অ্যানকেফালাইটিসের সাধারণ মানে হলো ব্রেইনে প্রদাহ। সচরাচর ভাইরাসজনিত কারণে এটা হয়ে থাকে। বাচ্চা, বৃদ্ধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম তাদের মধ্যে ঝুঁকিটা বেশি।
১. রোগ লক্ষণ
মৃদু মাত্রার অ্যানকেফালাইটিস
- জ্বর, মাথাব্যথা, খিদে লোপ পাওয়া, দুর্বলতা, অসুস্থতাবোধ।
মারাত্মক রকমের অ্যানকেফালাইটিস
- তীব্র শিরঃপীড়া
- বমি ভাব, বমি
- ঘাড় শক্ত
- কনফিউশন
- আচার-আচরণে গরমিল
- খিঁচুনি
- কথা বলা ও শোনার সমস্যা
- স্মৃতি বিভ্রম
- কোমা
নবজাতকের ক্ষেত্রে
ওপরে কোনো কোনো লক্ষণ চিহ্ন সহজে ধরা যায় না। সে জন্য প্রথম বছরের শিশুতে যেসব রোগ লক্ষণের বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় সেগুলো হলো-
- বমি, মাথার চাঁদি ফোলা, অনবরত কান্না বা শিশুকে নড়াচড়া করলেই কেঁদে ওঠে, শক্ত হাত-পা শরীর।
২. কারণ : নানাভাবে ভাইরাসগুলো শরীরে ঢোকে
- হারপেস সিমপ্লেক্স ভাইরাস। এটা মুখের ঠোঁটের পাশে কোল্ড সোরস হিসেবে দেখা দেয়। কিন্তু যখন মস্তিষ্কে আক্রমণ করে তখন জীবনসংহারক হয়ে যায়।
- র্যাবিস-জলাতঙ্ক রোগের জীবাণু। র্যাপিড কুকুর শেয়াল বা বন্য প্রাণীর আঁচড়, কামড়ের দ্বারা।
- মশার কামড়ের মাধ্যমেও কিছু অ্যানকেফালাইটিস ভাইরাস শিশু শরীরে ঢোকে। যেমন জাপানিজ অ্যানকেফালাইটিস।
শৈশব বয়সের কিছু অসুখেও অ্যানকেফালাইটিস হতে পারে যেমন-হাম, মাম্পস, জলবসন্ত, রুবেলা ও মনোনিউক্লিওসিস। শিশুর কাশি-হাঁচির সময়ে জলবসন্তের ভাইরাস নাক ও গলার জলীয় পদার্থের মাধ্যমে বাহিত হয়।
অতি নগণ্য ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া টক্সোপ্লাসমোসিসের মতো প্যারাসাইট দিয়ে শিশু বয়সে অ্যানকেফালাইটিস হতে পারে।
৩. প্রতিরোধ প্রাচ্লীর গড়ে তোলা
- সময়মতো শিশুকে টিকাদান
- হাম/মিজেলস
- এমএমআর (মিজেলস মাম্পস রুবেলা ভ্যাকসিন)
- চিকেনপক্স ভ্যাকসিন
- অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন
- জাপানিজ এনকেফালাইটিস ভ্যাকসিন প্রভৃতি।
- হাত ধোয়ার অভ্যাস। খাবার আগে কাঁচা ফলমূল যেন ভালোভাবে ধুয়ে নেয়।
- যেখানে মশা বা অন্যান্য বাহকের মারফতে শিশুতে রোগ ছড়ায় তা থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অবলম্বন।
- খুব ভোরে বা গোধূলিকালে শিশুকে বাইরে বের না করা, যখন মশা বেশি সক্রিয় থাকে
- শিশুকে ফুলশার্ট-ফুলপ্যান্ট পরিধান করানো
- ইনসেক্টস নিধনের ব্যবস্থা
- বাসার চারপাশে জলাবদ্ধতা, আবর্জনামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা যেন মশার বংশবৃদ্ধি না ঘটে।
৪. রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
- ইমেজিং টেস্ট সিটি/এমআরআই (ব্রেইন), ইইজি, রক্ত ও স্পাইনাল ট্যাপ
১. মৃদু মাত্রার অ্যানকেফালাইটিস সময়ে সেরে ওঠে, কেউ কেউ জ্বর ও ব্যথা লাঘবে প্যারাসিটামল ব্যবহার করে। তবে বেশির ভাগ আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিত।
২. ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করে শিশুর রক্তচাপ, হূদস্পন্দন হার, শ্বাস হার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
৩. অ্যান্টিভাইরাস ওষুধ প্রয়োগ। যেমন চিকেনপক্স ও হারফেস সিমপ্লেকস ভাইরাসে এসাইক্লোভির।
এক বছরের কম বয়সে ও ৫৫ বছরের ওপরের বয়সে অ্যানকেফালাইটিস মারাত্মক রূপ ধারণ করে। তীব্র আক্রমণের অ্যানকেফালাইটিস হতে সেরে উঠতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লেগে যায় আর মারাত্মক অবস্থা কাটিয়ে উঠতে প্রায় এক সপ্তাহ লাগে।



