প্রতিহিংসার শিকার
আমি এখনো জানি না যে আমার মানসিক রোগটা কী? এই তো আমি প্রিয় ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ-এর ওষুধ খেয়ে যাচ্ছি আজ ৬-৭ বছর থেকে। ইদানীং আমার বাবা ও মা বিশ্বাস করেন যে আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। আমার অভিভাবকরা বলেন যে আমাকে ‘পাবনা’ পাঠিয়ে দেবেন। আমার বাবা ও মা কেমন মানুষ তা আমি ঠিক জানি না বা বুঝিও না। তবে ছোটকাল থেকেই বকা, ধমক ও গালি খেয়ে বেঁচে আছি। এখন আর মার খাই না আগে ছোটকালে খেতাম। তবে এখন আমি ধীরে ধীরে চালাক হয়ে উঠেছি। আমি জানি o-zone layer pollution-এর কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, সূর্যের বিপজ্জনক কিরণ আমাদের জন্য ক্ষতিকর কারণ এতে স্কিন ক্যান্সার হয়। আমি বাইরে গেলে সানগ্লাস, মাস্ক এবং ছাতা ব্যবহার করি। বাবা-মা ঠিকই আমার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ব্যয় করেন। তাই আমি আমার মনের কথা বলতে পারি না। আমি আমেরিকায় গিয়েছিলাম উচ্চশিক্ষার জন্য। লাদেনের ৯/১১র টুইন টাওয়ারে হামলার পর আর আমি আমেরিকায় নির্যাতনের জন্য থাকতে পারিনি। আমার কপালটাই ভালো না। আমার সাথে এমন হয় কেন? যাই হোক এখন প্রিয় ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ-এর ইংরেজি বই বাংলায় অনুবাদ করি। এই কাজটা কঠিন এবং অনেক সময় লাগে। বাংলাদেশে আসার পর আমি ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’-এ ভর্তি হই BA in English subject-G 4.0 GPA পেয়েছিলাম। কিছু হিংসুক ছাত্রীর মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার হই আমি। কিছু অসৎ শিক্ষক আমাকে SUB থেকে বের করে দেয়। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
এহসান আহমেদ
স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের সেই দিন
বাইরে ঝুম বৃষ্টি, প্রকৃতি ঝাপসা, মুখোমুখি বসে আছি আমি আর তুমি। বাইরে প্রকৃতি আমাকে ভেজাতে পারছিল না। কিন্তু আমি ভিজেছিলাম অনুভূতির বারিধারায়। বিশ্বাস কর শুধু একটিবার আমি তাকিয়েছিলাম তোমার চোখে, শুধু একটিবার। যেখানে ছিল সারা জীবন পাশে থাকার স্বপ্ন, যা তুমি আমাকেও দেখালে। লজ্জা, আবেগ, ভয় সূর্যগ্রহণের মতো গ্রাস করল নীল আকাশে ডানামেলা পাখির মতো মনকে। আকাশের সমস্ত নীলকে বুকে ধারণ করে নিজেকে আবিষ্কার করলাম নারীরূপে, স্বপ্নসঙ্গিনীরূপে। মুক্ত বিহঙ্গও যে খাঁচায় বন্দি হতে চায় খাঁচার বুকে মাথা রেখে উপলব্ধি করতে চায় তার হৃদস্পন্দন। আমি তখন উড়ছি প্রজাপতির মতো রঙিন ডানা মেলে। তোমার বলা কথাগুলো আর আমার না বলা অব্যক্ত প্রেম হৃদয় মাতাল করছে। দু চোখ ভরা প্রতীক্ষা তোমার হাতে হাত রাখার। কিন' তুমি হাত না ধরে আমার ডানা দুটো, দুহাতে পিষ্ট করলে সেগুলো। যখন আমি দেখলাম কল্পনার সপ্তম
আকাশ থেকে আছড়ে পড়তে চলেছি শক্ত মাটির বুকে। চিৎকার করে ডাকলাম তোমায়, আকুতি করলাম, মিনতি করলাম, তোমার চোখে তখন উন্মাদ, বালকের মতো অহংকারী আনন্দ, ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি। কী বীভৎস! কী নির্মম, কী নিষ্ঠুর। প্রশ্নবিদ্ধ মন চিৎকার করে বলল কে তুমি? যে আমাকে বলেছিল, The boy has certain empathy for the girl. যার আমার মুখে গাধা শুনতে ভালো লাগে। যে আমাকে তার সন্ন্যাসিনী করে সন্ন্যাস হতে চেয়েছিল। যার অনেক আবেগ নিয়ে বলা ‘আমাকে তুমি আর সবার দলে ফেলতে পারলে’ কথাটি আমাকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছিল। যে আমার বান্ধবীকে শুনিয়েছিল বিতর্ক অনুষ্ঠানে আমি না থাকায় তার প্রতীক্ষা আর হৃদয় ভঙ্গের গল্প। যে সারা জীবন আমার রাগ ভাঙানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিল। যে আমার লজ্জা আরক্ত চোখ দেখার জন্য বলেছিল আমার যে বন্ধু আমাদের একসাথে দেখল তাকে কী বলত, যে তার মাকে বলতে চায় আমাদের কথা। সে তো তুমি নও। যাকে আমি শ্রদ্ধা করি। যাকে প্রতারক বা মিথ্যাবাদী ভাবা আমার পক্ষে অসম্ভব। সে আমার চোখে কখনোই মিথ্যা স্বপ্নের কাজল আঁকতে পারে না। কিন' এ কে? যে অন্যের আবেগ নিয়ে কদাকারভাবে হাসছে আর প্রশ্ন করছে আমি তোমাকে কী এমন বলেছি যাতে তোমার মনে হলো আমি তোমাকে অনুভব করি? কী করে বুঝব কারো কথাগুলো সত্য মনে করা অন্যায়। কী করে বুঝব মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবেগের এতটা বিকৃত পরিবর্তন সম্ভব। তুমি বুঝবে না কাউকে দেবতার আসনে বসানো আমার জন্য যত কঠিন ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন তাকে সেখান থেকে নামতে দেখা, তাকে প্রতারক ভাবা। প্রতারণার নির্মম বাণে বিদ্ধ হয়ে যখন শক্ত মাটির বুকে পতঙ্গটি আছড়ে পড়ল তখনো তুমি হাসলে। জানি তুমি আরও হাসবে যখন দেখবে পতঙ্গটি একেবারে নিস্তব্ধ। কিন্ত তোমার বীভৎসতা দেখার জন্য পতঙ্গটি আর থাকবে না। কারণ তোমাকে এতটা হায়েনার রূপে দেখার কথা স্বপ্নেও কল্পনা করেনি পতঙ্গটি।
ইন্দ্রানী সাহা তপু
নর্দান ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী
ফোনঃ ০১৬৭৫-০৩২১২৮
মা আমার সুখ
সেদিন ছিল আকাশে মেঘের ভেলা, বুঝিনি এমন মেঘ আমার সুখগুলোকে অন্ধকারে ঢেকে দিয়ে যাবে, হারাব আমার প্রিয়জন, আমার সুখপাখি, আমার চলার পথের শক্তি, আমার মা জননীকে। আমি বুঝিনি এমন মেঘে হারাব আমার ঘুমপাড়ানির গান, আমি বুঝিনি এমন মেঘে হারাব আমার বুকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা সেই মাকে, মা ছাড়া আমার নিশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসে। মা আমার অভিমান করেছে। আমারও ইচ্ছা করে মায়ের কাছে যেতে। আমাকে ছেড়ে মা একা স্বর্গে চলে গেছে। মা ছাড়া এ পৃথিবীতে সবই যেন স্বপ্ন লাগে। আজ আমার মা জননী দূর আকাশের গায়ে থাকে। জানি না মা জননী কেমন আছে। আমার সুখের আলো জ্বেলে মা আমাকে ভুলে আছে। কিন্তু মা তোমাকে আমি ভুলতে পারিনি। তোমাকে হারানোর যন্ত্রণা, আমাকে তোমার স্মৃতিগুলো মনে করে দেয়। মা ছাড়া সুখের প্রহর জ্বলে জ্বলে ছাই হয়ে যায়। রাতের আকাশে মা জননী ধ্রুবতারার সাথে থাকে, আমি সবই বলি তারাকে যেন আমার মা ফিরে আসে। মা ছাড়া একটুও ভালো লাগে না এ ভুবনে। আমি যেন সব শক্তি হারিয়ে পথহারা পাখি। দিনের আলোর মাঝে অনেক পাখি দূর আকাশের গায়ে উড়ে। আমি চেয়ে থাকি পাখিগুলো কি মা জননীর কোনো খবর দেবে। বাতাসের শন শন শব্দ শুনি হয়তো আমার মা জননীর কথা বলবে। কিন' কেউ আমার কষ্ট বুঝল না। আমার দুঃখ বুঝল না, মা তুমি ফিরে এসো। আমি যে ভুলতে পারি না মা তোমাকে, মা তুমি ফিরে আসবে কি?
মো. সোহেল রাজা
মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
ফোনঃ ০১৯৪৭-৬৮২২৩৮
পাশাপাশি
আজ আমি তোমার সহধর্মিণী না। আমার কাছে আমরা দুজনে সহযোদ্ধা। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না, আমি ধরেই নিয়েছিলাম জীবনে আমি বিয়ে তো দূরের কথা কাউকে কখনো ভালোবাসব না। কিন্তু কী করে যেন সব ওলট-পালট হয়ে গেল। আমি তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম, হঠাৎ করেই একদিন শুনলাম আমার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ আরিফ মৃত্যুপথযাত্রী। তাই সে কোনোভাবেই চায় না আমি তার সাথে জড়িয়ে কষ্ট পাই। এ ধাক্কা যেন আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। একরকম মানসিক রোগী হয়ে পড়লাম। তারপর তুমিই আমাকে স্যারের কাছে নিয়ে গেলে। নিয়মিত কাউন্সিলিং নেয়ার ফলে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম। তত দিনে আরিফ আমাকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে। একদিন তুমিই আমাকে বললে তুমিও একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসতে। তার নাম রুলিয়া। তার ক্যান্সার হয় এবং সে মারা যায়। কিন্তু তুমি স্বাভাবিক ছিলে, আমি পারিনি স্বাভাবিক থাকতে। আমাদের দুজনের কষ্ট যেন একই রকম। আমরা দুজন দুজনার সাথে মিশতে মিশতে একে অপরকে ভালোবাসতে শুরু করলাম। মনে পড়ে কি তোমার তুমি কম্পিউটার ক্লাস নেয়া বন্ধ করে আমাকে কাউন্সিলিংয়ের জন্য স্যারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলে। তবে তোমাকে ভালোবেসেছি আমি শুধুমাত্র তোমার পার্সোনালিটিতে মুগ্ধ হয়ে। এখন তুমি আর আমি এক ছাদের নিচে বাস করছি পাশাপাশি নয়, খুব কাছাকাছি। তারপরও যেন আমার মনে হয় আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা শুধুমাত্র সিমপ্যাথি থেকে। তোমার কাছে প্রশ্ন আমার কেন, করুণা করলে আমাকে?
নাজমুন নাহার সেতারা
ফোনঃ ০১৭৪৫৮৫৪২৬৬
বৃষ্টিতে শুরু হয়ে বৃষ্টিতেই শেষ
বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে তুমি আমি একসাথে কত মধুর স্বপ্ন দেখেছি হাত রেখে দুটি হাতে। কতক্ষণ যে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থেকেছি দুজন দুজনার পানে। কোথায় আজ আমাদের সেই স্বপ্নীল দিনের সোনালি স্বপ্নগুলো। কথা ছিল সকল ঝড় মোকাবিলা করব শক্ত হাতে কিন্তু হঠাৎ করে বিচ্ছেদের ঝড়ে তছনছ করে দিল সবকিছু। ক্ষণিকের মাঝে প্রেক্ষাপট পাল্টে গেল। মনে পড়ে তোমার বৃষ্টিভেজা সেই দিনটার কথা-কী উৎকণ্ঠা, কখন অবসান ঘটবে রাতটার, উঠবে ভোরের সোনালি রোদ। অবশেষে সকাল হলো নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা কিন্তু এ কী হলো, বৃষ্টি যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল। বাইরে প্রবল বৃষ্টি, ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলছে তার নিজস্ব গতিতে। ফোনে কথা হচ্ছে, মনে তো শান্তি নেই, ভেতরে অজানা আতঙ্ক, কথা দিয়ে বুঝি কথা রাখা সম্ভব হবে না। ভাগ্যবিধাতা হয়তো আমাদের মনের অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন তাই ঘণ্টা দুয়েক পরে আকাশের অবস্থা ভালো হলো, সেই সাথে আমাদেরও। বাসা থেকে যখন বলছে আজ দেরি হয়ে গেছে আর যেতে হবে না। তাছাড়া আবার বৃষ্টি নামতে পারে। হৃদয়ে তখন হাতুড়ি পেটার শব্দ শুনতে পেলাম। একেই কি ভালোবাসা বলে। মনটা তো ব্যাকুল বাধানিষেধ মানতে নারাজ। অবশেষে দুজনার দেখা হলো। ফোনে ফোনে কথার সমাপ্ত ঘটল। একটা গ্রুপ আছে আমাদের। আজ অবশ্য বেশির ভাগ সদস্যই ছিলাম। প্রথম দেখার মজাটাই আলাদা তাই একা একা উপভোগের চিন্তাই ছিল না। অঝোর ধারায় দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টি শুরু হলো। ২ ঘণ্টার জায়গায় কখন যে ৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে কেউ বুঝতেই পারিনি। বন্ধুদের কথায় যেন সবাই বাস্তবতায় ফিরে এলাম। ওই দিনটা আমার খুব প্রিয় আর ভালো লাগার বিশেষত্ব হলো প্রতিটা কথাই দুবার বলতে হতো। কেননা বৃষ্টির শব্দে কিছুই বোঝা যেত না। বৃষ্টি দেখলে তো এমনিতেই আমি আনমনা হয়ে যাই। পাশের মানুষটার কথা ভুলে গিয়ে বৃষ্টি নিয়ে যখন আমার মনে উঁকি দিচ্ছে ছন্দ তুমি তখন বলেছিলে-আমার সাথে দেখা করা, কথা বলা সবই কি বৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে? আমি বলেছিলাম বৃষ্টিকে ভালোবাসি বলে উপরওয়ালা বৃষ্টিময় এ দিনটা উপহার দিয়েছে। তুমি অবাক হয়ে বলেছিলে সুন্দর বলেছ তো।
‘বৃষ্টিপড়ে আকাশ থেকে
সারা অঙ্গে আমি মেখে
তোমায় নিয়ে ভিজব মেঘে।
বৃষ্টি আমার বড় প্রিয় খুব ভালো লাগে
আমার তুমি সঙ্গে নিয়ে দেখনি তো আগে।’
তোমার জন্য এটা ছিল আমার প্রথম লেখা। তোমার প্রতিটা কথা বৃষ্টি এলে বৃষ্টির শব্দের সাথে নতুন করে ফিরে আসে। তুমি আমার কাছে হারিয়ে গিয়েও মনের মণিকোঠায় আঘাতটা ঠিকই করো। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেল যোগাযোগ নেই। সময় সুযোগ আর চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান তুমি অতিক্রম করতে পারলে না। তবু আজ হৃদয়ের গহিনে নীরবে নিভৃতে ব্যর্থতা আমার সাথে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে আছে। শত চেষ্টা করেও মুক্তি পাই না। বর্তমান আর অতীতের মাঝে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে আমার আমিত্বে। দিন আসে দিন যায় এ কেমন জীবন হায়। কষ্টের জাতাকলে চোখের জল হারিয়ে ফেলেছি। বৃষ্টি এলে বৃষ্টির ফোঁটাগুলোকে মনে হয় আমার হৃদয়ের কথা বলে, আকাশ থেকে কান্না হয়ে ঝরে। যতবার আমাদের দেখা হয়েছে ততবারই বৃষ্টির একটা ভূমিকা ছিল। বৃষ্টিতে সম্পর্কের শুরু আর শেষটাও বৃষ্টিতেই। তুমি পাশে থেকেও বুঝতে পারনি আমার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। কষ্টে পাথর হয়েছি কাঁদতে পারিনি। হাসিমুখে বলেছি বন্ধু বিদায়। হালকা বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম দীর্ঘ পথ। হঠাৎ তুমি যখন বললে আমরা বাসার কাছাকাছি চলে এসেছি, আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। দুজনের রাস্তা আজ আলাদা। বাসায় ফেরার পর খেয়াল হলো কী পরিমাণ রাস্তা হেঁটেছি, ভিজেছি। পথচারীদের তাকানো দেখে সেটা একটা বারের জন্যও মনে হয়নি।
সাদিয়া খানম (দীপ্তি)
বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১০
সেক্টর-৪, উত্তরা, ঢাকা
শিক্ষা ও নৈতিকতাঃ বেদনাবিধুর কিছু অভিব্যক্তি
একটি মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকে তার জীবন, সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মমতের হাজারও ঘটনা, হাজারও ইতিহাস, খুঁটিনাটি অনেক বিষয়। উত্তরকালে লেখকদের জন্য তার কতটুকুই বা বর্ণনা করা সম্ভব।
শিক্ষা একটি জাতিকে সুখী সমৃদ্ধিশালী ও স্বনির্ভর করে তুলতে পারে। শিক্ষাকে পশ্চাতে রেখে সম্মুখে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব। উন্নত বিশ্বের অপার বিস্ময় আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশকে স্বল্প সময়ে উন্নত সীমায় নিয়ে যাওয়ার রহস্যের কথা, তদুত্তরে বলেছিলেন, ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তিনি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
আমাদের দেশে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ব্যাপক সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়ে আসছে। বিশ্বায়নের এ যুগে আগামী দিনগুলোতে প্রতিযোগিতা হবে মেধা, মনন, সৃষ্টিশীলতার। পেশি ও মুখভরা বুলিতে নয়। এ লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন এমন শিক্ষাব্যবস্থা যা তারুণ্য মেধা, মনন ও সৃজনশীল শক্তিকে বিকশিত করে। নীতিবোধ তৈরি করে। চরিত্রকে করে সুন্দর।
আমরা প্রত্যেকে মানুষ। প্রত্যেকেই শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পী বা সাহিত্যিক নই বরং কেউ কেউ অন্য কিছু। তাই আমাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন মনুষ্য গুণাবলি অর্জন করা। আর মনুষ্য গুণাবলি সৃষ্টি করে নৈতিকতা শিক্ষা।
প্রাশ্চাত্য সমাজ বস্তুবাদী উৎকর্ষতার উচ্চ শিখরে উপনীত হলেও নৈতিক শিক্ষার অভাবে তাদের মাঝে শান্তি নির্বাসিত। সুখ অধরা। নেই পারিবারিক বন্ধন। না জানা আছে শ্লীলতার সংজ্ঞা, যেন জীবন প্রাণহীন যন্ত্রচালিত এক রোবট।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায়ও নৈতিকতা শিক্ষা নেই যেমন আছে অন্যান্য বিষয়াবলি। যার ফলে দেখতে হয় বিদ্যাপীঠের পবিত্র অঙ্গনে ধর্ষণ সেঞ্চুরির মহোৎসব। দুঃসহ ঘৃণ্য ইভ টিজিং। কলমের বদলে অস্ত্রের ঝনঝনানি। জামায় কলমের কালির বদলে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। অফিস আদালতে দুর্নীতির বেহায়া পসরা।
আর প্রেম! প্রেমের নামে চলছে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার অবারিত সুযোগ। যার কারণে অকারণে ঝরে পড়ছে পিংকি, নুরিনা, ইলোরা, ফারহানারা। আর কেউবা প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে অভিশপ্ত এক জীবন। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কেন আজ বাংলার স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য স্কুলের ধর্ষক শিক্ষকের বিচারের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রী কিংবা অভিভাবকদের শহীদ মিনারে অথবা রাজপথে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে হয়? কেন ধর্ষণের দায় নিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিংগুলোকে বন্ধ করে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। কেন আজ দৈনিক পত্রিকাগুলো ধর্ষণের খবর ছাড়া একদিনও খালি যায় না? কেন গৃহবধূদের প্রতিনিয়ত হতে হচ্ছে পরকীয়ার শিকার? কেন আজ বাবার হাতে মেয়ে, ভাইয়ের হাতে বোন কিংবা নিকটাত্মীয়ের হাতে কোনো অবুঝ ছোট শিশু যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে? যেগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ব্যক্তি মর্যাদা বা সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে আঁধারেই থেকে যায়। যার একশ ঘটনার মধ্যে প্রকাশ পায় দুই-একটি যার কাল সাক্ষী হয়ে আছে বাংলার দৈনিকগুলো। কেন প্রেমিকাকে প্রতারিত হয়ে প্রেমিকের বাড়ির সামনে অনশন করতে হয়? কেন আদর্শ মানুষ তৈরির কারিগর সেই শিক্ষকটির হাতে ছাত্রীদের হতে হচ্ছে যৌন নিপীড়নের শিকার? কেন মাসিক মনোজগত, মদিনা এবং আদর্শ নারীর তুলনায় অশ্লীল ও নগ্ন পত্রিকার সংখ্যা বেশি অথচ এর লেখক বা প্রকাশক সবাই শিক্ষিত?
বর্তমান সমাজে এই নৈতিক অবক্ষয় অশ্লীল পত্রিকা, নগ্ন সিনেমা আর যৌন সুড়সুড়ি বিজড়িত গানই টেনে এসেছে। তাই সত্যকে যত দিন চোখ-কান বন্ধ করে অস্বীকার করা হবে তত দিন পিংকিরা ঝরতেই থাকবে। ঝরে পড়া বন্ধ করতে হলে বখাটেদের আগে মূলোৎপাটন করতে হবে। তাদের যারা শিক্ষা দেয় বিয়ে ছাড়া প্রেমে। অথচ তারা থাকে সবার অলক্ষ্যে।
সুতরাং যদি প্রত্যাশা করা হয় সত্য সুন্দর অনাবিল শান্তির এক পৃথিবীর, যেখানে থাকবে না অসত্যের পদচারণা, থাকবে না দুর্বৃত্তায়নের কালো মেঘ, হাসবে মানবতা, কাঁদবে না যৌতুকের জাতাকলে পিষ্ট হওয়া কোনো বোনের চোখ।
তবে প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষাস্নাত এক শিক্ষাব্যবস্থা ও বাস্তব জীবনে তার যথার্থ অনুশীলন। পদার্থ, রসায়ন, সাহিত্য, দর্শন প্রভৃতি আমাদের দান করেছে নতুন নতুন জীবনপ্রণালী, কিন্তু প্রণালীগুলো বাস্তবায়নের সুস্থ সমাজ দান করছে না। নৈতিকতাহীন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা চারিত্রিক উৎকর্ষতা দেশ ও সমাজের সার্বিক উন্নতি সাধনের মানসিকতা জন্মদানে অক্ষম। তাই প্রকট হয়ে উঠছে ব্যক্তিস্বার্থপূজা। বর্তমানে এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই লুপ্ত হবে আমাদের জাতিসত্তা। সুতরাং বস্তবাদী শিক্ষার ওপর অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে নৈতিক শিক্ষাকে।
ফকির মো. খোবায়ের হোসেন
লতিফপুর (দক্ষিণপাড়া), মিঠাপুকুর, রংপুর
ফোনঃ ০১১৯১-২৪০৯৬৫
আপুদের আধুনিকতা
আধুনিকতার সংজ্ঞা বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে দিতে পারে। কারণ বিভিন্নজনের বিভিন্ন রকম দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। যাই হোক-আমি আধুনিকতাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি, সকল প্রকার কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অনিয়ম, অস্বাভাবিকতা, অশ্লীলতা, প্রাচীনতা থেকে দূরে থাকাই হচ্ছে আধুনিকতা। সকল প্রকার ভালো গুণের লালন-পালন-ধারণ ও অনুশীলন করাই হচ্ছে আধুনিকতা। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সকল প্রকার ভালো কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাই হচ্ছে আধুনিকতা। এখন হচ্ছে এর বিপরীতটা। খোলামেলাভাবে চলাফেরা করাই নাকি আধুনিকতা। খোলামেলার এ আধুনিকতা আপুদের মাঝে এখন অক্টোপাসের মতো জেঁকে বসেছে। আপুরা এখন আর শালীন পোশাক পারে না, পরে অশালীন পোশাক। বক্ষস্থানে ওড়না দেয় না, ওড়না দেয় গলায়। বক্ষস্থানের এক পার্শ্বে রাখে, আরেক পার্শ্বে রাখে না। কিংবা বক্ষস্থানে ওড়না একদম রাখেই না। বক্ষস্থান থেকে ওড়না সরে গেলে সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ থাকে না। আপুদের এ রকমটি করাই হচ্ছে যেন তাদের আধুনিকতা, যেন তাদের নারীত্ব। এটি যেন না করলেই নয়।
কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে আপুদের এ আধুনিকতাই সম্পূর্ণভাবে প্রাচীনতা বা সেকেলে। কারণ প্রাচীনকালে নারীরা তাদের বক্ষস্থানকে নানাভাবে প্রদর্শন করত। তারা নির্লজ্জভাবে যেখানে সেখানে যেমন তেমনভাবে চলাফেরা করত, অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করত। সেটাই ছিল তাদের কাছে স্বাভাবিকতা। তাদের এরকমটি মেনে নেয়া যেতে পারে। কারণ তারা অসভ্য জগতে বাস করত। বাস করত অন্ধকার যুগে। তাদের মধ্যে কোনো অনুসরণীয় আদর্শ বা নৈতিকতা ছিল না। আর আপুরা সভ্য জগতে বাস করেও অসভ্যভাবে চলাফেরা করে। যা কিছুতেই শোভা পায় না। আপুদের সভ্যভাবে ও সলজ্জভাবে চলাফেরা করা উচিত। কারণ লজ্জাই হচ্ছে ভূষণ।
আপুরা, আপনারা কি জানেন, আপনাদের এ তথাকথিত আধুনিকতাই সমাজে অনেক বিকৃত রুচির বখাটে, ইভটিজার তৈরি করছে। তৈরি করছে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ নামের নরপশু। যারা সমাজে প্রতিনিয়ত বিশৃঙ্খলা, বিব্রত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সমাজকে অস্থির করে রাখছে। অবশ্য যারা স্বভাবগতভাবে বখাটে ও দুশ্চরিত্র প্রকৃতির তাদের দৃষ্টান-মূলক শাস্তি দেয়ার জন্য আমি সরকারের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার লেখায় আমি সব আপুর কথা বলছি না। যেসব আপু প্রচলিত আধুনিকতার বিপরীতে চলাফেরা করে তাদের আমি বিনয়চিত্তে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমার এ লেখাতে যদি কোনো আপু মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন অথবা মর্মাহত হন তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
আপুরা, আপনারা কেন এমনটি করেন? আপনারা নিশ্চয় জানেন যে শালীন পোশাকই হচ্ছে আপনাদের নিরাপত্তা, আপনাদের সম্মান, আপনাদের সৌন্দর্য, আপনাদের অহংকার। প্লিজ আপুরা প্রাচীন নারীর মতো নিজেদের প্রদর্শন করবেন না। আপনারা প্রাচীনতাকে পরিহার করুন। তথাকথিত আধুনিকতাকে চিরতরে বর্জন করুন। আর শালীনতার আধুনিকতাকে গ্রহণ করুন। যেসব আপু শালীনতার আধুনিকতাকে মেনে চলেন তাদের প্রতি আমার আন্তরিক আহ্বান আপনারা এ তথাকথিত আধুনিকতার বি্রুদ্ধে প্লিজ একটু কলম ধরুন। যে রকমটি নারীকে আলোর পথে আনার জন্য বেগম রোকেয়া, কামিনী রায়, সুফিয়া কামাল প্রমুখ মহীয়সী নারী লিখেছেন। প্লিজ আপনারা তেমনটি লিখুন।
প্রদীপ ইসলাম
সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট
ফোনঃ ০১৯৩৯-৬৭২৪৩৫, ০১৬৭৪-১৪৭৮১১

