Skip to main content

মাইগ্রেনের চিকিৎসা ও খুঁটিনাটি

ডা. এএম শাহজাহান

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে কয়েকটি ব্যাপার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা।

মাইগ্রেন কী?
মাইগ্রেন এক বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা। মাথার যে কোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে তা বিস্তৃত আকার ধারণ করে। রক্তে সেরোটোনিন বা ফাইব এইচটির মাত্রা পরিবর্তিত হলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনিগুলো আছে সেগুলো মাথাব্যথার প্রারম্ভে স্ফীত হয়ে ফুলে যায়। এছাড়া মাথাব্যথার সঙ্গে সঙ্গে বমি এবং বমি বমি ভাব রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে।

মাইগ্রেন কেন এবং কাদের বেশি হয়?
মাইগ্রেন কেন হয় তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটি বংশগত বা অজ্ঞাত কোনো কারণে হতে পারে। এটি সাধারণত পুরুষের চেয়ে মহিলাদের বেশি হয়। পুরুষ ও মহিলাদের এই অনুপাত ১:৫। মহিলাদের মাসিকের সময় এই রোগটি বেশি দেখা দেয়। এছাড়া মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা,  কোষ্ঠকাঠিন্য, অতি উজ্জ্বল আলো এই রোগকে ত্বরান্বিত করে।

উপসর্গ
মাইগ্রেন বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু হয় এবং মাঝ বয়স পর্যন্ত কিছু দিন বা কয়েক মাস পর পর হতে পারে। মাথাব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

মাইগ্রেনের প্রকারভেদ
মাইগ্রেনকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যেমন : ক্লাসিক্যাল, অপথালমোজিক, ব্যাসিলার আর্টারি, হেমিপেজিক মাইগ্রেন ইত্যাদি।

ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেন
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে। এমতাবস্থায় রোগী চোখের সামনে আলোর ঝলকানি ও চোখে শর্ষে ফুল  দেখে। রোগীর হাত, পা, মুখের চারপাশে ঝিনঝিনে অনুভূতিসহ শরীরের এক পাশে দুর্বলতা ও অবশভাব হতে পারে। তারপর শুরু হয় মাথাব্যথা, যা মাথার এক পাশ থেকে শু্রু হয়ে আস্তে আস্তে পুরো স্থানেই বিস্তৃত হয়। প্রচণ্ড দপদপে ব্যথা, প্রচুর ঘাম বের হওয়াসহ বমি কিংবা বমি বমি ভাব রোগীকে কাহিল করে ফেলে।

অপথালমোজিক মাইগ্রেন
চোখের উপরি ভাগ থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত প্রচণ্ড ব্যথাসহ রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে। এমতাবস্থায় রোগী আলো একদম সহ্য করতে পারে না। অন্ধকার ঘরে থাকতেই রোগী পছন্দ করে।

ব্যাসিলার আর্টারি মাইগ্রেন
সাধারণত মাথার পেছন থেকে এ ব্যথা শুরু হয় এবং সঙ্গে মাথা ঘোরাভাব থাকতে পারে।

হেমিপেজিক মাইগ্রেন
ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শরীর অবশভাব থাকে। এটি সারতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
মূলত রোগীর ইতিহাস থেকেই চিকিৎসকরা মাইগ্রেন শনাক্ত করে থাকেন। এছাড়া চোখ পরীক্ষা করতে হবে। সাইনাসের জন্য প্রয়োজনীয় এক্স-রে করতে হবে। বারবার এক জায়গায় ব্যথা হলে ব্রেনের সিটি স্ক্যান করাতে হবে।

চিকিৎসা ও করণীয়
চিকিৎসা রোগীর ইতিহাস ও রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করবে। আমাদের  দেশে বর্তমানে মাইগ্রেনের চিকিৎসায় বেশ কিছু কার্যকর ওষুধ বাজারে এসেছে, তার মধ্যে ফ্লুনারিজিন, এমট্রিপটেইলিন, পিজোটিফেন, রিজাট্রিপটান, টলফেনামিক এসিড ইত্যাদি ওষুধ বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

শেষ কথা
গ্রামগঞ্জে অনেক মাথাব্যথার রোগীকে মাথায় সুতা পেঁচিয়ে তার সঙ্গে গাছের শিকড় বা তাবিজ বেঁধে রাখতে দেখা যায়। তাদের ধারণা, তাদের বান মারা হয়েছে। অথচ এসব ভ্রান্ত ধারণা। তাই এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো পরিহার করে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

লেখকঃ চিকিৎসক, মা মেডিকেল হল
নতুন বাজার, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
ই-মেইলঃ drshahjahanctg@gmail.com