Skip to main content

মাদকের নীলদংশন

লেলিন চৌধুরী

গোড়ার কথা
অরণ্যচারী পশুজীবন থেকেই মাদকের সঙ্গে মানুষের পরিচয়। খাবারের খোঁজে বিভিন্ন ফুল, ফল, মূল, পাতা বা বাকলের স্বাদ নিতে গিয়ে মানুষ প্রথম শনাক্ত করে কিছু উদ্ভিদ, ফুল, ফল বা পাতাকে, যেগুলো খেলে বা গন্ধ নিলে মাথায় বা শরীরে একটি বিশেষ ধরনের অনুভূতি তৈরি হয়। এই বিশেষ অনুভূতিটির অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য সভ্যতাপূর্ব মানুষ সেই বিশেষ উদ্ভিদ বা উদ্ভিদের অংশ বারবার গ্রহণ করত। বিষয়টি পশুদের মধ্যেও লক্ষণীয়। যেমন-ভালুক মহুয়া ফুলের মধুর রসে মাতাল হয়।

সভ্যতাপূর্ব ধারাবাহিকতায় সভ্য মানুষ মাদককে গ্রহণ করে। তবে ক্রমেই উদ্ভিদ থেকে অজৈব পদার্থে এর বিসতৃতি লাভ করে। প্রায় প্রতিটি প্রাচীন সভ্যতায় মাদকদ্রব্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার প্রথম সৃষ্টি ‘ঋকবেদ’-এ বর্ণিত সোমরস এ ধরনের একটি মাদক। মাদক প্রভাবে অনুভবের বিভ্রম, কল্পিত বাস্তবতা ও অকারণ আনন্দ অনুভূতি তৈরি হয়। প্রাচীনকালে মাদকের এই বৈশিষ্ট্যকে মানুষ সম্ভবত লৌকিকতার অধিক কিছু ভাবত। তাই দেব অর্চনায়, ধর্মীয় উৎসবে মাদক ব্যবহার করা হতো। ঋকবেদে বিভিন্ন যজ্ঞে দেবতার উদ্দেশে সোমরসের আহুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শাসকরাও সাধারণভাবে মাদক সেবন করতেন।

মাদকের পরিচয়
মানব মস্তিষ্ক পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে চারপাশ থেকে তথ্য ও সঙ্কেত সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্তকে বিশ্লেষণ করে মস্তিষ্ক শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা প্রয়োজনীয় সাড়া তৈরি করে। আমৃত্যু মস্তিষ্ক অবিরাম সক্রিয় ও সতর্ক। কিছু কিছু দ্রব্যের প্রভাবে মস্তিষ্কের এই সতর্কভাব আচ্ছন্নতায় পরিবর্তিত হয়। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শরীরের বিভিন্ন অংশের সাড়া দেয়ার ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়। দ্রব্য প্রভাবিত আচ্ছন্নতা মানুষকে আনন্দ, বিষণ্নতা, অতি উত্তেজনা, ক্ষিপ্রতা, বিবেচনাবোধহীনতা বা তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করে ফেলে। ফলে মানুষ তখন নিজেকে ও বাস্তবতাকে যথার্থভাবে বিচার করতে ব্যর্থ হয়। যেসব দ্রব্য মানব মস্তিষ্কে এ ধরনের পরিবর্তন ঘটায় সেগুলোকে আমরা মাদকদ্রব্য বলি।গোড়ার কথা

অরণ্যচারী পশুজীবন থেকেই মাদকের সঙ্গে মানুষের পরিচয়। খাবারের খোঁজে বিভিন্ন ফুল, ফল, মূল, পাতা বা বাকলের স্বাদ নিতে গিয়ে মানুষ প্রথম শনাক্ত করে কিছু উদ্ভিদ, ফুল, ফল বা পাতাকে, যেগুলো খেলে বা গন্ধ নিলে মাথায় বা শরীরে একটি বিশেষ ধরনের অনুভূতি তৈরি হয়। এই বিশেষ অনুভূতিটির অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য সভ্যতাপূর্ব মানুষ সেই বিশেষ উদ্ভিদ বা উদ্ভিদের অংশ বারবার গ্রহণ করত। বিষয়টি পশুদের মধ্যেও লক্ষণীয়। যেমন-ভালুক মহুয়া ফুলের মধুর রসে মাতাল হয়।

সভ্যতাপূর্ব ধারাবাহিকতায় সভ্য মানুষ মাদককে গ্রহণ করে। তবে ক্রমেই উদ্ভিদ থেকে অজৈব পদার্থে এর বিসতৃতি লাভ করে। প্রায় প্রতিটি প্রাচীন সভ্যতায় মাদকদ্রব্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার প্রথম সৃষ্টি ‘ঋকবেদ’-এ বর্ণিত সোমরস এ ধরনের একটি মাদক। মাদক প্রভাবে অনুভবের বিভ্রম, কল্পিত বাস্তবতা ও অকারণ আনন্দ অনুভূতি তৈরি হয়। প্রাচীনকালে মাদকের এই বৈশিষ্ট্যকে মানুষ সম্ভবত লৌকিকতার অধিক কিছু ভাবত। তাই দেব অর্চনায়, ধর্মীয় উৎসবে মাদক ব্যবহার করা হতো। ঋকবেদে বিভিন্ন যজ্ঞে দেবতার উদ্দেশে সোমরসের আহুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শাসকরাও সাধারণভাবে মাদক সেবন করতেন।

মাদকের পরিচয়
মানব মস্তিষ্ক পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে চারপাশ থেকে তথ্য ও সঙ্কেত সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্তকে বিশ্লেষণ করে মস্তিষ্ক শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা প্রয়োজনীয় সাড়া তৈরি করে। আমৃত্যু মস্তিষ্ক অবিরাম সক্রিয় ও সতর্ক। কিছু কিছু দ্রব্যের প্রভাবে মস্তিষ্কের এই সতর্কভাব আচ্ছন্নতায় পরিবর্তিত হয়। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শরীরের বিভিন্ন অংশের সাড়া দেয়ার ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়। দ্রব্য প্রভাবিত আচ্ছন্নতা মানুষকে আনন্দ, বিষণ্নতা, অতি উত্তেজনা, ক্ষিপ্রতা, বিবেচনাবোধহীনতা বা তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করে ফেলে। ফলে মানুষ তখন নিজেকে ও বাস্তবতাকে যথার্থভাবে বিচার করতে ব্যর্থ হয়। যেসব দ্রব্য মানব মস্তিষ্কে এ ধরনের পরিবর্তন ঘটায় সেগুলোকে আমরা মাদকদ্রব্য বলি।

মাদকের উৎস
প্রাচীনকালে মাদকের প্রধান উৎস ছিল উদ্ভিদ। জ্ঞানবিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে মানুষ জটিলতর জীবনে পা দেয়। একই সঙ্গে মাদকের উৎস ও প্রস্তুতি পদ্ধতিও জটিলতর হতে থাকে। ফুল, ফল, পাতা, লতা, গাছের ছাল, রস ও মূল, মসলা, খাদ্যশস্য ইত্যাদি হচ্ছে মাদক তৈরির প্রধান কাঁচামাল। এছাড়া মাদক তৈরিতে খনিজ উপকরণ ব্যবহার করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত রাসায়নিক পদার্থও মাদকের আরেকটি উৎস। বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা ওষুধকেও মাদকদ্রব্য হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। সাপ ও অন্যান্য বিষাক্ত প্রাণীর বিষকেও মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মাদক তৈরি শিল্প স্থাপনার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাদক গ্রহণ পদ্ধতি
গলাধঃকরণ ও ধোঁয়া আকারে নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ হচ্ছে মাদক সেবনের প্রাচীন পদ্ধতি। আধুনিককালে ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরাপথে বা মাংসপেশিতে মাদক গ্রহণ বেশ জনপ্রিয়। সাপের মতো প্রাণীর কামড় খেয়েও কেউ কেউ নেশাগ্রস্ত হয়। কিছু ওষুধজাতীয় মাদক মলদ্বারে বা জিভের নিচে রেখে দিলেও শোষিত হয়।

মাদক কীভাবে আসক্তি তৈরি করে
মাদকদ্রব্য যে পদ্ধতিতেই গ্রহণ করা হোক না কেন এটি শরীরের রক্তে মিশ্রিত হয়। মাদকবাহী রক্ত শরীরের প্রতিটি কোষে প্রবাহিত হয়। মানুষের শরীরকে পরিচালনা করে মস্তিষ্ক। আগেই বলা হয়েছে মাদক মানুষের মস্তিষ্কের কোষগুলোর কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে এক ধরনের আচ্ছন্ন ভাবের সৃষ্টি করে। এতে ভাবনা ও অনুভূতি তৈরি এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। মস্তিষ্ক বিদ্যমান বাস্তবতাকে অনুধাবন ও বিচার করতে যথার্থভাবে সমর্থ হয় না। শরীরের অন্যান্য স্থানের কোষে মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি কোষের ভেতর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়। মস্তিষ্ক ও শরীর কোষে মাদকের প্রভাবে যে পরিবর্তন ঘটে সেটা ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু মাদকের নিয়মিত এবং পুনঃপুনঃ উপস্থিতি এক ধরনের অভ্যস্ততা (Conditioning)  সৃষ্টি করে। ক্রমান্বয়ে এ রকম ঘটতে থাকলে মস্তিষ্কসহ সব দেহকোষ মাদকের অনুপস্থিতি হলেই এক ধরনের অস্বস্তি বা ক্ষুধাবোধে আক্রান্ত হয়। শরীরের এই অবস্থাকে বলা হয় নির্ভরতা অবস্থা বা dependency। মাদকনির্ভরতা দুই ধরনের : ১. মানসিক নির্ভরতা (psychological dependency) ২. শারীরিক নির্ভরতা (physical dependency)

মাদকাসক্তি কেন ক্ষতিকর
মাদকের উপস্থিতি মানব মস্তিষ্ক ও দেহে বহুমাত্রিক আচ্ছন্নতা তৈরি করে। মস্তিষ্ক ও শরীর সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেই একজন মানুষ ‘মানব জীবন’ যাপন করতে পারে। দায়িত্ব, কর্তব্য, যৌক্তিকতা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিনির্মাণসহ মানুষের সবকিছুর ভিত্তি হচ্ছে মানব মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম। মস্তিষ্ক নির্দেশিত ধারায় মানব শরীরের শ্রম নিয়োগের মধ্য দিয়েই মানবসভ্যতা সৃজিত হয়েছে। মাদকের প্রভাবে মস্তিষ্ক ও শরীর স্বাভাবিক কর্মের বদলে মাদক প্রভাবিত অস্বাভাবিক কাজকর্মকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে। এতে মানুষের জীবনমানের অবনয়ন ঘটে। মাদকাসক্তির দৃষ্টিগ্রাহ্য ফলাফলগুলোকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করি।

এক. মস্তিষ্কসংক্রান্তঃ মাদক প্রভাবিত মস্তিষ্ক মানবিক সতর্কতা ও কার্যক্রম হারিয়ে ফেলে। ফলে শরীরকে বাস্তবতা অনুযায়ী পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়। ধীরে ধীরে মানুষটি অথর্ব হয়ে পড়ে। এতে অপমৃত্যু ঘটে একজন মানুষের অপরিমেয় সম্ভাবনার।

দুই. শারীরিকঃ  মাদক গ্রহণের ফলে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বিঘ্ন তৈরি হয়। যেমন কিডনি হচ্ছে শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্জ্য। নিষ্কাশনযন্ত্র। অনেকগুলো মাদক এই কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে বিকল করে ফেলে। লিভার হচ্ছে শরীরের ল্যাবরেটরি হাউস। অনেক মাদক লিভারের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং চূড়ান্তভাবে লিভার ফেইলিওর তৈরি করে। খাদ্য পরিপাকের প্রধান দায়িত্ব পালন করে পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ হজম ক্ষমতা কমিয়ে দেয়া এবং এসব অঙ্গে ক্ষত তৈরি করে অনেক মাদক। শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণকারী মাদক ফুসফুসকে বিনষ্ট করে। ইনজেকশন দ্বারা গৃহীত মাদক শরীরে পচন ধরিয়ে দেয়। মাদক নারী-পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমিয়ে দেয়। দৃষ্টি এবং শ্রবণক্ষমতাও নষ্ট হতে পারে মাদক দ্বারা। মাদকের প্রভাবে চর্মরোগ হয়। মাদকের ইনজেকশনের সঙ্গে এইডস, হেপাটাইটিস-বি ও সিসহ নানাজাতীয় প্রাণঘাতী ভাইরাস শরীরে ঢুকে যায়। খুব সংক্ষেপে বলা যায় মাদক শরীরের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে ঋতিগ্রস্ত করে বিকলতার দিকে নিয়ে যায়। লিভার বা কিডনির মতো একটি অঙ্গের বিকল হওয়ার সরল অর্থ হচ্ছে মৃত্যু। তাই মানব শরীরে মাদকের চূড়ান্ত রূপ হচ্ছে মৃত্যু।

তিন. সমাজসম্পর্কিতঃ মানুষ সামাজিক প্রাণী। তার অতি উন্নত মস্তিষ্ক তাকে সমাজবদ্ধভাবে সভ্য হতে শিখিয়েছে। মাদকের প্রভাবে একজন মানুষ সমাজের সভ্য হিসেবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এতে একাধারে সমাজ একজন সদস্যের মেধা এবং শ্রম উৎসারিত অবদান থেকে বঞ্চিত হয়, অন্যদিকে ব্যক্তিটিও সামাজিক মানুষের মূল স্রোত থেকে খসে পড়ে। এতে ব্যর্থ হয় একটি মানবসত্তা। মাদকাসক্ত মানুষটির জন্য তার পরিবার ও চারপাশের সবাই যন্ত্রণাবিদ্ধ হয়।

মাদকাসক্তির শুরু
মানবসত্তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কৌতূহল। কেমন অনুভূতি হয়-এই কৌতুহলের বশে অনেকেরই মাদক সেবনের হাতেখড়ি হয়। তারপর ধীরে ধীরে ফাঁদে জড়ায়। বন্ধুসঙ্গও অনেককে মাদকে অভ্যন্ত করে। জীবনের ব্যর্থতা বা যন্ত্রণা ভুলতে অনেকে নেশায় আসক্ত হয়। রোমাঞ্চকর অনুভূতি বা ফ্যান্টাসি তৈরির ভাবনা থেকেও কেউ কেউ মাদক নেয়। অনেকে আনন্দে বুঁদ হওয়ার জন্য মাদক নেয়া শুরু করে। অলস অর্থবিত্তের সঙ্গে মাদকের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অর্থলোভী ব্যবসায়ীর পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অনেকে মাদকে জড়ায়। অপরাধের সঙ্গে যুক্তরা অন্তর্দ্বন্দ্ব ভোলার জন্য মাদক গ্রহণ করে। অনেক ধর্মসাধনার সঙ্গে মাদক গ্রহণের সংযোগ রয়েছে। প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের জন্য কেউ কেউ মাদক নেয়। ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ হিসেবেও অনেকে অ্যালকোহলের মতো মাদক গ্রহণ করে।

মাদক প্রতিরোধের পথ
মাদক থেকে রক্ষা পেতে হলে মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, বিপণন ও লভ্যতা বন্ধ করতে হবে। সামাজিক পরিবেশকে ‘মানব বিকাশ বান্ধব’ করতে হবে। মাদকের কুফল ও পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে ওয়াকিবহাল করার সব ব্যবস্থা সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। পরিবারে, বিদ্যালয়ে ও সমাজের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সুস্থতার চর্চা মাদকাসক্তি প্রতিরোধের দেয়াল তুলতে পারে। মাদক ব্যবস্থাকে কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের কারণে মাদকের ব্যবহার কমাতে সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল মাদকরোধে বিশাল ভূমিকা পালন করে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজটিও যথাযথভাবে করতে হবে।

শেষ কথা
মাদক মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিঃশেষ করে ফেলে। এর প্রভাবে ধ্বংস হয় ব্যক্তি, বিপর্যস্ত হয় পরিবার এবং নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয় সমাজ। যে অপরিমেয় সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানোর মধ্য দিয়ে মানুষ আজ সভ্যতা বিনির্মাণকারী, মাদক তাকে ধ্বংস করে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বর্তমান উন্নয়ন আমাদের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে মাদকের জীবনবিরোধী এবং চূড়ান্তভাবে সভ্যতাবিরোধী রূপ। তাই মানুষের বসবাসযোগ্য সমাজকে মাদকমুক্ত করতেই হবে।

লেখকঃ চিকিৎসক ও শিশু সংগঠক