Skip to main content

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তির কৌশল

বেলাল হোসাইন
ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি অনেককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যখন আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গেই আনন্দিত থাকতে পারেন, তখন কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে সময় নষ্ট করছেন? এই আর্টিকেলটি আপনাকে ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করবে।

১.    যখনই আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন : একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করুন, কখনোই আজ ২ ঘণ্টা কাল ৩ ঘণ্টা আর পরশু ১ ঘণ্টা করলে চলবে না। অন্যভাবে বলতে গেলে, এমনটি বলবেন না যে, আজকে আমি কেবল ১ ঘণ্টা ইন্টারনেটে কাটাব। তারপর একটানা ৪-৫ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে মনে মনে বলবেন, আমি আজকে মোটামুটি ভালো করেছি। প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য ১ ঘণ্টা যথেষ্ট, খুব প্রয়োজনে ২ ঘণ্টা ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, এই বিষয়ে সতর্ক না হলে আবারও ইন্টারনেট আসক্তির দাসে পরিণত হতে পারেন।

২.    যদি ঘড়ি আপনাকে সময়ের মাঝে বেঁধে রাখতে না পারে : তবে একটি Parental control সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে পারেন, কিছু সফটওয়্যার সময় বেঁধে দেয়া (time lock) সমর্থন করে। আপনার বাসার অন্য কাউকে পাসওয়ার্ডটি সেট করতে বলুন যাতে করে শুধু জরুরি ক্ষেত্রেই আপনি এটিকে আনলক করতে পারেন, যখন ইচ্ছা তখন নয়।

৩.    অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলুন : কতগুলো এমন ওয়েবসাইট আছে যাতে আপনার অ্যাকাউন্ট রাখার কোনো দরকারই নেই? ফেসবুক, মাইস্পেস, টুইটার, ইউটিউব কখনো কখনো  ফেসবুক বা টুইটার অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হতে পারে এমন বন্ধু বা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে যারা আমাদের কাছে নেই। তবে ইউটিউব, মাইস্পেস, গুগল প্লাস ইত্যাদি অ্যাকাউন্ট কেবল সময়ের অপচয়ই নয় বরং আসক্তিকরও বটে। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে অনেক আলাপ হয়ে থাকে অপরিচিত লোকজনের সঙ্গে। তারপরও যদি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে না চান তবে পেজগুলো ব্লক করে দিন।

৪.    আপনার পেজগুলোও মুছে ফেলুন : শুধু সেই পেজগুলোই রাখুন যা আপনার কাজের জন্য দরকার ( যেমন-homework, office work ইত্যাদি)। যদি ইউটিউব বা অন্যান্য অ্যাকাউন্ট এগুলোর জন্য নিতান্তই প্রয়োজনীয় না হয় তবে মুছে ফেলতে দ্বিধাবোধ করবেন না।

৫.    অনলাইন কাজ ছাড়া অনেকগুলো অফলাইন কাজ রাখতে ভুলবেন না : আপনি যাতে আনন্দ পান এমন অনেক কাজ করুন। যদি আপনার কোনো শখ না থাকে তাহলে আজই খুঁজতে শুরু করুন। এছাড়া অন্যকে সাহায্য করা বা সমস্যার সমাধান দেয়া একটা অন্যতম উপায়। এটা আপনার মানসিক ও শারীরিক উভয় দিকের খেয়াল রাখে।

৬.    অনলাইন বা অফলাইনে থাকা সম্পর্কে সচেতন থাকুন : আপনি কি বুঝতে পারেন না যে কখন আপনি অতিরিক্ত অনলাইনে সময় কাটাচ্ছেন? যদি তাই হয়, আপনার সমস্যা আছে!

৭.    আপনি জানেন যে ইন্টারনেট আসক্তি আপনার বাস্তবিক জীবনে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে : আপনাকে আপনার জীবনযাপন করতে হবে পুরোপুরিভাবে, কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে থেকে নয়। বিশ্বাস করতে পারেন যে প্রতিদিন ১,০০০,০০০,০০০ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তথ্যটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। আর গবেষক এবং ডাক্তাররা দেখিয়েছেন, কীভাবে প্রতিদিন মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

৮.    তাই ইন্টারনেটকে আপনার জীবনে হস্তক্ষেপ করতে দেয়া বন্ধ করুন : এমন নয় যে আপনি পুরোপুরিভাবে একে ত্যাগ করবেন বা আর কোনো দিন ব্যবহার করবেন না, আপনাকে শুধু দেখতে হবে সঠিক সময়টি। জীবনের পূর্ণতাকে অনুভব করুন। বাইরে যান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, আশপাশে ঘুরতে যান এবং প্রকৃতির  সৌন্দর্যকে উপভোগ করুন। যা আপনার দৈহিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়ে সাহায্য করবে।

৯.    আপনি এখন তৈরি! আপনার নিত্যদিনের কাজ করুন সতেজতার সঙ্গে। তবে অবশ্যই ইলেকট্রনিক ডিভাইস তথা ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকবেন।

ভাইরাসের উপস্থিতি বোঝার উপায়
নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী মাত্রই কম্পিউটার ভাইরাসের ব্যাপারে অভিজ্ঞ হন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তারা বুঝতে পারেন না কম্পিউটার তার অজান্তে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কি না। সে  ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো একটু লক্ষ করলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে কম্পিউটারে ভাইরাস আছে কি না :

  •  কম্পিউটারের গতি ধীর হয়ে যাবে।
  • সফটওয়্যার, গেমস এমনকি অডিও-ভিডিও ফাইল চালু হতেও সময় নেবে বেশি।
  • ডিস্কে ব্যাড সেক্টর বারবার দেখাবে।
  • ওয়ার্ড, নোটপ্যাড ফাইলের ফন্ট নষ্ট হয়ে  যেতে পারে।
  • র‌্যাম, এজিপি কম দেখাতে পারে।
  • ডিস্কের ভলিউম লেবেল পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
  • কোনো কিছু সেভ হতে বা লোড হতে বেশি সময় নেবে।
  • সিডি, ডিভিডি কপি হতে বেশি সময় নেবে।
  • হার্ডডিস্কে জায়গা কমে যেতে পারে।
  • অজানা এক্সটেনশনযুক্ত ফাইল দেখা যাবে।
  • স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন প্রোগ্রাম রান করবে বা বন্ধ হবে।
  • ফোল্ডার অপশন মুছে যাবে।
  • ওয়ার্ডে বা নোটপ্যাডে কিছু লিখলে তা অনেক ক্ষেত্রেই সেভ করা যাবে না।
  • কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে।
  • যে গেম আগে ঠিকভাবে চলত সেগুলো কোনো কারণ ছাড়াই চলার সময় বারবার আটকে যাবে।
  • পিসি হ্যাং করতে পারে।
  • টাস্ক ম্যানেজার কাজ করবে না।
  • অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফোল্ডারের আইকন পরিবর্তন করা যায় না।

ইন্টারনেটে সেরা ১০ সমস্যা
রাজিব
ইন্টারনেট আমাদের জীবনব্যবস্থায় এনে দিয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। একটি পিসি ও ভালো গতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে শুধু বিনোদন নয়, ঘরে বসেই করা যাচ্ছে সম্মানজনক রুজি-রোজগারও। সঙ্গে একটি ক্রেডিট কার্ড থাকলে তো কেনাকাটাটাও ঘরে বসেই করে ফেলা যায়। এই যে এত সুযোগ-সুবিধা, দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় এনে দেয়া, তারপরও কি অনলাইন দুনিয়ার সবকিছুই ভালো? মোটেও তা নয়। সত্যি বলতে কি, সুবিধার পাশাপাশি আমাদের জীবনে বিড়ম্বনাও কম বয়ে আনেনি ইন্টারনেট। দুনিয়াজুড়ে লাখ লাখ অনলাইন ব্যবহারকারীর মতামতের ওপর ভিত্তি করে ‘লাইভবার্স’-এর সাজানো অনলাইনের সেরা দশ সমস্যার কথা রয়েছে এই প্রতিবেদনে। আমাদের দেশে এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারকারী খুবই কম, তবে তা দ্রুত বেড়ে চলছে। মূলত এই প্রতিবেদনটি সেসব নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বা যারা অচিরেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে যাচ্ছেন, তাদের সতর্ক রাখার প্রয়াস।

হ্যাকিং ও ডাটা সিকিউরিটি
আপনার ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও হ্যাকিং সম্পর্কে নিশ্চয় শুনেছেন। ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে যে কোনো হ্যাকার আপনার পিসি অরক্ষিত অবস্থায় থাকলে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডাটা এমনকি ব্যাংকিং তথ্যও হ্যাক করতে পারে। হ্যাক হয়ে যেতে পারে আপনার সাধের ইমেইল আইডি বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। তবে আপনি নিজে সতর্ক থাকলে হ্যাকারদের এড়াতে পারেন বলেই সম্ভবত এই সমস্যাটিকে ব্যবহারকারীরা রেখেছে দশ নম্বরে।

প্রাইভেসি
মূলত সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে প্রাইভেসি রক্ষা করা খুবই কঠিন। আপনি হয়তো বন্ধুদের শেয়ার করার জন্য কোনো ছবি বা আপনার কিছু ব্যক্তিগত তথ্য আপলোড করলেন, কিন্তু তা খুব দ্রুতই আপনার অজান্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে লাখ লাখ ইউজারের কাছে। যদিও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এ থেকে আপনি রেহাই পেতে পারেন, তবে সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট যেমন ব্লগ, ফেসবুক, ফোরাম, এসবে আপনার ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল নাম্বার শেয়ার না করাই উত্তম।

ভাইরাস
না, তালিকার প্রথম সারিতে ভাইরাস বা ওয়ার্ম  নেই। যদিও ভাইরাসের প্রজননস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে ইন্টারনেট। তবে বিশ্বস্ত সাইটগুলো ভিজিট করলে অনাকাঙ্ক্ষিত মেইল ওপেন না করলে ভালো অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করলে এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

যৌন হয়রানি
এ ব্যাপারটিও ঘটে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ও চ্যাট রুমগুলোতে। খুব ভদ্রভাবে আপনার সঙ্গে মিশবে, তারপর আপনার কিছু ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি হাতাবে, তারপর ওগুলো প্রচার করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করা হবে। আমাদের দেশীয় অসংখ্য সাইট আছে যেগুলোতে প্রতিনিয়ত এ ধরনের প্রতারণা এবং ভুক্তভোগীদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী তা প্রথম প্রথম জানতেও পারছেন না।

অনলাইনে আসক্তি
ব্যাপারটা আর শুধু টিনএজদের মধ্যেই থেমে থাকেনি। বয়স্কদের মধ্যেও এ সমস্যাটি ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যস্ত অফিসের বড়কর্তা বা ব্যবসায়ীরাও চ্যাটিং, ব্লগিং বা অনলাইনে গেমস খেলে নষ্ট করছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়। নতুন ইউজারদের যতটা সম্ভব সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ মূলত এই সাইটগুলোই অনলাইনে আসক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

প্রতারণা
দিন দিন অনলাইন প্রতারকদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বনে প্রতারকরা জালিয়াতি করে যাচ্ছে। আপনি হয়তো অফিসের কোনো কাজে বা নিতান্ত শখের বশে একটি ইমেইল আইডি খুললেন। কিছুদিন পর দেখলেন আপনার কাছে মেইল এলো একটি অনলাইন ভিত্তিক লটারি সংস্থার। তারা জানাল, আপনি তাদের অনলাইন সিলেকশনে ১ লাখ ডলারের লটারি জিতেছেন, এখন এগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ১০০০ ডলার তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে। অথবা সুদূর সিয়েরা লিওন থেকে কোনো তরুণী মেইল করল, তার বাবা ওই দেশের একজন মস্ত বড়লোক ছিল তাকে খুন করা হয়েছে। তার কোনো আত্মীয় ওই দেশে নেই। আপনাকে তার খুব ভালো লেগেছে তাই সে তার লাখ লাখ ডলার ব্যাংক  থেকে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে চাচ্ছে এবং সে আপনার কাছে চলে আসতে চাচ্ছে। এ জন্য তার হাজার দুয়েক ডলার প্রয়োজন। আপনি যদি এদের বিশ্বাস করেন তবেই ফেঁসেছেন।

এমনভাবে তারা মেইল চালাচালি করবে যে পুরো ব্যাপারটিই আপনার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে। এমনি নানা উপায়ে অনলাইনে প্রতারকরা প্রতারণার জন্য ওত পেতে বসে আছে। তাদের কাছ থেকে বাঁচতে আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনি এমন কোনো ভাগ্যবান না যে লটারি বা অন্য কোনো উপায়ে রাতারাতি লাখ লাখ ডলার পেয়ে যাবেন। তাই এ জাতীয় মেইল এলে কোনো দ্বিধা ছাড়াই এড়িয়ে যাবেন।

ভুল তথ্য/প্রোপাগাণ্ডা
অনলাইনের সবচেয়ে বিরক্তিকর একটি দিক এটি। আপনি কোনো সফটওয়্যার বা ফাইল নামাতে চাচ্ছেন ফ্রিতে। সার্চ দিয়ে ফ্রি সাইট বের করলেনও। তারপর দেখবেন রেজিস্ট্রেশন চাচ্ছে। এরপর নানা বিরক্তিকর ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড চাইবে। অসংখ্য এমন সাইট আছে অনলাইনে। আবার কিছু সাইট আছে, ফাইল নামানোর পর দেখবেন তা নষ্ট। আবার প্রতিপক্ষ বা শত্রু শ্রেণীর কাউকে ঝামেলায় ফেলার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল প্রচারণা চালাতে ইন্টারনেট এক ধরনের লোকের প্রথম পছন্দ। এখানে যে কেউ লিখতে পারে, তার কথা শেয়ার করতে পারে এবং তা অন্যায় উদ্দেশ্যে প্রায়ই ব্যবহৃতও হচ্ছে। একবার বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার টমি হিলফিজার সম্পর্কে বলা হলো-তিনি উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রে সম্পর্কে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। চেইন  মেইলে লাখ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কাছে এ তথ্য পাঠানো হলো এবং বলা হলো তার তৈরি  পোশাক বর্জন করার জন্য। অনেক দিন পর জানা গেল, ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভুয়া কিন্তু তত দিনে টমির ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি পুরো শেষ।

কালোবাজার
যদিও আমাদের মতো দরিদ্র দেশে কপিরাইট আইন পুরোপুরিভাবে কার্যকর হওয়ার পক্ষে আমি নিজেও নই, তবু কিছু কথা থেকে যায়। নতুন একটি অডিও অ্যালবাম বের হলো বা সিনেমা বের হলো, এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যবহারকারীদের জন্য এটি ভালো দিক, কারণ বিনা মূল্যে সে ফাইলটি ডাউনলোড করতে পারছে। কিন্তু শিল্পী বা পরিচালকের জন্য চরম কষ্টকর এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ। প্রতি বছর দুনিয়াজুড়ে অনলাইনের কারণে মিডিয়াগুলো হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার বাজার। এছাড়া অনলাইনে ইদানীং বন্যপ্রাণী পাচার এমনকি মাদকদ্রব্য পাচারও হয়ে থাকে।

হয়রানি
সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর এটি আরেক সমস্যা। ছদ্মনামে থাকায় আপনি আপনার বন্ধুদের শনাক্ত করতে পারবেন না বেশির ভাগ সময়ই। তাদের সঙ্গে মেশার পর আপনার নানা তথ্য নিয়ে আপনাকে নানাভাবে হয়রানি করা হতে পারে।

শিশু পর্নোগ্রাফি
ভয়াবহ একটা ব্যাপার ধীরে ধীরে বেড়ে চলছে ইন্টারনেটের কারণে। সামপ্রতিক এক জরিপে  দেখা গেছে, অনলাইনের পর্নোগ্রাফির ২০ ভাগই চাইল্ড পর্নো। বিলিয়ন ডলারের এক শিল্পে পরিণত হওয়ায় এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটাও বেশ কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। এমনকি অ্যাডাল্ট সাইটগুলোতে ৫ বছরের শিশুরও নগ্ন ছবি ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর ফলে একটি প্রজন্মকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।

বিশ্বসেরা প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা অ্যাপল
আহমেদ ইফতেখার
মার্কিন কম্পিউটার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। শুরুতে এ প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল অ্যাপল কম্পিউটার ইনকরপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য, কম্পিউটার সফটওয়্যার এবং পারসোনাল কম্পিউটার তৈরি করে বিশ্বে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৭৬ সালে ধার করা টাকায় স্টিভ জবস নিজের বাড়ির গ্যারেজে বন্ধু ওজনিয়াকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অ্যাপল। অ্যাপল ১ দিয়েই শুরু হয় যাত্রা। প্রথম অ্যাপল কম্পিউটার ৬৬৬.৬৬ ডলারে বিক্রি শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের মাধ্যমে জগৎজুড়ে জবস অর্জন করেন ব্যাপক খ্যাতি। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে অ্যাপল ছেড়ে জবস গড়ে তোলেন নেক্সট কম্পিউটার কোম্পানি। এতে অ্যাপলের সুনাম হ্রাস পায়। ১৯৯৬ সালে অ্যাপলের সাথে তার সমঝোতা হয়। এর ভিত্তিতে ৪২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিনিময়ে নেক্সটকে কিনে নেয় অ্যাপল। ২০০১ সালে বাজারে আইপড নিয়ে আসার মাধ্যমে অ্যাপল অন্য উচ্চতায় চলে যায়। এরপর আইফোন আইপড সংস্করণসহ অভিনব বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোকে ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এসব কৃতিত্বের নেপথ্য নায়ক ছিলেন জবস। একে একে স্টিভ জবসের হাত ধরে এসেছে আধুনিক প্রযুক্তির অনেক পণ্যই। প্রায় ২০০ প্রযুক্তি পণ্য আবিষ্কারে ভূমিকা রেখেছেন স্টিভ জবস। কম্পিউটার নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকার পরও অ্যাপলের যেকোনো পণ্য আবিষ্কারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন জবস।

বর্তমানে অ্যাপলের কোষাগারে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্র সরকারেরও নেই। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিস্টিকস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগারে এখন খরচ করার মতো অর্থ রয়েছে ৭৩.৭ বিলিয়ন ডলার, আর ৭৬.৪ বিলিয়ন ডলার রয়েছে অ্যাপলের। সাফল্যের এ চূড়ায় উঠতে অ্যাপলকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আর এ পথের কাণ্ডারি ছিলেন স্টিভ। ২০০৫ সাল থেকে আর্থিক মূলধনের হিসেবে বিশ্বের সেরা কোম্পানি হিসেবে শীর্ষে থাকা এক্সন মোবাইলকে পেছনে ফেলে শীর্ষে এসেছে অ্যাপল। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অ্যাপল ২০১০ সালের তুলনায় ১২৫ গুণ বেশি আয় করেছে। গত ৩ মাসে প্রতিষ্ঠানটি আয় করেছে ১১ কোটি ডলার। গত বছরের তুলনায় স্মার্টফোন বাজারে ৭৬ ভাগ  শেয়ার বেড়েছে অ্যাপলের। একই সাথে অ্যাপল স্মার্টফোন বাজারের ১৮ শতাংশ দখলে রেখে স্যামসাং ও নকিয়াকে পেছনে ফেলেছে।

২০০১ সালে স্টিভ জবস প্রতিষ্ঠানটির পণ্য পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনেন এবং প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটারের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরি করতে শুরু করে। এ সিরিজের প্রথম পণ্য ছিল গান শোনার যন্ত্র আইপড। এরপর পণ্য তালিকায় যোগ হয় আইফোন। মূলত কম্পিউটারের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক পণ্যের সাফল্যের সাথে সাথেই শুরু হয় অ্যাপলের জয়যাত্রা। পাশাপাশি স্টিভ জবসের নেতৃত্বেই দূরদর্শী কম্পিউটিং পণ্য হিসেবে যোগ হয় পাওয়ার ম্যাক, আইম্যাক, ম্যাকবুক এবং সর্বশেষ যোগ হয় বাজার-কাঁপানো আইপ্যাড। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের তৈরি ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার তৈরির মাধ্যমে বেশি পরিচিতি লাভ করে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অপারেটিং সিস্টেম ওএস এক্সের মাধ্যমে তৈরি করে আইপড, আইফোন এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি গান শোনার সফটওয়্যার আইটিউনস এবং মাল্টিমিডিয়া ও ক্রিয়েটিভ সফটওয়্যার আইলাইফ তৈরি করে। এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্রাউজার সাফারি এবং মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম আইওএস তৈরি করে। ২০১০ সালের আগস্ট মাসে প্রতিষ্ঠানটি ১০টি  দেশের ৩০১টি রিটেইল স্টোর এবং নিজস্ব অনলাইন স্টোরে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার বিক্রি শুরু করেছে। সাফল্যের এ ধারাবাহিকতায় বর্তমানে অ্যাপল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রথম অবস্থান করে নিয়েছে।

এ বছরের দ্বিতীয় ভাগে অ্যাপলের আইট্যাব সফটওয়্যার বিক্রির হার ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা অ্যাপলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল অ্যান্ড্রয়েডের তুলনায় দ্বিগুণ। অ্যান্ড্রয়েড বিক্রির হার ৩০ দশমিক ১ শতাংশ। মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে মাইক্রোসফট তৃতীয় ও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে আরআইএম সংস্থাটি।