Skip to main content

মনের জানালা

পাঠকের পাতা

শুধুই তোমাকে
বর্ষার নীলাকাশের বিষণ্ন মেঘকনেদের অশ্রুপ্লাবনে খাল-বিল, নদ-নদী, মাঠঘাট সব একাকার। প্রান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলো যেন তার মাঝে দ্বীপ হয়ে জেগে আছে। বিলে ঝিলে পদ্মফুলের ছড়াছড়ি, পত্রপুষ্পে শ্যামসুন্দর বেশে সজ্জিত বন-বনানী আর রংবেরঙের ফুল ও ফল প্রকৃতিতে এনেছে নতুন আমেজ। এমন মনোমুগ্ধকর দিনে শুধুই তোমাকে মনে পড়ছে। হৃদয়ের রক্তক্ষরণ, পরিপূর্ণ ভালোবাসা যে শুধু আমি তোমাকেই দিয়েছি। সৌন্দর্য, ভালোবাসার আনন্দ বেদনা পূর্বে দেখা কোনোটাই ছিল না আমার। হৃদয়ের বরফ তুমিই তো শিখিয়েছিলে আমাকে। ফুলের মতো আধফোটা কিশোর থেকে তুমিই তো হাত ধরে আমাকে নিয়ে গেলে যৌবনের উদ্দমতার প্রেমকাননে। আমি তো ডুবতে শিখেছিলাম তোমার শেখার পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার পানিতে, প্রেমের চঞ্চলতা যে তোমার চোখের চাহনিতে আমি প্রথম খুঁজে পেয়েছিলাম। চুপিচুপি ভালোবাসার গভীরে প্রবেশের দ্বার তুমিই দেখিয়েছিলে আমাকে। আমি শুধু তোমাকে ডুবুরির মতো অতল জলে ডুবে মুক্তা খোঁজার নেশায় নেমেছি গভীর থেকে আরও অনেক গভীরে। যার পরিমাপটা শুধু তুমিই বুঝবে। তোমাকে পাওয়ার স্বপ্ন বিভোরতায় আজও প্রতীক্ষার নির্জন আকাশে তারা গুনি। আমি মুগ্ধতার কোনো এক বনলতার খোঁজে বের হই। হয়তো বা তুমিই পড়েছিলে আমার সামনে, নয়তোবা আমিই পড়েছিলাম তোমার চোখে। আজও আমি শুধুই তোমাকে ভালোবাসি। আর শুধু তোমাকেই ভালোবাসার কথা জানালাম। আর এই মনোজগত মানসিক স্বাস্থ্য পত্রিকার মাধ্যমে আমার ভালোবাসার কথা সবাইকে জানিয়ে বলছি যে আমার শারমিন আমাকেই ভালোবাসে, আমারই আছে এবং চিরদিনই আমার থাকবে। আর তোমাকে ভালোবাসি বলেই আজ ‘শুধু তোমাকেই’ মনে পড়ছে।

আরএস রিপন
রাজশাহী কোর্ট, রাজশাহী
ফোন : ০১৭১৪৬৫৭০৭৬, ০১১৯৮১৬৭৫৯৮


রনি তোমাকে খুব ভালোবাসি
কাছে তুমি বুঝিনি, তুমি কার
আজ তুমি নেই
যাই করি যেদিকে যা দেখতে পাই
সব কিছু তুমি মোর
ভুল আমারি, আমি বুঝিনি
সব হারিয়ে খুঁজি তোমায়
কেমন আছ তুমি, জানি না। দোয়া করি তুমি ভালো থাক। আল্লাহ যেন তোমাকে মাফ করে দেয়। কেন এভাবে আমাকে রেখে একা চলে গেলে? তোমার স্মৃতিগুলো আমাকে নীরবে কাঁদায়। মনে হয় জমজম কুপের পবিত্র পানি দিয়ে গোসল করে হৃদয়ের সমস্ত দুঃখ

দূর করে ফেলি। আবার মনে হয় গঙ্গার জলে ডুব দিয়ে সব কষ্ট জলের মধ্যে ভাসিয়ে দিই। সবশেষ সব রক্তবিন্দু শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে সব স্বপ্নগুলো উড়িয়ে দিয়ে নিজেকে একটু সান্ত্বনা দিই। আমাকে ক্ষমা করো তুমি। তোমার ভালোবাসা আমি কখনো বোঝার চেষ্টা করিনি। তোমার সব কিছু আমার পাগলামি মনে হতো। তোমায় যে ভালোবাসিনি এ কথাও ঠিক নয়। তবে তোমার মতো করে হয়তো বাসিনি। রনি তুমি চলে যাওয়ার পরে আমি তোমার অভাব বুঝতে পেরেছি। সেদিন ছিল ৮ এপ্রিল। হঠাৎ জানতে পারি তুমি অ্যাক্সিডেন্ট করেছ। শুনে শরীরটা শিউরে উঠল। আমি বারবার তোমার খোঁজ নিলাম। কিন্তু পারিবারিক সমস্যার কারণে যেতে পারিনি। তোমার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তোমাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলো। এভাবে দুশ্চিন্তা আর আতঙ্কে কাটল ৭ দিন। শুনলাম তুমি ভালো আছ। জেনে আমার একটু ভালো লাগল। সামনে পরীক্ষা ছিল কিন্তু পড়াশোনায় মন দিতে পারলাম না। মা হয়তো কিছুটা বুঝতে পেরেছিল। ১৬ এপ্রিলে জানলাম তোমাকে বাসায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আর সেদিন ছিল আমার বার্থ ডে। আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম। মা ও বাবা দুজনেই তোমাদের বাসায় যাচ্ছিল। আমি যেতে চাইলে তারা আমাকে নিয়ে যায়নি। এভাবে কাটল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। আমি ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। মাইকের আওয়াজে চমকে উঠলাম। কে একজন যেন মৃত্যুসংবাদ বলছে। মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম। একি! সর্বনাশ, এ যে তোমার নাম, তোমার ঠিকানা। আমি কান বন্ধ করলেও বারবার তা আমার হৃদয়ের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। আমি কিছুতেই এই চরম সত্যটাকে মেনে নিতে পারছিলাম না। বাসায় কেউ ছিল না। আমি প্রাণ খুলে কাঁদতে চাইলেও পারলাম না। পাথরের চেয়েও শক্ত হয়ে গেলাম আমি। পায়ের তলার মাটি সরে যেতে লাগল। আর আমি নিমজ্জিত হচ্ছি গভীর থেকে আরো গভীরে। সব স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙে গেল। কালবৈশাখী ঝড়ের মতো সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেল। আমার হৃদয়ের আর্তনাদ, হাহাকার কেউ শুনতে পেল না। আমাদের বাসার বারান্দার সেই টেবিল ও চেয়ার দুখানা আজও আছে। যেখানে তুমি মাঝে মাঝে বসতে আর আমাকে বলতে ‘ভালো করে পড়াশোনা কর’। আমি আর সে চেয়ারে কখনো বসি না। চেয়ার দুখানা দেখলেই কষ্ট হয়। তোমার দেয়া সেই কাচের চুড়িগুলো আজও আমি যত্ন করে রেখেছি। আমার জীবনের সবচেয়ে দামি উপহার এগুলো। জানি কখনো আর হাতে পরা হবে না। আমার এ কাজল চোখে যে গভীর কান্না কেঁপে ওঠে তা কি তুমি দেখতে পাও? আকাশের চাঁদ হয়ে আছ তুমি জানি পাশেই আছ, তবু যেন তোমায় ছুঁয়ে যেতে পারি না। আমি সারাক্ষণ তোমায় অনুভব করি। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস যেদিন আমি পৃথিবীতে এসেছি সকলে মুখে হাসি ফুটিয়ে সেদিন তুমি জীবন প্রদীপ নিভিয়ে আমাদের একা করে চলে গেলে। যেখানে গেলে কেউ কখনো আর ফিরে আসে না। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে, রনি, খুব ভালোবাসি আমি তোমায়, খুব মিস করি তোমায়। বিশেষ করে ১৬ এপ্রিলে...।

স্বর্ণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ফোন : ০১৬৭৬২২৮৪৮৭


স্বপ্ন
স্বপ্নকে আমি ভীষণ ভালোবাসি। স্বপ্ন দেখতেও খুব ভালোবাসি। স্বপ্ন দেখাই আমার আরেকটা স্বপ্ন। সবাই সবার মতো করে স্বপ্ন দেখে কিন্তু আমার স্বপ্ন দেখাটা সবার থেকে একটু আলাদা। আমি আমার স্বপ্নগুলো নিজে তৈরি করি। আমি কারও দেখানো স্বপ্ন দেখি না। আমার তৈরি করা দশ বারোটা স্বপ্ন আছে এগুলো আমি প্রতি রাতে একটা করে দেখি। আমি অন্যদের মতো ঘুমানোর আগে ভাবি না আজ রাতে কোন স্বপ্নটা দেখব বা দেখাবে। আমি আমার তৈরি করা স্বপ্ন থেকে একটা স্বপ্ন বেছে নিয়ে সেই স্বপ্নটা থেকে নিজের সুখটা খুঁজে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ি। মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে অন্য স্বপ্ন দেখি যে স্বপ্নটা কি না আমার তৈরি না, হয়তো সেই স্বপ্নটা আমাকে সৃষ্টিকর্তা দেখান। যেই স্বপ্ন দেখাক আর যার তৈরি স্বপ্নই দেখি স্বপ্ন দেখা কিন্তু মিস হয় না। প্রায় স্বপ্ন দেখি আমার শিশু আশ্রমটা তৈরি হয়ে গেছে কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেখি আকাশের বিশালতা পাখিদের বয়ে চলা, কই কোনো শিশু আশ্রম তো দেখি না। তাতে কী? তাই বলে কি আমি স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিয়েছি। আমিও রোজই কোনো না কোনো স্বপ্ন দেখছি। আসলে এই জগৎটাই স্বপ্নের বেড়াজালে আবদ্ধ। এই জাল ছিন্ন করে কেউ বেরিয়ে আসতে পারে না। স্বপ্নকে ঘিরেই আমাদের বেড়ে ওঠা। স্বপ্ন আমাদের খুব ভালো বন্ধু। স্বপ্ন আছে বলেই আমরা বেঁচে আছি। যখন আমরা খুব দুঃখ পাই তখন সুখের স্বপ্ন দেখি। যখন বুক ফেটে কান্না আসে তখন প্রাণ খুলে হাসার স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন আছে বলেই আমরা সকল বাধা বিপত্তি আটকাতে পারি। সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করতে পারি। আমি জানি না সবাই স্বপ্নকে নিয়ে কী ভাবে? তবে আমি কিন্তু স্বপ্নকে নিয়ে স্বপ্নের মতো করেই ভাবি। স্বপ্ন মানুষকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়। যখন জীবনে সকল আশার প্রদীপ নিভে যায় যখন তোমাকে ছেড়ে সকলে চলে যায়, তোমার স্বপ্ন কিন্তু তখন তোমাকে ছেড়ে চলে যায় না। বরং স্বপ্নই তখন তোমার ভেতরে নতুন করে বাঁচার আশা জাগায়। স্বপ্ন তুমি মহৎ। স্বপ্ন তুমি ধন্য করেছ আমাদের জীবন। তুমি খুব ভালো। তোমাকে ঘিরেই বেঁচে থাকা, বেড়ে ওঠা, পথ চলা, তুমি থেক যুগ যুগ ধরে। কখনো আমাদের থেকে দূরে সরে যেয়ো না। আজ আমারও নচিকেতার মতো গাইতে ইচ্ছা করছে-
‘যখন সময় থমকে দাঁড়ায়
নিরাশার পাখি দুহাত বাড়ায়
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোণ
কি আর করে তখন।
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন
স্বপ্ন দেখে মন...।’

খুশি
বন্দর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ
নারায়ণগঞ্জ


আমি আসব, তুমি কেঁদো না মা
মা, আমি আসব কোনো ধু ধু রুক্ষ চোখের প্রখর অগ্নিদাহ হয়ে। আমার আবির্ভাবে হয়তো তোমার জীব জগতে নেমে আসবে প্রাণহীন, রসহীন বিবর্ণতার মাঝে। আমি আসব ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গুরুগম্ভীর বজ্রধ্বনি হয়ে, আমি আসব বর্ষণ-ধৌত, মেঘমুক্ত আকাশের সুনীল রূপকাণ্ড, আলো ছায়ার লুকোচুরি, শিউলি ফুলের ম-ম উদাস করা গন্ধ হয়ে নতুবা নদী তীরের কাশফুলের অপূর্ব সমারোহ হয়ে। আমি ফিরব মা যখন তুমি ধবল কুয়াশার আবরণে মুখ ঢেকে এক নিঃসঙ্গ সাধনায় মগ্ন থাকবে। আমি আসব যখন তুমি শিশিরভেজা ভোরের উদীয়মান রবির কিরণে বাড়ির উঠোনে রোদে পিঠ ফিরিয়ে বসে পিঠা পায়েস ও মুড়কি মোয়া বানাবে। তুমি দেখে নিয়ো মা আমি আসব যখন দখিনা মৃদুমন্দ বাতাসের জাদুস্পর্শে, পৃথিবীর সর্বাঙ্গে অপূর্ব শিহরণ জাগবে। কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম উচ্ছ্বাসে মধুমালতী ও মাধবী মঞ্জুরিতে চির যৌবন ফিরে পাবে। তবে বলো মা আমি কোথায় আসব যে দেশ আজ ৪০ বছরেও আমার মায়ের স্বীকৃতি দেয়নি। যে দেশ আমার জন্মকে স্বাভাবিক মনে করে না। সেই দেশে যে দেশের মমতাময়ী মায়েদের রত্নগর্ভার স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে হয়। যে দেশের মাটি রক্তাক্ত হয়েছে আমার মতো হাজার হাজার সন্তানের রক্তে। যে দেশে তোমার মতো দরদি মা চোখের জল দিয়ে মাটি ভিজিয়ে তোলে। মা যে দেশের পৌরুষত্বের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তোমাকে গৃহবন্দি হতে হয়েছে। সেই দেশে কি তুমি আমায় আসতে বলো যে দেশে আইনের লোকেরা সবার সামনে ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। মা যে দেশের ব্যবসায়ীরা টাকার পাহাড় করতে গিয়ে ফিটনেসহীন গাড়ি রাস্তায় নামায়। জাল লাইসেন্স দিয়ে ড্রাইভার সাজিয়ে গাড়ি চালায়, মুহূর্তের মাঝে ২১টি স্কুলছাত্রের প্রাণ কেড়ে নেয়। সেই দেশেই কি তুমি আমায় আসত বলো। মা আমি তো মাদক গ্রহণ করে তোমার কাছে অপরাধী হয়েছি। আমি আমার দোষ স্বীকার করছি। একবার ভাব তো মা কেন আমি নেশা হাতে নিয়েছি। কেন আমি সৃষ্টির দিকে যেতে পারিনি। কেন আমাকে ধ্বংসের পিছু হাঁটতে হলো। আমার দোষ স্বীকার করব হাজারবার। তুমি শুধু একবার বলো কী দোষ ছিল ৬ যুবকের, কী দোষ ছিল ২১ কিশোরের, কী দোষ ছিল তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরের মতো উজ্জ্বল নক্ষত্রের।

আমি তো জানি আমার গর্ভধারিনী আছে যে আমার জন্য অপেক্ষার প্রহর গোনে। কিন্তু মা ৪০ বছর আগে এই দেশ যে সন্তানদের স্বীকৃতি দেয়নি, ভয়ে অন্য দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে ওরা তো জানে না ওদের সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা মা কোথায় আছে, কেমন আছে। ওই বীর সংগ্রামী মায়েরা তো জানে না ওদের নাড়িছেঁড়া ধন কোথায় আছে। তবে তুমি কেন আমার অপেক্ষা করব। যেদিন তোমার দেশ, আর আমার পুরুষশাসিত সমাজ তোমার হারানো দিনগুলো ফিরিয়ে দেবে। ৪০ বছর বয়সী সেসব সন্তানকে স্বীকৃতি দেবে। আমার বীর সংগ্রামী মায়েদের বীরত্বের মর্যাদা দেবে সে দিন আমি আসব, সেই সব শত শত মায়ের সন্তানদের সাথে আমি ফিরে আসব। মাত্র তো ১৬টি বছর চোখের জল ফেলেছ। তোমার দেশ কি আমার ফিরে আসার অপেক্ষা করে একবার ভেবে জানিও, ভালো থেকো মা, ভালো থেকো। ইতি তোমার হারিয়ে যাওয়া সেই ১৬ বছর আগের মাদকাসক্ত সন্তান।

রহিমা আক্তার
তেজগাঁও, ঢাকা


আমার প্রশ্ন
আমি চাই না অট্টালিকার বিলাসিতা, যেখানে ভিন্ন মনের মানুষগুলো বাস করে। যাদের মনে মিথ্যা গৌরব, অহংকার এসে মানবতা, সহিংসতা, সমবেদনা, প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-মমতা, আদর-ভালোবাসা প্রভৃতির মাঝে বিশাল কালো প্রাচীর গড়ে দিয়েছে যে প্রাচীরের বাধাকে ছিন্ন করে তারা কোনো দিনই প্রকৃত মানুষ চিনতে পারে না। হারিয়ে ফেলেছে ভালোমন্দ সুবিচারের সেই ক্ষমতা। আমি চাই শুকনো কাঠের চৌকি আর মানবের মমতাময়ী হাতের কোমল ছোঁয়ায় গড়া এই শরীরটাকে এলিয়ে দিয়ে রুপালি চাঁদের সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে করতে ঘুমের মাঝে ডুবে যেতে। যেখানে সুন্দর মনের মানুষগুলো আমাকে আপন করে ভালোবাসবে। যেখানে থেকে উপভোগ করা যায় পান্তাভাত ও একটি কাচা লঙ্কার আসল স্বাদ। আমি চাই না কোনো সুন্দরী ললনার মিথ্যা প্রেম। আমি চাই না কোনো ছলনা, প্রতারণা। আমি শুধু চাই আজীবন সাধনা করে একটু নিঃস্বার্থ মনের কিঞ্চিত ভালোবাসা। যে তার ভালোবাসাকে মনে করবে পৃথিবীর সবকিছুর ঊর্ধ্বে। যে তার অমূল্য ভালোবাসার জন্য পার্থিব সব সুখকে হাসিমুখে বিসর্জন দিতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না। সব ঝড়-তুফান, বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে আপন মনে ছুটে আসবে তার নিখাদ ভালোবাসার টানে। আর তার সত্য ভালোবাসার টানে আমি হারিয়ে যাব অনেক দূরে। যুগ যুগ ধরে তাকে ভালোবেসে আমার এ জীবন করব ধন্য। সুখের ভেলায় সানন্দে ভেসে বেড়াব দুজনে আর গাইব ভালোবাসার আবেগ জড়ানো গান। আর তাকে নিয়ে যাব অজানা সুখের স্বপ্নপুরীতে। যেখানে তাকে নিয়ে বাঁধব সুশীতল শান্তি নিবাস। কিন্তু একা বসে ভাবি আমার এই চাওয়া কি কখনো পাওয়া হবে? আজ এটাই আমার একমাত্র প্রশ্ন।

মনির হোসেন
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি, ঢাকা
ফোন : ০১৭৫১২১৯৩২৮


প্রেম পুরাণের গল্প
আজ রাতটা মনে হয় পূর্ণিমা রাত। চাঁদটা দেখছি গোল। আকাশে অসংখ্য তারার হাতছানি। রাত বেড়েই চলছে, চোখে ঘুম আসছে না। কী যেন ভাবছি, অনেকই তো ভাবলাম কোনো লাভ হয়েছে কি? সে তো হৃদয় আঙিনা থেকে অনেক আগেই চলে গেছে দূর বহুদূরে। হয়তো এখন আমার পরিবর্তে নতুন কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে রুপালি আশা বুকে ধারণ করে। সে স্বপ্ন দেখে অর্থ আর প্রাচুর্যের রাজকুমারের রাজরানি সেজে রাজপ্রসাদে বসবাস করার। ভুলে গেছে সে অতীত, বর্তমান, তার চোখে আজ শুধু ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন। প্রকৃতির ঋতুর সাথে সাথে সেও বদলে গেছে। কিন্তু আমি আর পারলাম কই? আগে গ্রামের বাড়ি থেকেও যেমন ছিলাম এখন শহরে শত শত মানুষের ভিড়ে এসেও ঠিক তেমনই রয়ে গেলাম। এখনো তাকে ভুলতে পারছি না। যদি ভুল করেও আমার ভাবনা থেকে তাকে কখনো আড়াল করি তখন বুকের গহিন থেকে হু হু করে কেঁদে ওঠে অবুঝ এই মন। এখন অনেক রাত, নির্জন এই সময়ে ঘুমিয়ে পড়েছে যেন রাতের এই রাজধানী। আজকাল মোবাইল সামনে রেখে বসে থাকি হৃদয়ে আকুল তৃষ্ণা নিয়ে, কখন একটা পরিচিত বা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসবে। মোবাইল রিসিভ করতেই কানে ভেসে আসবে থরথর কম্পমান একটি কণ্ঠস্বর। যে কণ্ঠ আমার দীর্ঘ যুগ-যুগান্তর ধরে পরিচিত। যে কণ্ঠে একবার হ্যালো বলার সাথে সাথে আমার সমস্ত শরীর কেঁপে উঠবে। বুকের ভেতর শুকিয়ে মরে যাওয়া নদীটি আনন্দ জোয়ারে প্লাবিত হবে, অর্ধযুগ আগে বুকের ভেতর রোপণ করা যে গোলাপ বৃক্ষটি শুকিয়ে মরে গেছে সেই গোলাপ বৃক্ষটি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। ফুলে ফুলে ভরে যাবে পুরো গাছ। তখন সে লাজবতী কণ্ঠে আমায় বলবে-আমায় চিনতে পেরেছ? আমি সেই দেবী যাকে তুমি অর্ধযুগ ধরে হৃদয় মন্দিরে পূজা করেছ। আমি তোমার সেই ছবি যাকে তুমি কোনো এক ফেব্রুয়ারির সকালে মন মাতানো মনোরম পরিবেশে উদাসী হাওয়ায় বসে তোমার হৃদয় ক্যাম্পাসে এঁকেছিলে। আমি আজ তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরে এসেছি। হ্যাঁ, তুমি দেখ আমি তোমার হৃদয় মন্দিরে ফিরে এসেছি। আমি সেই মুহূর্তের জন্য যেন বাক প্রতিবন্ধী হয়ে যাব। মুখে কোনো ভাষা থাকবে না। হৃদয়ের সব কথা মুখের যত ভাষা দুচোখে সুখের বন্যায় ঝরে পড়বে অশ্রু হয়ে। আমি খুঁজে পাব সেদিন আমার জীবনের হাজারও প্রশ্নের না পাওয়া সব উত্তর। সেদিন আমি জাগিয়ে তুলব নির্জন নিস্তব্ধ এই বনানীকে। জেগে উঠবে ঘুমন্ত এই শহর আমার চরম পুলকের আনন্দে। আমার এমন সব ভাবনার ঠিক এই মুহূর্তে মোবাইলটি বেজে উঠল। তাকিয়ে দেখলাম অপরিচিত একটা নাম্বার। আমার বুকের ভেতর ধুঁকধুঁক শুরু হয়ে গেল। মোবাইলটা রিসিভ করে কানে ধরব সেই শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছি। ভাবতেও পারছি না কে এই বিষণ্ন সময়ে ফোন করল? আমি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করলাম। বহুকষ্টে মোবাইলটা রিসিভ করলাম। তখন অপ্রত্যাশিত একটি কণ্ঠ ভেসে এল আমার কানে, সে বলল-এভাবে ঘুমহীন আর কতটা রাত জাগবে? আমি তার প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু জানতে চাইলাম, কে বলছেন? সে বলল তোমার পরিচিত সমস্ত মানুষের মধ্যে আমিও তোমার পরিচিত একটি মুখ যে মুখ বহুদিন তার চোখের ভাষায় ডেকেছে তোমায়, কিন্তু তুমি সে ডাকে সাড়া দাওনি! বুঝেও না বোঝার ভান করেছ। এখনো কি পারো না অতীতের সব দুঃখ-কষ্ট ঝেড়ে ফেলে জীবনটা নতুন করে সাজাতে, নতুন রঙে রাঙাতে? আমি আর কিছুই বলতে পারিনি তখন। শুধু ফোনটা কানে ধরে রেখেছিলাম। এমন অনেকেই মিষ্টি মুখের ভাষায় মায়াবী চোখের ইশারায় ডেকেছে আমায়। আমি যখনি তাদের সে ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে যেতে চেয়েছি ঠিক তখনই হৃদয়টা ভেদ করে বুকের গহিন থেকে কোকিল কণ্ঠের মতো ‘অধরা’ বলে উঠেছে, তুমি আমার শুধুই আমার, অন্য কারও নও। তখন আবারও হারিয়ে ফেলি তিল তিল করে সঞ্চয় করা আমার প্রাণশক্তিটুকু। নিদ্রাহীন নয়ন দুটি তার ফেরার আশায় জেগে থাকে, বক্ষে আকুল তৃষ্ণা নিয়ে।

কে এম তরিকুল ইসলাম (নয়ন)
নগরকান্দা, ফরিদপুর
ফোন : ০১৭৬২১২২০০০, ০১৯৩১০০৬১৩৬


একদিন এভাবেই
একদিন দুঃখের ভেতর কেমন ভোর জেগে ওঠে-তার রং
কিছুটা নীল, বাকিটা গোলাপি। যেন পাতার ওপর কালির
আঁচড় দিয়ে কেউ লিখে রেখেছে! শোক। পাতার অপর পিঠে
চিত্র-বিচিত্র সব আলপনা; কোনোটা ফুল, কোনোটা প্রজাপতি....

একদিন দুঃখের ভেতর কেমন রাত জেগে ওঠে-তার মন
কিছুটা সাদা, বাকিটা খয়েরি। যেন মনের এ-পিঠে পিছলে
যাচ্ছে জ্যোৎস্না, যেন আকাশে ডেকেছে বান! মনের ও-পিঠে সব
কালো মেঘগুলো জড়ো হতে হতে মিশে গেছে পাহাড়চূড়োয়....

একদিন-প্রতিদিন এভাবেই দুঃখ জেগে ওঠে। তার নিজস্ব
কোনো নাম নেই, রং নেই, নেই শব্দ, বর্ণ, গন্ধ। শুধু স্পর্শ....

একদিন, এভাবেই দুঃখের ভেতর
একদিন এভাবেই

জাহাঈীর আলম মিদুল