি তা বলতে পারতাম না। এমনকি ভয়ের কারণে পড়া ভুলে যেতাম।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অ্যাংজাইটি নিউরোসিস জাতীয় সমস্যায় ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপি করাতে হবে। ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করালে ভালো লাগলেও আপনার রোগের চিকিৎসাতে সাইকোথেরাপির কোনো বিকল্প নেই। আপনি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ২০ দিন পর সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করবেন। সাইকোথেরাপির জন্য আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।

জাহিদ হাসান
সিলেট
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার সমস্যা হলো মনঃসংযোগের অভাব, দুশ্চিন্তা, মাথাব্যথা, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। সব সময় মনের ভেতর প্রচণ্ড অপরাধপ্রবণতা কাজ করে এবং এটা থেকে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করে। আমি প্রথমে কোনো একটি কাজ খুব আগ্রহসহকারে শুরু করলে কিছুক্ষণ পর তাতে আর মনসংযোগ ঠিক রাখতে পারি না। এ রকম হয় সাধারণত নামাজে, স্যারের লেকচারে। একটানা যদি এক ঘণ্টা লেখাপড়া করি তখন খুব অস্বস্তিবোধ করি, মাথাব্যথা করে। সকাল বেলা বাইরে রৌদ্রে বেরুলে মাথাব্যথা শুরু হয় যা সারা দিন থাকে। সম্ভবত চোখে কোনো সমস্যা নেই কারণ একজন চোখের ডাক্তার দেখিয়েছিলাম তিনি শুধু সিনারন খেতে দিয়েছেন। আমি যেকোনো বিষয় নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা করি আর এই দুশ্চিন্তা থেকে মাথাব্যথা শুরু হয়।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি আপনার চিঠিতে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা থেকে আপনার সমস্যা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে আসাটা কষ্টকর। সবচেয়ে ভালো হয় আপনি মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারলে।

কাজল
বটিয়াঘাটা, খুলনা
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার সমস্যাগুলো নিম্নরূপ-আমার সমস্যা প্রায় এক-দেড় বছর। আমার ভেতর লজ্জা, সংকোচ ছোটবেলা থেকেই বিরাজমান। কিন্তু প্রায় এক-দেড় বছর থেকে যে কোনো কাজে নার্ভাস ফিল করি। যেমন-সাক্ষাৎকার, মোবাইল টেলিফোনে কথা বলার সময় হার্টবিট বেড়ে যায়, বুক ধড়ফড় করে। তাছাড়া কোনো লোকের বা কোনো মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে মাথা উঁচিয়ে ইজিভাবে কথা বলতে পারি না। ভয় লাগে, নার্ভাস ফিল করি, কোনো কাজে বা কারও লেকচার শোনার সময় মনোযোগী থাকতে পারি না। আমি কোনো কিছু মনে রাখতে পারি না, স্মরণশক্তি খুবই কম, কোনো কিছু পড়তে বসলে বা ঘুমাতে গেলে নানা অস্বাভাবিক চিন্তা এসে মাথায় ঢোকে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি সোশ্যাল ফোবিয়া সমস্যাতে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৪০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করবেন। ওষুধ সেবন শুরু করলেও ২০-২৫ দিন যাবার পর আপনি কিছুটা উন্নতিবোধ করতে পারেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

মো. আবদুল আওয়াল
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৬ বছর। আমি প্রায় ৪-৫ বছর যাবৎ মানসিক রোগে ভুগছি। পারিবারিক ও অর্থকষ্ট থেকে বর্তমানে প্রচণ্ড মানসিক চাপে আছি। সারাক্ষণ মন খারাপ থাকে ও আজেবাজে চিন্তা যা একবার ঢুকলে আর বের হয় না, কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারি না। কাজ করি একটা ভাবি আর একটা, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। মাথার তালু সব সময় গরম থাকে মাঝে মাঝে মাথা গরম হয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়ি, স্মৃতিশক্তি একেবারে কমে গেছে। এখন একটা জিনিস কোথায় রাখলাম তা সঙ্গে সঙ্গে ভুলে যাই, ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু ঘটলে মেনে নিতে পারি না, কোনো লোককে ম্যানেজ করতে পারি না, কথা বলার সময় বুক ধড়ফড় করে, উপরস্থ কর্মকর্তাদের প্রচণ্ড ভয় লাগে, বুকে সাহস একদম নেই। ধূমপানের অভ্যাস আছে, খাওয়ার রুচি নেই, বমি বমি ভাব হয়, চোখে ঝাপসা দেখি, দাঁত একের পর এক খেয়ে যাচ্ছে পোকায়, দাঁতে ব্যথা, হজমশক্তি কম, কিছু খাওয়ার পরপর পায়খানা হয়, পায়খানা প্রায় নরম থাকে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেশন সমস্যাতে ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষাতে এর নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। দীর্ঘদিন এ রোগে ভোগার কারণে আপনার মাঝে বিষণ্নতার সমস্যা চলে এসেছে। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট অক্সাপ্রো ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খান। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক খাবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ২ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। ওষুধ শুরু করলেও আপনার অবস্থার উন্নতি হতে সময় লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে।

এনামুল হক
লক্ষ্মীপুর
আমার পিতার বয়স ৫০ বছর। পুলিশ ছিলেন। তিন বছর পূর্বে চাকরি থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে রিটায়ার্ড করেন। আমার পিতার কার্যকলাপের কারণে আমাদের সংসারে দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। আমার পিতা অশান্তিবোধ করে এক বছর পূর্বে বাম চোখ অপারেশন করেন। আমার পিতা আমার মাকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ সন্দেহ করেন। বাস্তবে ভিত্তিহীন। আমার মা ভাই কিংবা আমার ভগ্নিপতি অথবা অপর লোকজনের সাথে কথা বললে এবং সামনসামনি থাকলেও তার মনে অশ্লীল সন্দেহমূলক ধারণা জাগে। মনে করে খারাপ কাজে লিপ্ত। এই সন্দেহ হওয়ার জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

মাথার তালু সারা শরীরে জ্বালা পোড়া করে, মাথা ধরা, আত্মবিশ্বাস কম। রাতে ঘুম কম, মাঝে মাঝে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ঘুমের ঘোরে কিসে চেপে ধরে এবং মনে করে তাকে তাবিজ করেছে। পেটে যন্ত্রণা ও দুশ্চিন্তা রয়েছে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার পিতার সমস্যাটি মানসিক। এটি সাইকোসিস জাতীয় রোগ।  এ ক্ষেত্রে রোগীকে ওষুধ খাওয়াতে হবে। সকালে ট্যাবলেট চিয়ার ২৫ মিলিগ্রাম সকালের নাশতার পর একটা আর ট্যাবলেট লোপেজ ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে অর্ধেকটা খাওয়াবেন। সমস্যা হলে দুটো ওষুধ একসাথে হরলিক্সের সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন।

জয়ন্ত ধর
মুরাদনগর
আমার বয়স ২০ বছর। আমি তিন বছর ধরে মানসিক সমসায় ভুগছি। মানসিক রোগের লক্ষণসমূহ হলো-নানা ধরনের চিন্তা মাথায় চলে আসে একের পর এক। পড়ালেখার সময় পড়ালেখা ঠিকই করছি কিন্তু মনে অন্য কথা ভাবছি। এ জন্য একই প্রশ্ন অনেকক্ষণ পড়ার পরও মুখস্থ হয় না, তারপরও খুব কষ্ট করলে একই প্রশ্ন মুখস্থ করলে কিন্তু দুদিন পর আর মনে থাকে না। আবার নতুন করে মুখস্থ করতে হয়। পড়ালেখার প্রতি আত্মবিশ্বাস কমে গেছে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেশন সমস্যাতে ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষাতে এর নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ও রাতে ১টা করে খাবেন। ওষুধ অনেক দিন খেতে হবে। আমাদের সাথে দেড় মাস পর যোগাযোগ করবেন।

সালাউদ্দীন কাদের
চাঁদপুর
আমার বয়স ১৭ বছর। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ছি। কোনো সূক্ষ্ম ও তীক্ষ্ণ বিষয়ও আমার মনঃপীড়ার উদ্রেক করে। বিশেষ করে আমি যখন খালি পেটে থাকি (যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠলে কিংবা অন্যান্য যে কোনো সময়) আমার পেট ও বুকের মিলনস্থলের ঠিক মধ্যখানে একটা সুতীব্র ব্যথা অনুভব হয় (তখন আমার পেটেও ক্ষিধে লাগে না, এমনিতে খাওয়ার রুচিও হয় না) আমি স্পষ্ট জানি এ ব্যথাটা আমার মনেই লাগে, শারীরিক ব্যথা নয়। এ সময় সকলের কেমন যেন একটা আদর ও ভালোবাসা পেতে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠি। কারো সামান্য আচরণও আমাকে প্রচণ্ড চটিয়ে দেয়। কারো খিলখিলানো হাসিও রক্ত গরম করে তোলে। বিশেষ সমস্যা হলো এ সময় আমার পড়ায় মনই বসে না। প্রতিদিন একটা বড় সময় এমন বিষণ্নভাবে কাটিয়ে দিই। এ সময়টা আমাকে খুব কষ্ট দেয়।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অ্যাংজাইটি সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি পেপটিক আলসারের সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে ক্যাপসুল লোসেকটিল ২০ মিলিগ্রাম সকাল ও রাতে দুটো করে খাবেন। ট্যাবলেট জাইনিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ট্যাবলেট ডোমিনিল ১০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন।

মো. জামিল
ঢাকা
আমার বয়স ২৭ বছর। ১৯৯৪ সালে আমার পিতা মারা যায়, তারপর থেকেই বিভিন্ন রকম চিন্তাভাবনায় আমার নানা রকম মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। আমি কারও সাথে ভালোভাবে কথা বলতে পারি না। কথা আটকে যায়। কোনো পরিচিত লোক সামনে এলে ভয় করে, বন্ধু-বান্ধবের সাথে চলতে পারি না। কেননা বন্ধুরা সামনে এলে কী বলব তা বুঝতে পারি না। তাদের সাথে দেখা হলে একবার চেয়ে মুচকি হেসে থাকি। অনেক সময় কথা বলতে বলতে যা বলব তা না বলে অন্য কথা বলে ফেলি, কেউ যদি কোনো কথা কাউকে বলতে বলে তা হলে বলতে গেলে তখন মনে থাকে না। কিছু সময় পরে মনে হয় কারও দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারি না। সব সময় ভয় লাগে, যদি কখনো ঝগড়া লাগে তখন ভয়ে শরীর কাঁপতে থাকে। শরীর সব সময় দুর্বল লাগে, সামান্যতম গরমে অতিরিক্তভাবে শরীর ঘামে, আমাকে বোকার মতো দেখায়, দিনে দিনে আমার বুদ্ধি কমে যাচ্ছে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেশন সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ রোগের নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রত্যেক দিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট লেক্সোটানিল প্রত্যেক দিন সকালে ১টা করে খাবেন। ওষুধ খাওয়া শুরু করলেও আপনার অবস্থার উন্নতি হওয়াটা বিলম্বিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। আপনি আমাদের সাথে ১ মাস পরে যোগাযোগ করবেন।

মো. মনিরুজ্জামান
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২২ বছর। আমি একজন ছাত্র। আমার সমস্যা হলো লিখতে গেলে হাত কাঁপে, তবে সব সময় নয় বিশেষ করে পরীক্ষার সময় সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। যেমন আমি পরীক্ষা দিচ্ছি হঠাৎ স্যার বললেন যে সময় আর ১০ মিনিট আছে এই মুহূর্তে হাত কাঁপার জন্য লিখতে পারি না। অথবা পরীক্ষার শুরুতেই যদি ভাবি দ্রুত লিখতে হবে তাহলে প্রথম থেকেই হাত কাঁপা শুরু হয়। এছাড়া যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে গেলে হাত বেশি কাঁপে। অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়ি ফলে যে কাজ যত বেশি গুরুত্বপূর্ণভাবে নিই সে কাজ ভুল হবার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। হাতে তেমন শক্তি পাই না, কোনো ভারি কাজ কিংবা হাতের ব্যায়াম করার পর হাত বেশি পরিমাণে কাঁপে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা মূলত অ্যাংজাইটি নিউরোসিস, পাশাপাশি আপনার মাঝে এসেনসিয়াল টেম্পরের সমস্যা রয়েছে। আপনার ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি কাউন্সিলিং দরকার। আপনি ট্যাবলেট অ্যালজোলাম/ জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম সকাল/দুপুর/রাত ৩ বেলা সেবন করবেন। পাশাপাশি ট্যাবলেট ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম সকালে/দুপুরে/রাতে ৩ বেলা সেবন করবেন। ওষুধের পাশাপাশি দরকার সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং। সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং-এর জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
ময়মনসিংহ
আমার এক ভাই তার বয়স ২০ বছর। অবিবাহিত। আগে সে হেরোইন গ্রহণ করত। আজ প্রায় ৬ মাস যাবৎ সে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না এবং আমরা জানি সে বর্তমানে একটা সিগারেটও সেবন করে না। বর্তমানে সে একেবারে নিশ্চুপ। কোনো কথা বলে না, কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দেয় কিন্তু নিজ থেকে কোনো কথা বলে না। ঝিম ধরে বসে থাকে। অন্য কোনো সমস্যা নেই। এখন কী চিকিৎসা করলে আমার ভাই আবার আগের মতো প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে দয়া করে জানাবেন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার ভাই সম্ভবত সিজোফ্রেনিয়ার মতো সাইকোসিস জাতীয় মনোরোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে কেবল আচরণ দেখে এটি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে রোগীকে সামনাসামনি দেখতে হবে। আপনি আপনার ভাইকে নিয়ে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।

মান্নান
গাইবান্ধা
আমার বয়স ১৭ বছর। আমি বেশ কয়েক বছর থেকে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছি। আমার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে যেমন-সামান্য কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে ধরলে তা অনেক বিরাট আকার ধারণ করে। আমার খুঁতখুঁতে স্বভাব রয়েছে। তাই কোনো কাজ করলে বা কোনো স্থান হতে ঘুরে এলে বারবার পানি দিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ফেলি। পানি অপচয় হওয়াতে পরক্ষণেই মনে হয় ‘অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’। তাহলে আমিও কি শয়তানের ভাই? এ নিয়েও দুশ্চিন্তা হয়। আমার মধ্যে আল্লাহ বিদ্রোহী অনেক কথা মনে আসে। আল্লাহকে নিয়ে অনেক খারাপ খারাপ চিন্তা মনে আসে। নামাজ পড়তে ধরলে নামাজের মধ্যেও অনেক বাজে বাজে চিন্তা আসে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। তবে আপনার বেলাতে রোগটা বেশ প্রকটমাত্রায় আছে। আপনি ট্যাবলেট অক্সাট ২০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খাবেন। ওষুধ শুরু করলেও আপনার উন্নতি হবে দেড় মাস পর। ওষুধ অনেক দিন খাবেন। ২ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

আলী আহাম্মদ
মুন্সীগঞ্জ
আমার প্রথম সমস্যা কোনো কাজে আমি বেশিদিন টিকে থাকতে চাই না। একটি কাজে নিয়োজিত থাকলে কিছু দিন করার পর আর সেই কাজটি ভালো লাগে না। আর দ্বিতীয় সমস্যা হলো কারো কাছ থেকে কারো নামে কথা শুনলে ভালো হোক আর মন্দ হোক বিশ্বাস করে ফেলি। আসলে আমি কোনো রোগে ভুগছি না এটা আমার বৈশিষ্ট্য?

  আপনি আমাদের মনোজগত পত্রিকায় পার্সোনাল ডেভেলপমেন্টের ওপর যেসব প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় সেগুলো নিয়মিত পড়ূন। মনের গণ্ডিকে প্রশস্ত করুন। পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য কোনো বিষয় আয়ত্ত করুন, তা হতে পারে টেকনিক্যাল কাজ বা কম্পিউটার। লোকজনের সাথে অনেক বেশি মিশুন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে অবশ্যই অংশগ্রহণ করবেন।

আক্কাস
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৩-২৪ বছর। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। গত তিন বছর আগে একটা মেয়ের সাথে প্রেম করতাম। এক বছর ধরে তার সাথে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। তারপর থেকে সব সময় আমার মানসিক টেনশন। সব সময় তার কথা মনে পড়ে। তার কথা মন থেকে ভুলে যাওয়ার জন্য অন্য এক মেয়ের প্রেমে পড়ি এবং তাকে বিয়ে করার প্রতিজ্ঞাও করি। কিন্তু তার মা, বড় ভাই, বড় বোন কেউ আমার সাথে বিয়ে দিতে রাজি নয়। তবু সব সময় তার চিন্তা আমার মনে। তাকে না পেলে আমি আত্মহত্যা করব। রাতে ঘুমাতে গেলে তার চিন্তায় ঘুম হয় না। যেখানে যাই সেখানে ভালো লাগে না। কিছুটা ভালো লাগে রিলাক্সেন খেলে। আমি কোনো অবস্থাতেই দ্বিতীয় প্রেমিকাকে ভুলতে পারব না। তাকে ভুলে যাওয়ার জন্য কেউ বললে তাকে মেরে ফেলতে এবং নিজে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হয়।

  আপনি বিষণ্নতা রোগে ভুগছেন। বিলম্ব না করে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান। তবে আপাতত ট্যাবলেট প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ওষুধের পাশাপাশি আপনার দরকার সাইকোথেরাপি।

মো. রাসা
চট্টগ্রাম
আমি আমার বয়সে কোনো কাজ সফলভাবে করতে পারি না। আমি কোনো কাজ করতে গেলে বাধা পাই, ভালোভাবে করতে পারি না, কাজে প্রচণ্ড ভুল হয়। আমার স্নায়ু খুবই দুর্বল, কোনো ক্রিয়া নেই, তাই সবাই আমাকে বোকা বলে। আমাকে সুষ্ঠুভাবে সমাধান দেবেন। আপনাদের পরামর্শ আমার জীবন উজ্জ্বল করবে।

  আপনার মনোযোগে কিছুটা অভাব রয়েছে। মনোযোগ বাড়াতে গেলে যে কাজটি করবেন সে কাজটি সম্পর্কে আগ্রহ থাকা দরকার। আগ্রহ না থাকলে কৃত্রিমভাবে হলেও আগ্রহ তৈরি করে নিতে হবে। আপনার বুদ্ধিমত্তার কোনো কমতি নেই। দরকার মনোযোগ বাড়ানোর প্র্যাকটিস করা। আপাতত ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা নাশতার পরে খেতে থাকুন।

মো. হোসেন
চট্টগ্রাম
আমি সবার কাছে অবহেলার পাত্র, যে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারি না। সামনে বিরাট বাধা। মন খুব দুর্বল। মানসিক জ্ঞান ক্ষমতা বলে আমার কাছে কিছুই নেই। সবাই আমার কাজ নিয়ে হাসে। আমি সবার চোখে বোকা। কোনো কোনো লেখা সহজে লিখতে পারি না, এই সমস্যা প্রায় ১ বছর যাবৎ বেশি দেখা দিয়েছে। স্নায়ুর ভেতর থেকে যে কোনো কাজের একটু সুস্থ জ্ঞান আসে না। তাই আমার সমস্যার সমাধানটা পরবর্তী সংখ্যায় দিলে আমার ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর হতো।

  আপনার মানসিক দুর্বলতার জন্য আপনার ব্যক্তিত্ব দায়ী। আপনার নড়বড়ে ব্যক্তিত্ব সুস্থ সবল রাখার জন্য ব্যক্তিত্ব উন্নয়নের জন্য কোর্স যাকে আমরা বিহেভিয়ার থেরাপি বলে থাকি তা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আপাতত ট্যাবলেট মোডিপ্রান ২০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা নাশতার পরে সেবন করুন। এক মাস পরে দেখা করুন।

সাথী
ঢাকা
আমরা সদ্য বিবাহিত। আমার স্বামী কনডম ব্যবহার করতে অনিচ্ছুক। আমার পিল খেলে জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। আমরা সেভ পিরিয়ডে সেক্স করতে ইচ্ছুক। কিন্তু সেভ পিরিয়ড কোন সময়টুকু সেটি সামাজিকভাবে যা জেনেছি তা পরস্পরবিরোধী ও সংঘার্ষিক। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী সেভ পিরিয়ড কখন তা জানার জন্য আপনার দ্বারস' হলাম।

  বোন সাথী, সদ্য বিবাহিতদের পারতপক্ষে প্রথম দুই বছর কোনোরূপ জন্মনিয়ন্ত্রণের দরকার হয় না বলে বিভিন্ন গবেষণায় জেনেছি। তবুও সাবধানতার মার নেই। সেভ পিরিয়ড জানতে আপনার মাসিক শুরু হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী মাসিক শুরু হওয়ার দিন পর্যন্ত এক মাস ধরে তিন ভাগে ভাগ করুন। তাহলে প্রতি ভাগ ১০ দিনে দাঁড়াচ্ছে। প্রথম ১০ দিন মাসিক শুরু হওয়া থেকে ধরতে হবে। মাসিক যদি ৫ দিন স্থায়ী হয় তাহলে ওই ৫ দিন এবং আরো ৫ দিন মোট ১০ দিন সেভ পিরিয়ড। আবার ১১ দিন থেকে ২০ দিন পর্যন্ত ডেনজার পিরিয়ড। আবার ২১ দিন থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সেভ পিরিয়ড। এক্ষেত্রে মহিলার মাসিক নিয়মিত হতে হবে এবং পিরিয়ডের মোট সময়কে ৩ দিয়ে ভাগ করতে হবে। আপনারা ১১ দিন থেকে ২০ দিনের সময়টিতে কনডম ব্যবহার করতে পারেন।