‘প্লাস্টিক সার্জারি’ প্রকৃত অর্থে কী এ নিয়ে নানা ধরনের ভুল ধারণা আছে। প্লাস্টিক সার্জারি নামটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ ‘প্লাস্টিকস’ থেকে। এর অর্থ আকার ও আকৃতিতে পরিবর্তন আনা। যেহেতু প্লাস্টিক সার্জারিতে পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি অঙ্গ বা টিস্যুর আকৃতির পরিবর্তন করা হয় তাই এ ধরনের সার্জারিকে পুনর্গঠন সার্জারি বা রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারিও বলা হয়।
প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের রোগের চিকিৎসা করা হয় যেমন-
- জন্মগত ত্রুটি-কাটা ঠোঁট, তালু, বাড়তি আঙুল, জোড়া আঙুল, অসম্পূর্ণ কান, মুখমণ্ডলের বিভিন্ন ত্রুটি।
- আঘাতজনিত বিকৃতি-দুর্ঘটনা বা আঘাতের পর শরীরের যেকোনো স্থানের বিকৃতি পুনর্গঠন করে আগের অবস্থায় আনতে।
- ক্যান্সার বা টিউমার অপসারণের পর ওই স্থানের পুনর্গঠন করতে।
- বেডসোরের চিকিৎসা করতে। যাদের দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে থাকতে হয় বেডসোর বা শুয়ে থাকার কারণে তাদের শরীরে এক ধরনের ঘা হয়।
- পুড়ে যাওয়া রোগীর চিকিৎসা করতে।
- হাতের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা করতে।
- কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে।
বলা যায় প্লাস্টিক সার্জারি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজন হয়। কসমেটিক সার্জারিও এর অন্তর্ভুক্ত। কোনো ব্যক্তির মুখমণ্ডল অথবা ফিগার সুন্দর করার জন্য যেকোনো প্লাস্টিক সার্জারিকেই কসমেটিক সার্জারি বলা হয়। এ নামকরণটিও এসেছে আরেকটি গ্রিক শব্দ ‘কসমেটিকস’ থেকে, যার অর্থ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। আজকাল কসমেটিক সার্জারিকে এইসথেটিকও বলা হয়।
কসমেটিক সার্জারির ইতিহাস
আড়াই হাজার বছর আগে মিসরে প্রথম ডার্মাব্রশন পদ্ধতি চালু হয়। এতে বিভিন্ন ধরনের পাথর শরীরে ঘষে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানো হতো। দুই হাজার বছর আগে এ উপমহাদেশেই নাকের প্লাস্টিক সার্জারি করা হতো। ২০০ বছরেরও আগে শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে স্তনে চর্বি প্রতিস্থাপন করে এর আকৃতি সুন্দর করার চেষ্টা করা হতো। ১৯৬৩ সালে ক্লোনিন ও গেরো প্রথম সিলিকন ইমপ্লাস্ট ব্যবহার করে স্তনের সৌন্দর্য বৃদ্ধির সফল সার্জারি করেন। লাইপোসাকশন (বাড়তি মেদ বের করা) প্রথম চালু করেন ইলুজ নামের এক ফরাসি ডাক্তার ১৯৭৭ সালে। শরীরের বিভিন্ন স্থানের ওপর ভিত্তি করে প্রচলিত কসমেটিক সার্জারি কয়েক ধরনের হতে পারে।
মুখমণ্ডলের কসমেটিক সার্জারি
- রাইনোপ্লাস্টিঃ নাকের সৌন্দর্যের জন্য।
- ফেসলিফটঃ কুঁচকে যাওয়া মুখের ত্বকের জন্য।
- থ্রেড ফেনলিফটঃ বিনা অপারেশনে কুঁচকে যাওয়া ত্বকের জন্য সর্বাধুনিক চিকিৎসা।
- বিলফারোপ্লাস্টিকঃ চোখের পাতার জন্য (ব্যাগি আইস)।
- ডার্মাব্রেশন ও মাইক্রোডার্মাব্রেশনঃ ব্রণ, মুখের দাগ ও শুষ্ক বলিরেখার জন্য।
- চোয়াল ও চিবুকের জন্য।
- অবাঞ্ছিত তিল অপসারণের জন্য।
- ফটোথেরাপিঃ ব্রণ চিকিৎসার জন্য।
স্তনের কসমেটিক সার্জারি
- অগমেন্টেশন ম্যামোপ্লাস্টিঃ ছোট স্তনকে সিলিকন ব্রেস্ট ইমপ্লান্টের মাধ্যমে বড় করা।
- রিডাকশন ম্যামোপ্লাস্টিঃ অস্বাভাবিক বড় স্তনকে ছোট করে দেহের সঙ্গে মানানসই আকার দেয়া।
- ঝুলে যাওয়া স্তনকে সঠিক স্থানে ‘আপলিফট’ করা।
পেটের জন্য
- লাইপোসাকশনঃ ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে পেটের বাড়তি মেদ বের করে ফিগার সুন্দর করা। এ পদ্ধতিতে ঊরু, নিতম্ব, হাত, গলা ও পুরুষের স্তনের আকৃতিও ঠিক করে নেয়া যায়।
- অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টিঃ ঝুলে পড়া পেটের ত্বক ও বাড়তি মেদ কেটে ফেলে পুনর্গঠনের মাধ্যমে পেটের আকার সুন্দর করে দেয়া।
অন্যান্য
- ব্রাকিওপ্লাস্টিঃ মোটা ও ঝুলে যাওয়া হাতের পুনর্গঠনের সার্জারি ও ঊরুর প্লাস্টিক সার্জারি।
- থাইলিফটঃ ঊরুর সার্জারি।
- হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টঃ টাক মাথায় প্রাকৃতিক ও স্থায়ী চুল লাগানো।
চেম্বারঃ কসমেটিক সার্জারি সেন্টার
শংকর প্লাজা, ধানমন্ডি, ঢাকা

