Skip to main content

বিশ্বের নানা দেশ

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ

ইন্দোনেশিয়া

অবস্থান                                   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী দ্বীপপুঞ্জে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান।
মোট এলাকা ১৯,১৯,৪৪০ বর্গকিলোমিটার।
স্থলভাগ ১৮,২৬,৪৪০ বর্গকিলোমিটার।
জলভাগ ৯৩,০০০ বর্গকিলোমিটার।
স্থল সীমান্ত মোট ২,৮৩০ কিলোমিটার; প্রতিবেশী দেশের সাথে সীমানা-পূর্ব তিমুর ২২৮ কিলোমিটার, মালয়েশিয়া ১,৭৮২ কিলোমিটার, পাপুয়া নিউগিনি ৮২০ কিলোমিটার।
সমুদ্র উপকুলীয় ভূমি ৫৪,৭১৬ কিলোমিটার।
জলবায়ু গ্রীষ্মমণ্ডলীয়; উষ্ণ, আর্দ্র, উচ্চভূমিগুলোতে এ জলবায়ু অনেক লঘু আকারে লক্ষ করা যায়।
প্রধান নদী মহাকাম, মুজি, কায়ান।
উচ্চতম অঞ্চল পুনকাফ জয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬,৫০৩ ফুট (৫,০৩০ মিটার) উঁচু।
নিম্নতম অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠ সমতল।
প্রাকৃতিক সম্পদ খনিজ তেল, টিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিকেল, কাঠ, মূল্যবান পাথর, তামা, উর্বর ভূমি, কয়লা, সোনা, রূপা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনো কখনো বন্যা হয়ে থাকে, প্রচণ্ড খরা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, দাবানল।
ঐতিহাসিক পটভূমি ইন্দোনেশিয়া পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপপুঞ্জ। এশিয়ার মূল ভূমি থেকে প্রাচীন মালয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ইন্দোনেশিয়ায় আসে। ৫ শতকে এই দ্বীপরাষ্ট্রটির বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে চীনের সঙ্গে।এ সময় থেকেই ইন্দোনেশিয়াতে ভারতীয় হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রভাব প্রতিফলিত হয়। ১৩ শতকে আরব বণিকদের দ্বারা ইন্দোনেশিয়াতে ইসলাম প্রচারিত হয়। ক্রমে ইসলাম ধর্ম দ্বীপটির অধিকাংশ অংশে প্রাধান্য লাভ করে। কেবল বালিতে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতি সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে। ১৬ শতক থেকে ইন্দোনেশিয়াতে ইউরোপীয় প্রভাব প্রতিফলিত হতে থাকে। এই দ্বীপে ডাচ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭ শতকে এবং তা অব্যাহত থাকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত। এ সময়ই জাপান দখল করে নেয় ইন্দোনেশিয়া। মহান নেতা সুকর্ণ কর্তৃক ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার পর ডাচরা ইন্দোনেশিয়াকে নেদারল্যান্ডসের ইউনিয়নভুক্ত করে সীমিতভাবে এ দাবি মেনে নেয়। ১৯৪৯ সালে নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করে ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে সামপ্রতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রয়েছে : ব্যাপকভাবে বিস্তৃত দারিদ্র্য হ্রাস, আইএমএফ-এর অনুমোদন ব্যাংকিং ক্ষেত্রে ব্যাপক আধুনিকায়ন, চার দশক পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের ইতিবাচক পরিবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ, দুর্নীতি রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী সামরিক বাহিনী এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি।
জাতীয়তা ইন্দোনেশিয়ান।
জনসংখ্যা ২৩,৮৪,৫২,৯৫২ জন (২০০৪)।
জন্মহার প্রতি হাজারে ২১.১১ জন (২০০৪)।
মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৬.২৬ জন (২০০৪)।
গড় আয়ু পুরুষ ৬৫ বছর, মহিলা ৬৯ বছর (২০০১)।
ধর্ম মুসলিম ৮৮%, প্রটেস্ট্যান্ট ৫%, রোমান ক্যাথলিক ৩%, হিন্দু ২%, বৌদ্ধ ১%, অন্যান্য ১% (১৯৯৮)।
ভাষা বাহাসা ইন্দোনেশিয়া (সরকারি, মালে হতে পরিবর্তিত) ইংরেজি, ডাচ, স্থানীয় ভাষা, জাভানিজ অধিক ব্যবহৃত ভাষা।
শিক্ষিতের হার ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যার ৮৮.৫% শিক্ষিত; পুরুষ ৯২.৯%, মহিলা ৮৪.১% (২০০৩)।
বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী জাভানিজ ৪৫%, সুন্দানিজ ১৪%, মাদুরিজ ৭.৫%, উপকুলীয় মালে ৭.৫%, অন্যান্য ২৬%।
দেশটির সরকারি নাম রিপাবলিক অব ইন্দোনেশিয়া।
সরকার পদ্ধতি প্রজাতান্ত্রিক।
রাষ্ট্রপ্রধান প্রেসিডেন্ট।
সরকারপ্রধান প্রেসিডেন্ট।
রাজধানী জাকার্তা।
প্রশাসনিক বিভাগ ২৭টি প্রদেশ, ২টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এবং ১টি গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী শহর ও জেলা।
স্বাধীনতা লাভ ১৭ আগস্ট ১৯৪৫ (স্বাধীনতা ঘোষিত হয় ২৭ ডিসেম্বর ১৯৪৯, নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে)।
মুদ্রা ইন্দোনেশিয়ান রুপি (IDR)
রাজস্ব বাজেট ৪০.৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
সামরিক বাহিনী দায়িত্বে নিয়োজিত মোট সৈন্যসংখ্যা ২৯৭০০০; স্থলবাহিনী ৭৭.৪%, নৌবাহিনী ১৩.৫%, বিমানবাহিনী         ৯.১% (২০০০)।
রেলপথ ৬,৪৫৮ কিলোমিটার।
সড়কপথ ৩৪২,৭০০ কিলোমিটার।
জলপথ মোট ২১,৫৭৯ কিলোমিটার।
পাইপলাইন অপরিশোধিত তেলের জন্য ২,৫০৫ কিলোমিটার, খনিজ তেলজাত দ্রব্যের জন্য ৪৫৬ কিলোমিটার, প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য ১,৭০৩ কিলোমিটার (১৯৮৯)।
বন্দর ও পোতাশ্রয় সিলেক্যাপ, সিরেবন, জাকার্তা, কুপাঙ্গ, মাকাসসার, পালেম্বাঙ্গ, সেমারাঙ্গ, সুরাবেয়া।
বিমানবন্দর ৪৫০টি।
মোট দেশজ  
উৎপাদন (GDP) ৭৫৮.৮ বিলিন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
মোট মাথাপিছু  
উৎপাদন ৩,২০০ মার্কিন ডলার (২০০৩)।
প্রধান রপ্তানি দ্রব্য কফি, পামঅয়েল, আখ, চা, তামাক, পেট্রোলিয়াম।
আমদানি দ্রব্য শিল্পজাত দ্রব্যাদি, যন্ত্রপাতি।
বাণিজ্য সহযোগী    
রাষ্ট্রসমূহ জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরাইল

অবস্থান                                   মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত। ভূমধ্যসাগরের সীমান্তবর্তী মিসর এবং লেবাননের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এর অবস্থান।
মোট এলাকা  ২০,৭৭০ বর্গকিলোমিটার।
 স্থলভাগ  ২০,৩৩০ বর্গকিলোমিটার।
জলভাগ ৪৪০ বর্গকিলোমিটার।
স্থল সীমান্ত মোট ১,০১৭ কিলোমিটার। মিসর ২৬৬ কিলোমিটার, গাজা (অংশবিশেষ) ৫১ কিলোমিটার, জর্দান ২৩৮ কিলোমিটার, লেবানন ৭৯ কিলোমিটার, সিরিয়া ৭৬ কিলোমিটার, পশ্চিম তীর ৩০৭ কিলোমিটার।
সমুদ্র উপকুলীয় ভূমি ২৭৩ কিলোমিটার।
প্রধান নদী জর্ডান।
উচ্চতম অঞ্চল মাউন্ট মেরন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৯৬৫ ফুট (১,২০৮ মিটার উঁচু)।
নিম্নতম অঞ্চল ডেড সি-এর সৈকত, সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ১,৩১০ ফুট নিচু।
আবহাওয়া মাঝারি ধরনের গরম এবং শুষ্ক দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চল মরুময়।
প্রাকৃতিক সম্পদ কাঠ, পটাশ, তাম্র, খনি, প্রাকৃতিক গ্যাস, ফসফেট, শিলা, ম্যাগনেসিয়াম ব্রোমাইড, কাদামাটি, বালি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ গ্রীষ্মকালে এবং বসন্তকালে ধূলিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, খরা, সাময়িক ভূমিকম্প।
ঐতিহাসিক পটভূমি কমপক্ষে এক লক্ষ বছর আগে ইসরাইল ভূখণ্ডে মানব বসতি শুরু হয়েছিল। ১৯ শতকে এখানে ইহুদিরা তাদের জাতীয় রাষ্ট্র গঠন করে। পাশাপাশি এই অঞ্চলে প্যালেস্টাইনের অধিকারের প্রশ্নটি তীব্র হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্র ধরে প্যালেস্টাইনের ওপর যুক্তরাজ্য তাদের সমর্থন তুলে নেয়। অন্যদিকে আরব ও ইহুদি রাষ্ট্রের মধ্যবর্তী জাতিসংঘের সীমানা বিভক্তিকরণ সম্পর্কিত চুক্তিটি আরব বাতিল করে দেয়। পরবর্তী সময়ে ইসরাইল একটি ধারাবাহিক যুদ্ধের মাধ্যমে আরবের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৯৭৯ সালে স্বাক্ষরিত ইসরাইল-মিসর শান্তি চুক্তির সূত্রে ১৯৮২ সালের ২৫ এপ্রিল ইসরাইল সিনাই থেকে সরে আসে। ১৯৯৪ সালের ২৬ অক্টোবর সম্পাদিত ইসরাইল-জর্দান শান্তি চুক্তির মাধ্যমে জর্দানের সঙ্গে ভূখণ্ডগত এবং অন্যান্য দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তির ব্যাপারে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া ১৯৮২ সাল থেকে অধিকৃত লেবানন থেকেও ইসরাইল নিজেদের গুটিয়ে নেয়। ১৯৯১ সালের অক্টোবরে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত সভায় শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরাইল এবং প্যালেস্টাইনের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইসরাইলের অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং গাজা ভূ-খণ্ড প্রশ্নে সিরিয়ায় একটি স্থায়ী বসতি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখানে গুরুত্ব পায়। কিন্তু প্যালেস্টাইন-ইসরাইল পারস্পরিক সংঘাত এই উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দেয়।
জাতীয়তা ইসরায়েলি।
জনসংখ্যা ৬১,৯৯,০০৮ জন (২০০৪)।
জন্মহার প্রতি হাজারে ১৮.৪৫ জন (২০০৪)।
মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৬.১৯ জন (২০০৪)।
গড় আয়ু পুরুষ ৭৭.০৮ বছর, মহিলা ৮১.৩৭ বছর (২০০৪)।
ধর্ম ইহুদি ৮০.১%, মুসলিম ১৪.৬% (অধিকাংশই সুন্নি মুসলমান) খ্রিষ্টান ২.১%, অন্যান্য ৩.২% (১৯৯৬)।
ভাষা রাষ্ট্রভাষা হিব্রু, সংখ্যালঘু আরবদের জন্য আরবি ব্যবহৃত হয়। ইংরেজি সাধারণত বিদেশী ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
শিক্ষিতের হার ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যার ৯৫.৪% শিক্ষিত; পুরুষ ৯৭.৩%, মহিলা ৯৩.৬% (২০০৩)।
বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী ইহুদি ৮০.১% (ইউরোপ/আমেরিকায় জন্ম ৩২.১%, ইসরাইলে জন্ম ২০.৮%, আফ্রিকায় জন্ম ১৪.৬%,         এশিয়ায় জন্ম ১২.৬%) ইহুদি নয় এমন ১৯.৯% (অধিকাংশই আরব) (১৯৯৬)।
দেশটির সরকারি নাম স্টেট অব ইসরাইল।
সংক্ষিপ্ত নাম মেডিনাই ইসরাইল (হিব্রু ভাষায়)।
সরকার পদ্ধতি সংসদীয় গণতন্ত্র।
রাষ্ট্রপ্রধান প্রেসিডেন্ট।
সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী জেরুজালেম।
প্রশাসনিক বিভাগ ৬টি জেলা।
স্বাধীনতা লাভ ১৪ মে ১৯৪৮ (জাতিসংঘের আদেশে ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনতা থেকে)।
মুদ্রা নিউ ইসরাইলি শেকেল (ILS) 
রাজস্ব বাজেট ৪৪.৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
সামরিক বাহিনী দায়িত্বে নিয়োজিত মোট সৈন্যসংখ্যা ১,৭২,৫০০ (২০০০); স্থলবাহিনী ৭৫.৪%, নৌবাহিনী ৩.৮%,         বিমানবাহিনী ২০.৮%।
রেলপথ ৬৪০ কিলোমিটার।
সড়কপথ ১৫,৯৬৫ কিলোমিটার।
পাইপলাইন অপরিশোধিত তেলের জন্য ৭০৮ কিলোমিটার, খনিজ তেলজাত দ্রব্যের জন্য ২৯০ কিলোমিটার, প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য ৮৯ কিলোমিটার।
বন্দর ও পোতাশ্রয় আশদপ আশকেলন, ইসলাত (এইলাত) হাদেরা, হাইফা, তেলআবিব, ইয়াকো।
বিমানবন্দর ৫৭টি।
মোট দেশজ  
উৎপাদন (GDP) ১২০.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
মোট মাথাপিছু  
উৎপাদন ১৯,৮০০ মার্কিন ডলার (২০০৩)।
প্রধান রপ্তানি দ্রব্য কেমিক্যাল, কাটা হীরা, ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যাদি, সার, ফল, সবজি, সামরিক সরঞ্জামাদি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, বস্ত্র।
আমদানি দ্রব্য বিমান, কেমিক্যাল দ্রব্যাদি, আকরিক হীরা, শস্য, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাত, জ্বালানি তেল, জাহাজ, মোটরগাড়ি।
বাণিজ্য সহযোগী  
রাষ্ট্রসমূহ বেলজিয়াম, গ্রেট ব্রিটেন, লুক্সেমবার্গ, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং যুক্তরাষ্ট্র।