Skip to main content

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

আতাউর রহমান কাবুল

চোরাবালির রহস্য
১৯৬৪ সালে দুই বন্ধু জ্যাক আর ফ্রেড দুজনেই কলেজের ছাত্র, দক্ষিণ ফ্লোরিডার অকিচবি হ্রদের চারপাশের জলাজমির মধ্যে পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ খুঁজছিল। হঠাৎ জ্যাকের পা নরম বালিতে ঢুকে গেল। সে তার বন্ধুকে সতর্ক করে বলল, সে যেন আগে না আসে। কিন্তু সে নিজে ধীরে ধীরে সেই চোরাবালির মধ্যে ডুবে যেতে থাকল। তার বন্ধু ফ্রেড তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করল, কিন্তু সবই বৃথা গেল। জ্যাক কিছুক্ষণের মধ্যে চোরাবালির ভেতরে লীন হয়ে গেল। এটি একটি সত্য ঘটনা। অবাক হলেও সত্য হলো,  চোরাবালির মধ্যে ফেঁসে গেছে শুধু মানুষই নয়, জন্তু-জানোয়ার, কার, ট্রাক এমনকি আস্ত রেলের বগি পর্যন্ত গায়েব হয়ে গেছে। ১৮৭৫ সালের দিকে কলোরাডোর একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে চোরাবালিতে নিমজ্জিত হয়েছিল এবং ট্রেনটি ৫০ ফুট গভীরে চলে গিয়েছিল বলে জানা যায়।

চোরাবালি কতটা বিপজ্জনক?
চোরাবালি পানি ও তরল কাদা মিশ্রিত এমনই একটি গর্ত, এর ফাঁদে একবার পা দিলে মানুষের আর নিস্তার নেই। আস্তে আস্তে ডুবে যেতে হয় বালির ভেতর! সাধারণত নদী বা সমুদ্রতীরে কাদা মিশ্রিত বালির ভেতর এ গর্ত লুকানো অবস্থায় থাকে। কোনো মানুষ যদি সেই গর্তের ধারে কাছে যায়, তা হলে শরীরের চাপে ওই বালি ক্রমে সরে যেতে থাকে। ফলে মানুষ শত চেষ্টা করেও আর ওপরে উঠতে পারে না। সময়মতো কেউ এগিয়ে না এলে ওই মানুষ নিশ্চিত মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ে। তবে অধিকাংশ চোরাবালি সাধারণত মারাত্মক নয়। কিন্তু এটি প্রকৃতির একটি অদ্ভুত বিস্ময়। এই অদ্ভুত জিনিসটাকে ভালোভাবে বোঝা দরকার।

বালি এবং প্রবহমান পানিই হলো চোরাবালি
সাধারণত যখন বালি, কাদা বা নুড়ি গর্ভস্থ পানির প্রবাহের সান্নিধ্যে আসে,  সেই বালি বা নুড়ির দানাগুলোর মধ্যে যে ঘর্ষণ শক্তি থাকে তা কম হয়ে যায়, আর সেই বালি বা মাটি ভার সহ্য করতে পারে না। এ ধরনের ব্যাপার আমরা সমুদ্র সৈকতে দেখতে পাই। সমুদ্র ধারের বালিতে যদি কেউ দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে খানিকক্ষণ পর দেখা যাবে যে ধীরে ধীরে তার পা বালির ভেতর বসে যাচ্ছে। এটাও এক ধরনের ছোটখাটো চোরাবালি। তবে এ ধরনের চোরাবালির গভীরতা মাত্র কয়েক ইঞ্চি হয়। তাই শুধু আমাদের পায়ের পাতা ডোবে।

চোরাবালি কীভাবে হয়?
সাধারণত মাটি বা বালির ভার সহ্য করার ক্ষমতা থাকে না। প্রবহমান পানির কারণে বালি বা মাটির দানাগুলোর মধ্যে ঘর্ষণ একদম কমে যায়। পুরো জায়গা বেশ গভীর স্তর পর্যন্ত একরকম তরল অবস্থায় চলে যায়। এ ধরনের চোরাবালির গভীরতা যদি কয়েক মিটার বা বেশি হয় তাহলে তা বিপজ্জনক। এ ধরনের চোরাবালিতে ফেঁসে গেলে বেরিয়ে আসা খুব মুশকিল। হাত-পা বালিতে আটকে যেতে পারে। নিজে থেকে বেরিয়ে আসাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। পুরোপুরি ডুবে যেতে পারে। অনেক সময় এ ধরনের চোরাবালির গভীরতা বেশি না হলে মানুষ পুরো ডুবে না গিয়ে অর্ধেক ডুবে আটকে যেতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিও কিন্তু কম বিপজ্জনক নয়। পুরো না ডুবলেও ঠান্ডা, ভয় বা ক্ষুধাজনিত কারণেও অনেক সময় মৃত্যু হতে পারে। চোরাবালিতে আটকে গিয়ে বেরুতে না পেরে জানোয়ার দ্বারা আক্রান্ত হয়ে অনেক লোকের মৃত্যু হয়েছে এমন ঘটনাও কিন্তু ঘটেছে।

তাই যেসব জায়গায় চোরাবালি থাকার সম্ভাবনা আছে, সেসব জায়গায় একা একা বেড়াতে যাওয়া উচিত নয়। যেসব জায়গায় পানি বেশি, সেসব জায়গায় চোরাবালি থাকার সম্ভাবনাও বেশি। যেমন জলা, নদী, খাড়ি, সমুদ্রতীর এবং জলাভূমি। এসব জায়গায় চোরাবালি থাকার সম্ভাবনা বেশি। যেসব জায়গায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ থাকে, সেখানে চোরাবালি থাকতেই পারে। তবে মরুভূমিতে কখনো চোরাবালি থাকে না। মরুভূমিতে অনেক বালি, কিন্তু পানি নেই বলে চোরাবালি হয় না।

চোরাবালি আমাদের ভূবিদ্যায় অনেক কাজে লেগেছে। কিন্তু কেমন ভাবে? আসলে প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকেই পৃথিবীতে চোরাবালি আছে। সেই সময়কার যেসব জীবজন্তুর চোরাবালিতে আটকে মারা গিয়েছিল তাদের অবশেষ মাটিতে  থেকে ফসিলে পরিণত হয়েছে।

অনেকেই হয়তো ‘জুরাসিক পার্ক’ সিনেমাটি দেখেছেন। সেখানে অনেক ডাইনোসরদে দেখানো হয়েছে। এসব ডাইনোসর বা অন্য জন্তু-জানোয়ারদের কথা আমরা জানতে পেরেছি তাদের ফসিল/জীবাশ্ম থেকে। আর এসব জীবাশ্ম আমরা পেয়েছি সেই সময়কার পাথর থেকে। আসলে চোরাবালিতে আটকে গিয়ে এসব জীব-জন্তু মাটির তলায় তলিয়ে যায়। মাটির ভেতরে আটকে যাওয়ার দরুন, তাদের অবশেষ আবহাওয়ার ক্ষতি বা অন্য জানোয়ারের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। এই চোরাবালি কয়েক লাখ বছর পরে ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হয়। আজ আমরা যখন সেসব পাথর খুঁড়ে ফসিল বের করি, তখন ডাইনোসরদের কথা জানতে পারি। চোরাবালিতে এভাবেই আটকে যায় মানুষ। চোরাবালি কোথায় আছে সেটা জানতে পারা খুব মুশকিল। অনেক সময় চোরাবালির ওপর শুকনো পাতা, ডালপালা পড়ে ঢেকে থাকে। অনেক সময় চোরাবালির ওপর শুকনো বালির স্তর পড়ে যায়, যাতে বোঝা যায় না যে তার তলায় চোরাবালি আছে। চোরাবালি অনেক সময় পানির তলাতেও হতে পারে। নদী পার হওয়ার সময় চোরাবালিতে আটকে গিয়ে মৃত্যুও হতে পারে।

চোরাবালিতে আটকে গেলে যা করতে হবে
  প্রথমত একদম অধৈর্য হওয়া যাবে না। অধৈর্য হয়ে হাত-পা বেশি নাড়লে আরও বেশি আটকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সবার মনে রাখা উচিত, চোরাবালি কিন্তু পানির চেয়ে অনেক বেশি ঘন। তাই চোরাবালিতে ভেসে থাকা বেশি সহজ।
  যদি কারও সঙ্গে কোনো ভারী বস্তু থাকে, যেমন ধরুন-একটা ব্যাকপ্যাক, তাহলে তা ছেড়ে দেয়া উচিত। কারণ এই ভারী বস্তুটি আরও বেশি দ্রুত নিচে টেনে ফেলতে পারে।
  বেশির ভাগ চোরাবালির গভীরতা কম হয়। খানিকটা ডোবার পর হয়তো পা তলায় আটকে যেতে পারে। যদি তা না হয়, মানে যদি চোরাবালি খুব গভীর হয় তাহলে পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে যেমন পানিতে আমরা যেভাবে সাঁতার কাটি, ঠিক সেভাবে নিজের শরীরকে যতটা সম্ভব অনুভূমিক করে ফেলতে হবে। তারপর খুব ধীরে ধীরে সাঁতরে চোরাবালির বাইরে আসার চেষ্টা করতে হবে।

বাসযোগ্য
নতুন পৃথিবী
গোলাপ মুনীর
আমাদের পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহ কিংবা বলতে পারি আরেক পৃথিবীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এই গ্রহের নাম কেপলার২২ বি। গত ৫ ডিসেম্বর ২০১১ বিজ্ঞানীরা এই গ্রহ আবিষ্কারের নিশ্চিত ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার কেপলার মিশনের বিজ্ঞানীরা এই গ্রহ আবিষ্কার করেন। গ্রহটি তাদের প্রথম পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে ২০০৯ সালের মাঝামাঝি  কেপলারের সায়েন্স অপারেশনের তৃতীয় দিনে। এর তৃতীয় ট্রানজিট ধরা পড়ে ২০১০ সালের শেষ দিকে। এই গ্রহের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে স্পিটজার মহাকাশ টেলিস্কোপ এবং অন্যান্য ভূমিভিত্তিক পর্যবেক্ষণ থেকে। এখন পর্যন্ত এর ভর ও উপরিভাগের গঠন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়নি। যদি এর ঘনত্ব আমাদের পৃথিবীর মতো প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে ৫.৫১৫ গ্রাম হয়, তবে নতুন পাওয়া এই গ্রহের ভর হবে পৃথিবীর ভরের ১৩.৮ গুণ এবং এর সারফেস গ্রাভিটির অভিকর্ষ টান হবে পৃথিবীর তুলনায় ০.৪৩ গুণ।

পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অনুসন্ধান গবেষণায় কেপলার২২ বি’র আবিষ্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, এর আয়তন পৃথিবীর চেয়ে দুই দশমিক ৪ গুণ বড়। নতুন এ গ্রহটি পৃথিবী থেকে ৬০০ আলোকবর্ষ দূরে, উত্তর আকাশের তারকাপুঞ্জ লিরা ও সিগনাস বরাবর। আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, সে দূরত্বকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে বলা হয় এক আলোকবর্ষ। আমরা জানি, আলো এক সেকেন্ডে যায় ১,৮৬০০০ মাইল। এই হিসেবে আলো এক বছরে অতিক্রম করে ১,৮৬০০০৬০ ৬০ ২৪৩৬৫ মাইল = ৫৮৬৫,৬৯৬,০০০,০০০ মাইল দূরত্ব। অতএব এক আলোকবর্ষ = ৫৮৬৫,৬৯৬, ০০০,০০০ মাইল। আবার কিলোমিটারেও আলোকবর্ষ নামের দূরত্ব আমরা সহজেই জেনে নিতে পারি। আমরা জানি আলো এক সেকেন্ডে যায় ২৯৯,৯৯২,৪৫৮ মিটার। মোটামুটি হিসেবে ৩০০,০০০,০০০ মিটার বা ৩০০,০০০ কিলোমিটার। তাহলে আলো এক বছরে অতিক্রম করবে ৩০০,০০০ ৬০৬০২৪৩৬৫ কিলোমিটার = ৯৪৬০৮০০০০০০০০ কিলোমিটার। অতএব কিলোমিটারের হিসাবে এক আলোকবর্ষ = ৯৪৬০৮০০০০০০০০ কিলোমিটার। তাহলে এবার নিশ্চয়ই আমাদের আন্দাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে না, নতুন আবিষ্কৃত গ্রহ কেপলার ২২ বি আমাদের পৃথিবী থেকে কতটা দূরে।

নতুন এই গ্রহ আমাদের পৃথিবীর মতোই বসবাসযোগ্য। এর গড় তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, যা পৃথিবীর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের বসন্তকালের তাপমাত্রার মতো। এ ধরনের তাপমাত্রার কারণে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেখানে প্রাণপ্রাচুর্যের সম্ভাবনা খুবই বেশি। হতে পারে সেটি গাছপালা ফলে ফুলে ভরপুর। হতে পারে, এরই মধ্যে সেখানে প্রাণীরা বাস করছেও। এ কথা জেনে অনেকেই হয়তো এখনই ভাবতে শুরু করেছেন, সুযোগ পেলে আমাদের এই দুর্ভোগের পৃথিবী ছেড়ে ওই কেপলার ২২ বি নামে নতুন পৃথিবীতে গিয়ে বাস শুরু করবেন। দুঃখিত, আপনার জন্য সে সুযোগ কখনোই আসবে না। কারণ আজ এই মুহূর্তে রওনা দিলেও সেখানে গিয়ে পৌঁছতে আপনার সময় লাগবে দুই কোটি ২০ লাখ বছর। নিশ্চিতভাবেই তত দিন বেঁচে থাকাটা আপনার বা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। অতএব সেখানে গিয়ে বসবাসের চিন্তাটা এই মুহূর্তে মাথা থেকে সরিয়ে দিন। বরং নিজের অবস্থান থেকে ভাবুন ও সে অনুযায়ী কাজ করুন, যাতে আমাদের এ পৃথিবীটাকে আমাদের ও আগামী প্রজন্মের জন্য অধিকতর বসবাসযোগ্য করে রেখে যেতে পারি।

কেপলার২২ বি-এর হোস্ট স্টার বা সূর্য থেকে ১২ কোটি ৭৫ লাখ মাইল দূরে থেকে এর চারপাশে ঘুরছে। এ গ্রহটি এর এই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় মোটামুটি ২৯০ দিন। মনে রাখতে হবে, পৃথিবী আমাদের চির পরিচিত যে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে তার নাম জি২ স্টার। আর কেপলার২২ বি যে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে তার নাম জি৫ স্টার। এ সূর্য দুটি পুরোপুরি আলাদা। তবে কেপলারের সূর্য অনেকটা আমাদের সূর্যের মতোই। আমাদের সূর্য আর এর চিরচেনা গ্রহগুলো নিয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের অভ্যন্তরীণ সৌরব্যবস্থা বা সৌরজগৎ। আর কেপলার২২ বি ও এর হোস্ট স্টার বা সূর্য নিয়ে গড়ে উঠেছে কেপলার২২ ব্যবস্থা। আমাদের সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে যে দূরত্ব, কেপলার২২ বি ও এর হোস্ট স্টারের মধ্যে দূরত্ব তার চেয়ে ১৩ শতাংশ কম। আর আমাদের সূর্যের আলোর তুলনায় কেপলারের সূর্যের আলো ২৫ শতাংশ কম উজ্জ্বল। এর হোস্ট স্টার বা সূর্য থেকে দূরত্ব ও উজ্জ্বলতা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণেই এর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রাণপ্রাচুর্যের জন্য এতটা উপযোগী হতে পেরেছে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, বায়ুমণ্ডলের অনুপস্থিতিতে এর ইশুইলিব্রিয়াম টেম্পারেচার হবে মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। আর যদি বায়ুমণ্ডলে পৃথিবীর মতো গ্রিনহাউস অ্যাফেক্ট পৃথিবীর সমপরিমাণে থাকে, তবে এর পৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা হবে ২২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা ৭২ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কোনো কোনো বিজ্ঞানী এ-ও বলছেন, কেপলার পৃথিবীর তুলনায় বেশ বড় হওয়ায় এর ভূত্বকের গঠন পৃথিবীর মতো না-ও হতে পারে, বরং হতে পারে নেপচুনের মতো, যেখানে প্রধানত আছে সমুদ্র ও কিছু পাথুরে ভূমি। তবে এর সমুদ্রে প্রাণী থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না।

নাসার কেপলার মিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয় পৃথিবীর মতো এমন কিছু গ্রহ খুঁজে বের করতে, যেগুলোতে প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারে। এই মিশন এক হাজারেরও বেশি এমন গ্রহ খুঁজে পেয়েছে, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। আর এগুলো প্রদক্ষিণ করছে আমাদের সূর্যের বাইরে থাকা অন্য হোস্ট স্টার বা সূর্যকে কেন্দ্র করে। এ সূর্যকে ঘিরে গড়ে উঠেছে আমাদের সৌরজগতের বাইরে আরেক সৌরজগৎ, যার নাম কেপলার সৌরব্যবস্থা বা সৌরজগৎ। কেপলার২২ বি সেই হাজারো গ্রহের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। এর মধ্য দিয়ে নাসার কেপলার মিশন আমাদের সৌরজগতের বাইরে কেপলার সৌরজগতের হেবিটেবল জোনের প্রথম গ্রহ আবিষ্কারে সক্ষম হলো, যে গ্রহপৃষ্ঠে সম্ভাবনা রয়েছে তরল পানি থাকার। কেপলার২২ বি আবিষ্কারের আগে আরো অসংখ্য গ্যাসীয় গ্রহের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে এই হেবিটেবল জোনে বা প্রাণীর বাসযোগ্য এলাকায়, তবে এসব গ্যাসীয় গ্রহে প্রাণের সহায়ক পরিবেশ আছে বলে মনে হয় না।

কেপলার আবিষ্কারক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন নাসার অ্যামিস রিসার্চ সেন্টারের উইলিয়াম বরোকি। এ ক্ষেত্রে এরা নাসা মহাকাশ টেলিস্কোপ থেকে ব্যবহার করেছেন টলেমীয় উপাত্ত। এই টেলিস্কোপ নজর রাখে ১৫৫,০০০ তারার ওপর। পৃথিবীর সম আকারের এসব গ্রহ এদের এমনভাবে প্রদক্ষিণ করছে, মাঝেমধ্যে এরা এদের হোস্ট তারার সামনে এসে এর উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। আর এ উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার বিষয়টি একমাত্র বিশেষ ক্ষমতাধর কেপলার মহাকাশ টেলিস্কোপ দিয়েই পরিমাপ করা সম্ভব। সবে আমরা জানলাম এই কেপলার২২ বির কথা। এ সম্পর্কে বলা যায়, আমাদের কিছুই জানা হয়নি। সময়ের সাথে গবেষকদের গবেষণা আমাদের আগামী দিনে এ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানার সুযোগ করে দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

নতুন স্মার্টফোন নকিয়া ৫০০
তামিম হাসান
স্মার্টফোন ধীরে ধীরে মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের জনপ্রিয় মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নকিয়া বাজারে নিয়ে এসেছে নতুন স্মার্টফোন নকিয়া ৫০০। সমপ্রতি নকিয়া ৫০০ নামে একটি এন্ট্রি লেভেল টাচ্‌ স্ক্রিন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে। এটি গুণমানের উৎকর্ষে একটি অনন্য মোবাইল ফোন সেট। এতে নকিয়ার সর্বশেষ দ্রুততম প্রসেসর, ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, সংগীত ও বিনোদনের সুব্যবস্থা, ম্যাপ ও নেভিগেশনের সুবিধাগুলো রয়েছে। নকিয়া ৫০০ ডিভাইসটি নকিয়ার এন্ট্রি লেভেল টাচ্‌ স্ক্রিন স্মার্টফোনের পোর্টফলিওকে সমৃদ্ধ করেছে। এ ক্ষেত্রে গুণ-মানে কোনো রকম আপস করা হয়নি। এটি হচ্ছে নকিয়ার সিমবিয়ান প্লাটফর্মভিত্তিক সর্বশেষ সংযোজন। গ্রাহকদের সর্বশেষ সিমবিয়ান আন্নার অভিজ্ঞতা দেবে নকিয়া ৫০০। এতে বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্যসংবলিত সফটওয়্যারের সমাহার, দ্রুততর ব্রাউজার ও নতুন অভি ম্যাপ রয়েছে। নকিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইলারি নুরমি জানিয়েছেন, ‘এখন পর্যন্ত বাজারে যেসব সহজলভ্য স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর হার্ডওয়্যারের মান খুবই নিম্নমানের। ফলে ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করে পান নিকৃষ্টমানের অভিজ্ঞতা। নকিয়া ৫০০ হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে নিত্যনতুন পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে নকিয়ার স্মার্টফোনের পোর্টফলিও সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি পূরণের আরেকটি নজির।’

নকিয়া ৫০০ ডিভাইস ব্যবহারকারীরা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সম্ভব দ্রুততার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। কারণ ডিভাইসটির ব্যবহারকারীরা অনায়াসে ফেসবুক, টুইটার ও রেনরেনসহ সামাজিক যোগাযোগের অন্য নেটওয়ার্কগুলোর মাধ্যমে সরাসরি লাইভ চ্যাট করার পাশাপাশি আপডেট বা সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন। এক গিগাহার্টজ প্রসেসরবিশিষ্ট নকিয়া ৫০০ মোবাইল ফোন ডিভাইসটি হলো সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন স্মার্টফোনগুলোর একটি। এটির ব্যবহারকারীরা দ্রুত ও সহজে প্রচুর অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের গতি কমবে না। এই সেটটি নকিয়ার সর্বশেষ ব্রাউজিং টেকনোলজি বা ব্রাউজিংয়ের সর্বশেষ প্রযুক্তি, শক্তিশালী প্রসেসরসমৃদ্ধ, যা ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা দেবে। নকিয়া ৫০০ ডিভাইসে শুরুতেই সেরা কিছু গান ও বিনোদনমূলক অ্যাপ্লিকেশন সন্নিবেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-শাজাম এনকোর, গিগ ফাইন্ডার, লোনলি প্যানেট ও মাইকেলিন গাইডস।

বৈশিষ্ট্য
এক গিগাহার্টজ প্রসেসর এবং অ্যাপ্লিকেশন ও এন্টারটেইনমেন্টে দ্রুত প্রবেশাধিকারের জন্য ডব্লিউএলএএন (ডখঅঘ) সুবিধা রয়েছে। ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যাপচার। বিনা মূল্যে অভি ম্যাপ ও বিশ্বজনীন নেভিগেশন সুবিধা, যা বড় ধরনের ঘটনাগুলো হাতের নাগালে এনে দেবে। অভি স্টোর থেকে অ্যাপ্লিকেশন ও এন্টারটেইনমেন্ট কনটেন্ট বা বিনোদনমূলক উপাদান ডাউনলোড করা যাবে। মিউজিক প্লেয়ার, স্টেরিও এফএম রেডিও ছাড়াও দ্রুত ব্রাউজিংয়ের জন্য রয়েছে নতুন সিমবিয়ান আন্না। সেই সাথে টাচ ইউজারদের জন্য আছে পোর্ট্রেইট কোয়ার্টি কি-বোর্ড এবং স্লিপট-স্ক্রিন মেসেসিংয়ের সুবিধা। এর মূল্য ১৮০০০ টাকা।