মার্কিন কম্পিউটার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল।
শুরুতে এ প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল অ্যাপল কম্পিউটার ইনকরপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য, কম্পিউটার সফটওয়্যার এবং পারসোনাল কম্পিউটার তৈরি করে বিশ্বে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৭৬ সালে ধার করা টাকায় স্টিভ জবস নিজের বাড়ির গ্যারেজে বন্ধু ওজনিয়াকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অ্যাপল। অ্যাপল ১ দিয়েই শুরু হয় যাত্রা। প্রথম অ্যাপল কম্পিউটার ৬৬৬.৬৬ ডলারে বিক্রি শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের মাধ্যমে জগৎজুড়ে জবস অর্জন করেন ব্যাপক খ্যাতি। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে অ্যাপল ছেড়ে জবস গড়ে তোলেন নেক্সট কম্পিউটার কোম্পানি। এতে অ্যাপলের সুনাম হ্রাস পায়। ১৯৯৬ সালে অ্যাপলের সাথে তার সমঝোতা হয়। এর ভিত্তিতে ৪২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিনিময়ে নেক্সটকে কিনে নেয় অ্যাপল। ২০০১ সালে বাজারে আইপড নিয়ে আসার মাধ্যমে অ্যাপল অন্য উচ্চতায় চলে যায়। এরপর আইফোন আইপড সংস্করণসহ অভিনব বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোকে ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এসব কৃতিত্বের নেপথ্য নায়ক ছিলেন জবস। একে একে স্টিভ জবসের হাত ধরে এসেছে আধুনিক প্রযুক্তির অনেক পণ্যই। প্রায় ২০০ প্রযুক্তি পণ্য আবিষ্কারে ভূমিকা রেখেছেন স্টিভ জবস। কম্পিউটার নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকার পরও অ্যাপলের যেকোনো পণ্য আবিষ্কারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন জবস। বর্তমানে অ্যাপলের কোষাগারে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্র সরকারেরও নেই। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিস্টিকস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগারে এখন খরচ করার মতো অর্থ রয়েছে ৭৩.৭ বিলিয়ন ডলার, আর ৭৬.৪ বিলিয়ন ডলার রয়েছে অ্যাপলের। সাফল্যের এ চূড়ায় উঠতে অ্যাপলকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আর এ পথের কাণ্ডারি ছিলেন স্টিভ। ২০০৫ সাল থেকে আর্থিক মূলধনের হিসেবে বিশ্বের সেরা কোম্পানি হিসেবে শীর্ষে থাকা এক্সন মোবাইলকে পেছনে ফেলে শীর্ষে এসেছে অ্যাপল। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অ্যাপল ২০১০ সালের তুলনায় ১২৫ গুণ বেশি আয় করেছে। গত ৩ মাসে প্রতিষ্ঠানটি আয় করেছে ১১ কোটি ডলার। গত বছরের তুলনায় স্মার্টফোন বাজারে ৭৬ ভাগ শেয়ার বেড়েছে অ্যাপলের। একই সাথে অ্যাপল স্মার্টফোন বাজারের ১৮ শতাংশ দখলে রেখে স্যামসাং ও নকিয়াকে পেছনে ফেলেছে। ২০০১ সালে স্টিভ জবস প্রতিষ্ঠানটির পণ্য পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনেন এবং প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটারের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরি করতে শুরু করে। এ সিরিজের প্রথম পণ্য ছিল গান শোনার যন্ত্র আইপড। এরপর পণ্য তালিকায় যোগ হয় আইফোন। মূলত কম্পিউটারের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক পণ্যের সাফল্যের সাথে সাথেই শুরু হয় অ্যাপলের জয়যাত্রা। পাশাপাশি স্টিভ জবসের নেতৃত্বেই দূরদর্শী কম্পিউটিং পণ্য হিসেবে যোগ হয় পাওয়ার ম্যাক, আইম্যাক, ম্যাকবুক এবং সর্বশেষ যোগ হয় বাজার-কাঁপানো আইপ্যাড। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের তৈরি ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার তৈরির মাধ্যমে বেশি পরিচিতি লাভ করে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অপারেটিং সিস্টেম ওএস এক্সের মাধ্যমে তৈরি করে আইপড, আইফোন। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি গান শোনার সফটওয়্যার আইটিউনস এবং মাল্টিমিডিয়া ও ক্রিয়েটিভ সফটওয়্যার আইলাইফ তৈরি করে। এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্রাউজার সাফারি এবং মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম আইওএস তৈরি করে। ২০১০ সালের আগস্ট মাসে প্রতিষ্ঠানটি ১০টি দেশের ৩০১টি রিটেইল স্টোর এবং নিজস্ব অনলাইন স্টোরে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার বিক্রি শুরু করেছে। সাফল্যের এ ধারাবাহিকতায় বর্তমানে অ্যাপল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রথম অবস্থান করে নিয়েছে। এ বছরের দ্বিতীয় ভাগে অ্যাপলের আইট্যাব সফটওয়্যার বিক্রির হার ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা অ্যাপলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল অ্যান্ড্রয়েডের তুলনায় দ্বিগুণ। অ্যান্ড্রয়েড বিক্রির হার ৩০ দশমিক ১ শতাংশ। মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে মাইক্রোসফট তৃতীয় ও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে আরআইএম সংস্থাটি।
ফেসবুকের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছে গুগল। সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের বাজার ধরতে ফেসবুকের আদলে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করছে গুগল প্লাস। যদিও এর আগে গুগল কর্তৃপক্ষ গুগল প্লাস দিয়ে ফেসবুককে খুব একটা বেকায়দায় ফেলতে পারেনি।
গত এপ্রিলে গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কে সবচেয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে শুরু করে গুগল। ল্যারি পেজ এটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, কারণ বর্তমানে ব্যবহারকারীরা ফেসবুক ও টুইটারের মতো সাইটগুলোতে অনেক বেশি সময় ব্যয় করছে।
এদিক থেকে গুগল অনেক পিছিয়ে। গুগল অতীতে সামাজিক বিষয়গুলোকে কম গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্বে ফেসবুকের ব্যবহারকারী বর্তমানে ৭০ কোটির মতো। প্রতিনিয়ত আরো যোগ হচ্ছে। তাই ফেসবুকের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে ওঠা কঠিন হলেও গুগল প্লাস নিয়ে আশাবাদী গুগল কর্তৃপক্ষ। ইন্টারনেট দুনিয়ায় ক্লিকের যে হিসাব-নিকাশ, তাতে ফেসবুক ক্রমেই গুগলের কাছে চলে আসছে, যদিও এখনো ফেসবুকের চেয়ে গুগলের ব্যবহারকারী বেশি। কিন্তু বাণিজ্যিক দিক থেকে কিছু ক্ষেত্রে গুগলকে পেছনে ফেলেছে ফেসবুক। সমপ্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, একজন ব্যবহারকারী গুগলের চেয়ে ফেসবুকে ৬২ শতাংশ বেশি সময় কাটায়। প্রতিযোগিতায় টিকতে গুগল এবার মাঠে নেমেছে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ সাইট গুগল প্লাস নিয়ে। ফেসবুকের যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলো গুগল প্লাসে নেই। গুগল প্লাসে পরিচিতজনদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে আলাদা আলাদাভাবে যোগাযোগ রক্ষা করা যাবে। যেকোনো তথ্য শেয়ারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার পুরো স্বাধীনতা থাকবে ব্যবহারকারীর। পাওয়া যাবে রিয়েল টাইম ফটো ও ভিডিও আপলোডের সুযোগ। তা ছাড়া চ্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা।
ফেসবুকের মতো করেই সাজানো হয়েছে গুগল প্লাস। এতে প্রোফাইল ছবি ও নিউজফিডের বিষয়কে বেশি গুভুত্ব দেয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীদের নতুন বন্ধু অথবা যোগাযোগের অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। গুগল প্লাসে বন্ধু ও পরিচিত ব্যক্তিদের নানা ধরনের গ্রুপ তৈরি করা যাবে। পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, স্কুলবন্ধুসহ বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ করা যাবে। এ ছাড়া ছবি, ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্যও শেয়ার করা যাবে। গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে গোপনীয়তার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। গুগল সার্চ ইঞ্জিন এবং ওয়েবে ভিজিটের সময় ব্যবহারকারীরা ‘গুগল প্লাস ওয়ান’ নামের একটি বাটন পাবেন। এ বাটনে ক্লিক করলে তার গুগলে যুক্ত থাকা অন্য ব্যবহারকারীর সাথে শেয়ার হয়ে যাবে লিংকটি। গুগল প্লাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন ব্যবহারকারীর পক্ষে তার সব বন্ধুর ই-মেইল ঠিকানা জানা সম্ভব নয়। এ কারণে বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানাতে পারছিলেন না অনেকেই। বিষয়টিকে গুগল প্লাস আরো সহজ করেছে। ওয়েবসাইট, ফোরাম ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের মাধ্যমে লিংক পাঠিয়েও এখন বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানানো যাবে। লিংকের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রথমে গুগল প্লাসে লগইন করে হোমপেজ থেকে আপনার বিশেষ ইনভাইটেশন লিংকটি সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য ‘ইনভাইট ফ্রেন্ডস’ অপশনটিতে যেতে হবে। এরপর আগের মতো ফ্রেন্ডদের ই-মেইল ঠিকানা যেখানে দেয়া হতো তার নিচেই একটি বিশেষ ইনভাইটেশন লিংক পাওয়া যাবে। এটি যেকোনো ওয়েবসাইট, ফোরাম বা আইএম-এর মাধ্যমে বন্ধুদের দেয়া যাবে এবং সেই লিংকের মাধ্যমেই বন্ধুরা গুগল প্লাসে যোগদান করতে পারবেন। তবে একটি লিংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৫০ জন যুক্ত হতে পারবে।
যেসব মোবাইল ফোনে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম আছে তাতেও চালানো যাবে গুগল প্লাস। এতে চারটি ফিচার রাখা হয়েছে। সেগুলো হলো সার্কেলস, হ্যাঙ্গআউট, হাডল ও স্পার্কস। এর মধ্যে সার্কেলস ফিচারটিতে ব্যবহারকারী তার বন্ধুদের নিয়ে গ্রুপ করতে পারবে। ব্যবহারকারীরা বন্ধুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বিষয় শেয়ার করতে পারবে। হ্যাঙ্গআউট ফিচার ব্যবহার করে অনেকজন বন্ধু একসাথে ভিডিও কনফারেনস করতে পারবে। হাডল ফিচার ব্যবহার করে গ্রুপের বন্ধুরা তাৎক্ষণিক মেসেজিং করতে পারবে। স্পার্কস ফিচারটি ব্যবহারকারীদের অন্য ব্যবহারকারীর সাথে যুক্ত হওয়ার পথ দেখিয়ে দেবে। এতে রাখা যাবে ছবি, মেসেজ, মন্তব্যসহ কোমপানির ম্যাপ ও ইমেজ। এতে ভিডিও চ্যাট ফাংশন রয়েছে।
ইতিমধ্যে গুগলের তিন শ কর্মী গুগল প্লাসের পেছনে কাজ করছে। যাত্রা শু্রুর পর থেকেই গুগল প্লাসের ব্যবহারকারী বাড়তে থাকে এবং প্রথম দুই সপ্তাহে এর সদস্যসংখ্যা হয় এক কোটি।
প্রথম মাসেই বেড়ে হয় দুই কোটি ৫০ লাখ। ইতিমধ্যে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ওয়েবসাইট হওয়ারও রেকর্ড অর্জন করেছে।
সমপ্রতি বিশ্বের সব ব্যবহারকারীর জন্য সেবাটি চালু করা হয়েছে। তবে এটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হবে গুগলের একটি অ্যাকাউন্ট।
গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অব ইঞ্জিনিয়ারিং ভিক গুনডোট্রা বলেছেন, বর্তমান সময়ে মানুষ অনলাইনে যোগাযোগ স্থাপনেই বেশি আগ্রহী। এতে সব রকম মতের মানুষকে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাস্তব জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সামাজিক নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট গুগল প্লাসের আগমন সামাজিক সমপর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
জার্মানির জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ নতুন মডেলের গাড়ি তৈরি করেছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে কার্বন ফাইবার। স্টিলের চেয়েও শক্তিশালী এ গাড়ি তৈরিতে বিএমডব্লিউকে অনেক স্তরে কাজ করতে হয়েছে। কার্বন ফাইবারের শক্তি-ভর অনুপাত অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে অনেক বেশি। অর্থাৎ একই পরিমাণ কার্বন ফাইবার অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে শক্তিশালী। শুধু তা-ই নয়, কার্বন ফাইবারে ক্র্যাক ও ফ্যাটিগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। মূলত উড়োজাহাজের পাখা তৈরিতে ব্যাবহৃত হয় কার্বন ফাইবার।
সমপ্রতি কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তির উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানের মিতসুবিশি রেয়নের সাথে যৌথভাবে রঙহীন কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি করেছে নতুন বিএমডব্লিউ। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মোসেস লেকের ২০০ মিটার লম্বা প্যান্টে এক হাজার ৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফাইবারকে রিল করে পোড়ানো হয়েছে। এখান থেকে কার্বন অণু আলাদা করে তা থেকে তৈরি করা হয়েছে সুতা। এরপর জার্মানির প্যান্টে এ সুতাকে বোনা হয়েছে। এরপর জার্মানির ল্যান্ডসাট প্যান্টে ফাইবারের বোনা সুতাগুলোকে কয়েকটি স্তরে রঙ ও অন্যান্য রাসায়নিক মিশিয়ে ত্রিমাত্রিক গাড়ির বডির আকার দেয়া হয়েছে। এরপর লিপজিগ প্যান্টে অ্যাসেম্বল করে তৈরি হয়েছে নতুন মডেলের বিএমডব্লিউ। কার্বন ফাইবারে তৈরি এ গাড়িটি কবে নাগাদ বাজারে আসবে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি বিএমডব্লিউ কর্তৃপক্ষ।
-রয়টার্স অবলম্বনে
ব্যস্ত জীবনের সহায়ক
নকিয়া ই৭
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আপনি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তখন নকিয়া ই৭ হতে পারে আপনার একমাত্র ভরসা। আপনার প্রতিদিনের কাজকে সহজ করতে নকিয়া ই৭ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। সময়ের সাথে পালা দিয়ে অফিসে সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, নির্দিষ্ট সময়ে ই-মেইলে অফিসের ফাইল আপডেট রাখা, দ্রুত এসএমএস প্রেরণসহ অফিসিয়াল কাজে মোবাইল ডিভাইসে ক্ষুদ্র পরিসরে ই৭ আপনাকে দেবে কম্পিউটিংয়ের ভিন্ন অভিজ্ঞতা। ই৭-এর চার ইঞ্চি টাচ ক্লিয়ার ব্যাক ডিসপ্লেতে আপনি অনুভব করতে পারবেন ভিন্ন এক ধরনের অভিজ্ঞতা। এতে পরিপূর্ণ কি-বোর্ড ও অভি স্টোরের বিভিন্ন বিজনেস অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুবিধা থাকায় আপনি তাৎক্ষণিক সব ধরনের সেবাই পেতে পারবেন আপনার হাতের মুঠোয় থাকা ডিভাইসে। গ্রাহক একই সাথে অফিস ও ব্যক্তিগত জীবনের যাবতীয় কাজের সমন্বয় ঘটাতে পারবে এ ডিভাইস ব্যবহার করে। ব্যবসায়িক পরিসরে এটি কনজুমারাইজেশন অব আইটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আপনার প্রিয় মুহূর্তটি আপনি চাইলে নকিয়া ই৭-এর ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় ধারণ করে রাখতে পারবেন। নকিয়া ই৭-এ সরাসরি, সুরক্ষিত ও মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ সার্ভারে যথার্থ যোগাযোগের ব্যবস্থা আছে। মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ সার্ভারে করপোরেট ইনবক্স, ক্যালেন্ডার, কন্টাক্টস, টাস্কস ও করপোরেট ডিরেক্টরির সুবিধা। নকিয়া স্মার্ট ফোনের জন্য মাইক্রোসফট অফিস কমিউনিকেটর মোবাইল উদ্ভাবন করেছে। নকিয়া ই৭-এ করপোরেট ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের সুবিধা রয়েছে। শুধু কাজ নয়, এতে আপনি আপনার বিনোদনের যাবতীয় চাহিদা মেটাতে পারবেন।
অ্যাপল-এর ক্রমবিকাশ
সাজ্জাদ রেজা
১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করে ২০১১ সাল পর্যন্ত অ্যাপল বিভিন্ন ধরনের পণ্য উদ্ভাবন করে। দীর্ঘ সেই যাত্রায় সব পণ্যই খুব সফল ছিল তা কিন্তু নয়। আবার অ্যাপলের গৌরব যে সহসাই তৈরি হয়েছে সেটাও নয়। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আজকের এখানে এসে পৌঁছেছে অ্যাপল। আর এর পেছনে রয়েছে নিরলস পরিশ্রম এবং সাধনা। পাঠকদের জন্য অ্যাপলের সব পণ্যের একটি তালিকা এখানে দেয়া হলো।
অ্যাপল আইআই-১৯৭৭
আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৭৭ সালে। এই ৮-বিট কম্পিউটারটি প্রাথমিকভাবে স্টিভ ওজনিয়াক ডিজাইন করেন। প্রথম সফল পিসির একটি।
অ্যাপল এলএলসি ১৯৮৪
অ্যাপেল তুলনামূলক ছোট এবং কম ওজনের ওপর জোর দেয়। Apple II-এর ফিচারের মতো ছিল এর ফিচার, কিন্তু ওজন ছিল মাত্র ৭.৫ পাউন্ড।
ম্যাকিন্টোস ক্লাসিক ১৯৯০
প্রথম অ্যাপেল ম্যাকিন্টোস ১০০০ ডলারের নিচে বাজারে ছাড়ে। ফিচারগুলো ছিল ৮ মেগাহার্জ প্রসেসর, ৯ ইঞ্চি স্ক্রিন এবং ৪ মেগাবাইটস মেমরি।
আইম্যাক জিথ্রি ১৯৯৮
জোনাথন ইভ ডিজাইন করেন এটি, যার বিশেষত্ব ছিল মাল্টিকালার, মনিটর ও কম্পিউটার চলে আসে এক ইউনিটের মধ্যে।
আইবুক ১৯৯৯
‘clamshell’ নামে পরিচিত। এই ল্যাপটপ সাধারণ ভোক্তা, বিশেষ করে শিক্ষকদের জন্য বাজারে আনা হয়।
পাওয়ার বুক জিফোর ২০০১
পাওয়ার বুক সিরিজ হলো অ্যাপেলের প্রথম উচ্চ শ্রেণীর ল্যাপটপ। এর দাম আইবুকের চেয়ে কম ছিল।
আইপড ক্লাসিক ২০০১
আইপড-ই আমাদের গান ধারণ করা বা শোনার প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনে। আইপডের সংস্করণগুলো হলো-মিনি, ন্যানো, শাফল এবং টাচ।
আইম্যাক জি ফাইভ ২০০৪
এটা বাজারে আসে ২০০৪ সালে। ১.৬ থেকে ২.১ গিগাহার্জ প্রসেসর।
আইপড ন্যানো ২০০৫
আইপড ন্যানো ছিল আইপড মিনির স্থলাভিত্তিক। স্লিম ডিজাইন এবং বেশি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন।
ম্যাকবুক প্রো ২০০৬
ম্যাকবুক প্রো ছিল পাওয়ার বুক জি ফোরের স্থলাভিত্তিক।
আইপড টাচ ২০০৭
আগের যে কোনো আইপডের চেয়ে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। বিশেষত্ব ছিল, পুরো স্ক্রিন ডিজাইন, বহনযোগ্য মিডিয়া প্লেয়ার, ওয়াই-ফাই মোবাইল প্লাটফর্ম, গেম সুবিধা এবং ডিজিটাল কাজকর্ম সহায়ক।
আইফোন ২০০৭
২০০৭ সালে অ্যাপল সিইও-এর মোড়ক উন্মোচন করেন। সহজ অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ্লিকেশন স্টোরের জন্য স্মার্টফোনের পরই এটি জায়গা করে নেয়।
ম্যাকবুক এয়ার ২০০৮
যখন বাজারে নিয়ে আসা হয় তখন প্রচারণা চালানো হয় যে, ‘বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ল্যাপটপ’। ওজন ছিল ৩ পাউন্ড।
আইপড ২০১০
স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের পার্থক্য পূরণে সক্ষম হয় এটি।
বাংলাদেশে থ্রিজি প্রযুক্তির বাস্তবতা
আহসান হাবিব
থার্ড জেনারেশন বা থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা কোনো তথ্য এখনকার চেয়ে কয়েক গুণ তাড়াতাড়ি প্রেরণ ও গ্রহণ করতে পারব। এটাই সর্বাধুনিক মোবাইল প্রযুক্তি এবং বিশ্বের মোবাইল ইউনিটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান যা পূর্ববর্তী যে কোনো মোবাইল প্রযুক্তির চেয়ে সবচেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন। বাণিজ্যিকভাবে থ্রিজি সর্বপ্রথম চালু হয় জাপানে। ২০০১ সালে জাপানের এনডিটি ডোকোমো চালু করে ডব্লিউ-সিডিএমএ প্রযুক্তি। ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যায় এই থ্রিজি। বিশ্বের ৭১টি দেশে তৃতীয় প্রজন্মের এই মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চললেও বাংলাদেশ এখনো এই প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারেনি। যদিও এদেশে ওয়াইম্যাক্স বা ফোরজি সুবিধা প্রদানের জন্য দুটি কোম্পানি রয়েছে।
তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশেও থ্রিজি প্রযুক্তি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। বিলম্ব হলেও অবশেষে সরকার দেশে থ্রিজির লাইসেন্স দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মার্চ মাসে এ প্রযুক্তি বাংলাদেশে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে রাষ্ট্র মালিকানাধীন টেলিটককে থ্রিজি সেবা চালুর অনুমতি দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে যে, সরকারি মালিকানাধীন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এ সেবা কেন? তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে এ সেবা চালুর জন্য উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে আরও কয়েকটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টিও নির্ধারণ করা হয়েছে। নিলামে দেশের বর্তমান মোবাইল ফোন অপারেটর ছাড়াও অন্য যে কোনো আগ্রহী ব্যক্তি বা দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে বলে জানা গেছে।
কী এই থ্রিজি প্রযুক্তি?
বর্তমানে আমরা জিপিআরএস (জেনারেল প্যাকেট রেডিও সার্ভিস টেকনোলজির) বা ইডিজিইর (ইনহ্যান্স ডাটা জিএসএম এনভায়রনমেন্ট) মাধ্যমে সেলফোনে বা মোবাইলে পরিমিত গতির ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করে থাকি। থ্রিজি হলো আইটিইউ (ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন) স্বীকৃত এমন একটি থার্ড জেনারেশন মোবাইল কমিউনিকেশন প্রযুক্তি যার মাধ্যমে থ্রিজি সম্পন্ন মোবাইল ফোন বা মডেমের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া সম্ভব।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটি হলো টেলিযোগাযোগ বা মোবাইল কমিউনিকেশনের একটি অত্যাধুনিক সংস্করণ এবং একই প্রযুক্তির মধ্যে জিএসএম (GSM), ইডিজিই (EDGE), ইউএমটিএস (UMTS) ও সিডিএমএ-২০০০ (CDMA-2000) প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত।
যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে
থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই উচ্চ গতির ডাটা ট্রান্সফার, ভিডিও কনফারেন্স, উ"চগতির ওয়েব ও ওয়াপ ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইন্টারনেটের মাধ্যমে টিভি দেখাসহ আরও অনেক সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
থ্রিজির অন্যতম সুবিধা হলো ভিডিও কনফারেন্স। এই প্রযুক্তির কারণে কলের এএসআর ও এসিডি বৃদ্ধি পায় এবং পিডিডি কমে যায়। কলের ভয়েস পরিষ্কার থাকে। এটি মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং সুবিধা প্রদান করে। এছাড়া থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইলে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবহারকারী বা কোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করে। থ্রিজি সমর্থিত মোবাইল সেটগুলোতে একজন ব্যবহারকারী সি'র অবস্থায় ২ মেগাবাইট/সেকেন্ড এবং চলমান অবস্থায় ৩৮৪ কিলোবাইট/সেকেন্ড গতি পেতে পারেন। তবে থ্রিজি বর্তমানে অত্যাধুনিক কিছু প্রযুক্তি যেমন এইচএসপিএ (হাই স্পিড প্যাকেট এক্সেস)-এর মাধ্যমে আরও বেশি গতির ব্যবহারকারীকে দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৪ মেগাবাইট/সেকেন্ড ডাউনলোড স্পিডও পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশই উপভোগ করছে এলটিই (লং টার্ম এভোলিউশন) প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০০ মেগাবাইট/সেকেন্ড স্পিড পাওয়া যায় এবং এর আপলিঙ্ক হলো ৫০ মেগাবাইট/সেকেন্ড।
আমাদের দেশে বর্তমানে অনেকেই থ্রিজি সমর্থিত মোবাইল সেট ব্যবহার করেছেন। আবার অনেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তি সীমাবদ্ধতা ও ইন্টারনেট স্পিডের কারণে এর সব ফিচার ব্যবহার করতে পারছেন না। থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। থ্রিজি আসার ফলে যে সুবিধাগুলো পাওয়া সম্ভব হবে তা হলো : ভিডিও কলিং-কনফারেন্সিং, টেলি-মেডিসিন, লোকেশন বেইজড সার্ভিস, ভিডিও অন ডিমান্ড এবং অবশ্যই মোবাইল টিভি।
স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক সম্ভাবনাময়
বাংলাদেশে বেসরকারি মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অবকাঠামো দেশব্যাপী বিস্তৃত করেছে। দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে এবং থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করা যেতে পারে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ভারত থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের দেশে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার কাজ শু্রু করেছে। আমাদের দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান তেমন উন্নত না, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাব্যবস্থার বেহাল দশা, পাশাপাশি মফস্বল এলাকায় চিকিৎসকদের তীব্র সংকট চলছে। তাই মফস্বল তথা গ্রামে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। তাই দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন করার বিষয়টি আগে ভাবতে হবে। এর জন্য দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে একটা কেন্দ্রীয় কম্পিউটার নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। দেশের অধিকাংশ প্যাথলজি মেশিন কম্পিউটার দ্বারা পরিচালিত হয়; তাই এর ডাটাগুলো একটি নির্দিষ্ট সার্ভারে জমা রাখা যেতে পারে, প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যেকোনো স্থানে বসেই রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন। এতে রোগীরা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। সর্বোপরি আমাদের স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেলিমেডিসিন ও কম্পিউটারাইজড হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি তৈরি করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক উন্নত হতে পারে।
শিক্ষাক্ষেত্রে আনতে পারে পরিবর্তন
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তথ্যপ্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী নয়। অনুন্নত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধতার বাইরে এসে চিন্তা করার সক্ষমতা কমে গেছে। তাছাড়া এ ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানার বা শেখার আগ্রহ তৈরি করতেও যথেষ্ট নয়। ছাত্রছাত্রীদের শেখার পরিধি নির্দিষ্ট একটা গণ্ডির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ইন্টারনেটের বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার এবং ই-লার্নিং পদ্ধতি এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা উপকরণ হিসেবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট পিসি বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব তাই সহজেই অনুমেয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ স্কুল ও কলেজে কম্পিউটার পৌঁছে গেলেও অনেক সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা তা ব্যবহার করতে পারছে না।
দরকার দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ
শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগের অভাবে সম্পূর্ণ সুবিধা এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। থ্রিজি প্রযুক্তির ব্যবহার শুরুর মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বল্প মূল্যে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট বিতরণের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
দরকার মাতৃভাষায় ই-কনটেন্ট
ইন্টারনেটকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে হলে প্রচুর পরিমাণে ই-কনটেন্ট দরকার যেগুলো মাতৃভাষায় হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাংলায় ই-কনটেন্ট ভাণ্ডার আমাদের দেশে এখন তেমন তৈরি হয়নি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কথা বলা হলেও এসব বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের দারুণ সীমাবদ্ধতা লক্ষ করা যাচ্ছে। থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে হলে বাংলা ভাষায় প্রচুর পরিমাণে ই-কনটেন্ট প্রস্তুত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও অধিক পরিমাণে বাংলা ভাষায় কনটেন্ট প্রস্তুতের কাজ করা উচিত।
দরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন
থ্রিজি প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা গেলেও সরকারিভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এই দুটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে লাইসেন্স দেয়ার পূর্বে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত। যেমন- দেশের সব অঞ্চল যেন দ্রুত এই সেবার আওতায় চলে আসে, শহর ও গ্রামের মধ্যে যেন প্রযুক্তিবৈষম্য সৃষ্টি না হয়। এছাড়া যথসম্ভব কম মূল্যে এ সেবা সবার দুয়ারে যেন পৌঁছানো সম্ভব হয় সে ব্যাপারেও ভাবতে হবে। থ্রিজি প্রযুক্তি নিয়ে দেশের মানুষের আগ্রহের কমতি নেই, তারা যেন দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি দুনিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

