Skip to main content

পরামর্শ পাতা

পাঠক প্রশ্নের উত্তর

মানসিক, স্নায়বিক, মাথাব্যথা, মৃগীরোগ, মাদকাসক্তি ঘুমের
সমস্যা ও সাধারণ সেক্স সমস্যার

মো. মামুনুর রশীদ
কোটচাঁদপুর ঝিনাইদহ
আমার বয়স ২৯ বছর। অবিবাহিত। আমি যতক্ষণ জেগে থাকি অর্থাৎ ঘুম ছাড়া সব সময় আমার ব্রেনে আজেবাজে চিন্তা কাজ করে। জীবন নিয়ে হতাশায় আছি। সব সময় মনে হয় যদি ছোটবেলা এভাবে কিংবা অন্যভাবে অর্থাৎ মনের মধ্যে বিভিন্ন রকম প্রতিষ্ঠা পাওয়ার স্বপ্ন জাগে। বর্তমানে আমি ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেটের একটি দোকানে সেলসম্যানের কাজ করি কিন্তু তাতে মানসিকভাবে কোনোভাবেই আমি তৃপ্ত নই। আমার মনে হয় যদি কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরি করতে পারতাম তাহলে জীবনে পূর্ণ সুখ উপভোগ করতাম। এটাই সব সময় আমার ব্রেইনে কাজ করে। অন্যদিকে আর সমস্যা হচ্ছে আমি কোনো দুঃখের ঘটনা বা দুঃখের ছবি দেখতে পারি না বাচ্চাদের মতো কান্না আসে। আমি সংসারের তথা বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। বর্তমানে পরিবার আমার কাছে কিছু আশা করে কিন্তু সেই হিসেবে আমি পরিবারের প্রতি তেমন কোনো উপকারে আসতে পারছি না যা আমার ব্রেনে সব সময় আঘাত করতে থাকে। বর্তমানে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাকে কী করতে হবে সে বিষয়ে একটা পরামর্শ মনোজগতে আশা করছি।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি মূলত অবসেশন সমস্যাতে ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষাতে এর পুরো নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এ রোগে মনের মাঝে নানা কল্পনা অযথা ঘুরাঘুরি করতে থাকে। ব্যক্তি চায় তার চিন্তা গুলো বের হয়ে যাক, তার পরেও কিছুতেই মন থেকে বের করতে পারেন না। এ কারণে ক্রমে ক্রমে বিষণ্নতা চলে আসতে থাকে। আপনার মনের মাঝে অবসেশন সমস্যার পাশাপাশি বিষণ্নতার সমস্যা রয়েছে।

আপনার সমস্যার বেলাতে ওষুধ চিকিৎসার সাথে সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং দরকার। ওষুধ হিসেবে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে খাওয়ার পর ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট লেক্সোটানিল প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন। ২০ দিন পর রাতের ওষুধটা বন্ধ করে দেবেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। যদি ঘুম কম হয় তাহলে ট্যাবলেট ট্রিপটিন ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য আপনার সমস্যার বেলাতে ওষুধ খাওয়ার সাথে সাথে আপনার অবস্থার পরিবর্তন হবে না। এক্ষেত্রে পরিবর্তনটা হবে খুব ধীরে ধীরে-আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। এক থেকে দেড় মাস যাবার পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

শরীফুল ইসলাম
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার সমস্যাগুলো নিচে উল্লেখ করলাম। কোনো কিছুতে আনন্দ পাই না, রাতে ঘুম হয় না, পরদিন সকালে অর্ধেক বেলা পর্যন্ত না ঘুমালে ক্লান্তি লাগে। অন্যান্য আরো সমস্যা হলো-হতাশাবোধ, অপরাধবোধ এবং সিদ্ধান্তহীনতা। জীবনটাকে অর্থহীন মনে হয়, মনে হয় বেঁচে থেকে কী লাভ। বেঁচে থাকাটাই বোধ হয় কষ্টের। সামপ্রতিক সময়ে আমি আমার স্বাস্থ্য নিয়ে খুবই চিন্তিত। স্বাস্থ্য খুবই খারাপ। এই বয়সেই চেহারা থেকে তারুণ্য চলে গেছে। মাস্টারবেশন অভ্যাস আছে। আমার সমস্যার প্রতিকার মনোজগত পরামর্শ পাতায় আশা করি।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি মূলত ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষাতে এ রোগের নাম ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার। এতে মনের মাঝে হতাশা জুড়ে বসে-আনন্দ কমে যায় বা চলে যায়। তার জায়গা দখল করে নেয় অশান্তি আর বিরক্তি। আপনার বেলাতে তা বেশ প্রকট মাত্রায় চলে এসেছে। জীবনকে অর্থহীন মনে হওয়া, বেঁচে থেকে লাভ কী এগুলোর মধ্য দিয়ে আপনার আত্মহত্যার ইচ্ছা প্রকাশ পাচ্ছে। পাশাপাশি আপনার মাঝে প্রচুর সেক্সুয়াল অ্যাংজাইটি রয়েছে। এ কারণে আপনার বেলাতে সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং দরকার।

ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট লুডিওমিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ৩ দিন পর ২টা করে খাবেন। পাশাপাশি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খাবেন। ওষুধ শুরু করে দিন। ওষুধ শুরু করলেও আপনার মনের অবস্থার উন্নতির শুরু হতে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এক্ষেত্রে আসলে ধৈর্যের দরকার। দেড়-দুই মাস পর কিছুটা ভালো বোধ করবেন। আমাদের সাথে দেড় মাস পর যোগাযোগ করবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

মো. লিটন
চরহাজারী, নোয়াখালী
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার সমস্যা হলো-নিজেকে ছোট ভাবা। আমি সব সময় নিজেকে ছোট ভাবতে থাকি। নিজেকে ছোট ভাবার কারণ একটাইথ-বয়স হলো অথচ মুখে দাড়ি, গোঁফ নেই। এটা নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তিত থাকি। শুধু তাই নয়, যখন বন্ধু-বান্ধবের সামনে যাই তখন নিজের কাছে লজ্জা লাগে। আর বন্ধুরাও মশকরা করে লজ্জা দিতে থাকে। তখন নিজের কাছে খুবই খারাপ লাগে। দাড়ি, গোঁফ নেই বলে অনেকেই বয়সের তুলনায় ছোট ছেলে ভাবে। এখন আমার প্রশ্ন হলো-এই রোগের কি কোনো চিকিৎসা নেই, যদি থাকে তাহলে জানালে উপকৃত হব।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি লো সেলফ  এস্টেম ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। আপনার শরীরী সমস্যা যত না, তার চেয়েও বেশি আপনার মনের ভোগান্তি আর দুশ্চিন্তা। আপনার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো তেইশ বছর বয়স অথচ মুখে দাড়ি-গোঁফ নেই। এটি নিয়ে এতটা দুশ্চিন্তার কারণ নেই। দেহে দাড়ি-গোঁফ বিকাশ একটা সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্য। এ ক্ষেত্রে যেটি গুরুত্বপূর্ণ আপনার দেহে যৌনাঙ্গের গোড়ার দিককার লোমের বিকাশ ঘটেছে কি না তা জানা দরকার। যদি এ ব্যাপারে আপনার কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে দাড়ি-গোঁফের ব্যাপার নিয়ে এতটা ভাবার দরকার নেই। অনেকের বেলাতে খুবই হাল্কামাত্রায় দাড়ি-গোঁফ গজাতে দেখা যায়। এমনকি কারো কারো বেলাতে তা সম্পূর্ণ অনুপস্থি'ত থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনি একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট দেখাতে পারেন। তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যেহেতু এ কারণে আপনি আপনার মনের দিক থেকে ভেঙে পড়েছেন এ কারণে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে কাউন্সিলিং করানো উচিত।

মো. সাইফুল্লাহ
শৈলকুপা, ঝিনাইদহ
আমার বয়স ২০ বছর। আমার বড় সমস্যা যে কোনো কাজে নার্ভাস ফিল করা। কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সঙ্গে, বিশেষ করে কোনো অপরিচিত বা অল্প পরিচিত মেয়ের সাথে মাথা তুলে ইজিভাবে কথা বলতে পারি না। ক্লাসে শিক্ষক কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয়ার সময়, বক্তৃতা দিতে গেলে, ঝগড়া বা কথা কাটাকাটির সময় বুক ধড়ফড় করে। অনেক সময় হাত-পা ঠকঠক করে কাঁপে। মনে মনে চিন্তা করি এই প্রশ্ন করব কিন্তু প্রশ্ন করার সময় ভুলে যাই। স্মরণশক্তি খুবই কম। এখনকার কথা কিছুক্ষণ পরেই ভুলে যাই। উপস্থিত বুদ্ধি নেই, ধৈর্যশক্তিও কম। মনে সাহস কম। আত্মবিশ্বাস নেই বললেই চলে। যদি কেউ আমাকে একটু ধমক দেয় তখন ভয় লাগে। পড়া মুখস্ত করতে পারি না। কষ্ট করে মুখস্ত করলেও মনে থাকে না। কোনো কিছু করার সংকল্প করলে তা করার জন্য অসি'র হয়ে পড়ি কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি না। বুদ্ধি কম, মনে হয় জীবনে আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। হৈ হুল্লোড়, গোলমাল একদম সহ্য করতে পারি না। চুপচাপ থাকতে ভালোবাসি, নিজেকে খুব ছোট মনে হয়।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম সোশ্যাল ফোবিয়া বা সামাজিক ভীতি। এটি এক ধরনের টেনশনের সমস্যা হলেও দীর্ঘদিন কেউ এ সমস্যাতে ভুগলে তা ক্রমে ক্রমে বিষণ্নতায় রূপ নেয়। আপনার বেলাতে এ কারণে ক্রমে ক্রমে বিষণ্নতা চেপে বসছে। আপনার সমস্যার বেলাতে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি দরকার। শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করানো হলে প্রথম দিকে বেশ ভালো বোধ হলেও পরবর্তীতে আবার আগের মতো অবস্থা হবে। আসলে এ ক্ষেত্রে প্রথমদিকে বেশ বাড়তি মাত্রায় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং আর সাইকোথেরাপি করে ওষুধ কমিয়ে আনা হয়।

আপনি ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট চিয়ার ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা  রাতে ১টা সেবন করবেন। প্রথমদিকে আপনার সমস্যা বেড়ে গেছে মনে হলেও আপনার জন্য জরুরি হলো অনতিবিলম্বে সাইকোথেরাপির জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করা।

মোছা. সোনিয়া খাতুন
পবা, রাজশাহী
আমার বয়স ৩৫ বছর। আমার সমস্যা হলো আমার নিকট কোনো কিছুই ভালো লাগে না। মনের কোনো স্থিরতা নেই, সব সময় অস্থির ও উদ্বিগ্ন থাকি। মনে কোনো আনন্দ উল্লাস নেই। স্বাভাবিক চিন্তার অভাব, অশ্লীল চিন্তাভাবনা মনের মধ্যে বিরাজ করে যা খুবই ঘৃণিত। সব সময় মেজাজ খিটখিটে থাকে কেউ কোনো ভালো কথা বললেও বিরক্ত লাগে। যার জন্য কোনো কাজ করতে ইচ্ছা করে না।

নিস্তেজ, অন্যমনস্কভাবে রুমের কোণে বুড়ো লোকদের মতো বসে থাকি। আবার আমি হাত, মুখ ও পা ধৌঁত করি। ধোয়ার সময় যদি কেউ কোনো কথা বা মিষ্টিজাতীয় জিনিসের কথা বলে তবে আবার ধুতে হয় এবং মনে হয় তাদের কথা আমার শরীরের সাথে লেগে গেছে। আমি আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীর সাথে এমনকি নিজের স্বামী ও সন্তানদের সাথে প্রাণ খুলে মিশতে পারি না এবং তাদের দেখলে আমার মনে ঘৃণা হয়। আমার বাড়িতে একটা সমস্যা শুরু হয়েছে তা হলো সবাই আমাকে গালিগালাজ করছে। আমি ২ বছর ধরে এ সমস্যায় ভুগছি।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি মূলত বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষাতে এ সমস্যার নাম ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার। বিষণ্নতা সমস্যা আপনার অবসেশন সমস্যার কারণে তৈরি হয়েছে। এ অবসেশন সমস্যার কারণে আপনার মনের মাঝে নানা অশ্লীল চিন্তাগুলো ঘুরাঘুরি করতে থাকে। আবার বিষণ্নতার কারণে মনের মাঝে স্বাভাবিক চিন্তার ঘাটতি হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ভোগার কারণে আপনার সমস্যার প্রকটতা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। আপনার সমস্যার বেলাতে আগেই চিকিৎসা করানো উচিত। আপনার বেলাতে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি দরকার।

আপনি ওষুধ হিসেবে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট  অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করবেন। ওষুধ শুরু করলেও উপকার পেতে সময় লাগবে। আপনার বেলাতে ওষুধ অনেক দিন খেতে হবে। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ওষুধ সেবনের কারণে প্রথমদিকে দুর্বল লাগা বা ঘুম ঘুম ভাব লাগতে পারে। আমাদের সাথে ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

আদিত্য
মতিঝিল, ঢাকা
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার সমস্যা হলো-আমার মাথার মধ্যে প্রায় সব সময় আজেবাজে চিন্তা ঘুরপাক খায়। বিশেষ করে রাতে শোয়ার সময়। চিন্তাটা পারিপার্শ্বিক যেমন-কে কী করল, কেন করল, আমি করলে কী হতো ইত্যাদি। এছাড়া চারপাশের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিক্রিয়া মাথায় অযথা কাজ করে। এ জন্য আমার রাতে ঘুম একেবারেই হতো না। কিছু দিন যাবৎ একজনের পরামর্শে সেডিল এবং মাল্টিভিট খাচ্ছি। এখন ঘুমটা একটু (গভীর নয়) হলেও বাজে চিন্তাটা কমেনি। সাথে যৌন চিন্তাটাও রয়েছে।

আমার স্বাস্থ্য নিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তা এবং এটা প্রকট। আয়নায় নিজের চেহারা ও শরীর দেখলে মনটা একদম খারাপ এবং অস্থি'র লাগে। মুখের গাল, চোখ, একদম বসে গেছে। আমার হার্ট খুব দুর্বল, কোনো ফাংশনে নিজেকে প্রকাশ করতে ভীষণ লজ্জা পাই। সেখানে জোরে কোনো কথা বলতে কিংবা সবার সামনে হাঁটাচলা করতে পর্যন্ত লজ্জা এবং ভয় পাই। আর মেয়েদের সামনে তো আমি একেবারেই নার্ভাস, হাত-পা কাঁপা শুরু হয়ে যায়। বুকের মধ্যে মারাত্মক ধুঁকধুঁক শব্দ করে, ব্যথাও করে মাঝেমধ্যে। ইদানীং লক্ষ করছি আমার স্মরণশক্তি লোপ পাচ্ছে, অনেক সামপ্রতিক বিষয়ও মনে রাখতে পারছি না। পড়তে বসলে শব্দ করে পড়লে মাথা ধরে যায়। ঘনঘন হাই আসে, চোখে পানি এসে যায়, ক্লান্তি লাগে। উল্লেখ্য দেড় থেকে দুই বছর যাবৎ আমি এই সমস্যায় ভুগছি।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা মূলত অবসেশন। এ কারণে আপনার মনের মাঝে নানা আজেবাজে চিন্তা ঘুরপাক করে। এ কারণে আপনার মনোযোগ ক্ষমতা, স্মরণক্ষমতা ইত্যাদি কমে আসে। এ কারণে দীর্ঘদিন যদি চিকিৎসা করানো না হয় তাহলে বিষণ্নতা সমস্যা আসতে পারে। আপনার বেলাতে এ বিষণ্নতা সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিষণ্নতা সমস্যার পাশাপাশি আপনার মাঝে সোশ্যাল ফোবিয়ার সমস্যা আছে। এ কারণে আপনার সহজাত স্বাভাবিক আচরণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে আপনার পারদর্শিতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

আপনি ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট জেনাক্স ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে ১টা করে খাবেন। ওষুধের পাশাপাশি আপনার সাইকোথেরাপি করাতে হবে। সাইকোথেরাপি না করালে আপনার বিষণ্নতা কমে গেলেও আপনার সোশ্যাল ফোবিয়া সমস্যার তেমন একটা উন্নতি হবে না। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।                      

মো. এনামুল হক
বটিয়াঘাটা, খুলনা
আমি অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। আমার যতদূর মনে পড়ে ১৯৮৭ সালের দিকে আমি যখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি তখন থেকে আমার এই সমস্যাটা আমার কাছে ধরা পড়ে। আমাদের শরীরচর্চার স্যার যখন বাম-ডান করাচ্ছিলেন ঠিক সেই সময় আমার হাত-পা থেকে যেন শক্তি হারিয়ে যাচ্ছিল, আমি স্বাভাবিকভাবে হাত-পা মাটি থেকে তুলতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল হাঁটতে গেলে মাটিতে পড়ে যাব এবং দেখা গেল যে, ১৫-২০ সেকেন্ড পর তা আবার ঠিক হয়ে গেল। তারপর থেকে কখনো দিনে দুই-তিনবার কখনো বা এক-দুই দিন পরপর আবার কখনো বা এক মাস পর পর এই সমস্যা দেখা দেয় এবং আজ পর্যন্ত এই সমস্যা আমার রয়ে গেছে।

কেউ যদি আমাকে হঠাৎ ডাক দিয়ে তাড়াতাড়ি যেতে বলে, ক্রিকেট খেলায় বল করার সময় বল হাত থেকে ছুড়ে দেবার পরপরই। কেউ যদি কোনো উঁচু মাপের লোক বা কোনো সুন্দরী মহিলার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে যায় তখন। আমি যদি কোনো কাজ দ্রুত করতে যাই তাহলে। মসজিদে খুতবা শোনার পর নামাজের জন্য দাঁড়ানোর সময় এই সময়গুলোতে এটা বেশি হয়।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার যে সমস্যাটির কথা বলেছেন তা সাইকোলজিক্যাল না হয়ে নিউরোলজিক্যাল হতে পারে। আমার কাছে মনে হয় আপনার সমস্যাটি এপিলেপসি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে সরাসরি আমাদের সাথে দেখা করা। কারণ এক্ষেত্রে কেবল রোগের ইতিহাস দেখে চিকিৎসা দেয়া অনুচিত। এসব ক্ষেত্রে ইইজি ইলেকট্রো এনকেফালোগ্রাম করানো হয়ে থাকে। প্রয়োজনে সিটি স্ক্যান অব ব্রেন টেস্ট করাতে হবে। আপনার বেলাতেও বিলম্ব করা উচিত নয়। এ কারণে আপনার উচিত হবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা। আপনি ইতিপূর্বে কোনো পরীক্ষা করিয়ে থাকলে বা কোনো ডাক্তার দেখিয়ে থাকলে কাজগপত্র অবশ্যই সাথে করে নিয়ে আসবেন। মৃগীরোগ যতই হাল্কা মাত্রার হোক না কেন, এর চিকিৎসা করাতে হবে। কারণ প্রতিবার মৃগীর আক্রমণে মস্তিষ্কের অনেকগুলো কোষ নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে ধীরে ধীরে আপনার পারফরমেন্স নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মুক্তা
নান্দাইল, ময়মনসিংহ
আমার বয়স ২১ বছর। মনোজগত পরামর্শ বিভাগটি আমার খুবই প্রিয়। আমার ৪ বছর হলো বিয়ে হয়েছে। আমার স্বামীর বয়স ২৬ বছর। আমার প্রধান সমস্যা হলো-আমার প্রচুর সাদা স্রাব হয়। অল্পতেই আমার সাদা স্রাব হয়ে যায়। আমি স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগছি বিধায় আমার শরীর দুর্বল থাকে। এখন কী ব্যবস্স্থানিলে আমার সাদা স্রাব যাওয়া বন্ধ হবে এবং স্বাস্থ্য হবে। এ মুহূর্তে মনোজগত পরামর্শ বিভাগের মাধ্যমেই আমি আমার সমস্যার সমাধান কামনা করছি।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি আমাদের মনোজগত পত্রিকার পাঠিকা জেনে আমরা আনন্দবোধ করছি। আপনার সাদা স্রাবের যে সমস্যা হয় তা সাইকোলজিক্যাল। তবে এ ক্ষেত্রে আপনার সেক্সুয়াল হেলথ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা উচিত। আপনি আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখতে পারেন। এতে করে আপনার মাঝে যৌনতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা আর দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটবে। আপনার সমস্যাটির বেলাতে সেক্সুয়াল হাইজিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাদা স্রাবের ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট ফ্লাজিল ৪০০ মিলিগ্রাম সকাল, দুপুর এবং রাতে মোট তিনবার সেবন করবেন। ৭ দিন পরেও যদি না সারে তাহলে ক্যাপসুল ফ্লুগাল ৫০ মিলিগ্রাম সকালে আর রাতে ১টা করে ৫ দিন খাবেন। আপনার বেলাতে যেটি জ্ঞাতব্য-মেয়েদের সাদা স্রাবের এ সমস্যাটি খুবই সাধারণ আর তা বারবার হতে পারে। এতে চিকিৎসাও বারবার নেয়া যায়। তবে গর্ভবতী হলে এ ওষুধগুলো সেবন করা যাবে না।

আরাফাত রহমান
মুলাদী, বরিশাল
আমার বয়স ২২ বছর। আমি একজন ছাত্র। আমি পড়তে বসলে নানা ধরনের প্রশ্ন মনে আসে। কখনো বড়লোক হয়ে যাই এমন ভাবি আবার নিজের সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। আবার কখনো অন্যান্য চিন্তা করি। এতে আমি কোনো সময়ই মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারি না। আমার স্মরণশক্তি প্রচন্ড কমে গেছে, এর ফলে পড়াশোনা বা কেউ কিছু বললে মনে রাখতে পারি না। আমার মনে হয় দূরে গিয়ে বা ভার্সিটিতে গিয়ে কারো সাথে মিশতে পারি না। আমি মেয়েদের সাথে ভালোভাবে কথা বলতে পারি না। আমি সব ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। আমার উপস্থিত বুদ্ধিও কম।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেশনে ভুগছেন। আপনার সমস্যার নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। তবে আপনার মাঝে সমস্যাটি হাল্কামাত্রায় রয়েছে। এ কারণে বিষণ্নতা বা অ্যাংজাইটির মাত্রা তেমনটা বেশি নয়। তবে এটিকে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। কারণ আপনার মাঝে হাল্কামাত্রা সোশ্যাল ফোবিয়ার সমস্যা রয়েছে। এটি উত্তরোত্তর বাড়তে থাকবে। যদি ঠিকমতো চিকিৎসা করানো না যায়। এ ক্ষেত্রে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি দরকার। শুধুমাত্র ওষুধ দেয়া হলে প্রথমদিকে হাল্কা উন্নতিবোধ হলেও পরবর্তীতে পর্যাপ্ত উন্নতি নাও হতে পারে। এ কারণে সাইকোথেরাপি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

আপনি ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। সাইকোথেরাপির জন্য আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।

অনন- আচার্য্য
সাভার, ঢাকা
আমার বয়স ২৪ বছর। আমার সমস্যা নিজেকে খুবই অসহায় মনে হয়। বিশেষ করে যখন নতুন কোনো জায়গায় বেড়াতে বা থাকতে যাই। সবকিছু কেমন যেন অপরিচিত মনে হয়। মনে হয় আমার বুঝি কেউ নেই। সারাক্ষণ বিষণ্নতা লাগে। কোনো কাজ করে তৃপ্ত হতে পারি না। মনে হয় কাজটি ঠিক হয়নি। এভাবে বা ওভাবে করলে ভালো হতো। ফলে সাধারণ এক জিনিস থেকে অকারণেই আমাকে অনেক টেনশন পোহাতে হয়। একই কাজ বারবার করার প্রবণতাও দেখা যায়। আত্মবিশ্বাসের খুবই অভাব। হস্তমৈথুন বা স্বপ্নদোষের পর প্রচন্ড মাথাব্যথা হয় সেই সাথে শরীরেও। হার্টবিট অনেক বেড়ে যায়, ঘন ঘন শারীরিক সমস্যা হয়। ইদানীং গরমের সময় শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয় যা স্বাভাবিকের চেয়েও অনেক বেশি। শরীর কিটমিট করে। রাগ উঠলে মাথা খুবই গরম হয়ে যায়। কারও সাথে ঝগড়া লাগলে আমার হিতাহিতজ্ঞান থাকে না। কেমন যেন পাগলের মতো কাজকর্ম করে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলি। মনে হয় সবাই আমার সামনে সমালোচনা করে। মানুষের সামনে দিয়ে যখন যাই তখন মনে হয় তারা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কয়েক দিন যাবৎ মাথার তালুতে খুব বেশি ব্যথা হয়।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। বিষণ্নতা সমস্যাটি মোটামুটি ভালো মাত্রায় বিদ্যমান। বিষণ্নতার কারণে আপনার  মাঝে টেনশনের সমস্যা হচ্ছে-এ কারণে হার্টবিট বেড়ে যায়। পাশাপাশি আপনার মাঝে কিছুটা সেক্সুয়াল অ্যাংজাইটি আছে-এ কারণে আপনাকে হস্তমৈথুনের কারণে নানা টেনশনে ভুগতে হয় আর স্বপ্নদোষের কারণে প্রচন্ড মাথাব্যথার সমস্যা হয়ে থাকে।

আপনি ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। এ জন্য ট্যাবলেট লুডিওমিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট চিয়ার ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খাবেন। আপনার সেক্সুয়াল অ্যাংজাইটির কারণে আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখতে পারেন। ওষুধগুলো অনেক দিন খেতে হবে। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। আমাদের সাথে দেড় মাসের মাথায় যোগাযোগ করবেন।

আওলাদ হোসেন
ধুনট, বগুড়া
আমার বয়স ১৬ বছর। সমপ্রতি তার কিছু সমস্যা দেখা দেয়ায় আপনার শরণাপন্ন হলাম। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে হঠাৎ প্রথমবার এবং পরে আরো কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে যায়। শারীরিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা আছে, খাবারে গন্ধ পায় বলে খায় না। কোনো প্রশ্ন করলে উত্তর পেতে ২০-২৫ মিনিট লেগে যায়। ঘুম হয় না, সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া নানা কারণে হতে পারে। তবে এটির মধ্যে প্রধান কারণ এপিলেপসি যেটিকে বাংলা ভাষায় মৃগীরোগ বলা হয়। যদিও মৃগীরোগের বেলাতে যে অজ্ঞান হয়ে থাকে তাতে খিঁচুনি দেখা যায়। কিন্তু এটি ছাড়াও অজ্ঞানতা প্রকাশ পেতে পারে। এক্ষেত্রে আসলে কোনো ইনভেস্টিগেশন ছাড়া রোগ ডায়াগনোসিস করা উচিত নয়। কারণ এপিলেপসি রোগের ক্ষেত্রে ওষুধ অনেক দিন সেবন করতে হয়। আপনি আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন। কোনো রোগীর মৃগীরোগ ডায়াগনোসিস করতে ইইজি টেস্ট করানো হয়ে থাকে। এতে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

সেকেন্দার আহমেদ
পোড়াদহ, কুষ্টিয়া
আমার বয়স ৩৪ বছর। পেশা শিক্ষকতা, ২ মাস হলো বিয়ে করেছি। বর্তমানে আমার যেসব সমস্যা রয়েছে-মাঝে মাঝে মাথার তালু গরম হয়ে যায়, বিশেষ করে স্টাডি করলে। পিপাসা বেশি লাগে, মাঝে মাঝে রাতে একেবারেই ঘুম আসে না। যৌনশক্তি তুলনামূলক কম। বর্তমানে গ্রাম্য সাধারণ ডাক্তারের পরামর্শে দীর্ঘ ১ বছর যাবৎ নরজিন ও সিটরিজিন সেবন করছি। আমার স্ত্রীর বয়স ২৩ বছর। বারডেমে প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা করে দেখেছি ডায়াবেটিস নেই। মাঝে মাঝে হীনম্মন্যতায় ভুগি, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাথার তালু গরম হওয়া, দয়া করে এর সমাধান দিয়ে চিরকৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করবেন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। কেবল এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনার ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া কঠিন ব্যাপার। এক্ষেত্রে আপনার সরাসরি যোগাযোগ করাটাই উচিত। তবে আপনি আপাতত ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি সেবন করে দেখতে পারেন। ৩ সপ্তাহ পরে অবশ্যই আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।

আব্দুল গফুর চৌধুরী
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৬ বছর, অবিবাহিত এবং পড়াশোনা করি। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ একটা মানসিক সমস্যায় ভুগছি। বাইরের মানুষকে সব সময় এড়িয়ে চলি, কোনো অপরিচিত লোকের সাথে কথা বললে বুক ধড়ফড় করে, বাবরার ঢোঁক গিলতে হয়। অনেক লোকের সামনে সাহস নিয়ে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। এ জন্য আমাকে অনেক লজ্জা পেতে হয়। গত জুলাই মাসে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মানসিক বহির্বিভাগে গেলে ডাক্তার এটাকে সোশ্যাল ফোবিয়া বলে এবং আমাকে রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম ১৫ দিন সকালে অর্ধেক এবং রাতে ১টি করে সেবন করতে বলেন। ১৫ দিন পরে আবার যোগাযোগ করলে অন্য আর একজন ডাক্তার সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম সকালে ১টি এবং রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি এবং রাতে ১টি করে ২১ দিন খেতে বলেন। আমি উভয় ডাক্তারের পরামর্শমতো শুধুমাত্র দ্বিতীয় ডাক্তারের পরামর্শমতে সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম বাদ দিয়ে বাকি ওষুধ সেবন করেছি। এই ওষুধগুলো সেবন করার পর আমার কিছুটা উন্নতি হয়েছে কিন্তু একটা সমস্যা এখনো অনেক লোকের সামনে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না, উপস্থিতি বুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি কাজ করে না। আর ঘুম প্রচুর বেড়ে গেছে, সামনে আমার এমএ পরীক্ষা। তাই দয়া করে আমাকে সৎ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার রোগের ডায়াগনোসিস এবং তাতে দেয়া ওষুধ দুটোই ঠিক আছে। ওষুধ সেবনে কিছুটা উন্নতি হয়েছে কিন্তু পুরোটা উন্নতি হয়নি। এর কারণ হলো সোশ্যাল ফোবিয়া কেবল ওষুধ চিকিৎসা করে সারানো সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার নানা ধরনের সাইকোথেরাপি আর বিহেভিয়ার মোডিফিকেশন। এ ব্যাপারে আপনার সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন। আমাদের দেশে মনোরোগ চিকিৎসায় সাইকোথেরাপির দিকটা মারাত্মকভাবে অবহেলিত রয়ে গেছে। সাইকোসিস সমস্যার বেলাতে ওষুধ দিয়ে সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি করা গেলেও নিউরোসিসে এর কোনো বিকল্প নেই। আপনি আপনার রোগ সম্পর্কে কিছু পড়াশোনা করতে পারেন। এতে কিছুটা উপকার পাবেন।

তুহিন শেখ
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
আমি মনোজগত পত্রিকার একজন পাঠক। এর আগে আমি আমার সমস্যার কথা আপনাকে লিখেছিলাম। আপনার মতে আমি অবসেশন ও বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছি। আপনার দেয়া নিয়মানুযায়ী টেলাজিন, অ্যানাফ্রেনিল ও রিভোট্রিল প্রায় সাত মাস যাবৎ সেবন করছি। এখন আমার মনে হয় আমি সম্পূর্ণ সুস্থ কারণ এখন আর আগের সমস্যাগুলো হচ্ছে না। তবে মনের মধ্যে আনন্দ ফূর্তি সব সময় বিরাজ করলেও মাথার ভেতরটা কেমন যেন হাল্কা মনে হয়। আয়নার সামনে নিজের মুখ দেখলে খুব বোকা আর বুদ্ধিহীন মনে হয়। স্মরণশক্তি একেবারে কমে গেছে। এ অবস্থায় কী করতে পারি জানালে আল্লাহর দরবারে আপনার জন্য দোয়া করব এবং কৃতজ্ঞ থাকব।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি একটা বিষয় উল্লেখ করেননি যে সাত মাসের মধ্যে আপনি যোগাযোগ করেছেন কিনা। যদি যোগাযোগ না করে থাকেন তাহলে কাজটা অবশ্যই ভুল করেছেন। মানসিক রোগের বেলাতে ওষুধ অনেক দিন সেবন করতে হয় ঠিক কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ওষুধের মাত্রা কমে আসে। আপনার ওষুধের মাত্রা অনেক আগেই কমানো উচিত ছিল। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট টেলাজিন আর খাওয়ার দরকার নেই। ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল কমিয়ে ১টাতে নিয়ে আসেন। সাথে সাথে ট্যাবলেট রিভোট্রিল চালিয়ে যান। ১ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

মো. আনিছুর রহমান
কুমারখালি, কুষ্টিয়া
আমার বয়স ২৪ বছর। আমি একটি ফার্মেসিতে চাকরি করি। আমি বেশ কিছু সমস্যায় ভুগছি। তাই আমার সমস্যাগুলো নিচে তুলে ধরলাম। সকালে যখন ঘুম থেকে উঠি তখন প্রচন্ড মাথাব্যথা করে ও মাথা ভারী হয়ে থাকে। তার সাথে বুক ধড়ফড় করে ও সমস্ত শরীর কাঁপতে থাকে। কোনো কিছুর সাহায্য না নিলে পড়ে যাই। স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বুদ্ধি খুব দুর্বল। কোনো পাঠের একদিক পড়লে অন্যদিক ভুলে যাই। কোনো কাজ করলে পরক্ষণে মনে থাকে না কী করলাম। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমি যে ফার্মেসিতে কাজ করি সে ফার্মেসিতে প্রচুর মালপত্র আছে। কোন মাল কখন কোথায় রাখি মনে রাখতে পারি না, এ জন্য মালিকের গালিগালাজ শুনতে হয়। কখন কাকে কোন মাল দেয়া হয় তা মনে রাখতে পারি না। কোনো কাজে মন বসাতে পারি না। মনের মধ্যে নানা রকম চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে। কল্পনাবিলাসী, কোনো কাজ করতে করতে হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে যাই। লোকে আমাকে পাগল বলে এর কোনো কারণ খুঁজে পাই না। কোনো বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না এবং জরুরিভাবে কোনো কাজ করতে পারি না। মেজাজ খিটখিটে থাকে, কেউ কোনো ভালো কথা বললেও বিরক্ত লাগে। স্বাভাবিক চিন্তার অভাব, অশ্লীল চিন্তা ভাবনা মনের মধ্যে বিরাজ করে, যা খুবই ঘৃণিত। নিজেকে খুব বড় বলে মনে হয়। বড়দের সম্মান করতে পারি না, সব সময় একা নির্জনে থাকতে ভালো লাগে। মনে হয় পৃথিবীতে আমার কেউ নেই, একা একা অনেক সময় কেঁদে ফেলি।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার নামে অভিহিত করা হয়। এ সমস্যাতে মনের মধ্যে নানা উদ্ভট চিন্তা,  আজগুবি কল্পনা বা  রকমারি ফ্যান্টাসি ঘুরতে থাকে। চিন্তাগুলো প্রায় আজগুবি আর কাল্পনিক হয়ে থাকে। ব্যক্তি ইচ্ছা করলেও ওই চিন্তাগুলোকে তাড়াতে পারে না। এটির কারণে রোগী কোনো কিছুতে মনোযোগই দিতে পারে না। রোগীর মনে বিষণ্নতা চেপে বসে। বিষণ্নতা উপসর্গগুলো ক্রমে ক্রমে প্রকাশ পেতে থাকে।

আপনি এক্ষেত্রে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন। ট্যাবলেট মেলেরিল ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ২০ দিন পর ট্যাবলেট মেলেরিল বন্ধ করে দিন। ১ মাস পর ট্যাবলেট রিভোট্রিল শুধু রাতে সেবন করবেন। অবসেশন সমস্যার বেলাতে রোগীর উন্নতি হতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় দরকার হয়। আমাদের সাথে দেড় মাস পরে যোগাযোগ করবেন। অবস্থার উন্নতি হলেও আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

মো. সাইদুর রহমান
ফরিদপুর, পাবনা
আমার বয়স ২৫ বছর। স্যার আমি ভালো ছাত্র ছিলাম। কিন্তু ভালো থাকতে পারলাম না মানুষের অবহেলায়। ১৯৯৮ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিই। সেই পরীক্ষায় বোর্ড আমাকে ফেল করিয়ে দেয় কিন্তু পরে রেজাল্ট ভালো আসে এবং ১ম বিভাগে পাস করি। ভুল করেছিল কম্পিউটার অপারেটর। যাই হোক এই ভুল আমার জীবনের অন্ধকার ডেকে আনল। চিন্তায়, কষ্টে, দুঃখে, লজ্জায়, বেদনায় যখন প্রায় শেষ সেই মুহূর্তে রেজাল্ট আসল। তখন প্রায় কলেজের চার মাস চলছে। তবুও মনের বল নিয়ে ভর্তি হলাম। ২০০০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিলাম। ৭০০-এর মতো নাম্বার পেয়েও পদার্থবিজ্ঞানে ৪ নাম্বার কম পেয়ে ফেল করি। এভাবে পরপর দুবার ফেল করি। এবার আবার পরীক্ষা দিয়েছি কী হয় জানি না। সবচেয়ে বড় কথা হলো সেই ১৯৯৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও এই চিন্তা, কষ্ট, যন্ত্রণা মাথা থেকে বের করতে পারিনি। এই চিন্তায় রাতে ঘুম ভালো হয় না, আস্তে আস্তে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে, শরীর খুব দুর্বল, মাথা গরম, মুখে রুচি নেই, চোখের নিচে হাল্কা হাল্কা কালো দাগ পড়েছে। মুখ খুলে হাসতে পারি না, হাসি ভুলে গেছি, যন্ত্রণা আমায় কুরে কুরে খাচ্ছে। স্মরণশক্তি কমে গেছে, কারো সাথে কথা বললে কথায় পেঁচিয়ে পড়ি। লজ্জায় কারো সাথে মিশতে পারি না, আর কোনো মেয়ের সাথে কিংবা কোনো বক্তৃতা দিতে গেলে হাত, পা, ঘামিয়ে যায়, গলা ঠোঁট শুকিয়ে যায়। আর কথা বলতে পারি না, বুক ধড়ফড় করে কাঁপে, সমস্ত শরীর থেকে ঘাম বের হতে থাকে যা এসএসসি পরীক্ষার আগে ছিল না।

আর একটি সমস্যা হচ্ছে আমার মাথার চুল পড়ে টাক হয়ে যাচ্ছে। যা এই বয়সে আমাদের বংশের কারো নেই। স্যার এমন কোনো ওষুধ আছে কি যা খেলে আমার মাথার চুল গজাবে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার নামে অভিহিত করা হয়। এ সমস্যাতে মনের মধ্যে নানা চিন্তা, কল্পনা বা ফ্যান্টাসি ঘুরতে থাকে। চিন্তাগুলো প্রায় আজগুবি আর কাল্পনিক হয়ে থাকে। ব্যক্তি ইচ্ছা করলেও ওই চিন্তাগুলোকে তাড়াতে পারে না। পাশাপাশি আপনার মনে সোশ্যাল ফোবিয়ার সমস্যা রয়েছে। তবে এ দুটো সমস্যাই বেশ তীব্রমাত্রার। এক্ষেত্রে কেবল ওষুধ সেবনে তেমন কার্যকর মাত্রার উপকার নাও পেতে পারেন। আপনার প্রচুর সাইকোথেরাপির দরকার। সাইকোথেরাপি ছাড়া সমস্যার উন্নতি হওয়া খুবই কঠিন।

আপনি এক্ষেত্রে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। এক সপ্তাহ যাওয়ার পর একটা জায়গায় ২টা করে সেবন করবেন। এই ওষুধ চলতে থাকবে। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ২০ দিন পর ট্যাবলেট টেলাজিন বন্ধ করে দিন। ১ মাস পর ট্যাবলেট রিভোট্রিল শুধু রাতে সেবন করবেন। সাইকোথেরাপির জন্য আপনি মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন। অবসেশন সমস্যার বেলাতে রোগীর উন্নতি হতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় দরকার হয়। আমাদের সাথে দেড় মাস পরে যোগাযোগ করবেন। অবস্থার উন্নতি হলেও আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

মো. আনোয়ার পারভেজ
মহিশাকুন্ডি, মেহেরপুর
আমার বয়স ২২ বছর। আমার সমস্যা হলো টেনশন করলে হাত-পা কাঁপে, হঠাৎ কারো সাথে দেখা করলে বা দেখা হলে হাত পা-কাঁপে আজ প্রায় ২ বছর। একদিন কাজে না গেলে পরের দিন কাজে গেলে ভয় লাগে, হাত- পা কাঁপে। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। অনেক কৌশল অবলম্বন করেছি কাজ হয় না। মাঝে মাঝে ট্যাবলেট সেডিল খেতাম। অনুগ্রহ করে আমাকে সমাধান জানিয়ে উপকৃত করবেন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম অ্যাংজাইটি নিউরোসিস। পাশাপাশি বিষণ্নতার সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে ওষুধ অপেক্ষা সাইকোথেরাপি অধিকতর জরুরি। শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হলে প্রথম দিকে বেশ ভালো উন্নতি পাওয়া যায় কিন্তু এটি দীর্ঘদিন বহাল থাকে না। এ কারণে আগামীতে কোনো এক সময় সাইকোথেরাপির জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন। ট্যাবলেট ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি সেবন করুন। ১ মাস যাওয়ার পর ওষুধের মাত্রা অর্ধেকে কমিয়ে আনবেন। মানে প্রত্যেকটা ওষুধ অর্ধেক করে সেবন করবেন। দেড় মাসের মাথায় আমাদের সাথে আবার যোগাযোগ করবেন।

মো. শরীফুল ইসলাম
বেলাব, নরসিংদী
আমার বয়স ২১ বছর। আমার সমস্যাটি হয়েছে ৪ বছর ধরে। আমার সমস্যারটির নাম অবসেশন। আপনার সাথে দেখা করে আপনি আমাকে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টি করে, ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি বিকেলে ১টি খেতে দিয়েছিলেন। ৩ মাস পর্যন্ত চালিয়ে গেছি এখনো বন্ধ করিনি। কিন্তু আজও দুশ্চিন্তা আমার মন থেকে তাড়াতে পারছি না। আমি এখন ভীষণ কষ্টে আছি। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে চোখের নিচে কালো হয়ে যাচ্ছে। কী করলে কালো দাগটা সরাতে পারব সমাধান দিলে উপকৃত হব। চোখের নিচের কালো দাগটা নাকি দুশ্চিন্তার কারণে হয়। এটা খুব বিশ্রী দেখায় এটা কীভাবে দূর করতে পারব সমাধান দেবেন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার উচিত ছিল দেড় মাসের মাথায় আমাদের সাথে যোগাযোগ করা। কোনো ওষুধ কাজ করলে তা প্রথম ৬ সপ্তাহের মধ্যে করবে। ৬ সপ্তাহের মধ্যে যদি মনের অবস্থার পরিবর্তন না হয় তাহলে ওষুধ পাল্টাতে হবে। আপনার ওষুধগুলো আগের মতোই চলবে। তবে ক্যাপসুল প্রদীপের পরিবর্তে ট্যাবলেট ভেনলাফ ৭৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করতে থাকুন। ওষুধ সেবনের ঠিক ৬ সপ্তাহের মাথায় আমাদের সাথে অবস্থা জানিয়ে যোগাযোগ করবেন।

মো. নজরুল ইসলাম
লালদীঘি, চট্টগ্রাম
আমি প্রায় দেড় বছর ধরে মানসিক সমস্যায় আছি। আমার বয়স ২০ বছর, ওজন ৪৯ কেজি। আমার সমস্যাগুলো আমাকে সব সময় কষ্ট দেয় যেমন-কল্পনাবিলাসী, ইদানীং কাজকর্ম ও কথাবার্তা গুছালো হয় না। মনোযোগের অভাব, মেজাজ অনেক সময় খিটখিটে, আজ থেকে দেড় বছর আগে নিজেকে ফ্রি মনে হতো এখন হয় না। নামাজ-কালামে আগ্রহ পাই না, অশ্লীল  চিন্তা মনে বিরাজ করে। খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করতে পারি, শরীর খুবই দুর্বল আর অক্ষম মনে হয়। অনেক সময় রাতে ঘুম হয় না, দিনের বেলায়ও তাই। আশা করি আপনার কাছে সঠিক সমাধান পাব।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার নামে অভিহিত করা হয়।

আপনি এক্ষেত্রে ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ৩ দিন যাওয়ার পর একটার জায়গায় ২টা করে অথবা ট্যাবলেট সেট্রা ১০০ মিলিগ্রাম সেবন করবেন। এই ওষুধ চলতে থাকবে। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ২০ দিন পর ট্যাবলেট টেলাজিন বন্ধ করে দিন। ১ মাস পর ট্যাবলেট রিভোট্রিল শুধু রাতে সেবন করবেন। অবসেশন সমস্যার বেলাতে রোগীর উন্নতি হতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় দরকার হয়। আমাদের সাথে দেড় মাস পরে যোগাযোগ করবেন।

এমদাদুল হক
ভাঙা, ফরিদপুর
আমার বয়স ১৮ বছর। আমি গত ৪ বছর যাবৎ মানসিক অশান্তিতে ভুগছি। কাউকে লজ্জায় বলতে পারি না।  আমি পড়াশোনায় ভালো ছোটবেলা থেকে। প্রতি কাসে রোল নং ২ অথবা ৩ হতো। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন থেকে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছি। স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে তাই আমি বঞ্চিত। আমার সব সময় মন খারাপ থাকে, এমনকি কোনো কারণ নেই এমনি ২৪ ঘণ্টা অস্থি'র লাগে। পড়াশোনা করতে পারি না, এবার আমি এসএসসি পরীক্ষা দিতাম কিন' পড়াশোনা করতে পারি না। সব সময় কাঁদি সামান্যতেই কেঁদে ফেলি। সব সময় চিন্তা করি, আমি সবাইকে খুব বেশি সন্দেহ করি, কেউ কিছু বললে মনে হয় আমাকেই বলছে। কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না, নিজেকেও না। আমার মনে হয় আমি সবকিছুতেই সবার চেয়ে খারাপ। আর সবাই আমার চেয়ে অনেক ভালো। আমি দেখতে খারাপ না তারপরও এমন মনে হয়। আনন্দ, উল্লাস, হইচই ভালো লাগে না। এই অবিশ্বাসের কারণে আমার পরিবারের কারও সাথে আমার সম্পর্ক ভালো না। বাবা-মায়ের সাথে থাকি না, তাদের অবিশ্বাস হয়। আমি গ্রামের বাড়িতে একা থাকি, কিন্তু এখানেও সবাইকে সন্দেহ করি, আবার আমার মনে হয় আমার একটা কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। কিছুদিন থেকে আরও মনে হচ্ছে আমার ক্যান্সার হয়েছে। মাথায় সব সময় আজগুবি চিন্তাভাবনা উদয় হয়। আমার আরও মনে হয় আমার মাথায় কম্পিউটার জাতীয় কিছু একটা সেট করা আছে। আমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও বানিয়ে অন্যের কাছে প্রচুর মিথ্যা কথা বলি। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস খুব কম। একটুতেই হতাশ হয়ে পড়ি। মনে হয় পৃথিবীতে আমার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। মাঝেমধ্যে আত্মহত্যার ভয় জাগে মনে। সব সময় বিষণ্নতা মনকে ছেয়ে রাখে। প্লিজ আপনি দয়া করে আমার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনের সন্ধান দিন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যাটির নাম সাইকোসিস। এটি মোটামুটি একটা বড় মাপের মানসিক রোগ। এতে ওষুধ অনেক দিন সেবন করতে হবে। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট টেলাজিন ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, রাত ১টা করে ৩ বেলা সেবন করবেন। ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম ১টা করে ৩ বেলা সেবন করবেন। ট্যাবলেট লোপেজ ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করবেন। এরপরেও যদি ঘুম কম হয় তাহলে ট্যাবলেট কোবাম ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ওষুধ সেবন শুরু করলেও আপনার মনের ভয়, সন্দেহ যাওয়াটা ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের ব্যাপার। ওষুধের কারণে প্রথম দিকে কিছুটা দুর্বলবোধ হতে পারে। পরে এটি কমে যায়। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের সাথে ১ মাসের মাথায় অবস্থা জানিয়ে যোগাযোগ করবেন।

মো. পুলক চৌধুরী
মংলা, বাগেরহাট
আমার সমস্যা হলো এই যে, আমি একজন ছাত্র। আগে পড়ায় মন বসত, এখন বিভিন্ন চিন্তা এবং সাংসারিক চাপ থাকায় লেখাপড়ায় মন বসে না। একা একা থাকতে ভালো লাগে। দিনের বেলায় ঘুমাতে চাইলে বিভিন্ন কথা এসে মাথায় বসে, যার ফলে আর ঘুম হয় না। অন্য পক্ষ থেকে কথা বা কাজের মাধ্যমে আঘাত পেলে তা সহ্য করতে পারি না এবং কোনো শত্রুর অন্যায় থাকা সত্ত্বেও তাকে দেখলে হঠাৎ করে আমার বুক কেঁপে ওঠে আর রাগের সময় হাত-পা কাঁপে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। সকাল বেলা প্রচন্ড সর্দি, হাঁচি থাকে। আমার উক্ত সমস্যাগুলো সমাধানে আপনার কৃপা দৃষ্টি কামনা করি।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার নামে অভিহিত করা হয়। এ সমস্যাতে মনের মধ্যে নানা চিন্তা, কল্পনা বা ফ্যান্টাসি ঘুরতে থাকে। চিন্তাগুলো প্রায় আজগুবি আর কাল্পনিক হয়ে থাকে। ব্যক্তি ইচ্ছা করলেও ওই চিন্তাগুলোকে তাড়াতে পারে না। পাশাপাশি আপনার মনে সোশ্যাল ফোবিয়ার সমস্যা রয়েছে।

আপনি এক্ষেত্রে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। এই ওষুধ চলতে থাকবে। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ২০ দিন পর ট্যাবলেট টেলাজিন বন্ধ করে দিন। ১ মাস পর ট্যাবলেট রিভোট্রিল শুধু রাতে সেবন করবেন।

শ্রীশান্ত কুমার হাওলাদার
কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ
প্রায় সাড়ে তিন বছর যাবৎ একটা সমস্যায় ভুগছি। তাই আপনার শরণাপন্ন হলাম। আমার বয়স ২১ বছর। পড়াশোনা করতে গেলেই আমার ঝামেলা শুরু হয়। যখন পড়ার টেবিলে বসি তার একটু পরেই ঝিমুনি ভাব আসে। ঝিমুনি ভাব আসলে যদি শুয়ে পড়ি সঙ্গে সঙ্গে ঘুম চলে আসে। এভাবে দিনে আমার প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা ঘুম হয়। এখন সমস্যা হলো এই ঝিমুনির জন্য মোটেই পড়া হয় না। তখন শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে শুয়ে পড়ি। আর না শুলে অনবরত ঝিমুতে থাকি। এ সমস্যা গত এক বছর যাবৎ খুবই প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও পড়ালেখা করতে পারছি না। অথচ সামনে এইচএসসির রেজাল্টের পরে বিভিন্ন জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। তাই ডাক্তার সাহেব এই সমস্যার কোনো সমাধান থাকলে তা যদি জানান তাহলে আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। শুধুমাত্র ঝিমুনি ভাব আর ঘুম বেড়ে যাওয়া নিয়ে রোগ প্রকাশ পেলেও এর সাথে আরো অনেক সংশ্লিষ্ট উপসর্গ থাকতে পারে। কতক বিষণ্নতা সমস্যায় এমনটি দেখা যায়। এ ধরনের বিষণ্নতা সমস্যাকে এটিপিক্যাল ডিপ্রেশন বলা হয়। আবার কিছু ঘুমের সমস্যাতেও এমনটি হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার মস্তিষ্কের ইইজি টেস্ট করালে ভালো হয়। এ জন্য আপনি আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

আসলাম উদ্দিন
মেরাদিয়া, ঢাকা
আমার বয়স ২৫ বছর। ওজন ৬২ কেজি, উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। আমার সমস্যা হলো ২০০২ সালের এপ্রিল মাস থেকে। আমি আগে একটা মেয়েকে ভালোবাসতাম আমার জীবন থেকেও বেশি। মেয়েটিও আমাকে তেমনি ভালোবাসত। কিন্তু আমাদের মধ্যে বাধা হলো অর্থ বিত্ত ইত্যাদি। এর মধ্যে এক পর্যায়ে মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায়। আমার বন্ধু-বান্ধবদের এসব খুলে বলার পর তারা বলল এর সমাধান দিতে পারে এবং চিন্তামুক্ত রাখতে পারে গাঁজা। এরপর থেকে আনুমানিক ৬-৭ দিন গাঁজা খেয়েছি। সর্বশেষ খাই ২০০১ সালে মার্চ মাসে। একদিন বেশ গাঁজা খাওয়ার পর মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য এক পোয়া চিনির শরবত বানিয়ে খেয়ে ফেলি। এরপর আমার সারা শরীর কাঁপতে থাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত। এর পরবর্তী সমস্যা শরীর খুব দুর্বল, দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছি। আর স্মৃতিশক্তি নেই বললেই চলে। অনেক সময় পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাই। এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত ভুলে যাই। নামাজ পড়ার সময় কয় রাকাত পড়া হলো মনে থাকে না। আর কোনো কিছু পড়ার সময় শুধু পড়ি, কী পড়ি নিজেই বুঝি না। খাওয়া-দাওয়ায় কোনো রুচি নেই। সব সময় মনে হয় মাথার মধ্যে লাফায়। আর আমার মনে পড়ে গাঁজা খাওয়ার আগের সেই দিনগুলোর কথা। সেই দিনের কথা মনে পড়লে মনে হয় আত্মহত্যা করি। আমি কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করতে পারি না। গুছিয়ে কথা বলতে পারি না, কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, অল্পতে বিরক্তি লাগে। মাঝে মাঝে বা প্রায়ই মনে হয় আমি পাগল, মাথার মধ্যে সব সময় ব্যথা করে। আত্মবিশ্বাস মোটেই নেই। আর আমি বাসা থেকে রাস্তায় বের হলে আমার মনে হয় আমি আর পথ চিনে বাড়ি যেতে পারব না।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। যদিও আপনি বিসতৃত আঙ্গিকে আপনার সমস্যার বর্ণনা দিয়েছেন কিন' কোনো সিদ্ধান্তে আসার জন্য আরো অনেক কিছু জানার দরকার। বিশেষ করে মনের মধ্যে অন্যান্য কী কী উপসর্গ আছে তা বের করতে হবে। এটি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মেন্টাল স্ট্রেট এক্সামিনেশন-এর মাধ্যমে করে থাকেন। এটি মানসিক রোগ নির্ণয়ের বেলাতে অনেকটা ইনভেস্টিগেশনের মতো। এ জন্য সবচেয়ে ভালো হয় আপনি আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

হারুন অর রশিদ
চান্দিনা, কুমিল্লা
আমার বয়স ২৫ বছর। আমার সমস্যাগুলো অনেক দিন যাবৎ। আমার পায়খানা ঠিকমতো হয় না। পায়খানা প্রায়ই কষা থাকে এবং পেটে সব সময় গ্যাস ওঠে। যা কিছু খাই খাওয়ার পর ঢেকুর আসে। টয়লেটে প্রতি দিন ১-২ বার যায় কিন' পায়খানা কোনো সময়ই পরিষ্কার হয় না। ভালো কোনো খাবার খেলে যেমন-গোশত, পোলাও ইত্যাদি পেট খারাপ হয়ে যায় ও পাতলা পায়খানা হয়। পায়খানা শেষ করে উঠলে মাথা চক্কর মারে এবং প্রস্রাব ঘন ঘন হয়। আমার অন্তরে সব সময়ই বিভিন্ন ধরনের টেনশন ও দুশ্চিন্তা থাকে। রাতে ঘুম মোটামুটি হয়, কিন্তু দিনের বেলা চোখে ঘুম আসে। তবে শুইলে পরে আর ঘুম আসে না। আর ঘুমালে পরে সমস্ত শরীর ঝিমঝিম করে ও হাত, পা অবশ হয়ে যায়। মাথা সব সময় ব্যথা করে ও গরম থাকে। ঘুম থেকে উঠলে পরেও মাথা এবং সমস্ত শরীর ব্যথা করে।

আমার শরীর খুব দুর্বল, গাল-মুখ ভাঙা, স্বাস্থ্যহীনতার কারণে বন্ধু-বান্ধবের সাথে চলাফেরা ও কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে লজ্জাবোধ করি। দিন দিন আমার স্মরণশক্তি লোপ পাচ্ছে। আমি একজন ছাত্র। আমার পড়া আগের মতো মনে থাকে না। লিখতে বসলে হাত ব্যথা করে। মাঝে মাঝে শরীর এমন দুর্বল হয় যে বসা থেকে দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখি। কোনো বক্তৃতা মঞ্চে বক্তৃতা দিলে হাত, পা ও সমস্ত শরীর কাঁপে ও বুক ধড়ফড় করে। শত্রুকে দেখলে এবং মানুষের সাথে কথা বললে ভয় লাগে ও কথা বলার সাহস হয় না। কোনো কাজ তাড়াতাড়ি করলে বা কিছুক্ষণ তাড়াতাড়ি হাঁটলে বুক ধড়ফড় করে, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে থাকে। তখন কারো সাথে কথা বলতে পারি না।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম সংক্ষেপে আইবিএস। যদিও এটি অন্ত্র নালির একটা রোগ কিন্তু উপসর্গ প্রকাশের বেলাতে মনো উপসর্গগুলো প্রাধান্য পায়। যেমন হতাশা, প্রচন্ড নার্ভাসনেস, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, কথা বলতে না পারা। আসলে এ রোগটা দীর্ঘদিন চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকার কারণে বিষণ্নতা রোগ প্রকাশ পায়। এ বিষণ্নতা রোগ থেকে ধীরে ধীরে সোশ্যাল ফোবিয়া আর অন্যান্য মানসিক সমস্যা প্রকাশ পায়। অন্যান্য মানসিক রোগের মতো এক্ষেত্রেও সাইকোথেরাপির দরকার।

ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করুন। ৩ দিন পর ১টার স'লে ২টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করুন। এক মাস যাওয়ার পর আপনার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে।

আলভী রহমান
পঞ্চগড় সদর
আমার বয়স ২০ বছর। বাড়ির আদরের ছোট মেয়ে। ভাই, বোন, আত্মীয়, বন্ধু সবার প্রিয় আমি। ছোট থেকেই বেশি কথা বলি এখনো তাই, তবে সব সময় নয়। সবার সাথেও না, শুধু যাদের ভালো লাগে। তবে মাঝে মাঝে আমার একা থাকতে ইচ্ছা করে ঠিক তখন আমি আর কারো সাথে দেখা করি না। মাঝে মাঝে বিনা কারণে সবার সাথে রাগ করি। ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে প্রচন্ড রেগে যাই। কোনো কথা না শোনার অভ্যাস নেই। যদিও প্রচন্ড কথাপ্রিয় তবুও সবার সাথে প্রাণ খুলে মনের কথা বলি না। প্রায় সময় অনেক দূরে কোথাও যেতে ইচ্ছা করে। আমার বন্ধু, বান্ধবী সবার সাথেই একটা সুন্দর ব্যবহার থাকে। একাধারে বেশি দিন কাউকে সহ্য হয় না। নিজের মধ্যে প্রচন্ড বিষণ্নতা কাজ করে কী করব, কী করা উচিত কিছুই বুঝতে পারি না। অনেক সময় সহজ কাজও ভুলে করে ফেলি যা এমন ভুল হবার না। সংসারের পথে ভবিষ্যৎ জীবনে কতটুকু এগোতে পারব তা বুঝে উঠতে পারি না। তবে আগে ভাবতাম অনেক কঠিনতম কাজও সহজে সম্পন্ন করতে পারব। কিন্তু সেই ধরনের আস্থা এখন আর নেই। মাঝে মাঝে মনে হয় বিধাতা কেন জীবন নামের এই বোঝাটুকু দিয়েছে। কেন জড় বস্তুর মতো হয়ে উঠেছে এই জীবন-চেতনা বলে কিছু নেই। জীবন সম্পর্কে যাবতীয় উপহাস যেন হারিয়ে চলেছে। কেন জীবন নামের এই সংগ্রাম। প্লিজ আমার চিঠির উত্তর দিয়ে আমাকে সমস্যামুক্ত করুন।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যাটি আপনি নিজেই তো বুঝতে পেরেছেন এটা আসলে বিষণ্নতা সমস্যা। কিছুই ভালো না লাগা, আনন্দ না পাওয়া, মেজাজ খিটখিটে লাগা এ ধরনের উপসর্গগুলো সাময়িকভাবে সব লোকের বেলাতে কমবেশি দেখা যায়। যখন এসব উপসর্গের কারণে ব্যক্তি জীবনযাত্রা অশালীন হয়ে ওঠে তখন এটিকে বিষণ্নতা সমস্যা বলা হয়। এটি আপনার বেলাতে এ অবস্থায় এসেছে। তবে রোগ এখনো প্রাথমিক অবস্থাতেই রয়ে গেছে। তেমন একটা প্রকট আকার ধারণ করেনি।

ওষুধ হিসেবে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট ডিসোপেন ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন। ওষুধ সেবন শুরু করলেও আপনার মনের অবস্থার উন্নতি হওয়ার সূচনা ঘটা তিন থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। আপনি ২০ দিন পর থেকে ভালো বোধ করতে পারেন। এ ধরনের বিষণ্নতা সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক দিন ওষুধ সেবন করতে হয়। আমাদের সাথে পরবর্তীতে যোগাযোগ করবেন।

মো. শওকত ওসমান
মিরসরাই, চট্টগ্রাম
আমি একটা সমস্যায় ভুগছি। আমার বয়স ২২ বছর। নিজে নিজে কথা বলতে পারি, কিন্তু কোনো মানুষের কাছে গেলে জোরালোভাবে কথা বলতে পারি না। কথা বলার সময় কেমন জড়তা সৃষ্টি হয়। কোনো কথা সাজিয়ে বলতে পারি না এবং কোনো বন্ধু অথবা আমার বাবার সামনে কথা বলতে গেলে আমাকে বকা খেতে হয়। বাবার সামনে আমি খোলামেলা ফ্রিভাবে কথা বলতে পারি না। মাঝে মাঝে কথা আটকে যায় এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাই। স্বাভাবিকভাবে অন্য লোকের মতো কথা বলতে পারি এ উপকার চাই।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম এস্টেমারিং বা তোতলামি। পাশাপাশি সোশ্যাল ফোবিয়ার কারণে সমস্যাটা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তোতলামির সমস্যাটা খুবই অল্প। শুধুমাত্র জড়তা সৃষ্টি দিয়েই প্রকাশ পায়। অন্যান্য নানা নিউরোসিসের মতো তোতলামির বেলাতেও বড় সীমাবদ্ধতা হলো এতে ওষুধ অপেক্ষা সাইকোথেরাপি, বিহেভিয়ার মোডিফিকেশন অধিকতর গুরুত্বপুর্ণ। ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে এক-চতুর্থাংশ এবং রাতে অর্ধেক সেবন করতে থাকুন। ট্যাবলেট ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি সেবন করুন। ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি কিছুটা সাইকোথেরাপি দরকার যা একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে করতে হবে। কথার জড়তা দূর করার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি চর্চা করতে পারেন।

১. প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়কাল পত্রিকার কোনো একটা প্যারা গলা ফাটিয়ে পড়ার চর্চা করতে হবে
২. আপনার বিচরণক্ষেত্র প্রসার করতে হবে। বিশেষ করে যে সমস্ত জায়গাতে অনেক বেশি লোক বিচরণ করে থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন মেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান অথবা ফেস্টিবল।
৩. আলাপচারিতার ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই কথা বলার বা কথা শুরু করার সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।

হাসানুল বান্না
রিয়াদ, সৌদি আরব
ডাক্তার সাহেব জানি না আমার কী হয়েছে। আমার নিকট কোনো কিছুই ভালো লাগে না। মনের কোনো ধীর স্থিরতা নেই, সব সময় অসি'র, উদ্বিগ্ন থাকি। মনের নেই কোনো আনন্দ, নেই কোনো স্পৃহা, নেই কোনো উচ্ছলতা। কোন কারণে যে এমন মনমরা হয়ে থাকি আমি নিজেও জানি না। ছোটখাটো ফালতু ব্যাপারে একদম ঘাবড়ে যাই। প্রাণশক্তি আত্মবিশ্বাস একদম নেই। কোনো কাজ কিছু দিন করার পর ওই কাজের প্রতি আনন্দ হারিয়ে ফেলি এবং কাজে আর একাগ্রতাও থাকে না।

নিস্তেজ, অন্যমনস্কভাবে রুমের কোণে বুড়ো লোকদের মতো বসে থাকি, অলসভাবে সময় কাটাই, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে প্রাণ খুলে মিশতে পারি না। এই জন্য মানসিকভাবে খুব কষ্ট পাই। নিজেকে খুব একা ও অসহায় মনে হয়। বিশেষ করে একটু ফ্রি অথবা বেকার হলেই সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করে তখন মনে হয় আমি পুরো পাগল হয়ে যাব। আমি অন্য দশ জনের মতো আমার ফ্রি সময় আড্ডা মেরে খুশিভাবে কাটাতে চাই। আমার পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, হাতের তালু, মাথার তালু সব সময় গরম থাকে। রীতিমতো পায়খানা হয় না, ঘন ঘন হাই ওঠে এবং পেটে খুব অশান্তি লাগে।

  আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম অ্যাংজাইটি নিউরোসিস। এক্ষেত্রে এ ধরনের নানা উপসর্গ মনের ওপর চেপে বসে। পাশাপাশি এ সমস্যার কারণে আপনার মনে সোশ্যাল ফোবিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্ত রোগের বেলাতে ওষুধ দিয়ে বেশ কিছু উপকার পাওয়া যায় কিন্তু সাইকোথেরাপি, বিহেভিয়ার মোডিফিকেশন এগুলো করা না হলে চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট ভেনলাফ ৭৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে সেবন করুন। আপনার উপসর্গের উপশম হতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। সম্পূর্ণ ভালো বোধ করলেও আমাদের কথা ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। আমাদের মানসিক রোগের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এ ওষুধগুলো রাতারাতি কাজ করে না।