Skip to main content

মনের জানালা

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

প্রেম থেকে মানবতা
নিভৃত অন্ধকারে নির্জনে আমি হৃদয়কে খণ্ড খণ্ড করি, চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় আমার হৃদয়। খণ্ডিত অংশগুলো এদিক-ওদিক পড়ে থাকে, পড়ে থাকে আবেগ, প্রেম-ভালোবাসা, মায়া, দুঃখ, বেদনা, হতাশা, শূন্যতা সব-সব! কিশোরী-তরুণী, সুন্দরী, সুশ্রী সব প্রেমিকা আমার পড়ে থাকে অবহেলায়, পড়ে থাকে আমার আবেগীয় মনের প্রেমিকারা এ্যানি, প্রিয়াংকা, রিয়া, রিমা, ইসরাত, নিশাত, রাভিনাসহ স্মৃতির বিশ্বাসঘাতকতায় ভুলে যাওয়া আরো গুটিকয়েক নাম। তারা আমার পরাগরেণুতে বসে পরাগায়ন করেনি। মধু সংগ্রহ করেছে। তারপর প্রজাপতি হয়ে উড়ে গেছে অন্য কোনো ফুলে। কেউ কেউ মল ত্যাগ করতেও ভোলেনি।

আমিও তো বেশ পেরেছি। তুমি আমার হৃদয়রানি বলে হৃদয় সিংহাসনে বসাতে। এক অদ্ভুত দক্ষ অভিনেতা আমি। আমি তো দিব্যি অভিনয় করে বেঁচে আছি। কোনো সুখ নেই, কোনো আনন্দ নেই, কোনো পিছুটান নেই এই তো জীবন?

যারা এসেছিল কিশোর প্রভাতে, উত্তাল যৌবনে বা পড়ন্ত বিকেলে সবাই আজ সুখী। কিন্তু আমি? (?) এই একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন কাঁটার মতো বিঁধতে থাকে বুকের বাঁ দিকে। আমি প্রতিনিয়ত কুঁকড়ে যাই, কেন এ্যানির মা আমাকে এভাবে গালি দিল? কেন প্রিয়াংকা...(ব্যাখ্যা, বিশেষণ, সর্বনাম কিছুই নেই) এমন করল? রাভিনা, ইসরাত এমন না করলেও তো পারত। সবকিছুর পরেও হতাশা বুকে নিয়ে বলি, থাক তোরা সুখে থাক। আজ আমি বিবর্ণ মন নিয়ে মুখোশের আদলে গড়া মানব মনের দ্বৈত সত্তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোনো এক পবিত্র ভালোবাসাকে খুঁজে ফিরি, যা সকল হীন স্বার্থের ঊর্ধ্বে। হয়তো পাব না তবুও আশায় বুক বাঁধি। উপরিউক্ত কাহিনী কোনো এক অজ্ঞাতনামা তরুণের। যে হৃদয়কে নিয়ে নতুন স্বপ্ন আর আশায় বুক বাঁধছে ভালোবাসার জন্য।

এমনিভাবে শত শত তরুণ-তরুণী এক মনোরম ভালোবাসার প্রতীক্ষায় থাকে। কিন্তু সেই তরুণ-তরুণীদের ভালোবাসা কি হতে পারে না আমার মা-বাবা আর ভাই-বোনদের জন্য। যে বাবাটা এই শীতের রাতে রিকশা চালায় বা ফুটপাতে পড়ে থাকে অনাহারে? কেমন করে কোন চাদরে সে তার গা ঢাকবে? আর যে মা প্রতিরাতে খদ্দেরের নিকট থেকে ২০ বা ৫০ টাকা গুনে শুধু দুই বেলা ভাত খাওয়ার জন্য বা যে মা মাতৃত্বের স্বাদ পানি এখনো।

আমার সেই ভাই-বোনগুলো যারা আপনার সামনে হাত বাড়িয়ে দেয় পকেটে থাকা নোংরা, ছেঁড়া দুই টাকাটা পাওয়ার জন্য। এই শীতার্ত রাতে কোন ভালোবাসার চাদরে জীবন বাঁচাবে চিন্তা করছেন?

প্রেমিক বা প্রেমিকা হৃদয়ে আপনার তো অনেক ভালোবাসা জমা অন্যের জন্য। সেখান থেকে সামান্য ভালোবাসা বা সামান্য করুণা চাইলেই তো দিতে পারেন আমার এই অনাদরে বড় হয়ে ওঠা ভাই-বোন বা মা-বাবাকে। আপনার ছেঁড়া শার্ট বা জামা, পুরাতন প্যান্ট বা নোংরা কাঁথা যেটা আপনি ফেলে রেখেছেন অযত্নে আর অবহেলায় তা দিয়ে দিন না ওদের যারা ভালোবাসাহীনতায় ভোগে আজীবন। আর আপনিও হয়ে উঠুন আমার পরম পুজ্য।

হিমাদ্রী হিমু
চট্টগ্রাম,
ফোনঃ ০১৮৪৩৫৮৭২৪৭
ই- মেইলঃ himadrypragga@yahoo.com


হায় স্বপ্ন পূরণ
আমার জন্ম এক সাধারণ পরিবারে। বাবা একজন শিক্ষক। পরিবারের মধ্যে আমি সবচেয়ে ছোট এবং খুব আদরের কিন্তু চঞ্চল। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করব। বাবার ধারণা ছিল একটা সাধারণ প্রতিষ্ঠান থেকে খুব বড় মাপের মানুষ হওয়া যায়। আমি মনে করতাম বিশ্ববিদ্যালয় মানে অনেক বড় বিদ্যালয়। সেখানে অনেক জ্ঞান অর্জন করা যায়। সেখানে অনেক ভালো মানুষ থাকে। সবকিছু নাকি পাওয়া যায়। নিজের ইচ্ছামতো জীবনটা যে যেভাবে চায় গড়ে নিতে পারে-এসব ছিল স্বপ্ন আর রূপকথা। আমি যখন ফাইভে পড়ি তখন মেজ খালার বাড়িতে যাই। মেজ খালার বড় ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। সেই ভাইয়া রাজশাহী থেকে কলম, খাতা, ক্যালেন্ডার নিয়ে এসে আমার সামনে সবাইকে দেয়, আমাকে দেয় না। আমি খুব কষ্ট পাই। তারপর মনের মধ্যে জেদ ধরল আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ব। ২০০৪ সালে আমার বড় ভাইয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত গণিতে ভর্তি হয়। ভাইয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ক্যালেন্ডার নিয়ে আসে। সেখানে কিছু ছবি ছিল। ভাইয়া বলত আমি এই ভবনে ক্লাস করি, এই হলে থাকি। আমার খুব অবাক লাগে হল মানে কী? ক্যালেন্ডারটা পড়ার টেবিলের সামনে রাখতাম আর ছবিগুলোর নিচে কলমের দাগ দিতাম। স্বপ্ন দেখতাম আমি কবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব। ভাইয়া বলত তোকে রাজশাহীতে পড়তে হবে।

ভাইয়া ক্যাম্পাসের অনেক গল্প করত। যতই শুনতাম ততই অবাক লাগে। এভাবে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। তার সাথে আমার স্বপ্নটা লালন করে যাই। ২০০৯ সালে কোচিং ছাড়া আমি দুইটা বিষয়ে চান্স পাই এবং একটাতে ভর্তি হই। কয়েক মাস পরে ক্লাস শুরু হলো। প্রথমে মেসে থাকতে হলো। মেসে থাকতে ভালো লাগত না। রুমমেটের সাথে কথা বলতে ভালো লাগত না। মাঝে মাঝে কাঁদতাম। কারণ এর আগে আমি বাইরে থাকিনি। ভ্যাকেশনে ভাড়িতে চলে যাই। কয়েক দিন পর বিশেষ কাজে সার্টিফিকেট তোলার জন্য আবার রাজশাহীতে আসতে হয়। সার্টিফিকেট নিয়ে মেসে ফিরে যাই। একটা নাম্বার থেকে বারবার মিসকল দিচ্ছিল। আমি ভাবলাম হঠাৎ বাড়ি থেকে এসেছি হয়তো পরিচিত কেউ হতে পারে। সেই নাম্বারে আমি ফোন দিলাম এবং ভদ্রভাবে কথা বললাম। তারপর আবার রাতে ফোন দিল। আমাকে বললেন কোথায় পড়াশোনা করেন। আমি মিথ্যা পরিচয় দিই। তার পরের দিন আমি বাড়িতে চলে যাই। কয়েক দিন পর আবার ফোন দিল। তারপর ভাবলাম একটা মানুষকে কেন মিথ্যা পরিচয় দিলাম। তারপর আমার সত্য পরিচয়টা দিয়ে দিলাম।

এভাবে কয়েক মাস কথা বললাম। তার কথাগুলো ভালো লাগত কারণ তিনি সুন্দরভাবে কথা বলতেন। একদিন হঠাৎ আমাকে বললেন আপনি আমার সাথে দেখা করবেন আপনার ক্যাম্পাসে। তার পরের দিন আমার দুই ক্লাসমেটকে বলি আমি একজনের সাথে দেখা করব। তারা রাজি হয়ে গেল। ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসে এক জায়গায় দেখা করি। এভাবে জীবনে কারো সাথে দেখা করিনি। আমি তার সাথে দেখা করব কখনো কল্পনা করিনি। আমি তার সাথে খুব চঞ্চলভাবে কথা বললাম। কিন্তু বাস্তবে খুব নার্ভাস মনে হচ্ছিল। কথা বলতে বলতে তিনি আমাদের আইডি কার্ড দেখালেন। তিনি আমাদেরই ক্যাম্পাসে ইতিহাস বিভাগে পড়েন। রাতে ফোন দিয়ে বললেন আমাকে নাকি পছন্দ হয়েছে। তিনি আমাকে প্রস্তাব দিলেন। আমিও তার প্রতি কিছুটা দুর্বল হয়ে গেলাম। আমি তাকে অনেকগুলো শর্ত দিলাম। তিনি সব শর্ত মেনে রাজি হলেন। অনেক অনুরোধে অবশেষে প্রস্তাবে সাড়া দিলাম। এভাবে আমাদের মাঝে একটা সম্পর্ক হয়ে গেল। আমার জীবনে প্রথম ভালো লাগা, অনুভূতি, চাওয়া-পাওয়া এক পর্যায়ে আমি তাকে খুব ভালোবেসে ফেললাম। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। সারাক্ষণ তাকে নিয়ে ভাবতাম। এভাবে দিন দিন ভাবনাগুলো বাড়তে থাকল। হঠাৎ একদিন বলল আমি সম্পর্ক রাখব না। আমার মাথায় যেন বাজ পড়ল। অনেক অনুরোধ করলাম, কাঁদলাম, কাকুতি-মিনতি করলাম সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য কিন্তু রাখল না। যাকে আমি এত ভালোবাসলাম, বিশ্বাস করতাম সে কি না আমাকে এ ধরনের প্রস্তাব করল। অস্বাভাবিক হয়ে যাই। কোথাও মন দিতে পারি না। খুব অসহায় মনে হয়।

একটা মানুষ এভাবে প্রত্যাখ্যান করল। আমার সরলতার সুযোগ নিল। চঞ্চল মনটাকে ভেঙে চুরমার করে দিল। আমি যখন ক্যাম্পাসে তাকে দেখি তখন দুই চোখ দিয়ে কান্না আসে। নিজেকে আর স্বাভাবিক রাখতে পারি না। সম্পর্ক ভাঙার প্রায় এক বছর হতে চলছে আমি তার নাম্বারটা প্রতিদিন ট্রাই করি কিন্তু পাই না। প্রতিদিন তার ছবিটা বুকে নিয়ে কাঁদি কিন্তু আমার জীবনটা এ রকম হবে কখনো ভাবিনি। কেন আমাকে দুই চোখে মিথ্যা স্বপ্ন দেখাল। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম মানুষ থাকে যার আকৃতি মানুষের মতো কিন্তু ভেতরে এত মিথ্যা, নোংরা, পশুত্ব লুকিয়ে থাকে আগে জানতাম না। এখন বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটায় খুব কষ্ট লাগে। বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটা আমার স্বপ্নের সাথে মেলাতে পারি না। আজও সেই স্থানে গেলে শরীরের সারা লোম খাড়া হয়ে ওঠে। আজকে যদি আমি স্বপ্ন পূরণ না করতাম তাহলে সেই মানুষটার সাথে আমার পরিচয় হতো না। আর আমার জীবনটা এ রকম কষ্টময় হয়ে উঠত না। হায় স্বপ্ন পূরণ।

শিশির
মনোবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ফোনঃ ০১৭২২৮৫৩১৩৬


মাকে মনে পড়ে
দিনটি শ্রাবণের নয়, তবুও আজ সারাবেলা আকাশে বৃষ্টির বিচরণ। কালো মেঘেদের রাজ্য আজ এক মিনিটের জন্যও রোদ ঠাঁই পাইনি। থেমে থেকে সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, এখন সাঁঝের আঁধার নেমে এসেছে। তবুও বৃষ্টি থামার নাম গন্ধ নেই। ক্লান্ত পাখির দল মেঘ সাঁতরে ঘরে ফিরে যাচ্ছে। রাস্তার পাশের ল্যাম্পের আলো জ্বলে উঠেছে। শূন্যে নীড় ভরে উঠছে কলরবে। খোলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। রিক্ততায় ভরে আছে আমার ঘরের চারপাশ, তা আর কোনো দিনও পূরণ হবে না। মাকে আজ বড্ড বেশি মনে পড়ছে। আমার মনে পড়ে যায় ছেলেবেলায় বৃষ্টি দেখলেই বই খাতা রেখে মায়ের কাছে বায়না ধরতাম খিচুড়ি রান্না করার জন্য। খুব ইচ্ছে করছে এমন বর্ষণমুখর দিনে মায়ের হাতের খিচুড়ি খেতে। কিন্তু তা যে আজ আর হওয়ার নয়। মা যে আজ আমার থেকে অনেক দূরে। এই অবুঝ  মনকে সে কথাটা কে বোঝাবে। দেয়ালে ফ্রেমে বাঁধা আছে মায়ের ছবি। সেই হাসি মুখ, টানাটানা চোখের চাহনী, মুখ জুড়ে ছড়িয়ে আছে এক অসীম মায়া। দেখলে মনেই হয় না মা আমার অভিমান করে আমায় ছেড়ে দূরে  চলে গেছে। যেদিন থেকে মা আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে হারিয়ে গেছে আমার জীবনের সব সুখ, সব হাসি। এই তো সেদিনও বৃষ্টিতে ভিজে জ্বরে পড়েছিলাম।  মায়ের মতো কেউ এমন মমতা-স্নেহ দিয়ে যত্ন নেয়নি। আজ বুঝি ছোটবেলায় একটু অসুস্থ হলে মা কেন এমন পাগলের মতো হয়ে যেতেন। কেন সারারাত জেগে    সন্তানের মাথার কাছে বসে থাকতেন। রাতে বাসায় ফিরতে দেরি হলে মা খাবার নিয়ে বসে থাকতেন। এখন আর কেউ খাবার নিয়ে বসে থাকে না আমার জন্য। মা যার ঘরে নেই সত্যি তার মতো জনম দুঃখী ত্রিভুবনে নেই। জোনাক মেয়েরা রাত হলে মায়ের ছবিটির সামনে আলো জ্বেলে দেয়। আঁধারের প্রহরীরা রাত জেগে ছোটাছুটি করে ঘরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। আমি তাকিয়ে দেখি আর মনে মনে বিধাতার কাছে প্রার্থনা করি আমার মা যেন কোনো কষ্ট না পায়। যখন কোনো কারণে খুব কষ্ট পাই বা বড্ড বেশি একা হয়ে পড়ি মায়ের ছবিটা বুকে ধরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকি। তাকিয়ে দেখি মায়ের হাসিমাখা মুখটাকে। তখন আমার মনে আর কোনো দুঃখ থাকে না। আর যখন ভাবি মা নেই দুই চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে পড়ে আমার। কত দিন মা মা বলে ডাকি না, কত দিন পেট ভরে খাই না মায়ের হাতের দুধমাখা ভাত। মাকে খুব ডাকতে ইচ্ছা করে।

রাত বাড়তে থাকে অন্ধকার বুকে নিয়ে, সারাদিনের দাপট শেষ করে বৃষ্টি থেমে গেছে। চারদিকে নেমে এসেছে ক্লান্তির নীরবতা। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছি যত দূর চোখ যায় সবুজ প্রান্তরের বুকে আঁধারের পর্দা। এই ঘুমন্ত পৃথিবীর বুকে কেউ নরম বিছানায় কেউবা শক্ত ইটে মাথা রেখে শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে। অথচ আমার দুই চোখে ঘুম নেই। মা তুমি কি দেখছ তোমার খোকনকে? তোমার খোকন যে তোমায় ডাকছে, মা তুমি কি শুনতে পাচ্ছ? আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে চিৎকার করে বলি, মা তুমি কোথায়? তোমার জন্য যে আমার মন কেঁদে বেড়ায় সারাক্ষণ, তুমি কোথায় মা, তুমি কোথায়? আমার সেই ডাক অন্ধকার রাতের নীরবতা ভেঙে দেয়, ঘুম ভাঙিয়ে দেয় নিশিতে ঘুমিয়ে পড়া প্রকৃতির। আমার সাথে রাতজাগা পাখিগুলো ডেকে ওঠে। ফিরে আসে বেদনায় কাতর হওয়াদের দল কিন্তু কোনো উত্তর আসে না ফিরে।

বৃষ্টির রাজত্বে আজ ঘাসের বুকে শিশিরের দল ঠাঁই পায়নি। আঁধারের পথ ধরে বাদুড়ের দল ডানা মেলে উড়ে যায় না পেয়ারার বনে। কালো মেঘের আড়ালে চাঁদের আলো মায়াজাল সৃষ্টি করেছে। এক অজানা কষ্ট ঘিরে রেখেছে আমার মনের চারপাশ। এই তো সব আগের মতোই আছে, শুধু মা নেই। নিশি ফোটা ফুলের সাথে রাত জেগে মায়ের কাছে চিঠি লিখি। বাতাসে ভাসিয়ে দিই আকাশের ঠিকানায়। রাত আরো বাড়তে থাকে, এক সময় মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। বুকের মাঝে চেপে ধরি মায়ের ছবিটাকে। দুই চোখের পাতা এক হয়ে আসে, আমার মুখে একটাই শব্দ ধ্বনিত হয় (ফিরে এসো মা)। এক সময় সেই শব্দ থেমে যায়। নীরবতার চাদরে ঢেকে যায় আমার চারপাশ। আমি তলিয়ে যাই কষ্টের আঁধারে ঢাকা অন্য এক জগতে।

সোহানুর রহমান অনন্ত
শনির আখড়া, ঢাকা


আর কত ফেলব চোখের জল?
দৃষ্টি প্রদীপ জ্বেলে খুঁজেছি তোমায়
ফেলে আসা দিনগুলি আমাকে কাঁদায়।
দিন যায় ভেবে ভেবে
তোমার স্মৃতি মনে করে।
ঘুম আসে না দুটি চোখে
বালিশ ভেজে চোখের জলে।
করো না দাফন, এ দুটি চোখের
মাটিচাপা দাও আমার দেহটাকে
এ মনে আমার সোনালি থাকে।
প্রতিটা মানুষের জীবনেই কিছু স্মৃতি থাকে। আর সেই স্মৃতি কখনো মানুষকে হাসায়, কখনো কাঁদায় আবার কখনো একটি অনাবিল আনন্দে দেহমনকে ভরিয়ে তোলে। কিন্তু আমার সুখের স্মৃতিগুলো আজ বেদনায় ভারাক্রান্ত। দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, অপমান, অভিযোগ, হাহাকার আর হতাশার সাগরে ভাসছে। শেওলা যেমন পানির উপরে বাসা বাঁধে, একটু স্রোতেই ভেঙে যায় তাদের স্বপ্নের বাসর। কষ্টের বিভীষিকা তাদের জনমের সাথী। চৈত্র মাসের প্রখর রোদে যেমন ফসলের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়, তেমনি আমার বুকের ভেতরটা আঘাতে আঘাতে আজ ক্ষত-বিক্ষত।

অশ্রুর বেদনায় ভরপুর মনে দুঃখের সুর বাজে। পাঁজর কাঁপে দুঃখে নীল হয়ে যায় অঞ্জন। নারী বলতে বোঝায় কোমল হৃদয়ের, মায়া-মমতাপূর্ণ এক প্রেমময় মুখ। তোমার কোনো প্রেম নেই, মায়া নেই, মমতা নেই। হৃদয়হীনা, ছলনাময়ী তুমি। ভালোবাসার নামে সবই ছিল প্রহসন আর অভিনয় জীবনের স্বপ্ন, আশা, সুখ-অনুভূতি, চাওয়া-পাওয়া সবই আজ কল্পনা। টুকরো কাচের মতো ভাঙা মনে জড়িয়ে আছে শুধু একবুক যন্ত্রণা।

সাগরের সমস্ত পানি যদি কালি হতো, পৃথিবীর সব গাছ যদি কলম হতো আর মাথার ওপরের বিশাল আকাশটা যদি কাগজ হতো তবুও হতো না শেষ লেখা এ বুকের যন্ত্রণা। ভালোবাসা না পাওয়া যতটা কষ্টের, পেয়ে হারানো তার চেয়ে অনেক, অনেক যন্ত্রণার। চলেই যদি যাবে তাহলে ভালোবাসলে কেন? ভালোই যখন বাসলে তবে চলে গেলে কেন? মিসেস জাফরিন আক্তার জলি আর কত চোখের জল ফেলতে হবে তোমার জন্য; ১৬-০৮-২০১০ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত একবারও খোঁজ নিলে না। কোথায় আছি, কীভাবে আছি, কেমন আছি? জানলে না তুমি। জানার প্রয়োজনও মনে করলে না তুমি। চাতক পাখির মতো তোমার পথ চেয়ে থাকি। তুমি ফিরে আসবে এ বুকে। তুমিও তো ভালোবেসেছ। কষ্ট তবে আমার একার কেন? হৃদয়ে জমে থাকা যত কান্নার জল ছিল চোখের কিনারা দিয়ে আজ বইছে। চোখের জল যেদিন শেষ হয়ে যাবে, জীবনের চাকাও সেদিন থেমে যাবে। যদিও আঁধারের পরে আলো আসে। রাতের পর দিন। আমার জীবনে কখনো আলো আসবে না। আসবে না দিন। অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারই আমার জীবনে আলোর নিশান। হয়তো এটাই বিধির বিধান। হৃদয়ের সব কষ্টগুলো রক্ত হয়ে ঝরে দুই চোখে।
রক্তাক্ত আখিগুলো হারিয়ে যাবে আঁধারের কালো ছায়ায়। শুকনা পাতার মতো পাপড়িগুলো শুকিয়ে যাবে। রবির আলো পড়বে না নয়নে। আমার চেয়ে কেউ তোমাকে বেশি ভালোবাসতে পারবে না। এটা যেমন সত্যি, তেমনি সত্যি হলো একদিন চলে যাব অনেক দূরে। এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে। তখন বুঝবে আমি...কী ছিলাম তোমার। সারা জীবন পোড়া মন, শুধু পেল জ্বালা, আশা, কামনা যা ছিল সবই হলো অশ্রুঢালা।

জেডএম আকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর
ফোনঃ ০১৭১৭-১৪৪৯৩৫


নারী
নারীতে ভালোবাসা,
নারীতে ঘৃণা।
নারীতে সৃষ্টি,
নারীতে ধ্বংস।
নারীতে আনন্দ,
নারীতে বিরহ।
নারীতে হাসি,
নারীতে কান্না।
নারীতে সুপুরুষ,
নারীতে নতুনত্ব।
নারীতে স্বর্গ
নারীতে নরক।
নারীতে স্মার্টনেস,
নারীতে আবেশ।
নারীতে প্রেরণা,
নারীতে এগিয়ে চলা।
নারীতে পিছুটানে পড়া।
নারীতে আবেগ।
নারীতে রংধনু।
নারীতে রহস্য।
নারীতে ফাঁদ।
নারীতে লোভ।
নারীতে স্বার্থপরতা।
নারীতে  প্রতারণা।
নারীতে শালীনতা।
নারীতে নির্লজ্জতা।
নারীতে যুদ্ধ।
নারীতে গান।
নারীতে কবিতা-
নারীতে উপন্যাস...।

প্রদীপ ইসলাম
সিলেট সরকারি কলেজ
ফোনঃ ০১৯৩৯-৬৭২৪৩৫, ০১৬৭৪-১৪৭৮১১